সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট

Homeবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিফেসবুকের তথ্য গোপনীয়তা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, মেটাকে ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা

ফেসবুকের তথ্য গোপনীয়তা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ, মেটাকে ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা

বিচারকের মতে, সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে হওয়া কিছু যোগাযোগের উদ্দেশ্য ছিল জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করা। এই পর্যবেক্ষণ মেটার তথ্য সুরক্ষা নীতি এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

এনবি সংবাদ, আইটি ডেস্ক : ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের মূল সংস্থা মেটার বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আর্থিক জরিমানার নির্দেশ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত। ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে সংগ্রহ, ব্যবহার ও ভাগ করা হয়েছে, তা নিয়ে বছরের পর বছর ধরে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে সংস্থাটিকে ২৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করা হয়েছে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ বিপুল। সংস্থাটির ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে এ পর্যন্ত আরোপিত সবচেয়ে বড় জরিমানা হিসেবে এই রায়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

বুধবার বিচারক ফ্রান্সিস ম্যাথিউ এই নির্দেশ দেন। চলতি বছরের শুরুতে দুই সপ্তাহ ধরে চলা বিচারপ্রক্রিয়ায় মেটার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলি খতিয়ে দেখা হয়। বিচারকদের সিদ্ধান্তে উঠে আসে, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের তথ্য সুরক্ষা নিয়ে মেটার বক্তব্য এবং বাস্তব কার্যক্রমের মধ্যে গুরুতর অসংগতি ছিল।

মেটা অবশ্য আদালতের এই রায় মেনে নিতে রাজি নয়। সংস্থাটির প্রধান আইনজীবী সি জে মাহোনি জানিয়েছেন, তাঁরা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন। তাঁর দাবি, এই রায় কার্যকর হলে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যে ব্যবসা পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।

এই ঘটনা শুধু মেটার জন্য আর্থিক ধাক্কা নয়, বরং প্রযুক্তি সংস্থাগুলির তথ্য সুরক্ষা, ব্যবহারকারীর গোপনীয়তা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দায়বদ্ধতা নিয়েও নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের দায়ের করা মামলার মূল অভিযোগ ছিল, ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা নিয়ে মেটা দীর্ঘদিন ধরে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়েছে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে দাবি করেছিলেন, ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়া তৃতীয় পক্ষের কাছে তাঁদের তথ্য দেওয়া হয় না কিংবা অন্যরা সেই তথ্যে প্রবেশ করতে পারে না।

কিন্তু মামলাকারীদের দাবি, বাস্তবে ব্যবহারকারীদের তথ্য ব্যবহারের ক্ষেত্রে এমন নিশ্চয়তা সব সময় বজায় রাখা হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষ নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য কতটা সুরক্ষিত রয়েছে, সে বিষয়ে ভুল ধারণা পেয়েছেন।

আদালতে নিউ মেক্সিকোর আইনজীবীরা মেটার বিভিন্ন সময়ের প্রকাশ্য বিবৃতি এবং সংস্থার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের বিষয়টি তুলে ধরেন। বিচারক ম্যাথিউ তাঁর আদেশে উল্লেখ করেন, সংস্থাটির আইন লঙ্ঘন এবং জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার ঘটনা ইচ্ছাকৃত ছিল। এই কার্যক্রম ২০১০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ১১ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলেছে বলে আদালতের পর্যবেক্ষণে উঠে আসে।

বিচারকের মতে, সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে হওয়া কিছু যোগাযোগের উদ্দেশ্য ছিল জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করা। এই পর্যবেক্ষণ মেটার তথ্য সুরক্ষা নীতি এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।

মেটার বিরুদ্ধে নিউ মেক্সিকোর মামলার পেছনে রয়েছে বহুল আলোচিত ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারি। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর ফেসবুক ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য রাজনৈতিক কাজে ব্যবহারের বিষয়টি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

ক্যামব্রিজ অ্যানালিটিকা নামের রাজনৈতিক পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠানটি লক্ষ লক্ষ ফেসবুক ব্যবহারকারীর তথ্য ও ব্যক্তিগত বিবরণ ব্যবহার করেছিল। ২০১৬ সালের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনসংক্রান্ত কাজেও এই তথ্য ব্যবহারের বিষয়টি আলোচনায় আসে। ওই নির্বাচনে প্রথমবারের মতো প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন ডোনাল্ড ট্রাম্প।

ব্যবহারকারীদের তথ্য কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছিল, কী উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়েছিল এবং তৃতীয় পক্ষের কাছে সেই তথ্য পৌঁছানোর ক্ষেত্রে কী ধরনের অনুমতি নেওয়া হয়েছিল, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

নিউ মেক্সিকোর মামলাতেও এই বৃহত্তর তথ্য সুরক্ষা বিতর্ক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অঙ্গরাজ্যটির আইনজীবীদের অভিযোগ, মেটা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের ব্যবহার সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর ধারণা তৈরি করেছিল। এর ফলে প্রায় ২০ লক্ষ মানুষের জনসংখ্যাবিশিষ্ট পুরো অঙ্গরাজ্যের বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।

জুরির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মেটা অঙ্গরাজ্যের আইন ৪ কোটিরও বেশি বার লঙ্ঘন করেছে। এই বিপুল সংখ্যক লঙ্ঘনের ভিত্তিতেই জরিমানার পরিমাণ নির্ধারণের প্রশ্ন সামনে আসে।

মেটার বিরুদ্ধে অভিযোগ শুধু ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা লঙ্ঘনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণাত্মক বক্তব্যযুক্ত কনটেন্ট থেকে সংস্থাটি কীভাবে লাভবান হয়েছে এবং এ ধরনের কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণে তার নিয়মগুলি কীভাবে প্রয়োগ করা হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলে নিউ মেক্সিকো।

অঙ্গরাজ্যটির অভিযোগ, এসব বিষয়েও মেটা জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করেছে। জুরি এই অভিযোগের ক্ষেত্রেও সংস্থাটি ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল ধারণা তৈরি করেছিল বলে সিদ্ধান্ত দেয়।

তবে মেটা এই অভিযোগগুলি অস্বীকার করেছে। সংস্থাটির প্রধান আইনজীবী সি জে মাহোনির বক্তব্য, এই মামলা অনলাইনে মানুষ কী বলতে পারবেন, তা নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন নিয়ম চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা। তাঁর মতে, এর মাধ্যমে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।

এই বক্তব্যের মাধ্যমে মেটা মামলাটিকে শুধু তথ্য সুরক্ষার প্রশ্ন হিসেবে নয়, বরং অনলাইন মতপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় হিসেবেও তুলে ধরেছে।

নিউ মেক্সিকোর আইনজীবীরা মেটার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ৪০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত জরিমানা চেয়েছিলেন। অন্যদিকে, মেটার যুক্তি ছিল, ৩.৪ বিলিয়ন ডলারের বেশি জরিমানা আরোপ করা হলে তা অসাংবিধানিক হতে পারে।

বিচারক ফ্রান্সিস ম্যাথিউ অবশ্য শেষ পর্যন্ত ২৫ বিলিয়ন ডলারের জরিমানার নির্দেশ দেন।

আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বিভিন্ন আইন লঙ্ঘনের জন্য প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত মোট জরিমানার পরিমাণ ছিল প্রায় ২১৯ বিলিয়ন ডলার। পরে বিচারক সেই অঙ্ক কমিয়ে ২৫ বিলিয়ন ডলারে স্থির করেন।

এই পরিমাণ মেটার প্রতি ত্রৈমাসিকের মুনাফার কাছাকাছি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে জরিমানাটি সংস্থার আর্থিক অবস্থার ওপর উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

এর আগে ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল ট্রেড কমিশন (FTC) ব্যবহারকারীদের তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষায় ব্যর্থতার অভিযোগে মেটাকে ৫ বিলিয়ন ডলার জরিমানা করেছিল। নতুন রায় সেই পুরোনো ঘটনার পর তথ্য সুরক্ষা নিয়ে সংস্থাটির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলিকে আবার সামনে নিয়ে এসেছে।

নিউ মেক্সিকোর সঙ্গে মেটার আইনি বিরোধ এই প্রথম নয়। চলতি বছরও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে অঙ্গরাজ্যটি সংস্থাটির বিরুদ্ধে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের আরেকটি জরিমানা আরোপ করেছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সেই মামলার বিচারক মেটার কার্যক্রমের সঙ্গে পরিবেশদূষণকারী শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তুলনা করেছিলেন। তাঁর পর্যবেক্ষণে, এখানে দূষণের ধরন হলো শিশুদের মানসিক ক্ষতি এবং যৌন শোষণের ঝুঁকি।

এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে চলমান বিতর্কের গুরুত্ব তুলে ধরে। বিশেষ করে, অনলাইন প্ল্যাটফর্মের নকশা, কনটেন্ট নিয়ন্ত্রণ এবং ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় প্রযুক্তি সংস্থাগুলির দায়িত্ব কতটা হওয়া উচিত, তা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো হয়েছে।

মেটার বিরুদ্ধে বড় অঙ্কের জরিমানার নির্দেশ এলেও সংস্থাটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরিকল্পনা থেকে সরে আসছে না। বরং এই খাতে বিপুল অর্থ ব্যয় করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রযুক্তি সংস্থাগুলির সঙ্গে পাল্লা দিতে চাইছে মার্ক জাকারবার্গের সংস্থা।

মেটা জানিয়েছে, চলতি বছরে এআই-সম্পর্কিত প্রকল্পসহ বিভিন্ন পরিকাঠামো খাতে অন্তত ১৩৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরিস্থিতি অনুযায়ী এই ব্যয় ১৪৫ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।

এআই মডেল প্রশিক্ষণ, ডেটা সেন্টার তৈরি, কম্পিউটিং ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন প্রযুক্তি উন্নয়নে বিপুল বিনিয়োগ প্রয়োজন। সেই কারণেই মেটার মতো প্রযুক্তি সংস্থাগুলি ভবিষ্যৎ ব্যবসার জন্য বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করছে।

জাকারবার্গ আর্থিক বিশ্লেষকদের সঙ্গে আলোচনায় জানিয়েছেন, সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি মেটার এআই টুল ‘মিউজ’ (Muse) ইতিমধ্যেই ১ কোটি মানুষ ব্যবহার করছেন।

তাঁর বক্তব্য, এই পরিষেবাকে ভবিষ্যতে কয়েকশো কোটি মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই সংস্থার লক্ষ্য এবং কৌশলের অংশ।

এআইয়ে বিপুল বিনিয়োগের প্রভাব মেটার আর্থিক হিসাবেও দেখা যাচ্ছে। বিবিসির আগের আর্থিক নথি পর্যালোচনা অনুযায়ী, সংস্থাটি ২ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি নেতিবাচক নগদ প্রবাহের কথা জানিয়েছে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর থেকে মেটার ক্ষেত্রে এটি প্রথম এমন ঘটনা বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

নগদ প্রবাহ বলতে ব্যবসা পরিচালনা এবং বিনিয়োগের খরচ মেটানোর পর সংস্থার হাতে কত টাকা থাকে, তা বোঝায়। কোনও প্রতিষ্ঠান যখন তার আয় থেকে পাওয়া নগদের তুলনায় বেশি অর্থ ব্যয় করে, তখন নেতিবাচক নগদ প্রবাহ তৈরি হতে পারে।

তবে নেতিবাচক নগদ প্রবাহ মানেই সংস্থাটি লোকসান করছে, এমন নয়। মেটার ক্ষেত্রে রাজস্ব ও মুনাফা দুটিই বেড়েছে। কিন্তু এআই পরিকাঠামো তৈরিতে বিপুল ব্যয়ের কারণে নগদের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেটার রাজস্ব গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেড়ে ৬৪.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে সংস্থাটির মুনাফা বেড়ে প্রায় তিন গুণ হয়ে ৯.৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

অর্থাৎ, একদিকে আয় ও মুনাফা বাড়ছে, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের জন্য বিপুল নগদ অর্থ ব্যয় হচ্ছে। এই দ্বৈত পরিস্থিতি মেটার আর্থিক কৌশলকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

মেটার অর্থ বিভাগের প্রধান সুসান লি আর্থিক বিশ্লেষকদের সঙ্গে আলোচনায় নতুন ধরনের শেয়ার বিভাজন বা স্টক স্প্লিটের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এই ব্যবস্থায় বর্তমান শেয়ারহোল্ডাররা ভোটাধিকারহীন নতুন শ্রেণির একটি করে শেয়ার পাবেন বলে জানানো হয়েছে।

লি জানিয়েছেন, নতুন শেয়ার শ্রেণিটি আপাতত নির্দিষ্ট কোনও বিনিয়োগের জন্য তৈরি করা হচ্ছে না। তবে এআই প্রকল্পে চলমান ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী বছরে সংস্থার অর্থায়নের ক্ষেত্রে আরও নমনীয়তার প্রয়োজন হতে পারে।

এখানে মনে রাখা জরুরি, নতুন শেয়ার চালুর পরিকল্পনা মানেই সংস্থা অবিলম্বে নতুন অর্থ সংগ্রহ করছে, এমন নয়। এর প্রকৃত উদ্দেশ্য ও আর্থিক প্রভাব নির্ভর করবে চূড়ান্ত পরিকল্পনা এবং বাস্তবায়নের ওপর।

মেটার সামনে বর্তমানে দুটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। প্রথমত, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করে আইনি দায়বদ্ধতা সামলানো। দ্বিতীয়ত, এআই প্রযুক্তিতে বিপুল বিনিয়োগের মাধ্যমে ভবিষ্যতের ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা।

২৫ বিলিয়ন ডলারের জরিমানা সংস্থাটির ওপর বড় আর্থিক ও সুনামগত চাপ তৈরি করতে পারে। যদিও মেটা এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার পরিকল্পনা জানিয়েছে, তবুও তথ্যের গোপনীয়তা নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নতুন করে কঠোর পর্যালোচনার মুখে পড়েছে।

অন্যদিকে, এআইয়ের বাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে মেটাকে ডেটা সেন্টার, উন্নত কম্পিউটিং পরিকাঠামো এবং নতুন প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখতে হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, মেটার এই আইনি লড়াই প্রযুক্তি দুনিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিচ্ছে। বিপুল আয়, জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম কিংবা উন্নত প্রযুক্তি—কোনও কিছুই ব্যবহারকারীর তথ্য সুরক্ষা এবং আইনি দায়বদ্ধতার বিকল্প হতে পারে না। একই সঙ্গে এআইয়ে নেতৃত্ব ধরে রাখতে গিয়ে সংস্থাটি কীভাবে আর্থিক বিনিয়োগ ও ব্যবহারকারীর আস্থার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে প্রযুক্তি দুনিয়ার।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ