সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট

Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডফুটবলরোনাল্ডোর ১০০০ গোলের স্বপ্নে ধাক্কা? কত দিন নির্বাসিত হতে পারেন পর্তুগিজ তারকা

রোনাল্ডোর ১০০০ গোলের স্বপ্নে ধাক্কা? কত দিন নির্বাসিত হতে পারেন পর্তুগিজ তারকা

কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে খেলতে না পারলে সেই লক্ষ্যে পৌঁছনোর গতি কিছুটা কমতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সূচিতে দীর্ঘ নির্বাসন কার্যকর হলে গোল করার সুযোগও কমে যাবে।

এনবি সংবাদ,স্পোটস ডেস্ক : ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর সামনে এখন এক ঐতিহাসিক মাইলফলক ছোঁয়ার হাতছানি। ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে তাঁর গোলসংখ্যা ৯৮০—১০০০ গোলের স্বপ্নপূরণ করতে প্রয়োজন আর মাত্র ২০টি গোল। কিন্তু পর্তুগাল জাতীয় দলের শাস্তির মুখে পড়ায় সেই লক্ষ্যে পৌঁছনোর পথে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। নেশনস লিগের মাঝপথে জাতীয় শিবির ছেড়ে চলে যাওয়ার ঘটনায় পর্তুগিজ ফুটবল সংস্থার সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন এই মহাতারকা।

ইতিমধ্যেই শিবির ছাড়ার ঘটনায় ক্ষমা চেয়েছেন রোনাল্ডো। পাশাপাশি কোচ জর্জে জেসুসের বিরুদ্ধে কথার খেলাপের অভিযোগও তুলেছেন তিনি। তবে ক্ষমা চাইলেও সম্ভাব্য শাস্তির আশঙ্কা পুরোপুরি কাটেনি। কত দিনের জন্য তাঁকে নির্বাসিত করা হবে, তার ওপর নির্ভর করতে পারে আগামী আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলিতে তাঁর অংশগ্রহণ।

নেশনস লিগ চলাকালীন মাঝপথে পর্তুগালের জাতীয় শিবির ছেড়ে বেরিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই ঘটনার জেরেই পর্তুগিজ ফুটবল সংস্থার শাস্তির মুখে পড়েছেন রোনাল্ডো। তাঁকে সাময়িকভাবে নির্বাসিত করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে চূড়ান্তভাবে কত দিনের শাস্তি দেওয়া হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

রোনাল্ডো ইতিমধ্যেই নিজের আচরণের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। একই সঙ্গে কোচ জর্জে জেসুসের বিরুদ্ধে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করার অভিযোগ তুলেছেন। এই পরিস্থিতিতে পর্তুগিজ ফুটবল সংস্থা কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর ফুটবল মহলের।

জাতীয় দলের হয়ে রোনাল্ডোর গুরুত্ব এবং দীর্ঘদিনের অবদান বিবেচনায় নিয়ে সংস্থা তুলনামূলক কম মেয়াদের শাস্তি দিতে পারে বলে কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। তবে বিষয়টি এখনও অনুমাননির্ভর। এক মাস, তিন মাস নাকি আরও বেশি সময় তাঁকে নির্বাসিত থাকতে হবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

রোনাল্ডোর কেরিয়ারের অন্যতম বড় লক্ষ্য হলো ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে ১০০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করা। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তাঁর মোট গোলসংখ্যা ৯৮০। অর্থাৎ ঐতিহাসিক এই কৃতিত্ব অর্জন করতে তাঁকে আরও ২০টি গোল করতে হবে।

কিন্তু জাতীয় দলের হয়ে খেলতে না পারলে সেই লক্ষ্যে পৌঁছনোর গতি কিছুটা কমতে পারে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ সূচিতে দীর্ঘ নির্বাসন কার্যকর হলে গোল করার সুযোগও কমে যাবে।

তবে নির্বাসন মানেই যে ১০০০ গোলের স্বপ্ন অধরা থেকে যাবে, তা নয়। রোনাল্ডো ক্লাব ফুটবলেও গোল করার সুযোগ পাবেন। ফলে তাঁর চূড়ান্ত গোলসংখ্যায় পৌঁছনোর সময় নির্ভর করবে ক্লাব ও দেশের হয়ে খেলার সুযোগ, পারফরম্যান্স এবং নির্বাসনের মেয়াদের ওপর।

এখানে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—৯৮০ গোলের হিসাবটি ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে। তাই ১০০০ গোলের মাইলফলকটি শুধু পর্তুগালের জার্সিতে গোল করার লক্ষ্য নয়, বরং তাঁর সামগ্রিক কেরিয়ারের গোলসংখ্যার সঙ্গে সম্পর্কিত।

পর্তুগালের পরবর্তী সূচিতে রয়েছে ওয়েলস ও ডেনমার্কের বিরুদ্ধে দুটি ম্যাচ। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ম্যাচ দুটি হওয়ার কথা ১৪ ও ১৭ নভেম্বর। এই ম্যাচগুলিতে রোনাল্ডো খেলতে পারবেন কি না, তা অনেকটাই নির্ভর করছে নির্বাসনের মেয়াদের ওপর।

যদি তাঁকে এক মাসের জন্য নির্বাসিত করা হয় এবং ওই সময়ের মধ্যেই শাস্তির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়, তা হলে নভেম্বরের ম্যাচগুলিতে ফেরার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে শাস্তি কবে থেকে কার্যকর হবে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

অন্যদিকে, নির্বাসনের মেয়াদ তিন মাস হলে নভেম্বরের দুটি ম্যাচে তাঁর খেলার সম্ভাবনা কমে যাবে। সেক্ষেত্রে জাতীয় দলের হয়ে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ফেরার জন্য তাঁকে অপেক্ষা করতে হতে পারে।

তিন মাসের শাস্তি হলে রোনাল্ডো নভেম্বরের ম্যাচগুলি মিস করতে পারেন। তবে দেওয়া প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, নির্বাসনের মেয়াদ তার আগেই শেষ হলে ২০২৭ সালের মার্চে সম্ভাব্য নেশনস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালে ফেরার সুযোগ থাকতে পারে।

অবশ্য এই সম্ভাবনা নির্ভর করছে শাস্তির কার্যকর হওয়ার তারিখ এবং প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত সূচির ওপর। তাই এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না যে তিন মাসের নির্বাসন হলে রোনাল্ডো ঠিক কোন ম্যাচে ফিরবেন।

রোনাল্ডোকে যদি ছয় মাসের জন্য নির্বাসিত করা হয়, তা হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। সে ক্ষেত্রে ২০২৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত তাঁকে জাতীয় দলের বাইরে থাকতে হতে পারে বলে প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। এমন হলে মার্চে সম্ভাব্য নেশনস লিগের কোয়ার্টার ফাইনালেও তাঁর খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।

দীর্ঘ নির্বাসনের প্রভাব শুধু কয়েকটি ম্যাচে অনুপস্থিত থাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। জাতীয় দলের সঙ্গে তাঁর প্রস্তুতি, ম্যাচের ছন্দ এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের পরিকল্পনাতেও পরিবর্তন আসতে পারে।

তবে ছয় মাসের শাস্তি এখনও নিশ্চিত নয়। পর্তুগিজ ফুটবল সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে এই পরিস্থিতিকে সম্ভাব্য হিসাব হিসেবেই দেখা উচিত।

একাধিক সংবাদমাধ্যমের দাবি, পর্তুগালের জার্সিতে রোনাল্ডোর দীর্ঘদিনের অবদান এবং দলের কাছে তাঁর গুরুত্ব বিবেচনা করে ফুটবল সংস্থা বড় শাস্তির পথে নাও হাঁটতে পারে। সেই কারণে এক মাস বা তিন মাসের নির্বাসনের সম্ভাবনার কথাও উঠে এসেছে।

তবে এসবই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সম্ভাব্য হিসাব। সংস্থার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত নির্বাসনের নির্দিষ্ট মেয়াদ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে না।

সব মিলিয়ে, রোনাল্ডোর সামনে এখন দুটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ—জাতীয় দলের হয়ে দ্রুত মাঠে ফেরার সুযোগ এবং কেরিয়ারের ১০০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করা। ৯৮০ গোল থেকে ১০০০-এ পৌঁছতে প্রয়োজন আর ২০টি গোল। শাস্তির মেয়াদ কম হলে তাঁর আন্তর্জাতিক সূচিতে প্রভাব সীমিত হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ নির্বাসন হলে পর্তুগালের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে তাঁর উপস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়বে।

শেষ পর্যন্ত রোনাল্ডোর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় কতটা প্রভাব পড়বে, তা নির্ভর করছে পর্তুগিজ ফুটবল সংস্থার চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ওপর।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ