এনবি সংবাদ,আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : মাত্র চার বছর আগে ভারতের মাটিতে নতুন করে পা রেখেছিল চিতা। সেই সময় দেশে এই প্রাণীর সংখ্যা ছিল শূন্য। ২০২২ সালে শুরু হয়েছিল ‘প্রজেক্ট চিতা’। আর চার বছর পূর্ণ হওয়ার দিনেই সেই প্রকল্পের আওতায় ভারতে চিতার সংখ্যা পৌঁছেছে ৫২-তে।
২০২৬ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ‘প্রজেক্ট চিতা’ চার বছর পূর্ণ করেছে। এই সময়ের মধ্যে আফ্রিকা থেকে আনা চিতার পাশাপাশি ভারতে জন্ম নিয়েছে একাধিক শাবক। ফলে দেশের মাটিতে চিতার সংখ্যা এখন অর্ধশতকের গণ্ডি পেরিয়েছে।
২০২২ সালে ভারতে ফিরেছিল চিতা
একসময় ভারতে চিতা ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরেই দেশ থেকে এই প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছিল। ফলে ২০২২ সালের আগে ভারতে বন্য পরিবেশে চিতার অস্তিত্ব ছিল না।
অনেক সময় সাধারণ মানুষ লেপার্ডকে চিতা বলে ভুল করেন। কিন্তু চিতা ও লেপার্ড সম্পূর্ণ আলাদা দুটি প্রজাতি। ভারতে লেপার্ডের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হলেও চিতা ছিল সম্পূর্ণ অনুপস্থিত।
এই পরিস্থিতিতে ভারতে আবার চিতা ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যানে নামিবিয়া থেকে আনা আটটি চিতা ছাড়া হয়। এর মাধ্যমে ভারতে নতুন করে চিতার বসবাসের সূচনা হয়।
চার বছরে শূন্য থেকে ৫২
‘প্রজেক্ট চিতা’র চার বছর পূর্ণ হওয়ার সময় ভারতে চিতার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২। অর্থাৎ ২০২২ সালে শূন্য থেকে শুরু করে মাত্র চার বছরের মধ্যে চিতার সংখ্যা অর্ধশতকের বেশি হয়েছে।
বর্তমান হিসাব অনুযায়ী, এই ৫২টি চিতার মধ্যে ২০টি আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে ভারতে আনা হয়েছে। অন্যদিকে ৩২টি চিতা ভারতের মাটিতেই জন্মেছে।
প্রকল্পটির ক্ষেত্রে ভারতের মাটিতে চিতার প্রজনন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ বিদেশ থেকে চিতা এনে সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় পরিবেশে তাদের বংশবিস্তার নিশ্চিত করাও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
কুনো জাতীয় উদ্যানেই রয়েছে ৪৯টি চিতা
ভারতে থাকা ৫২টি চিতার বেশির ভাগই রয়েছে মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যানে। সেখানে বর্তমানে ৪৯টি চিতা রয়েছে।
বাকি তিনটি চিতাকে রাখা হয়েছে মধ্যপ্রদেশের গান্ধী সাগর অভয়ারণ্যে। এর ফলে ভারতে চিতার বিস্তারের ক্ষেত্রে কুনোর পাশাপাশি নতুন একটি আবাসস্থলও যুক্ত হয়েছে।
কুনো জাতীয় উদ্যানই ‘প্রজেক্ট চিতা’র প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। ২০২২ সালে নামিবিয়া থেকে আনা চিতাগুলোর একটি বড় অংশ এখানেই ছাড়া হয়েছিল।
আফ্রিকা থেকে চিতা আনার পাশাপাশি চলছে প্রজনন
ভারতে চিতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে শুধু বিদেশ থেকে প্রাণী আমদানির ওপর নির্ভর করা হয়নি। প্রকল্পের চার বছরে দেশেই চিতার জন্ম হয়েছে।
আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যায়ক্রমে চিতা আনা হয়েছে। পাশাপাশি কুনো জাতীয় উদ্যানে তাদের প্রজননের মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম তৈরি হয়েছে। বর্তমানে ভারতে জন্ম নেওয়া চিতার সংখ্যা ৩২ হওয়ায় প্রকল্পের স্থানীয় প্রজনন কার্যক্রমের বিষয়টি সামনে এসেছে।
প্রকৃতিতে কোনো প্রজাতিকে পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে শুধু প্রাণীর সংখ্যা বাড়ানোই যথেষ্ট নয়। তাদের উপযুক্ত আবাসস্থল, খাদ্য, স্বাস্থ্য এবং দীর্ঘমেয়াদি বেঁচে থাকার পরিবেশও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আগামী দিনগুলোতে চিতার সংখ্যা ও তাদের বিস্তার কীভাবে পরিচালনা করা হয়, সেটিও নজরে থাকবে।
ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা
বর্তমানে অধিকাংশ চিতা কুনো জাতীয় উদ্যানে থাকলেও ভবিষ্যতে দেশের আরও কয়েকটি উপযুক্ত অভয়ারণ্যে তাদের ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর উদ্দেশ্য হলো চিতার জন্য একাধিক আবাসস্থল তৈরি করা এবং একটি নির্দিষ্ট এলাকার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরতা কমানো। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ভারতের আরও কয়েকটি অঞ্চলে চিতার বিচরণ দেখা যেতে পারে।
তবে নতুন এলাকায় চিতা ছাড়ার আগে সেই এলাকার পরিবেশ, পর্যাপ্ত শিকারপ্রাণী, নিরাপত্তা এবং আবাসস্থলের উপযুক্ততা বিবেচনা করা জরুরি।
‘প্রজেক্ট চিতা’র চার বছরে নতুন অধ্যায়
২০২২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর নামিবিয়া থেকে আটটি চিতা এনে যে প্রকল্পের সূচনা হয়েছিল, চার বছর পর সেটি ৫২টি চিতার পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর মধ্যে ৩২টি চিতা ভারতের মাটিতে জন্মেছে।
ফলে ভারতের বন্যপ্রাণ সংরক্ষণের ইতিহাসে ‘প্রজেক্ট চিতা’ একটি উল্লেখযোগ্য পুনঃপ্রবর্তন উদ্যোগ হিসেবে সামনে এসেছে। এখন মূল লক্ষ্য হবে এই জনসংখ্যাকে দীর্ঘমেয়াদে টিকিয়ে রাখা এবং উপযুক্ত আবাসস্থলে ধীরে ধীরে বিস্তার ঘটানো।
শূন্য থেকে শুরু করে চার বছরে ৫২—চিতার প্রত্যাবর্তনের এই যাত্রা এখন ভারতের বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।



