সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট

Homeবিশ্ব সংবাদমার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রভাব: ইরান, রাশিয়া ও চীনের সামনে কী পরিবর্তন?

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রভাব: ইরান, রাশিয়া ও চীনের সামনে কী পরিবর্তন?

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর মতে, মার্কিন রাজনীতিতে পরিবর্তন এলেই ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী নীতির অবসান ঘটবে—এমন ধারণা ভুল।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদ—কংগ্রেসের উভয় কক্ষেই জয় পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। এর ফলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাকি মেয়াদে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ চলে গেছে বিরোধী দলের হাতে। নির্বাচনের এই ফলাফল ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের এই পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে পারে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, যুদ্ধ পরিস্থিতি, বাণিজ্যিক সম্পর্ক এবং কূটনৈতিক আলোচনাতেও।

ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ এবং যুক্তরাষ্ট্রে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় রিপাবলিকান প্রার্থীদের পরাজয়ের পেছনে ভূমিকা রেখেছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও বলেছেন, যুদ্ধের কারণেই তাঁদের দল নির্বাচনে হেরেছে।

এখন প্রশ্ন হলো, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্রনীতি কতটা পরিবর্তিত হবে? ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাত, ইউক্রেন যুদ্ধ, রাশিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক এবং চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক বিরোধে এই নির্বাচনের ফলাফল কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে?

বিবিসির বিশ্লেষণে উঠে এসেছে, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিবর্তন শুধু ওয়াশিংটনের ক্ষমতার সমীকরণেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। এর প্রভাব অনুভূত হতে পারে মধ্যপ্রাচ্য থেকে ইউরোপ এবং এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সতর্ক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তাঁর মতে, মার্কিন রাজনীতিতে পরিবর্তন এলেই ইরানের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বৈরী নীতির অবসান ঘটবে—এমন ধারণা ভুল।

ছয় পৃষ্ঠার লিখিত এক বার্তায় তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আবার ইরানের ওপর হামলা চালালে এবার আরও ব্যাপক আকারে জবাব দেওয়া হবে। ১৯৭৯ সালে তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখলের ঘটনার স্মরণে আয়োজিত অনুষ্ঠানের দিন বুধবার বার্তাটি প্রকাশ করা হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর তাঁর ছেলে মোজতবা খামেনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

অন্যদিকে, নির্বাচনে রিপাবলিকানদের পরাজয়ের জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী করেছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি ক্ষমতায় ফিরলে গ্যাসোলিনের দাম গ্যালনপ্রতি দুই ডলারের নিচে নামিয়ে আনবেন। কিন্তু চলতি বছরের অক্টোবরে দেশটিতে গ্যাসোলিনের গড় দাম ছিল গ্যালনপ্রতি ৪ দশমিক ৩১ ডলার।

এ ছাড়া ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় ফিরলে নতুন কোনো যুদ্ধে জড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ইরানের সঙ্গে সংঘাত সেই প্রতিশ্রুতিকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগের দিনও ইরানের একটি দ্বীপে নতুন করে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। সাংবাদিকদের কাছে ট্রাম্প জানান, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁর কোনো অনুশোচনা নেই। সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেন, এই সংঘাতের অবসান হবে তাঁর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের প্রধান আলোচক নির্বাচনের ফলাফলকে মার্কিন জনগণের যুদ্ধবিরোধী অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে তুলে ধরেছেন। তাঁর বক্তব্য, আমেরিকানরা যুদ্ধকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মনে করেন, নির্বাচনের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনবে না। ফলে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলেও তেহরান-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের দলের পরাজয় উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর জন্য নতুন কূটনৈতিক পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। কারণ, সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে ট্রাম্প এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক রয়েছে।

ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০১৭ সালে তাঁর প্রথম বিদেশ সফরের গন্তব্য ছিল সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ। সৌদি নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কও ছিল ঘনিষ্ঠ। বিপরীতে, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক বিভিন্ন সময়ে টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছিল।

ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক যোগাযোগও উপসাগরীয় অঞ্চলে বিস্তৃত। দুবাইয়ে রয়েছে ট্রাম্প ইন্টারন্যাশনাল গলফ কোর্স। কাতার ট্রাম্পকে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের একটি বিমান উপহার দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার ও সৌদি আরব সম্মিলিতভাবে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের প্রতিষ্ঠান অ্যাফিনিটি ক্যাপিটালে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করেছে।

তবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কারণ, এই সংঘাতের প্রভাব শুধু ইরান বা যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাও এর সঙ্গে জড়িত।

যুদ্ধ আবার শুরু হলে ইরান পাল্টা হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কা রয়েছে। এতে উপসাগরীয় দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

তাই মার্কিন কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর উপসাগরীয় দেশগুলোকে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতিও নতুন করে বিবেচনা করতে হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলকে চীন নিজেদের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে কাজে লাগানোর সুযোগ হিসেবে দেখতে পারে। বিশেষ করে ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে চলমান বাণিজ্যিক বিরোধের প্রেক্ষাপটে এই পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে ট্রাম্পের বৈঠকের প্রস্তুতি চলার সময় যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই পরিবর্তন ঘটেছে। ফলে আলোচনার টেবিলে বেইজিং নিজেদের অবস্থান নতুন করে বিবেচনা করতে পারে।

চীনা পণ্যের ওপর শুল্ক আরোপ করে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় উৎপাদকদের সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে চীনও মার্কিন পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়ায়। এতে যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়ে যায়। খেলনা ও পোশাকের মতো দৈনন্দিন পণ্যও এর প্রভাব থেকে বাদ পড়েনি।

এ ছাড়া চীন যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য কেনা কমিয়ে দেয়। এতে ট্রাম্পের রাজনৈতিক সমর্থন রয়েছে এমন কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের কৃষকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হন।

পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে একটি বাণিজ্যিক যুদ্ধবিরতি হয়। তবে সেই সমঝোতার মেয়াদ জানুয়ারির শেষ দিকে শেষ হওয়ার কথা। ফলে নতুন করে আলোচনার প্রয়োজন দেখা দিতে পারে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর পর ট্রাম্প প্রশাসন বাণিজ্যিক বিরোধ মেটাতে নতুন সমঝোতার চেষ্টা করতে পারে। চীনও এই পরিস্থিতিকে নিজেদের পক্ষে সুবিধাজনক চুক্তি আদায়ের সুযোগ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে।

তবে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যনীতি কতটা বদলাবে, তা নির্ভর করবে প্রশাসনের সিদ্ধান্ত, আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়া এবং দুই দেশের আলোচনার ওপর।

মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে রাশিয়ার প্রতিক্রিয়ায় সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থান দেখা গেছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, তাঁরা আশা করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবেন।

পেসকভের বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় আলোচনার আরেকটি পর্ব আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে এই আলোচনা হওয়ার কথা।

এ ছাড়া রুশ-অধিকৃত ওলেশকিতে সাম্প্রতিক মানবিক অভিযানের প্রসঙ্গ তুলে মেলানিয়া ট্রাম্পের উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন পেসকভ। রাশিয়া আশা করছে, এ ধরনের মানবিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

তবে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে থাকা কংগ্রেস ট্রাম্পের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে রাশিয়ার সঙ্গে ভবিষ্যৎ চুক্তি এবং মস্কোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

রাশিয়ার যুদ্ধপন্থি মহলের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণ ট্রাম্পের কূটনৈতিক উদ্যোগের পরিসর সীমিত করতে পারে। ফলে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান আরও জটিল হতে পারে।

তবে মস্কো প্রকাশ্যে ট্রাম্পের সমালোচনা না করে তাঁর শান্তি প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার পক্ষে কথা বলছে। কারণ, রাশিয়া এখনো ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাড়ানোর সম্ভাবনা দেখছে।

অন্যদিকে, ইউক্রেনে নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দেশটির কিছু ভাষ্যকার মনে করছেন, কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্য রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে সমর্থন বাড়াতে পারে।

কিয়েভের অন্য একটি অংশের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অচলাবস্থা ইউক্রেন নিয়ে ওয়াশিংটনের নীতিতে অনিশ্চয়তা তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে রাশিয়া যখন ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে, তখন মার্কিন সহায়তা ও কূটনৈতিক অবস্থান দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের আলোচনায় একটি বিষয় স্পষ্ট—এই ফলাফলকে শুধু মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতির ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে না। ইউক্রেন, ইরান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের মানুষের কাছে এর গুরুত্ব মূলত চলমান সংঘাতগুলোর ভবিষ্যৎ প্রভাবের কারণে।

ইউক্রেনের সাংবাদিক রোমান সিম্বালিয়ুক ব্যঙ্গ করে বলেছেন, ট্রাম্প অন্যদের যুদ্ধের নিষ্পত্তি করলেও নিজের যুদ্ধেই হেরে গেছেন। তাঁর এই মন্তব্যের মাধ্যমে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংঘাতের অবসান ঘটানোর বিষয়ে ট্রাম্পের বারবার করা দাবিকে বিদ্রূপ করা হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্র-সমর্থিত গণমাধ্যমও ডেমোক্র্যাটদের নির্বাচনী সাফল্যকে ট্রাম্পের যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে মার্কিন জনগণের অবস্থান হিসেবে তুলে ধরেছে। তাদের প্রতিবেদনে ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক মূল্যকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

রাশিয়ার গণমাধ্যম ও যুদ্ধপন্থি মহলেও নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ইউক্রেন যুদ্ধের ভবিষ্যৎ, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারানো ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য নীতিনির্ধারণে নতুন বাধা তৈরি করতে পারে। আইন পাস, বাজেট অনুমোদন এবং বিভিন্ন প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে সমঝোতা করতে হবে।

এর প্রভাব পররাষ্ট্রনীতিতেও পড়তে পারে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া, রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি আলোচনা, ইউক্রেনকে সহায়তা এবং চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক—প্রতিটি ক্ষেত্রেই কংগ্রেসের অবস্থান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

তবে নির্বাচনের ফলাফল মানেই যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিতে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আসবে, এমন নয়। প্রেসিডেন্টের হাতে থাকা নির্বাহী ক্ষমতা, সামরিক সিদ্ধান্ত, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও এসব সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করবে।

সব মিলিয়ে, মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফল বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। ইরান এই ফলাফলকে যুদ্ধনীতির বিরুদ্ধে জনমতের প্রতিফলন হিসেবে দেখছে। চীন বাণিজ্যিক আলোচনায় নতুন সুযোগ খুঁজতে পারে। রাশিয়া ট্রাম্পের শান্তি প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকার আশা করছে। আর উপসাগরীয় দেশগুলোকে নিজেদের নিরাপত্তা ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

তবে শেষ পর্যন্ত এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে ট্রাম্প প্রশাসন ও ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত কংগ্রেসের সম্পর্ক, চলমান যুদ্ধগুলোর গতিপথ এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পরবর্তী কূটনৈতিক পদক্ষেপের ওপর।

সূত্র: বিবিসি বাংলা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ