সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট

Homeটকিং পয়েন্টনেহা বোরার টি-শার্টে জলদস্যুর খুলি! ‘ওয়ান পিস’ লোগোর রহস্য কী, কেন দেখা...

নেহা বোরার টি-শার্টে জলদস্যুর খুলি! ‘ওয়ান পিস’ লোগোর রহস্য কী, কেন দেখা যাচ্ছে বিশ্বজুড়ে?

টি-শার্টে ইংরেজিতে বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে ‘ONE PIECE’। লেখাটির ‘O’ অক্ষরকে একটি বিশেষ প্রতীকের আকার দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে একটি খুলি, যার মাথায় হলুদ-কমলা রঙের জলদস্যুর টুপি। নকশাটি জনপ্রিয় ‘ওয়ান পিস’ সিরিজের জলদস্যু পতাকার সঙ্গে সম্পর্কিত।

এনবি সংবাদ,আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : ভারতের জেন জি আন্দোলনের পরিচিত মুখ নেহা বোরার লাল টি-শার্ট ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন আলোচনা। টি-শার্টের পিছনে আঁকা একটি বিশেষ লোগো নজর কেড়েছে অনেকের। সেখানে রয়েছে মানুষের খুলি, আর তার মাথায় জলদস্যুর টুপি। প্রথম দেখায় জলদস্যুদের পতাকার মতো মনে হলেও এই প্রতীকের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে জনপ্রিয় জাপানি মাঙ্গা ও অ্যানিমে সিরিজ ‘ওয়ান পিস’-এর সম্পর্ক।

ভারতে বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নেহা বোরার পরনে এই টি-শার্ট দেখা যাওয়ার পর প্রশ্ন উঠছে, কেন একই প্রতীক বিশ্বের নানা দেশের তরুণদের আন্দোলনেও নজরে আসছে? নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স এবং ব্রিটেনের মতো দেশে প্রতিবাদের সময় এই পতাকা ব্যবহারের খবর সামনে এসেছে। ফ্রান্সের সাম্প্রতিক বিক্ষোভেও ‘ওয়ান পিস’-এর প্রতীকযুক্ত পোশাক দেখা গিয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে প্রতীকটির অর্থ, জনপ্রিয়তার কারণ এবং রাজনৈতিক আন্দোলনে এর ব্যবহার নিয়ে তৈরি হয়েছে কৌতূহল। তবে একই প্রতীক বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত হলেই যে সব আন্দোলনের মধ্যে কোনও সংগঠিত যোগসূত্র রয়েছে, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন বা আইসার সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা ভারতের ছাত্ররাজনীতিতে পরিচিত মুখ। প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ ঘিরে আন্দোলন থেকে শুরু করে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ—বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁকে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা গিয়েছে।

১২ অক্টোবর দিল্লিতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর বাতিল এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভেও তাঁর উপস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। ওই সময় তাঁর পরনে থাকা লাল টি-শার্টের পিছনের লোগোটি বিশেষভাবে নজর কাড়ে।

টি-শার্টে ইংরেজিতে বড় অক্ষরে লেখা রয়েছে ‘ONE PIECE’। লেখাটির ‘O’ অক্ষরকে একটি বিশেষ প্রতীকের আকার দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে একটি খুলি, যার মাথায় হলুদ-কমলা রঙের জলদস্যুর টুপি। নকশাটি জনপ্রিয় ‘ওয়ান পিস’ সিরিজের জলদস্যু পতাকার সঙ্গে সম্পর্কিত।

নেহা এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই লোগোযুক্ত টি-শার্ট পরে ছবি প্রকাশ করেছিলেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। একটি পোস্টে তিনি দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনের কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন।

তাঁর পোশাকের এই প্রতীক এখন রাজনৈতিক আলোচনার অংশ হয়ে উঠেছে। কেউ একে তরুণদের প্রতিবাদী মানসিকতার প্রকাশ হিসেবে দেখছেন। আবার কেউ বিভিন্ন দেশের আন্দোলনে একই প্রতীকের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

‘ওয়ান পিস’ জাপানের বিখ্যাত মাঙ্গা সিরিজ, যার স্রষ্টা ইইচিরো ওদা। ১৯৯৭ সালে প্রকাশনা শুরু হওয়ার পর থেকে এই সিরিজ বিশ্বজুড়ে বিপুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। পরে এর কাহিনি অবলম্বনে তৈরি হয় অ্যানিমে সিরিজও।

গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র মাঙ্কি ডি. লুফি। তার স্বপ্ন সমুদ্রের সবচেয়ে বড় জলদস্যু হয়ে ওঠা এবং কিংবদন্তি গুপ্তধন ‘ওয়ান পিস’ খুঁজে পাওয়া। এই লক্ষ্যে লুফি নিজের সঙ্গীদের নিয়ে সমুদ্রযাত্রা শুরু করে। পথে তাদের নানা বাধা, শত্রু এবং ক্ষমতাশালী শক্তির মুখোমুখি হতে হয়।

তবে এই সিরিজকে শুধু জলদস্যুদের অভিযান হিসেবে দেখলে এর সম্পূর্ণ তাৎপর্য বোঝা যায় না। গল্পে বন্ধুত্ব, স্বাধীনতা, বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই, কর্তৃত্বের বিরোধিতা এবং নিজের স্বপ্ন পূরণের মতো বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।

এই কারণেই ‘ওয়ান পিস’ বিভিন্ন বয়সের দর্শক ও পাঠকের কাছে জনপ্রিয়। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে এর চরিত্র, সংলাপ এবং প্রতীকগুলি পরিচিত সাংস্কৃতিক চিহ্নে পরিণত হয়েছে।

সিরিজটির জলদস্যু পতাকার নকশা বিভিন্ন চরিত্র ও দলের পরিচয় বহন করে। খুলির সঙ্গে টুপি বা অন্য চিহ্ন যোগ করে তৈরি করা হয় আলাদা আলাদা পতাকা। নেহা বোরার টি-শার্টে থাকা নকশাটিও এই জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক জগতের সঙ্গে যুক্ত।

জলদস্যুদের পতাকার কথা উঠলেই অনেকের মনে ভেসে ওঠে কালো কাপড়ের উপর সাদা খুলি ও আড়াআড়ি হাড়ের ছবি। এই ধরনের পতাকা সাধারণভাবে ‘জলি রজার’ নামে পরিচিত।

ঐতিহাসিকভাবে বিভিন্ন জলদস্যু দল নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে এবং প্রতিপক্ষের মনে ভয় তৈরি করতে নানা ধরনের পতাকা ব্যবহার করত। খুলি ও হাড়ের প্রতীক মৃত্যু এবং বিপদের ইঙ্গিত দিত। তবে সব জলদস্যুর পতাকার নকশা এক ছিল না।

‘ওয়ান পিস’-এর জগতে এই ঐতিহাসিক প্রতীক নতুন অর্থ পেয়েছে। এখানে জলদস্যু পতাকা শুধু ভয় দেখানোর উপকরণ নয়, বরং কোনও চরিত্র বা দলের পরিচয়, আদর্শ এবং লক্ষ্য প্রকাশের মাধ্যম।

ফলে সিরিজের ভক্তদের কাছে এই প্রতীক স্বাধীনতা, সাহস, বন্ধুত্ব এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর বার্তাও বহন করতে পারে। অবশ্য প্রতীকটির অর্থ সব মানুষের কাছে এক নয়। কেউ একে নিছক জনপ্রিয় অ্যানিমের পরিচিত চিহ্ন হিসেবে ব্যবহার করেন, আবার কেউ এর সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক বা সামাজিক অবস্থানকে যুক্ত করতে পারেন।

নেহা বোরার টি-শার্ট নিয়ে আলোচনার অন্যতম কারণ হল, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিবাদ কর্মসূচিতেও একই ধরনের পতাকা বা পোশাকের উপস্থিতি। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, নেপালের জেন জি আন্দোলনে ‘ওয়ান পিস’-এর প্রতীকযুক্ত পতাকা দেখা গিয়েছিল। ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপিন্স ও ব্রিটেনের কিছু প্রতিবাদেও এই প্রতীক ব্যবহারের খবর সামনে এসেছে।

ফ্রান্সের বিক্ষোভেও তরুণদের মধ্যে ‘ওয়ান পিস’ লেখা পোশাক দেখা গিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তবে প্রতিটি ঘটনার সময়, স্থান এবং আন্দোলনের নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপট আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

কেন এমন একটি অ্যানিমে সিরিজের প্রতীক প্রতিবাদের মিছিলে জায়গা করে নিচ্ছে? এর একটি সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হল, জনপ্রিয় সংস্কৃতির প্রতীক তরুণদের কাছে নিজেদের বক্তব্য প্রকাশের সহজ মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে। পরিচিত কোনও চরিত্র বা লোগোর মাধ্যমে তাঁরা নিজেদের মানসিকতা, ক্ষোভ কিংবা পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করতে পারেন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও এই প্রবণতা ছড়িয়ে দিতে সাহায্য করে। একটি দেশের আন্দোলনে ব্যবহৃত প্রতীক ছবি ও ভিডিওর মাধ্যমে অন্য দেশের তরুণদের কাছে পৌঁছে যায়। পরে তাঁরা নিজেদের পরিস্থিতি অনুযায়ী একই প্রতীক ব্যবহার করতে পারেন।

তবে একই পতাকা ব্যবহারের অর্থ সব সময় একই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নয়। কোথাও এটি স্বাধীনতার প্রতীক হতে পারে, কোথাও জনপ্রিয় সংস্কৃতির প্রতি অনুরাগ, আবার অন্য কোনও জায়গায় প্রতিবাদের দৃশ্যমান পরিচয় হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।

নেহা বোরার ‘ওয়ান পিস’ লোগোযুক্ত টি-শার্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তাঁর সমর্থকদের একাংশ এই পোশাককে তরুণদের প্রতিবাদী মনোভাবের প্রতীক হিসেবে দেখছেন। অন্যদিকে, কয়েকটি দেশের আন্দোলনে একই প্রতীকের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন কেউ কেউ।

ভারতে জেন জি আন্দোলনকে ঘিরে বিদেশি প্রভাব বা ষড়যন্ত্রের অভিযোগও রাজনৈতিক আলোচনায় উঠে এসেছে। বিভিন্ন দেশে একই ধরনের প্রতীক দেখা যাওয়াকে কেউ কেউ সেই বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত করছেন।

কিন্তু এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। কোনও প্রতীক একাধিক দেশে ব্যবহৃত হওয়া এবং কোনও বিদেশি সংগঠনের নির্দেশে আন্দোলন পরিচালিত হওয়া এক বিষয় নয়। প্রথমটির প্রমাণ হতে পারে ছবি বা ভিডিও। দ্বিতীয়টি প্রতিষ্ঠা করতে হলে অর্থায়ন, যোগাযোগ, নির্দেশনা কিংবা সংগঠিত সহযোগিতার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য প্রয়োজন।

তাই শুধু ‘ওয়ান পিস’ পতাকার উপস্থিতির ভিত্তিতে বিভিন্ন দেশের আন্দোলনের মধ্যে গোপন যোগসূত্র রয়েছে বলে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না। প্রতীকটির ব্যবহার এবং তার রাজনৈতিক তাৎপর্য বুঝতে হলে প্রতিটি আন্দোলনের নিজস্ব পরিস্থিতি বিবেচনা করা জরুরি।

নেপালের জেন জি আন্দোলনে এই প্রতীকের ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আন্দোলনের অন্যতম মুখ বিখ্যত খাত্রী এই লোগোর অর্থ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে আক্রমণাত্মক মনোভাব এবং পথের বাধা সরিয়ে দেওয়ার দৃঢ় সংকল্পের কথা বলেছেন।

এই ব্যাখ্যা থেকে বোঝা যায়, জনপ্রিয় সংস্কৃতির কোনও প্রতীক আন্দোলনকারীদের কাছে নতুন অর্থ পেতে পারে। মূল গল্পে যে চিহ্ন একটি কাল্পনিক জলদস্যু দলের পরিচয় বহন করে, বাস্তব জীবনে সেটিই প্রতিবাদ, পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা কিংবা কর্তৃত্বের বিরুদ্ধে অবস্থানের প্রকাশ হয়ে উঠতে পারে।

তবে এই ব্যাখ্যা সব দেশে প্রতীকটির ব্যবহারের কারণকে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করে না। প্রতিটি দেশের আন্দোলনের দাবি, অংশগ্রহণকারী এবং রাজনৈতিক পরিস্থিতি আলাদা। তাই একই প্রতীক ব্যবহারের পিছনে একই উদ্দেশ্য রয়েছে বলে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

একসময় রাজনৈতিক আন্দোলনে দলের পতাকা, স্লোগান এবং নির্দিষ্ট রঙের পোশাকই ছিল পরিচয়ের প্রধান মাধ্যম। এখন সেই তালিকায় যুক্ত হচ্ছে সিনেমা, কমিকস, অ্যানিমে এবং ইন্টারনেট সংস্কৃতির নানা প্রতীক।

‘ওয়ান পিস’-এর পতাকা তার একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। পরিচিত এই লোগো তরুণদের কাছে সহজে চেনা যায়। আবার এর সঙ্গে স্বাধীনতা, বন্ধুত্ব এবং বাধা অতিক্রম করার মতো ভাবনাও যুক্ত রয়েছে।

তবে কোনও প্রতীকের জনপ্রিয়তা তার রাজনৈতিক অর্থকে স্থায়ী করে দেয় না। একই চিহ্ন একেকজনের কাছে একেক ধরনের বার্তা বহন করতে পারে। সেই কারণেই নেহা বোরার টি-শার্টের মতো একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে যেমন সাংস্কৃতিক আলোচনা তৈরি হয়েছে, তেমনই রাজনৈতিক বিতর্কও সামনে এসেছে।

সব মিলিয়ে, নেহা বোরার ‘ওয়ান পিস’ টি-শার্ট এখন শুধু একটি পোশাকের নকশা নয়, বরং তরুণদের প্রতিবাদী সংস্কৃতি নিয়ে আলোচনার একটি উপলক্ষ। নেপাল থেকে ফ্রান্স পর্যন্ত বিভিন্ন আন্দোলনে এই প্রতীকের উপস্থিতি জনপ্রিয় সংস্কৃতির আন্তর্জাতিক প্রভাবকে সামনে এনেছে। তবে একই লোগোর ব্যবহারকে বিদেশি ষড়যন্ত্রের প্রমাণ হিসেবে দেখতে হলে অনুমানের বাইরে নির্ভরযোগ্য তথ্যও প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ