এনবি সংবাদ,আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : দুর্গাপুজোর আনন্দের মধ্যেই বৃষ্টির ভ্রুকুটি! পঞ্চমী থেকে সপ্তমী পর্যন্ত কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দফতর। কোথাও হালকা, আবার কোথাও হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। ফলে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে বৃষ্টির মুখে পড়ার আশঙ্কা থাকছে। বিশেষ করে কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের বাসিন্দাদের আবহাওয়ার দিকে নজর রাখতে হবে।
তবে এখনই ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা নেই বলে পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে। পুজোর শুরুর কয়েক দিন বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও অষ্টমী থেকে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকতে পারে। উত্তরবঙ্গেও পুজোর দিনগুলিতে ধীরে ধীরে কমবে বৃষ্টির সম্ভাবনা। ফলে পুজোর শুরুতে ছাতা সঙ্গে রাখা জরুরি হলেও পরের দিকে আবহাওয়া অনুকূল হওয়ার আশা করছেন পুজোপ্রেমীরা।
পঞ্চমী থেকে সপ্তমী পর্যন্ত কলকাতা ও সংলগ্ন এলাকায় আকাশ মূলত মেঘলা থাকতে পারে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রোদের দেখা কম মিলতে পারে। সেই সঙ্গে দিনের বিভিন্ন সময়ে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
পুজোর সময় কলকাতার রাস্তায় মানুষের ঢল নামে। সকাল থেকেই অনেকে ঠাকুর দেখতে বেরিয়ে পড়েন। রাত পর্যন্ত চলে মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরার পালা। এমন পরিস্থিতিতে হঠাৎ বৃষ্টি হলে যাতায়াতের পাশাপাশি মণ্ডপে ভিড় সামলাতেও সমস্যা হতে পারে।
তাই পঞ্চমী, ষষ্ঠী ও সপ্তমীতে ঠাকুর দেখতে বেরোনোর আগে আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস দেখে নেওয়া ভালো। সঙ্গে ছাতা বা রেনকোট রাখলে আচমকা বৃষ্টিতে ভোগান্তি কিছুটা কমানো সম্ভব। তবে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেই যে সারাদিন বৃষ্টি হবে, এমন নয়। পূর্বাভাস অনুযায়ী, বৃষ্টির ধরন মূলত বিক্ষিপ্ত হতে পারে।
পুজোর পঞ্চমীতে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর কলকাতা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ, পুজোর শুরুর দিনেই দক্ষিণবঙ্গের বিস্তীর্ণ অংশে মেঘলা আবহাওয়া দেখা যেতে পারে।
কলকাতা ও আশপাশের এলাকায় বৃষ্টি হলে রাস্তায় যান চলাচল এবং দর্শনার্থীদের যাতায়াতে প্রভাব পড়তে পারে। বিশেষ করে খোলা জায়গায় তৈরি মণ্ডপ কিংবা দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে প্রতিমা দর্শনের পরিকল্পনা থাকলে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
তবে এই পূর্বাভাসে ভারী বৃষ্টির কোনও আশঙ্কার কথা বলা হয়নি। ফলে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও পুজোর আনন্দ পুরোপুরি বিঘ্নিত হবে কি না, তা নির্ভর করবে স্থানীয় আবহাওয়া এবং বৃষ্টির স্থায়িত্বের উপর।
ষষ্ঠীর দিন, অর্থাৎ ১৬ অক্টোবর দক্ষিণবঙ্গের দুই জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা তুলনামূলকভাবে বেশি নজরে থাকছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির পাশাপাশি বজ্রপাতও হতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গের অন্যান্য জেলাতেও বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে কলকাতা-সহ বিভিন্ন এলাকায় পুজোর পরিকল্পনা করার সময় আবহাওয়ার দিকে নজর রাখা জরুরি।
ষষ্ঠী থেকেই বহু মানুষ মণ্ডপে মণ্ডপে ঘুরতে শুরু করেন। সন্ধ্যা নামতেই বাড়ে ভিড়। সেই সময় বৃষ্টি হলে রাস্তায় জল জমা, যানজট কিংবা মণ্ডপের বাইরে অপেক্ষা করার ক্ষেত্রে অসুবিধা তৈরি হতে পারে। তাই প্রয়োজন ছাড়া বজ্রবিদ্যুতের সময় খোলা জায়গায় দাঁড়িয়ে না থাকাই ভালো।
আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাসে আপাতত ভারী বৃষ্টির ইঙ্গিত নেই। তবে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি কখন কোথায় হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় সতর্ক থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।
সপ্তমীর প্রথম দিন, ১৭ অক্টোবরও দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পূর্ব মেদিনীপুরে হালকা বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি কলকাতা, হাওড়া, উত্তর ২৪ পরগনা, পশ্চিম মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামের কিছু এলাকায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
অন্যদিকে, দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকতে পারে। অর্থাৎ, সপ্তমীর দিন গোটা দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে একরকম আবহাওয়া থাকবে না। কোনও এলাকায় বৃষ্টি হলেও কাছাকাছি অন্য এলাকায় আকাশ পরিষ্কার থাকতে পারে।
যাঁরা সপ্তমীতে ঠাকুর দেখার পরিকল্পনা করছেন, তাঁদের জন্য পরামর্শ একটাই—বেরোনোর আগে স্থানীয় আবহাওয়ার খবর দেখে নিন। বিশেষ করে বিকেল ও সন্ধ্যায় বাইরে থাকার পরিকল্পনা থাকলে ছাতা সঙ্গে রাখা ভালো। বজ্রপাতের সতর্কতা থাকলে গাছের নীচে কিংবা খোলা জায়গায় আশ্রয় নেওয়া এড়িয়ে চলুন।
পুজোর শুরুর দিকে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও পরের দিনগুলিতে স্বস্তির খবর দিয়েছে আবহাওয়া দফতর। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ১৮ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গে ঝড়বৃষ্টির উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা নেই। অষ্টমী থেকে একাদশী পর্যন্ত আবহাওয়া মোটের উপর শুষ্ক থাকতে পারে।
এই সময়ে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলাগুলিতে বৃষ্টির আশঙ্কা কম থাকায় প্রতিমা দর্শন ও পুজোর অন্যান্য পরিকল্পনা করতে সুবিধা হতে পারে। বিশেষ করে অষ্টমী, নবমী ও দশমীতে দীর্ঘক্ষণ বাইরে থাকার পরিকল্পনা যাঁদের রয়েছে, তাঁদের জন্য এটি স্বস্তির খবর।
তবে আবহাওয়ার পূর্বাভাস সময়ের সঙ্গে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই নির্দিষ্ট দিনের পরিস্থিতি জানতে আলিপুর আবহাওয়া দফতরের সর্বশেষ বুলেটিন দেখে নেওয়া উচিত।
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের আবহাওয়ার দিকেও নজর রয়েছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, পঞ্চমী পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে উল্লেখযোগ্য বৃষ্টির সম্ভাবনা নেই।
তবে ষষ্ঠীর দিন দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং কালিম্পঙের কিছু এলাকায় হালকা বৃষ্টি হতে পারে। সপ্তমীর প্রথম দিন, অর্থাৎ ১৭ অক্টোবর এই তিন জেলার পাশাপাশি আলিপুরদুয়ারেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
এর পরের দিন, রবিবার দার্জিলিং ও কালিম্পঙের কয়েকটি এলাকায় সামান্য বৃষ্টি হতে পারে। তবে সোমবার, অর্থাৎ অষ্টমী থেকে উত্তরবঙ্গের সর্বত্র আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকার পূর্বাভাস রয়েছে।
পাহাড়ে বেড়াতে যাওয়া কিংবা উত্তরবঙ্গের মণ্ডপ দর্শনের পরিকল্পনা থাকলে স্থানীয় আবহাওয়ার খবর জেনে নেওয়া ভালো। পাহাড়ি এলাকায় আবহাওয়ার দ্রুত পরিবর্তন হতে পারে। তাই বৃষ্টির সম্ভাবনা কম থাকলেও প্রয়োজনীয় সতর্কতা বজায় রাখা উচিত।
পঞ্চমী থেকে সপ্তমী পর্যন্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা দরকার। প্রথমত, বাড়ি থেকে বেরোনোর আগে আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস দেখে নিন। দ্বিতীয়ত, সঙ্গে ছাতা বা রেনকোট রাখুন। তৃতীয়ত, বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টির সময় খোলা মাঠ, উঁচু গাছের নীচে কিংবা জলাশয়ের কাছে দাঁড়িয়ে থাকা এড়িয়ে চলুন।
এ ছাড়া বৃষ্টির কারণে রাস্তায় যানজট তৈরি হলে হাতে অতিরিক্ত সময় নিয়ে বেরোনো ভালো। বিশেষ করে কলকাতার বড় মণ্ডপগুলিতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে যাতায়াতের বিকল্প ব্যবস্থাও ভেবে রাখা যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, দুর্গাপুজোর প্রথম দিকে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকছে। পঞ্চমী থেকে সপ্তমী পর্যন্ত ছাতা সঙ্গে রাখাই হবে বুদ্ধিমানের কাজ। তবে পূর্বাভাস অনুযায়ী, অষ্টমী থেকে একাদশী পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পুজোর শেষ ভাগে বৃষ্টির দুশ্চিন্তা অনেকটাই কমতে পারে।



