এনবি সংবাদ, বিনোদন ডেস্ক : মাত্র চার দিন আগেও স্বাভাবিক ছন্দেই অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা নানা পাটেকর। গোয়ার সেই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, ‘জানি না কাল বেঁচে থাকব কি না।’ তখন হয়তো কথাটি জীবনের অনিশ্চয়তা নিয়ে তাঁর স্বাভাবিক উপলব্ধি হিসেবেই ধরা হয়েছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার ভোরে তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর খবর সামনে আসার পর সেই কথাই যেন নতুন করে ফিরে এসেছে আলোচনায়।
মাত্র ৭৫ বছর বয়সে থেমে গেল বলিউডের অত্যন্ত পরিচিত এই অভিনেতার হৃদস্পন্দন। গোয়ায় নিজের বাড়িতেই অচৈতন্য অবস্থায় তাঁকে পাওয়া যায়। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তাঁর মৃত্যুকে ঘিরে ইতিমধ্যেই নানা প্রশ্ন উঠেছে। চিকিৎসা সংক্রান্ত একটি আইনি মামলাও দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
গোয়ায় একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন নানা পাটেকর। সেখানেই জীবনের মূল্যবোধ, সময়ের গুরুত্ব এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের জীবনের অনিশ্চয়তার প্রসঙ্গ তুলেছিলেন অভিনেতা।
তাঁর বক্তব্যের একটি অংশ ছিল, ‘জানি না কাল বেঁচে থাকব কি না।’ সাধারণভাবে দেখলে এমন কথা জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব বোঝাতেই বলা হতে পারে। কিন্তু তাঁর মৃত্যুর পর সেই বক্তব্যের গুরুত্ব যেন অনেকটাই বদলে গিয়েছে।
অনুষ্ঠানের চার দিন পরই অভিনেতার মৃত্যুর খবর আসে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই তাঁর অনুরাগী থেকে শুরু করে বলিউডের সহকর্মী—অনেকের মনেই প্রশ্ন উঠছে, মৃত্যুর এতটা কাছাকাছি দাঁড়িয়ে কি নানা নিজের জীবনের অনিশ্চয়তা কোনওভাবে অনুভব করেছিলেন?
তবে শুধু এই বক্তব্যের ভিত্তিতে এমন কোনও সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যায় না যে তিনি নিজের মৃত্যুর আগাম আভাস পেয়েছিলেন। সেটি তাঁর বক্তব্যের একটি ব্যাখ্যা মাত্র। বাস্তবে তিনি কী অনুভব করেছিলেন, তা নিশ্চিতভাবে জানার উপায় নেই।
বৃহস্পতিবার ভোরে গোয়ায় নিজের বাড়িতে অচৈতন্য অবস্থায় পাওয়া যায় নানা পাটেকরকে। দ্রুত তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
সূত্রের খবর, অভিনেতাকে বাঁচানোর জন্য দীর্ঘ সময় ধরে চিকিৎসকদের চেষ্টা চলেছিল। প্রায় ৪৫ মিনিট ধরে সিপিআর দেওয়া হয়েছিল বলেও জানা যাচ্ছে। কিন্তু তাতেও সাড়া মেলেনি।
একজন বর্ষীয়ান অভিনেতার এমন আকস্মিক মৃত্যু স্বাভাবিকভাবেই তাঁর পরিবার, সহকর্মী এবং অনুরাগীদের মধ্যে গভীর শোকের আবহ তৈরি করেছে।
নানা পাটেকরের মৃত্যুর পর তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। ইতিমধ্যেই চিকিৎসা সংক্রান্ত একটি আইনি মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে তাঁর মৃত্যুর পরিস্থিতি এবং চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে আরও তথ্য সামনে আসার অপেক্ষা রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে নানা পাটেকরের মৃত্যুর নির্দিষ্ট কারণ নিয়ে অনুমান করা ঠিক হবে না। সরকারি বা চিকিৎসা সংক্রান্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য সামনে না আসা পর্যন্ত কোনও একটি কারণকে তাঁর মৃত্যুর জন্য দায়ী করা সম্ভব নয়।
মৃত্যুর আগে তাঁর শারীরিক অবস্থা কেমন ছিল, বাড়িতে ঠিক কী ঘটেছিল, হাসপাতালে পৌঁছনোর আগে কতটা সময় কেটেছিল—এই বিষয়গুলিও তদন্ত এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যের মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে।
নানা পাটেকরের অভিনয়জীবন শুধু পর্দার চরিত্রে সীমাবদ্ধ ছিল না। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে তিনি নানা ধরনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তাঁর ব্যক্তিত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল জীবনের বাস্তবতা নিয়ে সরাসরি কথা বলা।
গোয়ার অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্যেও উঠে এসেছিল জীবনের মূল্যবোধের প্রসঙ্গ। সময় যে অত্যন্ত মূল্যবান এবং আগামী দিন সম্পর্কে মানুষের কোনও নিশ্চয়তা নেই—এই ভাবনাই তাঁর কথায় ফুটে উঠেছিল।
তখন শ্রোতাদের কাছে সেটি হয়তো একটি সাধারণ জীবনদর্শনের কথা ছিল। কিন্তু কয়েক দিন পর তাঁর মৃত্যুর খবর সেই বক্তব্যকে সম্পূর্ণ অন্য মাত্রা দিয়েছে।
একজন মানুষ কখনও কখনও জীবনের অনিশ্চয়তা বোঝাতে এমন কথা বলেন। বিশেষ করে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু ও জীবনের ক্ষণস্থায়িত্ব নিয়ে আলোচনা অস্বাভাবিক নয়।
তাই নানা পাটেকরের ওই বক্তব্যকে সরাসরি মৃত্যুর পূর্বাভাস হিসেবে দেখার কোনও নির্ভরযোগ্য ভিত্তি নেই। বরং বলা যায়, তাঁর মৃত্যুর পর অনুরাগীদের কাছে চার দিন আগের কথাটি নতুন করে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মৃত্যুর আগে তিনি নিজের পরিণতি সম্পর্কে কিছু বুঝতে পেরেছিলেন কি না, সেই প্রশ্নের উত্তর আপাতত অজানা।
নানা পাটেকরের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়তেই বলিউডে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। সহকর্মী, অনুরাগী এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁর প্রয়াণে শোক প্রকাশ করছেন।
রাজনৈতিক জগতের ব্যক্তিত্বদের মধ্যেও শোকের প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নানা পাটেকর যে জায়গা তৈরি করেছিলেন, তাঁর আকস্মিক প্রয়াণে সেই শূন্যতার কথাই বারবার উঠে আসছে।
৭৫ বছর বয়সে তাঁর মৃত্যু শুধু একটি তারকার বিদায় নয়, দীর্ঘদিন ধরে ভারতীয় সিনেমার সঙ্গে যুক্ত থাকা একটি পরিচিত মুখের হঠাৎ চলে যাওয়া।
আর তাই মৃত্যুর মাত্র চার দিন আগে গোয়ার অনুষ্ঠানে বলা তাঁর সেই কথাটি এখন বারবার ফিরে আসছে—‘জানি না কাল বেঁচে থাকব কি না।’
সেটি হয়তো ছিল জীবনের অনিশ্চয়তা নিয়ে একজন মানুষের সাধারণ উপলব্ধি। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, কয়েক দিন পর সেই কথাই তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে জড়িয়ে গিয়ে নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।



