ভিডিও তৈরি করেই আয়ের সুযোগ! কনটেন্ট ক্রিয়েটারদের জন্য নতুন একটি উদ্যোগ নিয়ে এসেছে এলন মাস্কের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স (সাবেক টুইটার)। ‘ভিডিও কিকস্টার্ট বোনাস’ নামের এই কর্মসূচিতে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করতে পারলে ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত বোনাস পাওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ২ লাখ ৮৫ হাজার টাকা।
এই উদ্যোগের উল্লেখযোগ্য দিক হলো, বোনাস পাওয়ার ক্ষেত্রে ভিডিওর ভিউ বা এনগেজমেন্টই একমাত্র বিবেচ্য বিষয় নয়। বরং নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্দিষ্ট সংখ্যক মৌলিক ভিডিও প্রকাশ করার শর্ত পূরণ করাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ। তবে আপাতত এই সুযোগ সব কনটেন্ট ক্রিয়েটারের জন্য উন্মুক্ত নয়। এক্সের পক্ষ থেকে নির্বাচিত নির্মাতারাই এই পরীক্ষামূলক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
৩০ দিনে ১৫টি ভিডিও, মিলতে পারে ৩ হাজার ডলার
এক্সের ‘ভিডিও কিকস্টার্ট বোনাস’ কর্মসূচির নির্দেশিকা অনুযায়ী, ৩০ দিনের মধ্যে নির্দিষ্ট ১৫ দিনে অন্তত একটি করে মৌলিক ভিডিও প্রকাশ করতে হবে। অর্থাৎ, পুরো মাসে মোট ১৫টি ভিডিও পোস্ট করার পাশাপাশি সেগুলি নির্ধারিত দিনগুলিতে প্রকাশ করার শর্তও মানতে হবে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কর্মসূচির শর্ত পূরণ করতে পারলে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ডলার পর্যন্ত বোনাস পাওয়ার সুযোগ থাকতে পারে। তবে এই অর্থ সব অংশগ্রহণকারী নিশ্চিতভাবে পাবেন কি না, কিংবা প্রত্যেকের জন্য একই পরিমাণ বোনাস বরাদ্দ থাকবে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তাই নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলেই প্রত্যেকের হাতে নিশ্চিতভাবে ৩ হাজার ডলার আসবে—এমন দাবি করার আগে কর্মসূচির সম্পূর্ণ নিয়মাবলি যাচাই করা প্রয়োজন।
কেমন হতে হবে ভিডিও?
এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে হলে ভিডিওর ধরন ও দৈর্ঘ্যের ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শর্ত মানতে হবে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওগুলি হতে হবে মৌলিক এবং ভার্টিক্যাল বা লম্বালম্বি ফরম্যাটে তৈরি। প্রতিটি ভিডিওর দৈর্ঘ্য তিন মিনিটের কম হওয়া প্রয়োজন।
অর্থাৎ, শুধু যেকোনও ভিডিও পোস্ট করলেই চলবে না। ভিডিওর ফরম্যাট, দৈর্ঘ্য এবং মৌলিকতার শর্ত পূরণ করতে হবে। নিয়মিত ভিডিও তৈরি করেন, এমন নির্মাতাদের জন্য এই উদ্যোগ বাড়তি আয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
তবে ভিডিওর বিষয়বস্তু, গ্রহণযোগ্য কনটেন্টের ধরন এবং অন্যান্য সম্ভাব্য বিধিনিষেধ সম্পর্কে বিস্তারিত নির্দেশিকা দেখে নেওয়া জরুরি। কারণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা ও বোনাস পাওয়ার শর্ত একাধিক বিষয়ের ওপর নির্ভর করতে পারে।
ভিউ কম হলেও কি মিলবে বোনাস?
এই কর্মসূচির সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে বোনাসের জন্য বিপুল ভিউ বা এনগেজমেন্ট অর্জন বাধ্যতামূলক নয়। সাধারণত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও থেকে আয় করতে হলে দর্শকসংখ্যা, বিজ্ঞাপনের প্রদর্শন, ওয়াচ টাইম কিংবা অন্যান্য পারফরম্যান্স সূচক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কিন্তু ‘ভিডিও কিকস্টার্ট বোনাস’-এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সংখ্যক মৌলিক ভিডিও প্রকাশের শর্তকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে যেসব নির্মাতার ভিডিওতে এখনও বিপুলসংখ্যক দর্শক আসেন না, তাঁদের কাছেও এটি সম্ভাব্য আয়ের নতুন সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
তবে এখানে একটি বিষয় মনে রাখা প্রয়োজন। ভিউ বা এনগেজমেন্টের ওপর বোনাস নির্ভর না করলেও অন্যান্য যোগ্যতার শর্ত, কনটেন্ট যাচাই এবং কর্মসূচির নিয়ম প্রযোজ্য হতে পারে। তাই ভিউ কম হলেই যে প্রত্যেকে নিশ্চিতভাবে বোনাস পাবেন, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যায় না।
সবার জন্য নয়, নির্বাচিত নির্মাতারাই পাবেন সুযোগ
এক্সের এই কর্মসূচি আপাতত পরীক্ষামূলক পর্যায়ে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাই সব ব্যবহারকারী নিজের ইচ্ছেমতো এতে যোগ দিতে পারবেন না। এক্সের পক্ষ থেকে যাঁরা আমন্ত্রণ পাবেন, তাঁরাই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
নির্বাচিত নির্মাতারা ‘ক্রিয়েটর স্টুডিও’-এর ‘প্রোগ্রামস’ বিভাগে গিয়ে এই কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পেতে পারেন। তবে কারা আমন্ত্রণ পাবেন, কী ধরনের অ্যাকাউন্টের জন্য এই সুবিধা প্রযোজ্য এবং অংশগ্রহণের ন্যূনতম যোগ্যতা কী—সেসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়।
ফলে এই উদ্যোগে অংশ নিতে আগ্রহী নির্মাতাদের নিজেদের অ্যাকাউন্টে প্রাপ্ত বিজ্ঞপ্তি এবং এক্সের আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা অনুসরণ করা উচিত।
অন্য প্ল্যাটফর্মের ভিডিও কি এক্সে পোস্ট করা যাবে?
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্য প্ল্যাটফর্মে আগে প্রকাশিত নিজের মৌলিক ভিডিওও এক্সে পোস্ট করা যেতে পারে। তবে ভিডিওতে অন্য প্ল্যাটফর্মের ওয়াটারমার্ক থাকা চলবে না।
এই শর্তটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অনেক নির্মাতাই একই ভিডিও একাধিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন। তাঁদের ক্ষেত্রে ভিডিওর মূল ফাইল ব্যবহার করা এবং অন্য প্ল্যাটফর্মের ওয়াটারমার্ক এড়িয়ে চলা প্রয়োজন হতে পারে।
তবে অন্যের তৈরি ভিডিও নিজের নামে প্রকাশ করা কিংবা অনুমতি ছাড়া কপিরাইটযুক্ত কনটেন্ট ব্যবহার করা এই সুযোগের বিকল্প নয়। মৌলিক কনটেন্ট তৈরি এবং প্ল্যাটফর্মের নীতিমালা মেনে চলাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ।
কেন ভিডিও কনটেন্টে গুরুত্ব দিচ্ছে এক্স?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর মধ্যে ভিডিও কনটেন্টকে কেন্দ্র করে প্রতিযোগিতা ক্রমশ বাড়ছে। ব্যবহারকারীরা যাতে দীর্ঘ সময় প্ল্যাটফর্মে থাকেন, নিয়মিত নতুন কনটেন্ট দেখেন এবং নির্মাতারা যাতে সেখানে সক্রিয় থাকেন, সে জন্য বিভিন্ন প্ল্যাটফর্ম নানা ধরনের আর্থিক প্রণোদনা চালু করছে।
এক্সের ‘ভিডিও কিকস্টার্ট বোনাস’ উদ্যোগও সেই কৌশলের অংশ হতে পারে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশের বিনিময়ে বোনাস দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করলে নির্মাতারা প্ল্যাটফর্মটিতে আরও বেশি ভিডিও প্রকাশে উৎসাহিত হতে পারেন।
এর ফলে এক্সে ভিডিওর পরিমাণ বাড়তে পারে এবং ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন কনটেন্টের সরবরাহও বৃদ্ধি পেতে পারে। একই সঙ্গে ভিডিও নির্মাতাদের কাছে প্ল্যাটফর্মটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।
কনটেন্ট ক্রিয়েটারদের কী করা উচিত?
যাঁরা এক্সে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করেন, তাঁদের জন্য এই উদ্যোগের খবর গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে সম্ভাব্য আয়ের আশায় কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রথমত, নিজের অ্যাকাউন্ট এই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছে কি না, তা দেখতে হবে। দ্বিতীয়ত, ভিডিওর দৈর্ঘ্য, ফরম্যাট ও মৌলিকতা-সংক্রান্ত শর্ত ভালোভাবে বুঝতে হবে। তৃতীয়ত, বোনাসের পরিমাণ, অর্থ পাওয়ার নিয়ম এবং কর্মসূচির সময়সীমা সম্পর্কে এক্সের আনুষ্ঠানিক নির্দেশিকা পড়ে নেওয়া জরুরি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৩ হাজার ডলারের বোনাসকে নিশ্চিত আয় হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়। কর্মসূচির শর্ত, যোগ্যতা ও অর্থ প্রদানের নিয়ম যাচাই করার পরই এতে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া ভালো।



