এনবি সংবাদ,আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : বঙ্গোপসাগরে আবারও তৈরি হচ্ছে নিম্নচাপের পরিস্থিতি। ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাব পুরোপুরি কাটতে না কাটতেই নতুন করে প্রাকৃতিক দুর্যোগের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং সংলগ্ন আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের আকাশে ঝড়ো আবহাওয়ার উপস্থিতি ধরা পড়েছে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর আবহাওয়া উপগ্রহের ছবিতে। শনিবার সকালে তোলা এই ছবিতে প্রবল বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়ের পরিস্থিতি নজরে এসেছে। ফলে বঙ্গোপসাগরে নতুন করে নিম্নচাপ তৈরি হওয়াকে কেন্দ্র করে উদ্বেগ বাড়ছে আবহাওয়াবিদদের মধ্যে।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক দিন আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরের বিস্তীর্ণ এলাকায় বৃষ্টি এবং ঝোড়ো হাওয়া অব্যাহত থাকতে পারে। কোথাও কোথাও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে উত্তর ও দক্ষিণ আন্দামান সাগরের আবহাওয়ার উপর। তবে নতুন করে তৈরি হওয়া নিম্নচাপ শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাব কাটার আগেই বঙ্গোপসাগরে নতুন করে আবহাওয়ার পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শনিবার সকালে ইসরোর আবহাওয়া উপগ্রহের পাঠানো ছবিতে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগর এবং আন্দামান-নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ সংলগ্ন এলাকায় ঘন মেঘের উপস্থিতি দেখা গিয়েছে। ওই অঞ্চলে বজ্রবিদ্যুৎসহ ঝড়ো আবহাওয়ার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়াবিদদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, সমুদ্রের উপরিভাগে বায়ুমণ্ডলীয় পরিবর্তন এবং মেঘের ঘনত্ব বৃদ্ধির বিষয়টি নতুন করে নজর কাড়ছে। বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরির অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি হলে সমুদ্রের উপর বায়ুর গতিবেগ ও আর্দ্রতার পরিবর্তন ঘটতে পারে। এর প্রভাবে উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে বৃষ্টি এবং দমকা হাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে স্যাটেলাইট ছবিতে ঝড়ের উপস্থিতি দেখা গেলেই যে সেটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে, এমনটা নয়। নিম্নচাপের অবস্থান, বায়ুর গতিবেগ, সমুদ্রের তাপমাত্রা এবং বায়ুমণ্ডলের অন্যান্য পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে পরবর্তী সময়ে সেটি কতটা শক্তিশালী হবে।
নতুন নিম্নচাপের প্রভাবে আগামী কয়েক দিন আন্দামান সাগর ও বঙ্গোপসাগরের বিভিন্ন এলাকায় আবহাওয়ার অবনতি হতে পারে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাসে উত্তর ও দক্ষিণ আন্দামান সাগরে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।
সমুদ্রের উপর ঝড়ো হাওয়া এবং বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি কিছুটা প্রতিকূল হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে সমুদ্র উপকূলবর্তী এলাকায় বসবাসকারী মানুষ এবং মৎস্যজীবীদের আবহাওয়ার পরিবর্তনের দিকে নজর রাখতে হবে।
বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু আন্দামান দ্বীপপুঞ্জেই সীমাবদ্ধ থাকে না। নিম্নচাপের গতিপথ এবং শক্তির উপর নির্ভর করে ভারতের পূর্ব উপকূল, বাংলাদেশ উপকূল এবং সংলগ্ন অঞ্চলেও বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে। যদিও নতুন করে তৈরি হওয়া এই নিম্নচাপের সম্ভাব্য গতিপথ সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।
নতুন আবহাওয়া পরিস্থিতির প্রভাব পড়তে পারে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলেও। আগামী কয়েক দিন উপকূলবর্তী জেলাগুলিতে আকাশ মেঘলা থাকার পাশাপাশি বজ্রবিদ্যুৎসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া তৈরি হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি কাটতে না কাটতেই নতুন করে নিম্নচাপের সম্ভাবনা স্থানীয় বাসিন্দাদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
তবে আপাতত অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে নতুন করে জলোচ্ছ্বাসের কোনও সতর্কতা জারি করা হয়নি বলে জানা গিয়েছে। অর্থাৎ, বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ার আশঙ্কা থাকলেও সমুদ্রের জলস্তর অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ার বিষয়ে এখনও কোনও নির্দিষ্ট সতর্কবার্তা নেই।
আবহাওয়ার পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে বলে উপকূলবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সরকারি নির্দেশিকা মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
আবহাওয়াবিদদের মতে, বর্ষা বিদায়ের পর অক্টোবর ও নভেম্বর মাস বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরির অন্যতম অনুকূল সময়। এই সময় সমুদ্রের উপরিভাগের উষ্ণতা, বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ এবং বায়ুমণ্ডলের বিভিন্ন পরিস্থিতি ঘূর্ণিঝড় তৈরির পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে।
বর্ষার পরে বঙ্গোপসাগরে একাধিক নিম্নচাপ তৈরি হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। এই নিম্নচাপগুলির কোনওটি অনুকূল পরিবেশ পেলে ধীরে ধীরে গভীর নিম্নচাপ এবং পরবর্তী সময়ে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হতে পারে।
বিশেষ করে বঙ্গোপসাগরের দক্ষিণ ও মধ্য অংশে তৈরি হওয়া নিম্নচাপের গতিপথের উপর আবহাওয়াবিদরা বিশেষ নজর রাখেন। কোনও নিম্নচাপ পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোলে ভারতের পূর্ব উপকূল এবং বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে তার প্রভাব পড়তে পারে। আবার গতিপথ পরিবর্তন করলে অন্য উপকূলবর্তী এলাকাও প্রভাবিত হতে পারে।
তবে প্রতিটি নিম্নচাপ যে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে, তার কোনও নিশ্চয়তা নেই। অনেক নিম্নচাপ শক্তি না বাড়িয়েই দুর্বল হয়ে যায় অথবা সমুদ্রের উপর দিয়েই সরে যায়।
ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর বিধ্বংসী প্রভাব কাটতে না কাটতেই বঙ্গোপসাগরে নতুন নিম্নচাপের সম্ভাবনা স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বিশেষ করে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ঘূর্ণিঝড় তৈরির অনুকূল পরিস্থিতি থাকায় আবহাওয়ার প্রতিটি পরিবর্তন গুরুত্ব দিয়ে পর্যবেক্ষণ করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ইসরোর উপগ্রহের ছবিতে ধরা পড়া ঝড়ো মেঘের উপস্থিতি এবং বঙ্গোপসাগরে নতুন নিম্নচাপ তৈরির পরিস্থিতি নিয়ে এখন নজর রাখছে আবহাওয়া দপ্তর। নিম্নচাপটি কোন দিকে এগোবে, কতটা শক্তি সঞ্চয় করবে এবং শেষ পর্যন্ত ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে কি না, তা আগামী কয়েক দিনের পর্যবেক্ষণেই স্পষ্ট হতে পারে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নিম্নচাপের গতিপথ ও শক্তির পরিবর্তন। পরিস্থিতির উপর নির্ভর করেই পরবর্তী সময়ে উপকূলবর্তী এলাকাগুলির জন্য সতর্কতা জারি করা হতে পারে। তাই আন্দামান সাগর, বঙ্গোপসাগর এবং অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলের আবহাওয়ার দিকে নজর রাখছেন আবহাওয়াবিদরা।


