কলকাতায় ধীরে ধীরে অনুভূত হচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। ঘূর্ণিঝড়ের পরোক্ষ প্রভাব কাটতেই একধাক্কায় প্রায় ২ ডিগ্রি কমেছে শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) কলকাতার পারদ নেমে দাঁড়িয়েছে ২৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। আগামী দুদিনে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর। ফলে শহর ও আশপাশের জেলাগুলোতে শীতের হালকা আমেজ আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তবে সপ্তাহান্তে কালীপুজোর আনন্দে বৃষ্টি বাধা হয়ে দাঁড়াবে কি না, তা নিয়ে আগ্রহ রয়েছে সাধারণ মানুষের। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার কালীপুজোর দিন দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির তেমন সম্ভাবনা নেই। তবে সোমবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। বঙ্গোপসাগরে নতুন করে নিম্নচাপ তৈরির সম্ভাবনাও রয়েছে।
ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কমতেই কলকাতার আবহাওয়ায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কয়েক দিন আগেও শহরের তাপমাত্রা তুলনামূলক বেশি থাকলেও বৃহস্পতিবার সকালে অনেকটাই স্বস্তি পেয়েছেন কলকাতাবাসী।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার কলকাতার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৫.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বৃহস্পতিবার তা প্রায় ২ ডিগ্রি কমে দাঁড়ায় ২৩.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। যদিও এই তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় ১.৩ ডিগ্রি বেশি।
শুধু সর্বনিম্ন তাপমাত্রাই নয়, শহরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাতেও পতন হয়েছে। বৃহস্পতিবার কলকাতার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ২৮.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা স্বাভাবিকের তুলনায় ১.৩ ডিগ্রি কম।
আবহাওয়াবিদদের পূর্বাভাস, আগামী দুদিনে রাতের তাপমাত্রা আরও কিছুটা কমতে পারে। ফলে ভোর ও রাতের দিকে শীতের অনুভূতি বাড়বে। শহরের পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলাতেও তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
শুক্রবার ধনতেরাস এবং রবিবার কালীপুজো। উৎসবের এই সময়ে আবহাওয়ার পরিস্থিতি কেমন থাকবে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কালীপুজোর রাতে বৃষ্টি হলে উৎসবের আয়োজন ব্যাহত হতে পারে।
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, রবিবার পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া মোটের ওপর শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ কালীপুজোর দিন বৃষ্টির তেমন আশঙ্কা নেই। ফলে কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অধিকাংশ এলাকায় উৎসব উদ্যাপনে আবহাওয়া বড় বাধা হয়ে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা কম।
তবে বৃহস্পতিবার কলকাতার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে। শহরের কয়েকটি এলাকায় বিক্ষিপ্তভাবে হালকা বৃষ্টিও হতে পারে। কিন্তু আপাতত ভারী বৃষ্টির কোনও পূর্বাভাস নেই।
কালীপুজো পর্যন্ত স্বস্তি থাকলেও সোমবার থেকে দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় পরিবর্তন আসতে পারে। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
যেসব জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, সেগুলো হলো: উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদিয়া, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব মেদিনীপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম।
এই জেলাগুলোর কোথাও কোথাও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। ফলে কালীপুজোর পর থেকেই দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়ায় ফের পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনার পেছনে বঙ্গোপসাগরের আবহাওয়াগত পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে বঙ্গোপসাগরে নতুন করে একটি নিম্নচাপ তৈরি হতে পারে।
এই নিম্নচাপের প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। বিশেষ করে উপকূলবর্তী জেলাগুলোতে আবহাওয়ার পরিবর্তন বেশি অনুভূত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে নিম্নচাপটি ঠিক কোথায় তৈরি হবে এবং তার গতিপথ কী হবে, তার ওপর বৃষ্টির বিস্তার ও পরিমাণ নির্ভর করবে। আপাতত কালীপুজোর দিন পর্যন্ত বড় ধরনের বৃষ্টির আশঙ্কা না থাকায় স্বস্তিতে রয়েছেন উৎসবপ্রেমীরা।
দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর জন্য আপাতত কোনও বৃষ্টির পূর্বাভাস দেয়নি আবহাওয়া দপ্তর। উত্তরবঙ্গের আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রায় এখনই বড় কোনও পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছেন না আবহাওয়াবিদরা।
ফলে উত্তরবঙ্গের বাসিন্দারা আপাতত শুষ্ক আবহাওয়া উপভোগ করতে পারবেন। রাত ও ভোরে তাপমাত্রা কমলেও দিনের বেলায় গরমের অনুভূতি পুরোপুরি কাটবে না।
জোড়া ঘূর্ণিঝড়ের পরোক্ষ প্রভাব কাটার পর পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় ধীরে ধীরে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। কলকাতায় তাপমাত্রা কমতে শুরু করায় শীতের হালকা আমেজ অনুভূত হচ্ছে। আগামী দুদিনে রাতের তাপমাত্রা আরও কমলে সেই অনুভূতি বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, রবিবার কালীপুজোর দিন দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির আশঙ্কা কম। তবে সোমবার থেকে আট জেলায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে নতুন নিম্নচাপ তৈরি হলে আগামী সপ্তাহে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে। তাই উৎসবের আনন্দের পাশাপাশি পরবর্তী কয়েক দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাসের দিকেও নজর রাখা জরুরি।



