সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট

Homeবিশ্ব সংবাদইন্ডিয়া নিউজদিল্লিতে শুক্রবার ‘জ্ঞানেশ হটাও’ মিছিল, পুলিশের অনুমতি ছাড়াই পথে নামার ঘোষণা

দিল্লিতে শুক্রবার ‘জ্ঞানেশ হটাও’ মিছিল, পুলিশের অনুমতি ছাড়াই পথে নামার ঘোষণা

সংগঠনটির তরফে জানানো হয়েছে, পুলিশ যদি মিছিলের পথ আটকায়, তাহলে বিক্ষোভকারীরা ঘটনাস্থলেই ‘জন-সংসদ’ বা পিপলস পার্লামেন্ট আয়োজন করবেন। সেই কর্মসূচিতে জাতীয় সংগীত গাওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা।

রাহুল রাহা, এনবি সংবাদ, দিল্লি থেকে : দিল্লিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ফের প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। ‘পিপল এগেইনস্ট এসআইআর’ নামে একটি সংগঠন শুক্রবার ‘জ্ঞানেশ হটাও’ মিছিলের আয়োজন করেছে। সংগঠনটির দাবি, বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকার প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচি। তবে মিছিলের জন্য পুলিশের অনুমতি নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।

এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রধান অভিজিৎ দীপকে, বাম নেত্রী নেহা বোরা-সহ একাধিক পরিচিত ব্যক্তিত্বকে। ‘ইন্ডি’ জোটকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে খবর। যদিও আমন্ত্রিতদের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

‘পিপল এগেইনস্ট এসআইআর’ একটি নতুন সংগঠন। শিক্ষার্থী, কৃষক এবং নাগরিক সমাজের বিভিন্ন গোষ্ঠীর সমন্বয়ে এটি গড়ে উঠেছে। এসআইআর প্রক্রিয়া এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোই তাদের ঘোষিত কর্মসূচির অন্যতম উদ্দেশ্য।

গত ১৮ অক্টোবর প্রকাশিত এক বিবৃতিতে সংগঠনটি এই পদযাত্রার নাম দিয়েছিল ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য জনগণের পদযাত্রা’। আয়োজকদের বক্তব্য, প্রতিবাদ কর্মসূচির জন্য তারা পুলিশের অনুমতি চেয়ে আবেদন করবে না।

সংগঠনটির ঘোষিত স্লোগান, ‘হর গলি যন্তর মন্তর, হর গাঁও যন্তর মন্তর, মেরা ঘর যন্তর মন্তর’। এই স্লোগানের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিবাদ ছড়িয়ে দেওয়ার বার্তা তুলে ধরতে চাইছে তারা।

আয়োজকদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুক্রবার দিল্লির কনট প্লেস এলাকার বাংলা সাহিব গুরুদ্বার থেকে মিছিল শুরু হবে। সেখান থেকে পদযাত্রা এগিয়ে প্যাটেল চকের কাছে অবস্থিত নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের সামনে পৌঁছবে।

সংগঠনটির তরফে জানানো হয়েছে, পুলিশ যদি মিছিলের পথ আটকায়, তাহলে বিক্ষোভকারীরা ঘটনাস্থলেই ‘জন-সংসদ’ বা পিপলস পার্লামেন্ট আয়োজন করবেন। সেই কর্মসূচিতে জাতীয় সংগীত গাওয়ার কথাও জানিয়েছে তারা।

তবে পুলিশের অনুমতি ছাড়াই এই কর্মসূচি আয়োজনের সিদ্ধান্ত ঘিরে প্রশাসনিক পরিস্থিতি কী দাঁড়ায়, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। মিছিলের অনুমতি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশের অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দিল্লির একাধিক এলাকায় ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই বিধিনিষেধ এখনও বলবৎ রয়েছে কি না এবং তা শুক্রবারের প্রস্তাবিত মিছিলের নির্দিষ্ট রুটে প্রযোজ্য কি না, তা প্রশাসনিক নির্দেশের ভিত্তিতে যাচাই করা প্রয়োজন।

আয়োজকদের দাবি, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ করা উচিত নয়। এ বিষয়ে পুলিশ, আধাসামরিক বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্কও করেছে সংগঠনটি।

অন্যদিকে, অনুমতি ছাড়া মিছিল হলে প্রশাসন কী পদক্ষেপ করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। ফলে শুক্রবারের কর্মসূচিকে ঘিরে আয়োজকদের পরিকল্পনা এবং পুলিশের অবস্থান—দুই দিকই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্কের প্রেক্ষাপটে এই মিছিলের ডাক দেওয়া হয়েছে। আয়োজক সংগঠনটি এই প্রক্রিয়া এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে আপত্তি জানাতে চায়। তাদের বক্তব্য, গণতান্ত্রিক অধিকার ও প্রতিবাদের পরিসরকে সামনে রেখেই এই পদযাত্রার আয়োজন।

তবে সংগঠনটির অভিযোগ ও বক্তব্যের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের অবস্থানও জানা প্রয়োজন। এই প্রতিবেদন তৈরির জন্য দেওয়া তথ্যের মধ্যে নির্বাচন কমিশন বা দিল্লি পুলিশের কোনও বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া নেই।

শুক্রবারের মিছিলে আমন্ত্রিত ব্যক্তিত্ব ও রাজনৈতিক জোটের প্রতিনিধিরা শেষ পর্যন্ত যোগ দেন কি না, তা-ও এখনও নিশ্চিত নয়। কর্মসূচির বাস্তব রূপ, পুলিশের পদক্ষেপ এবং প্রশাসনিক নির্দেশের প্রভাবের ওপরই পরবর্তী পরিস্থিতি নির্ভর করবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ