সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট

Homeবিশ্ব সংবাদ‘আমার প্রেসিডেন্ট, আমার স্বামী…’ প্রথম প্রেস ব্রিফিংয়েই মুখ ফসকে বিতর্কে ট্রাম্পের নয়া...

‘আমার প্রেসিডেন্ট, আমার স্বামী…’ প্রথম প্রেস ব্রিফিংয়েই মুখ ফসকে বিতর্কে ট্রাম্পের নয়া প্রেস সচিব!

সাংবাদিকের প্রশ্নটি ছিল তাঁর স্বামী ও সন্তানদের সময় দেওয়ার বিষয়ে। সেই প্রসঙ্গে উত্তর দিতে গিয়ে একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে শব্দের গুলিয়ে ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এটি কেবল অনুমান। ক্যাটি নিজে এই ভুলের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এনবি সংবাদ,আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : প্রথম দিনেই বিতর্কে জড়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রেস সচিব ক্যাটি জাকারিয়া (Katie Zacharia)! হোয়াইট হাউসে নিজের প্রথম প্রেস ব্রিফিংয়ে ট্রাম্পের প্রশংসা করতে গিয়ে তাঁকে ‘স্বামী’ বলে সম্বোধন করে ফেললেন তিনি। যদিও মুহূর্তের মধ্যেই ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়ে নেন ক্যাটি, তবু তাঁর এই মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে আলোচনা। মুহূর্তটি নিয়ে যেমন হাসি-মশকরা চলছে, তেমনই প্রশ্ন উঠছে হোয়াইট হাউসের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় প্রথম সাংবাদিক বৈঠকেই এমন ভুল কীভাবে হল, তা নিয়েও।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার, ক্যাটির প্রথম প্রেস ব্রিফিংয়ের সময়। সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছিলেন তিনি। কিন্তু সন্তানদের জন্য সময় বের করার বিষয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে মুখ ফসকে এমন মন্তব্য করে বসেন, যা দ্রুত আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।

তবে এই ঘটনার পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে ক্যাটির নতুন দায়িত্ব, তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় এবং ট্রাম্প প্রশাসনে তাঁর ভূমিকা। বিদায়ী প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিটের জায়গায় তাঁকে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও আগে থেকেই জল্পনা ছিল।

সোমবার হোয়াইট হাউসে প্রথমবারের মতো সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ক্যাটি জাকারিয়া। বক্তব্যের শুরুতেই তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পাওয়াকে নিজের কাছে সম্মানের বলে উল্লেখ করেন। তাঁকে এই দায়িত্ব দেওয়ার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ধন্যবাদও জানান।

ক্যাটি বলেন, ট্রাম্প তাঁর উপর যে আস্থা রেখেছেন, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। দীর্ঘদিন ধরেই প্রেসিডেন্টের হয়ে কাজ করার ইচ্ছা ছিল বলেও জানান তিনি।

এরপরই এক ব্রিটিশ সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি কীভাবে সন্তানদের জন্য সময় বের করবেন তিনি। ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত দায়িত্বের ভারসাম্য নিয়ে করা এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়েই ঘটে বিপত্তি।

নিজের স্বামী, চলচ্চিত্র প্রযোজক টাইলার জাকারিয়ার কথা বলতে গিয়ে ক্যাটি বলে বসেন, “আমার প্রেসিডেন্ট, মানে, দুঃখিত, আমার স্বামী এখানেই আছেন।”

কথাটি বলার সঙ্গে সঙ্গেই নিজের ভুল বুঝতে পারেন তিনি। দ্রুত সংশোধন করে নিলেও ততক্ষণে মুহূর্তটি সাংবাদিকদের নজরে চলে এসেছে। পরে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয় বিভিন্ন মহলে।

ক্যাটির মন্তব্যটি যে অনিচ্ছাকৃত ভুল ছিল, তা তাঁর সঙ্গে সঙ্গে সংশোধন করার ঘটনা থেকেই অনুমান করা যায়। তবে ঠিক কী কারণে তিনি এমন কথা বলে ফেললেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনও ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

সাংবাদিকের প্রশ্নটি ছিল তাঁর স্বামী ও সন্তানদের সময় দেওয়ার বিষয়ে। সেই প্রসঙ্গে উত্তর দিতে গিয়ে একই সঙ্গে প্রেসিডেন্টের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে শব্দের গুলিয়ে ফেলার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু এটি কেবল অনুমান। ক্যাটি নিজে এই ভুলের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের ঘিরে সংবাদমাধ্যমের আগ্রহ সবসময়ই বেশি থাকে। বিশেষ করে হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিবের মতো পদে থাকা ব্যক্তির প্রতিটি মন্তব্য দ্রুত সংবাদ শিরোনামে উঠে আসতে পারে। ফলে ছোট একটি ভুলও বড় আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

এই ঘটনাতেও তেমনটাই হয়েছে। কেউ বিষয়টিকে নিছক কথার ভুল হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির বক্তব্যের সতর্কতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তবে একটি অনিচ্ছাকৃত ভুলের ভিত্তিতে কারও পেশাগত দক্ষতা সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যুক্তিসঙ্গত নয়।

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, প্রথম প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রায় ১৫ মিনিট বক্তব্য রাখার পর ক্যাটি দ্রুত বেরিয়ে যান। তবে তিনি কেন তাড়াতাড়ি সাংবাদিক বৈঠক শেষ করেছিলেন, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

প্রথমবার হোয়াইট হাউসের সাংবাদিকদের সামনে দাঁড়ানো যে কোনও নতুন প্রেস সচিবের কাছেই বড় দায়িত্ব। একদিকে প্রেসিডেন্টের অবস্থান ব্যাখ্যা করা, অন্যদিকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়া—সব মিলিয়ে কাজটি যথেষ্ট চাপের।

তার উপর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে প্রশ্ন এলে সরকারি দায়িত্বের পাশাপাশি পরিবারকে সময় দেওয়ার বিষয়টিও সামনে আসে। ক্যাটির ক্ষেত্রেও এই দুই দিকের প্রসঙ্গ একসঙ্গে উঠে আসে।

তবে তাঁর বক্তব্যের সময়কাল বা দ্রুত বেরিয়ে যাওয়ার ঘটনাকে সরাসরি বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত করার আগে আরও তথ্য প্রয়োজন। শুধু সময়ের ভিত্তিতে বলা যায় না যে তিনি অস্বস্তির কারণেই সাংবাদিক বৈঠক শেষ করেছিলেন।

বিদায়ী প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিটের পরিবর্তে কে দায়িত্ব নেবেন, তা নিয়ে বেশ কয়েক সপ্তাহ ধরে আলোচনা চলছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ক্যাটি জাকারিয়াকে বেছে নেওয়া হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ক্যাটির রাজনৈতিক আনুগত্য ও তাঁর কাজের প্রতি নিষ্ঠার প্রশংসা করেছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ট্রাম্পের ‘মেক আমেরিকা গ্রেট এগেন’ বা ‘মাগা’ আন্দোলনের প্রতি ক্যাটির সমর্থনের কথাও উঠে এসেছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের প্রেস সচিবের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হোয়াইট হাউসের অবস্থান সংবাদমাধ্যমের কাছে তুলে ধরা, প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করা এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দায়িত্ব এই পদে থাকা ব্যক্তির উপর বর্তায়।

তাই নতুন প্রেস সচিবের নিয়োগ শুধু একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়। এর মাধ্যমে সরকারের যোগাযোগের ধরন এবং সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রেও নতুন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

ক্যাটি জাকারিয়া এর আগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি দপ্তরের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা তাঁকে সরকারি যোগাযোগের ক্ষেত্রে কাজ করার সুযোগ দিয়েছে।

এছাড়াও, তিনি ট্রাম্প মিডিয়া অ্যান্ড টেকনোলজি গ্রুপের যোগাযোগবিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

সরকারি দপ্তরের মুখপাত্র হিসেবে কাজ করার সময় নীতি, নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে হয়। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিবকে প্রেসিডেন্টের বক্তব্য ও প্রশাসনের অবস্থান আরও বৃহত্তর পরিসরে তুলে ধরতে হয়।

ফলে নতুন দায়িত্বে ক্যাটির সামনে যেমন সুযোগ রয়েছে, তেমনই রয়েছে কঠিন চ্যালেঞ্জ। তাঁকে নিয়মিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্ক সামলাতে হবে।

ক্যাটির প্রথম প্রেস ব্রিফিংয়ের এই মন্তব্য সাময়িকভাবে তাঁকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে। তবে তাঁর ভবিষ্যৎ কাজের মূল্যায়ন হবে আরও অনেক বিষয়ের উপর নির্ভর করে।

তিনি কতটা স্পষ্টভাবে প্রশাসনের অবস্থান তুলে ধরতে পারেন, কঠিন প্রশ্নের উত্তর কীভাবে দেন এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে যোগাযোগ কতটা কার্যকরভাবে সামলান—এসবই তাঁর দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হবে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিবের প্রতিটি বক্তব্য রাজনৈতিক বিতর্কের অংশ হয়ে উঠতে পারে। তাই সেখানে ভাষার ব্যবহার, তথ্যের নির্ভুলতা এবং পরিস্থিতি সামলানোর দক্ষতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তবে ক্যাটির এই মন্তব্যকে আপাতত একটি কথার ভুল হিসেবেই দেখা যুক্তিযুক্ত, যদি না এর পিছনে অন্য কোনও তথ্য সামনে আসে। প্রথম দিনের একটি অনিচ্ছাকৃত ভুল তাঁর সম্পূর্ণ কর্মজীবন বা পেশাগত যোগ্যতার চূড়ান্ত পরিচয় নয়।

সব মিলিয়ে, ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রেস সচিব ক্যাটি জাকারিয়ার প্রথম প্রেস ব্রিফিং প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ‘আমার প্রেসিডেন্ট’ বলতে গিয়ে ‘আমার স্বামী’ বলে ফেলার ঘটনাটি আপাতত হাসি-মশকরার বিষয় হলেও, নতুন দায়িত্বে তাঁর সামনে যে বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা স্পষ্ট। এখন দেখার, আগামী দিনে হোয়াইট হাউসের সাংবাদিকদের সামনে তিনি কীভাবে নিজের দক্ষতা ও যোগাযোগের ক্ষমতার পরিচয় দেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ