সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট

Homeবিশ্ব সংবাদইন্ডিয়া নিউজযৌনাঙ্গে আঘাত থেকে থাপ্পড়, দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের গুরুতর অভিযোগ

যৌনাঙ্গে আঘাত থেকে থাপ্পড়, দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে পড়ুয়াদের গুরুতর অভিযোগ

সাংবাদিক বৈঠকে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আথিরাকে সামনে আনেন রাহুল গান্ধী। কেরল থেকে দিল্লিতে পড়াশোনা করতে আসা এই ছাত্রীর দাবি, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর তাঁকে অন্যদের সঙ্গে আটক করে বাসে তোলা হয়েছিল।

রাহুল রাহা, এনবি সংবাদ, দিল্লি থেকে : দিল্লিতে বিক্ষোভরত ছাত্রছাত্রীদের আটক করে মারধর ও হেনস্থার অভিযোগ উঠল পুলিশের বিরুদ্ধে। কারও দাবি, পুলিশের থাপ্পড়ে এক কানে শ্রবণশক্তি হারিয়েছেন তিনি। আবার এক ছাত্রীর অভিযোগ, তাঁকে রাস্তায় ফেলে টেনে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি যৌনাঙ্গেও আঘাত করা হয়েছে। মঙ্গলবারের এই ঘটনার প্রতিবাদে বুধবার নিগৃহীত পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়িয়ে সাংবাদিক বৈঠক করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। পড়ুয়াদের অভিযোগ সামনে এনে তিনি দিল্লি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।

বিক্ষোভকারীদের দাবি, তাঁদের আটক করে বাসে তোলার পর মারধর করা হয়। পরে থানার ভিতরেও হেনস্থার শিকার হতে হয় কয়েকজনকে। এক ছাত্রী জানিয়েছেন, তাঁর কানে ও গালে পরপর থাপ্পড় মারা হয়েছিল। অন্য এক ছাত্রী এক মহিলা পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে মারধর ও আঁচড়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন।

তবে এই অভিযোগগুলির বিষয়ে দিল্লি পুলিশের বক্তব্য এখনও সামনে আসেনি বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে অভিযোগগুলির স্বাধীনভাবে যাচাই এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ সামনে আসা জরুরি।

দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর বাতিলের দাবিতে দিল্লিতে প্রতিবাদ চালাচ্ছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলির কর্মী-সমর্থকেরা। সেই আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন ছাত্রছাত্রীরাও।

অভিযোগ, মঙ্গলবার বিক্ষোভ চলাকালীন কয়েকজন পড়ুয়াকে রাস্তা থেকে আটক করে বাসে তোলা হয়। তাঁদের দাবি, বাসের ভিতরেই পুলিশকর্মীদের হাতে মারধরের শিকার হন তাঁরা। পরে কনট প্লেস থানার সামনে বাস নিয়ে যাওয়া হলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, আটক করার সময় বাসে কোনও মহিলা পুলিশকর্মী ছিলেন না। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই পুলিশকর্মীরা ক্ষুব্ধ হন বলে অভিযোগ তাঁদের। এরপর কয়েকজন ছাত্রীকে মারধর করা হয় বলেও দাবি উঠেছে।

এই ঘটনার পর বুধবার রাহুল গান্ধী আক্রান্ত বলে দাবি করা পড়ুয়াদের সঙ্গে নিয়ে সাংবাদিক বৈঠক করেন। সেখানে ছাত্রছাত্রীরা নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন। তাঁদের অভিযোগ, পুলিশি হেনস্থার পাশাপাশি শারীরিক আঘাতেরও শিকার হয়েছেন তাঁরা।

সাংবাদিক বৈঠকে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আথিরাকে সামনে আনেন রাহুল গান্ধী। কেরল থেকে দিল্লিতে পড়াশোনা করতে আসা এই ছাত্রীর দাবি, মঙ্গলবারের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর তাঁকে অন্যদের সঙ্গে আটক করে বাসে তোলা হয়েছিল।

আথিরার অভিযোগ, বাসের ভিতরে তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা হয়। কনট প্লেস থানার সামনে বাস দাঁড় করানোর পর তাঁকে কানে ও গালে পরপর থাপ্পড় মারা হয়। এর ফলে তাঁর একটি কানে শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি।

রাহুল গান্ধী সাংবাদিক বৈঠকে আথিরার শারীরিক সমস্যার কথা তুলে ধরে পুলিশি আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, এর আগেও তিনি এক ছাত্রের কথা সামনে এনেছিলেন, যিনি দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছিল। এবার এক ছাত্রীর শ্রবণশক্তি হারানোর অভিযোগ সামনে এসেছে।

তবে আথিরার শ্রবণশক্তি কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তা চিকিৎসা পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য নেই। তাই এই অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাংবাদিক বৈঠকে আরও এক ছাত্রীকে সামনে আনেন রাহুল গান্ধী। ন্যাশনাল স্টুডেন্টস ইউনিয়ন অফ ইন্ডিয়া বা এনএসইউআইয়ের সঙ্গে যুক্ত ওই ছাত্রীকে ‘শেরনি’ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ওই ছাত্রীর অভিযোগ, চঞ্চল যাদব নামে এক মহিলা পুলিশকর্মী তাঁকে মারধর করেছেন। তাঁর দাবি, বাসের ভিতরে ওই পুলিশকর্মী তাঁকে ধাক্কা দিয়ে আসনের উপর ফেলে দেন। পরে নখ দিয়ে গালে আঁচড়ে দেন এবং বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে বারবার থাপ্পড় মারেন।

ছাত্রীর আরও অভিযোগ, থানায় নিয়ে যাওয়ার পরেও তাঁদের মারধর করা হয়। তাঁদের ১০৭ নম্বর ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেছেন তিনি। সেখানে সাদা পোশাকের মহিলা পুলিশকর্মীরা তাঁদের উপর চড়াও হন বলেও অভিযোগ।

ওই ছাত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, মারধরের ফলে তাঁদের হাত-পায়ে কালশিটে দাগ পড়েছে। অভিযুক্ত মহিলা পুলিশকর্মী তাঁদের আন্দোলনে বারবার অংশ নেওয়া নিয়েও হুমকি দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

তবে অভিযুক্ত পুলিশকর্মী বা দিল্লি পুলিশের তরফে এই অভিযোগের কোনও জবাব পাওয়া গিয়েছে কি না, তা প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করতে সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীদের বক্তব্য, চিকিৎসার নথি এবং অন্যান্য প্রমাণ খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

এই সাংবাদিক বৈঠকেই আরও একটি গুরুতর অভিযোগ সামনে আসে। রাহুল গান্ধীর সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এক ছাত্রী দাবি করেন, পুলিশি হেনস্থার হাত থেকে অন্য এক ছাত্রীকে রক্ষা করার চেষ্টা চলছিল। সেই সময় ওই ছাত্রীর যৌনাঙ্গে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ।

অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, ওই ছাত্রীকে রাস্তায় ফেলে টেনে নিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ঘটনাটি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্দোলনকারীরা।

যৌনাঙ্গে আঘাতের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। তাই এ ধরনের ঘটনার ক্ষেত্রে আক্রান্তের নিরাপত্তা ও মর্যাদা বজায় রেখে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা, নিরপেক্ষ তদন্ত করা এবং প্রমাণ সংগ্রহ করা জরুরি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও উঠতে পারে।

তবে এই অভিযোগের ক্ষেত্রেও পুলিশের বক্তব্য এবং স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য সামনে আসেনি। ফলে অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে ধরে নেওয়ার পরিবর্তে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

দিল্লির এই বিক্ষোভের পিছনে রয়েছে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক। আন্দোলনকারীরা মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।

এসআইআর হল ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে ভোটার তালিকার তথ্য যাচাই ও প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হয়। তবে এই প্রক্রিয়ার পদ্ধতি, প্রয়োগ এবং সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে মতবিরোধ তৈরি হতে পারে।

বিরোধী দলগুলির একাংশের অভিযোগ, এই প্রক্রিয়া নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য ও সংশ্লিষ্ট নিয়মকানুন বিবেচনা করেই বিষয়টির পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন করা প্রয়োজন। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে ওঠা অভিযোগ এবং তার জবাব যাচাই করতে সরকারি নথি ও নির্ভরযোগ্য তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।

এই ইস্যুতে প্রতিবাদ জানাতে পথে নেমেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকেরা। তাঁদের আন্দোলনের মধ্যেই ছাত্রছাত্রীদের আটক এবং পুলিশি হেনস্থার অভিযোগ নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে।

দিল্লিতে আন্দোলন ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে এর আগেও প্রশ্ন উঠেছিল। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনের দাবি, গত শনিবার যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির কর্মসূচির আগে পুলিশ ব্যাপক ধরপাকড় চালায়। অভিযোগ ওঠে, কয়েকজন আইনজীবী ও সাংবাদিককেও রাস্তা থেকে আটক করা হয়েছিল। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এরপর মঙ্গলবারের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের আটক ও মারধরের অভিযোগ সামনে আসায় পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

রাহুল গান্ধী আক্রান্ত বলে দাবি করা পড়ুয়াদের বক্তব্য সামনে এনে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে, অভিযোগগুলির বিষয়ে দিল্লি পুলিশের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া সামনে এলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হতে পারে।

দিল্লির এই ঘটনা ঘিরে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, বিক্ষোভকারী ছাত্রছাত্রীদের তোলা অভিযোগগুলির নিরপেক্ষ তদন্ত। কারও শ্রবণশক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া, মারধরে জখম হওয়া কিংবা যৌনাঙ্গে আঘাতের মতো অভিযোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, বাস ও থানার সিসিটিভি ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশকর্মীদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হতে পারে।

একই সঙ্গে অভিযোগকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের বক্তব্য নির্ভয়ে জানানোর সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। আবার তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কোনও ব্যক্তি বা পক্ষকে দোষী সাব্যস্ত করাও সমীচীন নয়।

সব মিলিয়ে, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ও এসআইআর বাতিলের দাবিতে দিল্লির আন্দোলন এখন নতুন বিতর্কের কেন্দ্রে। বিক্ষোভকারী পড়ুয়াদের উপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন রাহুল গান্ধী। এবার পুলিশের বক্তব্য, নির্ভরযোগ্য প্রমাণ এবং তদন্তের ফলাফলের দিকেই নজর থাকবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ