এনবি সংবাদ ডেস্ক : বর্ষা বিদায় নিয়েছে বাংলা থেকে। কিন্তু তাতেই বৃষ্টির সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না। দুর্গাপুজোর উৎসবের আবহে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলাতেও আগামী কয়েক দিন হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। ফলে পুজোর আনন্দে বৃষ্টির বাধা নিয়ে চিন্তা থেকেই যাচ্ছে সাধারণ মানুষের।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৫ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় স্থানীয়ভাবে বৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে, উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারে ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই বৃষ্টি সর্বত্র একসঙ্গে বা একটানা হবে না। স্থানীয়ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হলে কোথাও কোথাও বৃষ্টি নামতে পারে।
আবহাওয়ার স্বাভাবিক নিয়মেই বর্ষা বিদায় নেওয়ার পরেও বৃষ্টি হতে পারে। বর্ষার বিদায় মানেই আকাশ থেকে বৃষ্টি একেবারে উধাও হয়ে যাওয়া নয়। বায়ুমণ্ডলে আর্দ্রতা, স্থানীয় আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং বজ্রগর্ভ মেঘের সৃষ্টি বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গ থেকে বর্ষা আগেই বিদায় নিয়েছে। বৃহস্পতিবার গোটা দেশ থেকেও বর্ষার বিদায় সম্পূর্ণ হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। কিন্তু তার পরেও রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় স্থানীয়ভাবে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষ করে দিনের বেলায় রোদ ওঠার পরেও বিকেল বা সন্ধ্যার দিকে আকাশ মেঘলা হয়ে যেতে পারে। কোথাও হালকা বৃষ্টি হতে পারে, আবার কোনও কোনও এলাকায় বজ্রগর্ভ মেঘের প্রভাবে বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা বাড়তে পারে। তবে এই পরিস্থিতিকে বর্ষার প্রত্যাবর্তন বলে ধরে নেওয়ার কারণ নেই।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই কলকাতার আকাশে আবহাওয়ার পরিবর্তন চোখে পড়েছে। কখনও চড়া রোদ উঠেছে, আবার কখনও আকাশ ঢেকেছে মেঘে। বুধবারও শহরের বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে বৃষ্টি হয়েছিল।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস বলছে, আগামী কয়েক দিন কলকাতার আবহাওয়ায় এমন ওঠানামা চলতে পারে। অর্থাৎ, সকাল থেকে রোদ থাকলেও দিনের পরের দিকে আকাশ মেঘলা হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয়ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হলে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিও হতে পারে।
পুজোর মরসুমে কলকাতার রাস্তাঘাটে মানুষের ভিড় বাড়ে। প্যান্ডেল পরিদর্শন, প্রতিমা দর্শন কিংবা পরিবারের সঙ্গে বাইরে বেরোনোর পরিকল্পনা থাকে অনেকের। সেই কারণে বৃষ্টির পূর্বাভাস স্বাভাবিকভাবেই বাড়তি গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে গোটা শহরে একই সময়ে বৃষ্টি হবে, এমন কোনও ইঙ্গিত নেই। বৃষ্টির প্রভাব স্থানভেদে আলাদা হতে পারে। তাই বাইরে বেরোনোর আগে স্থানীয় আবহাওয়ার আপডেট দেখে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় আগামী কয়েক দিন বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৫ ও ১৬ অক্টোবর দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই স্থানীয়ভাবে বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও হালকা, আবার কোথাও মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
১৭ অক্টোবর বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায়। তালিকায় রয়েছে হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রাম।
এই জেলাগুলিতে স্থানীয়ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হলে বৃষ্টি হতে পারে। ফলে পুজোর সময়ে যাঁরা ঠাকুর দেখতে বেরোনোর পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের আবহাওয়ার দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।
বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী জেলা এবং কলকাতা সংলগ্ন এলাকায় আকাশের পরিবর্তন নজরে রাখা জরুরি। তবে বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও সব জায়গায় সমানভাবে বৃষ্টি হবে, এমনটা নয়। কোনও এলাকায় অল্প সময়ের জন্য বৃষ্টি হতে পারে, আবার কাছাকাছি অন্য এলাকায় আকাশ পরিষ্কারও থাকতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলাতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৬ অক্টোবর থেকে দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, কালিম্পং এবং আলিপুরদুয়ারে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
এই পরিস্থিতি ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলতে পারে বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। তার পর আবহাওয়ার পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পাহাড় ও ডুয়ার্স অঞ্চলে আবহাওয়ার পরিবর্তন পর্যটকদের পরিকল্পনাতেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যাঁরা পুজোর ছুটিতে দার্জিলিং, কালিম্পং কিংবা ডুয়ার্সে ঘুরতে যাওয়ার কথা ভাবছেন, তাঁদের বৃষ্টির সম্ভাবনা মাথায় রাখা উচিত।
বৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও দৃশ্যমানতা কমে যেতে পারে এবং পাহাড়ি পথে যাতায়াতেও সতর্কতা প্রয়োজন হতে পারে। যদিও নির্দিষ্ট কোনও এলাকায় কতটা বৃষ্টি হবে, তা স্থানীয় পরিস্থিতির উপর নির্ভর করবে।
দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির কাছে বছরের অন্যতম বড় উৎসব। নতুন পোশাক, প্যান্ডেল হপিং, বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা পরিবারের সঙ্গে প্রতিমা দর্শন—সব মিলিয়ে উৎসবের প্রস্তুতি থাকে তুঙ্গে। কিন্তু পুজোর সময়ে বৃষ্টি হলে সেই পরিকল্পনায় কিছুটা পরিবর্তন আনতে হয়।
এ বারও বৃষ্টির সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ১৫ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত।
তবে পূর্বাভাসে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির কথা বলা হয়েছে। তাই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলেই পুজোর আনন্দ পুরোপুরি মাটি হয়ে যাবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর কারণ নেই। আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুযায়ী পরিকল্পনা করলে উৎসবের আনন্দ অনেকটাই নির্বিঘ্ন রাখা সম্ভব।
প্যান্ডেলে যাওয়ার সময় ছোট ছাতা বা রেইনকোট সঙ্গে রাখা যেতে পারে। পাশাপাশি, বজ্রপাতের পরিস্থিতি তৈরি হলে খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে না থেকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়া উচিত। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিয়ে বাইরে বেরোলে আবহাওয়ার পূর্বাভাসের দিকে বাড়তি নজর দেওয়া প্রয়োজন।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণবঙ্গে ১৭ অক্টোবরের পর থেকে আবহাওয়ার পরিবর্তন হতে পারে। ধীরে ধীরে শুষ্ক আবহাওয়া ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গের ক্ষেত্রে ১৮ অক্টোবরের পর পরিস্থিতির পরিবর্তন হতে পারে।
অর্থাৎ, পুজোর মরসুমে আগামী কয়েক দিন দুই বঙ্গের কিছু এলাকায় বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও তার পর আবহাওয়া তুলনামূলকভাবে শুষ্ক হওয়ার ইঙ্গিত রয়েছে। তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পরিস্থিতি অনুযায়ী বদলাতে পারে। তাই সর্বশেষ সরকারি আপডেটের দিকে নজর রাখা জরুরি।
সব মিলিয়ে, বর্ষা বিদায় নিলেও বাংলার আকাশ এখনই পুরোপুরি বৃষ্টিমুক্ত হচ্ছে না। কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত এবং উত্তরবঙ্গের কয়েকটি জেলায় ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। পুজোর পরিকল্পনা করার আগে তাই একবার আবহাওয়ার খবর দেখে নেওয়াই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।



