সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট

Homeএক্সক্লুসিভঅস্ট্রেলিয়ায় অদ্ভুত ফ্যাশন, ইঁদুর দিয়ে তৈরি অন্তর্বাসের দাম ১৯০ ডলার

অস্ট্রেলিয়ায় অদ্ভুত ফ্যাশন, ইঁদুর দিয়ে তৈরি অন্তর্বাসের দাম ১৯০ ডলার

অস্ট্রেলীয় সংস্থাটি তাদের তৈরি এই অদ্ভুত অন্তর্বাসের ছবি সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করার পরই সেটি মানুষের নজরে আসে। ইঁদুরের দেহ দিয়ে তৈরি অন্তর্বাসের ধারণা স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি করেছে।

ফ্যাশনের দুনিয়ায় নতুনত্বের শেষ নেই। কখনও অদ্ভুত নকশার পোশাক, কখনও আবার এমন সব উপকরণ দিয়ে তৈরি ফ্যাশনসামগ্রী সামনে আসে, যা দেখে অবাক হতে হয়। কিন্তু নারীদের অন্তর্বাসে যদি আস্ত একটি ইঁদুরের দেহ সেলাই করে দেওয়া হয়, তা হলে চমকে ওঠাই স্বাভাবিক! সম্প্রতি এমনই এক অভিনব ও বিতর্কিত ফ্যাশনসামগ্রী নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার একটি সংস্থা তৈরি করেছে ইঁদুর দিয়ে সাজানো নারীদের অন্তর্বাস, যার দাম শুনলেও অবাক হতে পারেন অনেকেই।

এই অন্তর্বাসের বিশেষত্ব কোনও সাধারণ নকশা বা ছাপানো ছবিতে সীমাবদ্ধ নয়। এখানে ব্যবহার করা হয়েছে ট্যাক্সিডার্মি পদ্ধতিতে সংরক্ষিত ইঁদুরের দেহ। অন্তর্বাসের সঙ্গে সেই দেহাংশ সেলাই করে তৈরি করা হয়েছে ব্যতিক্রমী এই ফ্যাশনপণ্য। আর তার দাম রাখা হয়েছে ১৯০ অস্ট্রেলীয় ডলার, যা ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক ১২ হাজার টাকারও বেশি।

ইঁদুর দিয়ে তৈরি অন্তর্বাস, কী রয়েছে এই অভিনব ফ্যাশনে?

La surrealista lencería femenina hecha con ratas disecadas que horroriza a las redes - Onda Vasca

সাধারণত ইঁদুর দেখলে অনেকেই দূরত্ব বজায় রাখতে চান। ঘরবাড়িতে ইঁদুরের উপস্থিতি যেমন অস্বস্তির কারণ হতে পারে, তেমনই রোগজীবাণু ছড়ানোর আশঙ্কায় এই প্রাণীকে এড়িয়ে চলেন বহু মানুষ। অথচ সেই ইঁদুরকেই এবার জায়গা দেওয়া হয়েছে নারীদের অন্তর্বাসে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার একটি সংস্থা ট্যাক্সিডার্মি পদ্ধতিতে সংরক্ষিত ইঁদুরের দেহ ব্যবহার করে এই বিশেষ অন্তর্বাস তৈরি করেছে। ট্যাক্সিডার্মি হলো মৃত প্রাণীর দেহকে বিশেষ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করে তার বাহ্যিক আকৃতি বজায় রাখার একটি প্রক্রিয়া।

এই অন্তর্বাসে ইঁদুরের মাথা, শরীর এবং লেজ দৃশ্যমান রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, এটি ইঁদুরের ছবি ছাপানো কোনও সাধারণ প্যান্টি নয়। বরং সংরক্ষিত ইঁদুরের দেহাংশ সরাসরি পোশাকের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে।

ফলে পণ্যটি একদিকে যেমন অস্বাভাবিক, অন্যদিকে তেমনই ফ্যাশন ও শিল্পের প্রচলিত ধারণা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। যেখানে অধিকাংশ মানুষ পোশাকের ক্ষেত্রে আরাম, সৌন্দর্য ও ব্যবহারিক দিককে গুরুত্ব দেন, সেখানে এই ধরনের পণ্য মূলত তার ব্যতিক্রমী উপস্থাপনার জন্য নজর কাড়ছে।

১৯০ অস্ট্রেলীয় ডলার দাম, ভারতীয় মুদ্রায় কত?

এই ইঁদুর-অন্তর্বাসের দামই এখন আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়। একটি অন্তর্বাসের দাম রাখা হয়েছে ১৯০ অস্ট্রেলীয় ডলার। ভারতীয় মুদ্রায় হিসাব করলে তা আনুমানিক ১২ হাজার টাকারও বেশি হতে পারে। তবে বিনিময় হারের পরিবর্তনের কারণে প্রকৃত মূল্য ওঠানামা করতে পারে।

অন্তর্বাসটির দাম শুনে অনেকেই প্রশ্ন তুলতে পারেন, একটি পোশাকে ইঁদুরের দেহাংশ জুড়ে দেওয়ার জন্য এত টাকা খরচ করবেন কে?

সাধারণ অন্তর্বাসের সঙ্গে তুলনা করলে এই পণ্যের দাম নিঃসন্দেহে অনেক বেশি। তবে অভিনব ডিজাইনের পোশাক, সংগ্রহযোগ্য শিল্পকর্ম এবং ব্যতিক্রমী ফ্যাশনপণ্যের বাজারে কখনও কখনও উপকরণের পাশাপাশি বিরলত্ব ও চমকে দেওয়ার ক্ষমতাও দামের ক্ষেত্রে ভূমিকা পালন করে।

এই পণ্যটি ঠিক কত সংখ্যায় বিক্রি হয়েছে কিংবা ক্রেতাদের মধ্যে এর প্রকৃত চাহিদা কতটা, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। তাই দাম বেশি হওয়াকে সরাসরি বিপুল বিক্রির প্রমাণ হিসেবে দেখা ঠিক হবে না।

সমাজমাধ্যমে ছবি প্রকাশের পরেই শুরু আলোচনা

অস্ট্রেলীয় সংস্থাটি তাদের তৈরি এই অদ্ভুত অন্তর্বাসের ছবি সমাজমাধ্যমে প্রকাশ করার পরই সেটি মানুষের নজরে আসে। ইঁদুরের দেহ দিয়ে তৈরি অন্তর্বাসের ধারণা স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি করেছে।

এ ধরনের পণ্য নিয়ে মানুষের প্রতিক্রিয়া সাধারণত এক রকম হয় না। কেউ একে অভিনব শিল্পকর্ম বা ব্যতিক্রমী ফ্যাশনের উদাহরণ হিসেবে দেখতে পারেন। আবার অনেকের কাছে এটি অস্বস্তিকর কিংবা অতিরিক্ত অদ্ভুত মনে হতে পারে।

বিশেষ করে পোশাকের সঙ্গে একটি প্রাণীর সংরক্ষিত দেহাংশ যুক্ত করার বিষয়টি অনেকের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে। অন্যদিকে, যাঁরা প্রচলিত ফ্যাশনের বাইরে নতুন কিছু খোঁজেন, তাঁদের কাছে এমন পণ্য কৌতূহলের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।

তবে সমাজমাধ্যমে কোনও পণ্য নিয়ে আলোচনা শুরু হওয়া আর সেটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পাওয়া এক বিষয় নয়। এই ইঁদুর-অন্তর্বাসের ক্ষেত্রেও শেষ পর্যন্ত ক্রেতাদের আগ্রহ কতটা তৈরি হয়, তা বোঝার জন্য বিক্রির তথ্য ও বাজারের প্রতিক্রিয়ার দিকে নজর রাখতে হবে।

প্রথম নয়, আগেও অভিনব পণ্য তৈরি করেছে সংস্থাটি

প্রতিবেদন অনুযায়ী, অস্ট্রেলিয়ার এই সংস্থাটি এর আগেও ব্যতিক্রমী ধরনের পণ্য তৈরি করেছে। ফলে ইঁদুর দিয়ে সাজানো অন্তর্বাসকে তাদের অভিনব পণ্য তৈরির ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

ফ্যাশনের জগতে অনেক ডিজাইনারই প্রচলিত ধারণা ভেঙে নতুন কিছু উপস্থাপনের চেষ্টা করেন। কখনও অস্বাভাবিক উপকরণ, কখনও অপ্রচলিত নকশা, আবার কখনও শিল্প ও পোশাকের মিশ্রণে তৈরি হয় আলোচনার নতুন বিষয়।

এই ধরনের উদ্যোগের উদ্দেশ্য সব সময় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহারের উপযোগী পোশাক তৈরি করা নয়। কখনও পণ্যটি তৈরি হয় শিল্পভাবনা প্রকাশের জন্য, কখনও আবার ব্যতিক্রমী নকশার মাধ্যমে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই হয়ে ওঠে প্রধান লক্ষ্য।

তবে এই নির্দিষ্ট অন্তর্বাসটির নেপথ্যে সংস্থার সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী, তা নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। তাই একে শিল্পকর্ম, বিপণন কৌশল কিংবা বাণিজ্যিক পরীক্ষা হিসেবে চূড়ান্তভাবে চিহ্নিত করার আগে আরও তথ্য প্রয়োজন।

ফ্যাশনের নতুনত্ব নাকি অদ্ভুত চমক?

ফ্যাশন সব সময় একই নিয়মে চলে না। একসময় যে পোশাক বা নকশাকে অস্বাভাবিক মনে হয়, পরে সেটিই কোনও বিশেষ গোষ্ঠীর মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে। আবার এমন অনেক ব্যতিক্রমী পণ্যও রয়েছে, যেগুলি সাময়িকভাবে আলোচনায় এলেও দীর্ঘমেয়াদে বাজারে জায়গা করে নিতে পারে না।

ইঁদুর দিয়ে তৈরি এই অন্তর্বাসও সেই প্রশ্ন সামনে এনেছে। এটি কি শুধুই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করার মতো একটি ব্যতিক্রমী পণ্য, নাকি এর জন্য সত্যিই ক্রেতাদের একটি নির্দিষ্ট বাজার রয়েছে?

এখনই তার উত্তর দেওয়া কঠিন। পণ্যটির দাম, নকশা এবং ব্যবহৃত উপকরণ নিয়ে আলোচনা তৈরি হলেও এর প্রকৃত বিক্রির পরিসংখ্যান কিংবা ক্রেতাদের প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য নেই।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, প্রচলিত ফ্যাশনের বাইরে গিয়ে তৈরি এই অন্তর্বাস ইতিমধ্যেই কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত কতজন ক্রেতা এমন পণ্য কিনতে আগ্রহী হন, সেটাই দেখার বিষয়।

ফ্যাশনের দুনিয়ায় নতুনত্বের সীমা কোথায়, আর কোন পর্যায়ে সেই নতুনত্ব মানুষের কাছে অস্বস্তির কারণ হয়ে ওঠে—ইঁদুর দিয়ে তৈরি এই অন্তর্বাস সেই বিতর্ককেই আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ