এনবি সংবাদ, বিনোদন ডেস্ক : দুর্গাপুজোর আবহে বাংলা সিনেমাপ্রেমীদের উন্মাদনা যেন একেবারে অন্য মাত্রায় পৌঁছেছে। বড় পর্দায় ফিরেছে দেব ও শুভশ্রীর জনপ্রিয় জুটি। বহু প্রতীক্ষিত ছবি ‘দেশু ৭’ (DeSu7)-এর মুক্তিকে কেন্দ্র করে অনুরাগীদের উচ্ছ্বাস চোখে পড়ার মতো। কোথাও সিনেমার পোস্টারে দুধ ঢেলে, কোথাও মালা পরিয়ে, আবার কোথাও ঢাকঢোল বাজিয়ে নাচে মেতে উঠেছেন ভক্তরা। সকাল সাড়ে সাতটার প্রথম শো থেকেই প্রেক্ষাগৃহের বাইরে তৈরি হয়েছে উৎসবের পরিবেশ। অনেকের কাছে দুর্গাপুজোর ষষ্ঠী যেন শুধুই পুজোর দিন নয়, বরং ‘দেশু ডে’!
দেব ও শুভশ্রীকে দীর্ঘ ১২ বছর পর ফের একসঙ্গে বড় পর্দায় দেখার সুযোগ ঘিরে দর্শকদের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা ছিল তুঙ্গে। সেই আবেগ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে ছবির মুক্তি। শুধু অনুরাগীরাই নন, তাঁদের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিতে হাজির হয়েছেন খোদ দেব ও শুভশ্রীও। দক্ষিণ কলকাতার একটি প্রেক্ষাগৃহে তাঁদের উপস্থিতি দর্শকদের কাছে বাড়তি চমক হয়ে ওঠে।
পুজোর মরশুমে বাংলা ছবির মুক্তি মানেই দর্শকদের মধ্যে বাড়তি উন্মাদনা। তবে ‘দেশু ৭’-এর ক্ষেত্রে সেই উত্তেজনার সঙ্গে মিশেছে পুরনো দিনের নস্ট্যালজিয়া। দেব-শুভশ্রী জুটির প্রত্যাবর্তনের অপেক্ষায় ছিলেন বহু অনুরাগী। সেই অপেক্ষার অবসান হতেই প্রেক্ষাগৃহের সামনে শুরু হয়ে যায় উদ্যাপন।
সকাল সাড়ে সাতটার প্রথম শো দেখতে হাজির হন বহু দর্শক। হাতে গোল্ডেন টিকিট নিয়ে প্রিয় জুটির ছবি দেখার আনন্দ ভাগ করে নেন তাঁরা। সিনেমার পোস্টার ঘিরে ভক্তদের উচ্ছ্বাস ছিল বিশেষভাবে নজরকাড়া। পোস্টারে মালা পরানো, দুধ ঢেলে উদ্যাপন এবং ঢাকের তালে নাচ—সব মিলিয়ে প্রেক্ষাগৃহের বাইরেই যেন তৈরি হয়েছিল পুজোর আরেকটি উৎসব।
অনুরাগীদের এই আবেগ থেকে স্পষ্ট, ‘দেশু ৭’ তাঁদের কাছে শুধুই একটি নতুন সিনেমা নয়। দেব ও শুভশ্রীকে একসঙ্গে দেখার পুরনো স্মৃতি এবং নতুন করে সেই রসায়ন উপভোগ করার সুযোগও এই ছবিকে ঘিরে প্রত্যাশা বাড়িয়েছে।
দেব ও শুভশ্রীকে বাংলা সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় জুটি হিসেবে মনে করেন বহু দর্শক। তাঁদের একসঙ্গে অভিনীত ছবিগুলি একটা সময় তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। বিশেষ করে ‘পাগলু’ ছবির স্মৃতি আজও অনেক অনুরাগীর মনে উজ্জ্বল।
দীর্ঘ ১২ বছর পর এই জুটিকে আবার বড় পর্দায় দেখার সুযোগ তৈরি হওয়ায় দর্শকদের আবেগও স্বাভাবিকভাবেই বেড়েছে। পুরনো দিনের সেই সিনেমার গান, রোম্যান্স এবং দুই তারকার পর্দার রসায়ন দর্শকদের নস্ট্যালজিক করে তুলেছে।
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সিনেমা হল—বিভিন্ন জায়গায় অনুরাগীদের আগ্রহের প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ছবির মুক্তির আগে দেব ও শুভশ্রীর প্রচার সফরেও দর্শকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রিয় তারকাদের কাছ থেকে দেখার সুযোগ পেয়ে অনেকেই উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
তবে শুধু পুরনো স্মৃতির উপর নির্ভর করেই ছবির সাফল্য নিশ্চিত বলা যায় না। নতুন গল্প, অভিনয়, গান এবং পরিচালনার দিক থেকেও দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে ‘দেশু ৭’-কে।
ছবির মুক্তিকে ঘিরে অনুরাগীদের আনন্দ আরও বাড়িয়ে দেন দেব ও শুভশ্রী। দক্ষিণ কলকাতার একটি প্রেক্ষাগৃহে দর্শকদের সঙ্গে দেখা করতে হাজির হন তাঁরা। পরিচালকের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি অভিনয়েও থাকা দেবের এই উপস্থিতি ভক্তদের কাছে ছিল বিশেষ আকর্ষণ।
প্রিয় তারকাদের হঠাৎ সামনে পেয়ে দর্শকদের উচ্ছ্বাস আরও বেড়ে যায়। ছবির মুক্তির দিন এমন উপস্থিতি যে প্রচারের বাইরেও দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম, তা বলাই যায়।
দেব-শুভশ্রী জুটির জনপ্রিয়তা যে এখনও দর্শকদের মধ্যে যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি করতে পারে, মুক্তি ঘিরে এই উন্মাদনা তারই ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে প্রেক্ষাগৃহে প্রথম দিনের ভিড় এবং দর্শকদের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া থেকে ছবির দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।
ছবির মুক্তির আগেই ‘দেশু ৭’-কে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল বলে জানা যায়। দেব অভিযোগ করেছিলেন, কিছু ইউটিউবার ও চলচ্চিত্র পর্যালোচককে অর্থের বিনিময়ে ছবিটির নেতিবাচক রিভিউ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।
এই অভিযোগ সামনে আসার পর ছবির প্রচার ও মুক্তিকে ঘিরে আলোচনা আরও বেড়ে যায়। সিনেমার ক্ষেত্রে দর্শকদের রিভিউ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া এখন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অনেকেই ছবি দেখার আগে অনলাইন পর্যালোচনা দেখে সিদ্ধান্ত নেন। ফলে পরিকল্পিতভাবে নেতিবাচক প্রচার চালানোর অভিযোগ উঠলে তা ছবির প্রচার কৌশল এবং দর্শকদের আস্থার প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে।
তবে দেবের এই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা না গেলে সেটিকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে দেখা উচিত নয়। একইভাবে, প্রথম শো ঘিরে উন্মাদনা দেখে ছবিটিকে নিশ্চিতভাবে ‘বাম্পার হিট’ বলারও অবকাশ নেই। বক্স অফিসের আয়, দর্শকদের প্রতিক্রিয়া এবং পরবর্তী শোগুলিতে উপস্থিতি—এসব তথ্যই ছবির সাফল্যের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরবে।
দুর্গাপুজো বাংলা সিনেমার জন্য বছরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে একাধিক বড় বাজেটের ছবি মুক্তি পায়। ফলে দর্শক টানা কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন সিনেমা দেখার সুযোগ পান। কিন্তু একই সঙ্গে ছবিগুলির মধ্যে বক্স অফিসের প্রতিযোগিতাও বেড়ে যায়।
‘দেশু ৭’-এর সামনে এবার রয়েছে একাধিক প্রতিদ্বন্দ্বী ছবি। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘এম্পারার ভার্সেস শরৎচন্দ্র’, শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘বহুরূপী: দ্য গোল্ডেন ডাকু’ এবং একেনবাবুকে ঘিরে নতুন ছবির মতো প্রযোজনাগুলিও দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে দেব-শুভশ্রীর ছবিকে শুধু তারকাদের জনপ্রিয়তার উপর নির্ভর করলে চলবে না। গল্পের আকর্ষণ, বিনোদনের উপাদান, দর্শকদের মুখে মুখে প্রচার এবং সিনেমা দেখার পর তাঁদের প্রতিক্রিয়াও বক্স অফিসের ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
পুজোর ছুটিতে দর্শকের হাতে সময় সীমিত। তাই কোন ছবি বেশি দর্শক টানতে পারে, কোন গল্প বেশি আলোচনায় আসে এবং কোন ছবি বারবার দেখার মতো অভিজ্ঞতা দেয়—সেই বিষয়গুলিই শেষ পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
প্রথম শো ঘিরে অনুরাগীদের উচ্ছ্বাস এবং দেব-শুভশ্রীর প্রত্যাবর্তন ‘দেশু ৭’-কে ঘিরে প্রত্যাশা অনেকটাই বাড়িয়ে দিয়েছে। পোস্টারে মালা পরানো থেকে শুরু করে দুধ ঢেলে উদ্যাপন—ভক্তদের এই আবেগ ছবিটির প্রচারেও বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।
তবে কোনও ছবির মুক্তির দিনের উন্মাদনা আর বাণিজ্যিক সাফল্য এক বিষয় নয়। প্রথম দিনের দর্শকসংখ্যা, টিকিট বিক্রির হিসাব, পরবর্তী দিনের বুকিং এবং দর্শকদের সামগ্রিক প্রতিক্রিয়া বিশ্লেষণ করেই ছবির প্রকৃত অবস্থান বোঝা যাবে।
দেব-শুভশ্রীর পুরনো রসায়ন দর্শকদের কতটা মুগ্ধ করতে পারে, নতুন প্রজন্মের কাছে ছবিটি কতটা গ্রহণযোগ্য হয় এবং পুজোর বক্স অফিসে প্রতিদ্বন্দ্বীদের কতটা পিছনে ফেলতে পারে—এখন সেই দিকেই নজর থাকবে।
একটা বিষয় অবশ্য স্পষ্ট, ‘দেশু ৭’-এর মুক্তি ঘিরে অনুরাগীদের আবেগ ইতিমধ্যেই আলোচনার কেন্দ্রে। এবার সেই আবেগকে দীর্ঘস্থায়ী দর্শকপ্রিয়তায় পরিণত করতে পারে কি না, তার উত্তর দেবে আগামী দিনের বক্স অফিসের হিসাব।



