সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট

Homeবিশ্ব সংবাদইন্ডিয়া নিউজ‘বাংলাদেশই পথ দেখিয়েছে’, জেন জি আন্দোলন নিয়ে কী বললেন নেহা বোরা?

‘বাংলাদেশই পথ দেখিয়েছে’, জেন জি আন্দোলন নিয়ে কী বললেন নেহা বোরা?

বাংলাদেশের সোশ্যালিস্ট স্টুডেন্টস ফ্রন্টের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানাতেও শোনা যায় তাঁকে। নেহা বলেন, সম্মেলনের জন্য সংগঠনটির সদস্যদের বৈপ্লবিক শুভেচ্ছা ও লাল সালাম জানাচ্ছেন তাঁরা।

রাহুল রাহা, এনবি সংবাদ, দিল্লি থেকে : বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলন কি ভারতের জেন জি আন্দোলনের অনুপ্রেরণা? এমনই মন্তব্য করে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক উসকে দিলেন অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের (আইসা) সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা। তাঁর দাবি, বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলন থেকেই অনুপ্রেরণা পেয়েছে বিভিন্ন দেশে তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদী আন্দোলন। বাংলাদেশের আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে সংহতি জানিয়ে তিনি বলেছেন, তাঁদের সংগ্রাম থেকে শিক্ষা নিয়েই এগিয়ে চলেছেন অন্য দেশের তরুণেরা।

নেহার এই মন্তব্য সামনে আসার পর বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলন এবং ভারতের সাম্প্রতিক ছাত্র-যুব আন্দোলনের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, বাংলাদেশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রভাব ভারতের রাজনৈতিক পরিসরে কতটা পড়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। যদিও নেহার বক্তব্য আন্দোলনের মধ্যে আদর্শগত ও রাজনৈতিক অনুপ্রেরণার বিষয়টিকেই সামনে এনেছে, এই মন্তব্যের ভিত্তিতে কোনও আন্দোলনের পিছনে সাংগঠনিক যোগসূত্র রয়েছে বলে নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

আইসার সর্বভারতীয় সভাপতি নেহা বোরা সম্প্রতি বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনকারীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে বাংলাদেশের আন্দোলনের অভিজ্ঞতা এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদী রাজনীতিতে তার সম্ভাব্য প্রভাব।

নেহা বলেন, বাংলাদেশের আন্দোলনকারীদের প্রতি তাঁরা সংহতি জানাচ্ছেন। তাঁদের কাছ থেকেই অনুপ্রেরণা পাচ্ছেন এবং তাঁদের নেতৃত্বে পরিচালিত আন্দোলনগুলি থেকে শিক্ষা নিচ্ছেন। বাংলাদেশের ছাত্র-যুবদের সংগ্রাম যে অন্য দেশের আন্দোলনকারীদের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, তাঁর বক্তব্যে সেই বার্তাই স্পষ্ট।

বাংলাদেশের সোশ্যালিস্ট স্টুডেন্টস ফ্রন্টের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানাতেও শোনা যায় তাঁকে। নেহা বলেন, সম্মেলনের জন্য সংগঠনটির সদস্যদের বৈপ্লবিক শুভেচ্ছা ও লাল সালাম জানাচ্ছেন তাঁরা।

এরপরই বাংলাদেশের আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন জায়গায় যে জেন জি আন্দোলন দেখা যাচ্ছে, তার সূচনা হয়েছিল বাংলাদেশে। তরুণদের আন্দোলনের পথ দেখানোর জন্য বাংলাদেশের ছাত্র-যুবদের অভিনন্দন জানান তিনি।

নেহার এই বক্তব্যের মূল সুর হল, বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলন শুধু দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেই প্রভাব ফেলেনি, বরং তরুণ প্রজন্মের প্রতিবাদী রাজনীতির ক্ষেত্রেও একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

২০২৪ সালের জুলাই মাসে বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে যে ব্যাপক গণবিক্ষোভ শুরু হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় নেয়। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন ধীরে ধীরে বৃহত্তর রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রতিবাদে রূপান্তরিত হয়।

আন্দোলনে ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণির মানুষ অংশ নেন। বিক্ষোভ, সংঘর্ষ এবং প্রাণহানির ঘটনায় পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করেন এবং দেশ ছেড়ে ভারতে চলে যান।

এই ঘটনাকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হয়। আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছাত্রনেতা ও তরুণ সংগঠকেরা পরবর্তী সময়ে দেশের রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে ওঠেন।

বাংলাদেশের এই অভিজ্ঞতা দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তরুণদের মধ্যেও আলোচনার বিষয় হয়েছে। বিশেষত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যবহার, দ্রুত সংগঠিত হওয়া, সরকারের নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের দাবিতে তরুণদের অংশগ্রহণ—এই বিষয়গুলি নিয়ে নানা মহলে আলোচনা চলছে।

তবে বাংলাদেশের আন্দোলন এবং ভারতের জেন জি আন্দোলনের মধ্যে ঠিক কতটা প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে, তা নির্ধারণ করতে হলে নির্দিষ্ট ঘটনা, সংগঠন এবং অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য আলাদাভাবে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

নেহা বোরা ভারতের ছাত্ররাজনীতির পরিচিত মুখ। তিনি অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সর্বভারতীয় সভাপতি। ছাত্রছাত্রীদের অধিকার, শিক্ষা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে সংগঠনটির অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।

সাম্প্রতিক সময়ে তরুণ প্রজন্মের আন্দোলন এবং রাজনৈতিক প্রতিবাদের প্রসঙ্গে নেহার বক্তব্য বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনকে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করায় তাঁর মন্তব্য নতুন মাত্রা পেয়েছে।

জেন জি বলতে সাধারণত ১৯৯৭ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়া প্রজন্মকে বোঝানো হয়। যদিও বিভিন্ন গবেষণা ও সংস্থা এই প্রজন্মের সময়সীমা নির্ধারণে সামান্য ভিন্নতা ব্যবহার করে। প্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গে বেড়ে ওঠা এই প্রজন্মের রাজনৈতিক সচেতনতা, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, সামাজিক ন্যায় এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার মতো বিষয়গুলি নিয়ে আগ্রহ রয়েছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তরুণদের নেতৃত্বে প্রতিবাদী আন্দোলন দেখা গিয়েছে। তবে প্রতিটি আন্দোলনের নিজস্ব রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট রয়েছে। ফলে একটি আন্দোলন অন্যটিকে অনুপ্রাণিত করলেও দুটির উদ্দেশ্য ও পরিস্থিতি সব সময় এক হয় না।

বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের প্রভাব নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি ছাত্রনেতা নাহিদ ইসলামের একটি বক্তব্যও সামনে এসেছে। দিল্লিতে একটি আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে নাহিদ বলেছিলেন, সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আন্দোলনকারীরা পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।

তাঁর এই বক্তব্যকে দুই দেশের প্রতিবাদী রাজনৈতিক শক্তির মধ্যে সংহতির বার্তা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন কেউ কেউ। আবার রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই ধরনের বক্তব্যের মধ্যে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক সমর্থনের সম্ভাবনাও দেখতে চাইছে।

তবে কোনও আন্দোলনের প্রতি সংহতি প্রকাশ করা এবং সেই আন্দোলনের সাংগঠনিক পরিচালনায় যুক্ত থাকা এক বিষয় নয়। একইভাবে, রাজনৈতিক বক্তব্য বা আদর্শগত মিলের ভিত্তিতে বিদেশি মদত কিংবা গোপন যোগাযোগের অভিযোগকে সত্য বলে ধরে নেওয়া যায় না। এ ধরনের দাবি প্রতিষ্ঠা করতে হলে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও প্রমাণ প্রয়োজন।

নেহা বোরার সাম্প্রতিক মন্তব্যও মূলত বাংলাদেশের আন্দোলন থেকে অনুপ্রেরণা পাওয়ার বিষয়টি সামনে এনেছে। তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে ভারতের কোনও নির্দিষ্ট রাজনৈতিক আন্দোলনের পিছনে বাংলাদেশের সংগঠনগুলির প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর যথেষ্ট ভিত্তি নেই।

অন্যদিকে, ভারতে ভোটচুরির অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ১০ অক্টোবর দিল্লিতে একটি আন্দোলনের ডাক দেওয়া হয়েছিল।

আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশের বাধা সত্ত্বেও আন্দোলনকারীরা প্রতিবাদ চালিয়ে যান। কয়েকজন আন্দোলনকারীকে আটক করার খবরও সামনে আসে।

তবে ভোটচুরির অভিযোগ এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করতে হলে সংশ্লিষ্ট নথি, নির্বাচনী তথ্য এবং নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য বিবেচনা করা প্রয়োজন। রাজনৈতিক অভিযোগকে প্রমাণিত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক নয়।

এই পরিস্থিতিতে নেহা বোরার মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনকে তিনি তরুণদের প্রতিবাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছেন। অন্যদিকে, দিল্লির আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্কও অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলন এবং ভারতের তরুণদের প্রতিবাদের মধ্যে কোনও মিল রয়েছে কি না, তা বুঝতে হলে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা জরুরি। প্রথমত, দুই দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আন্দোলনের দাবি এক নয়। দ্বিতীয়ত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে এক দেশের আন্দোলনের খবর অন্য দেশের তরুণদের কাছে দ্রুত পৌঁছে যায়। তৃতীয়ত, কোনও আন্দোলনের অভিজ্ঞতা অন্য দেশের প্রতিবাদকারীদের অনুপ্রাণিত করতে পারে, কিন্তু তাতে সাংগঠনিক সম্পর্ক প্রমাণিত হয় না।

নেহা বোরার বক্তব্যে বাংলাদেশের আন্দোলনের প্রতি শ্রদ্ধা ও সংহতির বিষয়টি স্পষ্ট। তিনি বাংলাদেশের ছাত্র-যুবদের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়ার কথা বলেছেন। এই মন্তব্যের রাজনৈতিক তাৎপর্য রয়েছে, কারণ এর মাধ্যমে বাংলাদেশের আন্দোলনকে আন্তর্জাতিক তরুণ রাজনীতির আলোচনায় তুলে ধরা হয়েছে।

সব মিলিয়ে, বাংলাদেশের জুলাই আন্দোলনকে জেন জি আন্দোলনের অনুপ্রেরণা হিসেবে তুলে ধরে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছেন নেহা বোরা। তাঁর মন্তব্যে দুই দেশের ছাত্র-যুব রাজনীতির পারস্পরিক প্রভাবের বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে রাজনৈতিক সংহতি, অনুপ্রেরণা এবং প্রত্যক্ষ সাংগঠনিক যোগসূত্রের মধ্যে পার্থক্য বজায় রেখেই এই ঘটনা বিচার করা প্রয়োজন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ