সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট

Homeশিল্প ও সাহিত্য২৩ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে তসলিমার নতুন বই, কলকাতা বইমেলায় আসছেন লেখিকা

২৩ বছর পর পশ্চিমবঙ্গে তসলিমার নতুন বই, কলকাতা বইমেলায় আসছেন লেখিকা

এর কয়েক বছর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল লেখিকাকে। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি বাংলার বাইরে ছিলেন। প্রায় ১৯ বছরের ‘নির্বাসন’ কাটিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর সম্প্রতি ফের বাংলায় এসেছিলেন তসলিমা।

এনবি সংবাদ,আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : ২৩ বছর আগে তাঁর লেখা উপন্যাস ‘দ্বিখণ্ডিত’ পশ্চিমবঙ্গে নিষিদ্ধ হয়েছিল। তার কয়েক বছর পর কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন লেখিকা তসলিমা নাসরিনও। দীর্ঘ সময় ধরে বাংলার বাইরে থাকা সেই লেখিকার নতুন একটি গল্পের বই এবার প্রকাশিত হল পশ্চিমবঙ্গ থেকে। আর এই প্রকাশনার নেপথ্যে রয়েছে কলকাতার কোনও বড় প্রকাশনা সংস্থা নয়, হুগলির চুঁচুড়ার তুলনামূলক ছোট প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ‘এবং অধ্যায়’।

গত ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত হয়েছে তসলিমা নাসরিনের নতুন গল্প সংকলন ‘সুইসাইড নোট এবং অন্যান্য গল্প’। বইটিতে রয়েছে মোট ১৫টি গল্প। শিরোনাম গল্পে উঠে এসেছে এক স্বামীর লেখা শেষ চিঠির প্রসঙ্গ। অন্য গল্পগুলির একটি বড় অংশে পিতৃতান্ত্রিক সমাজে নারীর অবস্থান, তাঁদের অভিজ্ঞতা এবং নানা ধরনের সামাজিক সংকটের কথা উঠে এসেছে।

তসলিমার বই পশ্চিমবঙ্গে প্রকাশিত হওয়া ঘিরে স্বাভাবিক ভাবেই তৈরি হয়েছে আগ্রহ। তার সঙ্গে আরও কৌতূহলের জায়গা, কেন এই বই প্রকাশের দায়িত্ব নিল চুঁচুড়ার একটি ছোট প্রকাশনা সংস্থা? তসলিমার কলকাতায় সাম্প্রতিক প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে কি এই প্রকাশনার কোনও যোগ রয়েছে? প্রকাশক এবং লেখিকার বক্তব্যে উঠে এসেছে সেই প্রশ্নের উত্তরও।

তসলিমা নাসরিনের সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই নানা বিতর্ক ও রাজনৈতিক-সামাজিক আলোচনার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। তাঁর লেখা **‘দ্বিখণ্ডিত’** প্রকাশের পর তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ২৩ বছর আগে পশ্চিমবঙ্গে বইটি নিষিদ্ধ করা হয়।

এর কয়েক বছর পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। শেষ পর্যন্ত কলকাতা ছাড়তে হয়েছিল লেখিকাকে। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি বাংলার বাইরে ছিলেন। প্রায় ১৯ বছরের ‘নির্বাসন’ কাটিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর সম্প্রতি ফের বাংলায় এসেছিলেন তসলিমা।

তাঁর সেই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে পাঠক ও সাহিত্যপ্রেমীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছিল। কলকাতায় তাঁর যাতায়াত এবং আগামী বইমেলায় তাঁর থাকার পরিকল্পনা সেই আগ্রহকে আরও বাড়িয়েছে।

এই আবহেই পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রকাশিত হল তাঁর নতুন গল্প সংকলন।

নতুন বইটিতে মোট ১৫টি গল্প রয়েছে। বইয়ের নাম নিয়ে শুরু থেকেই একটি মজার ঘটনা রয়েছে। তসলিমা জানিয়েছেন, বইটির বর্তমান নাম তাঁর নিজের পছন্দের ছিল না। নামটি দিয়েছেন প্রকাশক ধীমান ব্রহ্মচারী।

লেখিকার ইচ্ছে ছিল অন্য ধরনের একটি নাম রাখার। তিনি ‘১৫টা জানলা’ বা সেই ধরনের কোনও নাম ভেবেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রকাশকের দেওয়া ‘সুইসাইড নোট এবং অন্যান্য গল্প’ নামটিই রাখা হয়।

তসলিমার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রকাশক সম্ভবত এমন একটি নাম চেয়েছিলেন যা সহজেই পাঠকের নজর কাড়বে। পরে তিনি নিজেও বিষয়টি বুঝতে পারেন।

অন্যদিকে প্রকাশক ধীমান ব্রহ্মচারীর বক্তব্য, একটি বইয়ের ক্ষেত্রে নাম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম দিকে পাণ্ডুলিপির জন্য অন্য নাম ভাবা হয়েছিল। পরে গল্পগুলি পড়ে তাঁর মনে হয়, ‘সুইসাইড নোট’ নামটি বইটির জন্য বেশি উপযুক্ত হবে। তিনি প্রস্তাবটি তসলিমাকে জানান এবং লেখিকাও শেষ পর্যন্ত সম্মতি দেন।

বইয়ের নামকরণ হয়েছে ‘সুইসাইড নোট’ গল্পের নাম অনুসারে। এই গল্পে রয়েছে এক স্বামীর তাঁর স্ত্রীর উদ্দেশে লেখা শেষ চিঠির প্রসঙ্গ।

তবে বইটির বিষয়বস্তু শুধুমাত্র এই গল্পে সীমাবদ্ধ নয়। বাকি গল্পগুলির একটি বড় অংশেই নারীর দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজকে দেখার চেষ্টা রয়েছে। পিতৃতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে নারীদের নানা অভিজ্ঞতা, চাপ, অসহায়তা এবং সামাজিক অবস্থানের মতো বিষয় উঠে এসেছে গল্পগুলিতে।

তসলিমার লেখালেখির অন্যতম পরিচিত বৈশিষ্ট্য হল সামাজিক অসঙ্গতি নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলা। নতুন গল্প সংকলনেও সেই প্রবণতার ছাপ রয়েছে বলে প্রকাশক জানিয়েছেন।

তসলিমার সাম্প্রতিক কলকাতা সফরের পরেই তাঁর নতুন বই পশ্চিমবঙ্গ থেকে প্রকাশিত হওয়ায় অনেকের মনে স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—দুটির মধ্যে কি কোনও সম্পর্ক রয়েছে?

প্রকাশক ধীমান ব্রহ্মচারী অবশ্য এমন কোনও যোগের কথা মানছেন না। তাঁর বক্তব্য, বই প্রকাশের সিদ্ধান্ত তসলিমার কলকাতায় ফেরার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।

তিনি আরও জানিয়েছেন, তাঁদের প্রকাশনা সংস্থার শারদীয় সংখ্যায় আগেও তসলিমার লেখা প্রকাশিত হয়েছে। অর্থাৎ লেখিকার সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ একেবারে নতুন নয়।

ধীমানের বক্তব্যের সারকথা, তসলিমা কলকাতায় ফিরেছেন বলেই তাঁর বই প্রকাশ করে আলোচনার সুযোগ নেওয়া হয়েছে—এমনটা নয়। তাঁর লেখা আগে থেকেই প্রকাশনা সংস্থাটির সঙ্গে যুক্ত ছিল। নতুন বই প্রকাশের সিদ্ধান্তও সেই ধারাবাহিকতার অংশ।

তসলিমার বক্তব্যেও একই ধরনের তথ্য পাওয়া যায়। তিনি জানিয়েছেন, প্রথমে তাঁর নতুন কোনও গল্পের বই প্রকাশের পরিকল্পনা ছিল না।

প্রকাশক ধীমান দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর কাছে পত্রিকার জন্য লেখা চাইতেন। একসময় তসলিমা তাঁকে কিছু লেখা পাঠান। এরপর ধীমানের মাথায় আসে, আরও কয়েকটি গল্প নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বই করা যেতে পারে।

তসলিমা জানান, বিভিন্ন পত্রিকা ও ম্যাগাজিন থেকে নিয়মিত লেখা চাওয়া হলেও সবার জন্য লেখা পাঠানো সম্ভব হয় না। যাঁদের অনুরোধ বা যোগাযোগ তাঁর নজরে আসে, তাঁদের কাউকে কাউকে লেখা পাঠিয়ে দেন। ধীমানের ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছিল।

পরে প্রকাশক যখন আরও কয়েকটি গল্প চেয়ে বই প্রকাশের প্রস্তাব দেন, তখন তসলিমা তাঁর পুরোনো গল্প থেকে ১৫টি লেখা দেন। সেখান থেকেই তৈরি হয় নতুন গল্প সংকলন।

অর্থাৎ বইটি প্রকাশের পিছনে বড় কোনও পরিকল্পনা নয়, বরং একটি সাহিত্যপত্রিকার জন্য লেখা পাঠানো এবং তার পর প্রকাশকের আগ্রহই মূল ভূমিকা নিয়েছে।

তসলিমার নতুন বইয়ের প্রকাশক ধীমান ব্রহ্মচারীর গল্পও কম আকর্ষণীয় নয়। তাঁর শিকড় মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জে। সেখানেই তাঁর বেড়ে ওঠা।

উচ্চ মাধ্যমিকের পর তিনি চলে আসেন হুগলির চুঁচুড়ায়। সেখানেই কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করেন। স্নাতকোত্তর করার পর কয়েক বছর সাংবাদিক হিসেবেও কাজ করেছেন।

পরে সাংবাদিকতার চাকরি ছেড়ে বই প্রকাশনার জগতে প্রবেশ করেন। তৈরি করেন নিজের প্রকাশনা সংস্থা ‘এবং অধ্যায়’।

ছোট পরিসরে শুরু হলেও ধীরে ধীরে এই প্রকাশনা সংস্থা বাংলা সাহিত্যজগতের বেশ কিছু পরিচিত নামের বই প্রকাশ করেছে। সেই তালিকায় রয়েছেন কবি, সাহিত্যিক, প্রাবন্ধিক এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রের লেখক।

এবার সেই তালিকায় যুক্ত হল তসলিমা নাসরিনের নাম।

তসলিমার সঙ্গে তাঁর নতুন সম্পর্কের পিছনে ধীমানের ব্যক্তিগত স্মৃতিও রয়েছে। ২০০৭ সালে তিনি তখন কলেজের ছাত্র। পড়াশোনার পাশাপাশি অর্থের প্রয়োজন মেটাতে একটি কারখানায় কাজ করতেন।

একদিন হঠাৎ কারখানার মালিক নোটিশ দিয়ে জানিয়ে দেন, বিকেল ৫টায় কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। সেই সময় কলকাতার পরিস্থিতিও উত্তপ্ত ছিল। শহরে পুলিশি তৎপরতা ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল।

সেই সময়েই তসলিমা নাসরিনের কলকাতা ছাড়ার খবর পান ধীমান। সময়ের ব্যবধানে সেই স্মৃতি তাঁর কাছে ফিরে এসেছে অন্য ভাবে। প্রায় দুই দশক পর সেই তসলিমার বই প্রকাশ করার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।

এই ঘটনাকে নিজের কাছে বিশেষ অভিজ্ঞতা হিসেবেই দেখছেন প্রকাশক।

তসলিমার লেখা বরাবরই বিতর্ক তৈরি করেছে। তাঁর নতুন বইও যে আলোচনার বাইরে থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বিষয়টি মাথায় রেখেই ধীমান মনে করেন, লেখকের স্বাধীনতা থাকা জরুরি।

তাঁর বক্তব্য, একজন শিল্পী বা লেখকের নিজের কথা বলার স্বাধীনতা থাকা উচিত। কোনও পাঠকের লেখা পছন্দ না হলে তার সমালোচনা হতে পারে, পাল্টা লেখা হতে পারে। কিন্তু মত প্রকাশের কারণে কোনও লেখককে দমন করা উচিত নয়।

নতুন বই নিয়ে বিতর্ক তৈরি হলে সেটিকেও তিনি সাহিত্যিক আলোচনার অংশ হিসেবেই দেখতে চান। তাঁর মতে, মানুষ বই পড়ছেন এবং সেই বই নিয়ে আলোচনা করছেন—এটিই শেষ পর্যন্ত সাহিত্যের জন্য ইতিবাচক।

‘এবং অধ্যায়’ আকারে হয়তো বড় প্রকাশনা সংস্থা নয়, কিন্তু বাংলা সাহিত্যজগতে তাদের প্রকাশিত বইয়ের তালিকা যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য।

এই প্রকাশনা সংস্থা থেকে পবিত্র সরকার, সঞ্জয় মুখোপাধ্যায়, সৌমিত্র বসু, অনিতা অগ্নিহোত্রী, দেবেশ চট্টোপাধ্যায়, বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়, গৌতম বসু মল্লিক, তৃষ্ণা বসাক, অংশুমান কর, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, রাহুল দাশগুপ্ত এবং নীলাঞ্জন হাজরার মতো লেখকদের বই প্রকাশিত হয়েছে।

সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলেন তসলিমা নাসরিন। ফলে চুঁচুড়ার একটি ছোট প্রকাশনা সংস্থার জন্য এই বই প্রকাশ নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা।

তসলিমার নতুন বই প্রকাশের পর স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, আগামী কলকাতা বইমেলায় কি তাঁকে সামনে রেখে বইটির আনুষ্ঠানিক প্রকাশ বা উদ্বোধন করা হবে?

প্রকাশক ধীমান ব্রহ্মচারীর ইচ্ছে রয়েছে, লেখিকাকে দিয়েই বইটি উন্মোচন করার। তবে শেষ পর্যন্ত তা সম্ভব হবে কি না, তা নির্ভর করছে পরিস্থিতির উপর।

তসলিমা নিজে অবশ্য জানিয়েছেন, তিনি কলকাতা বইমেলায় থাকবেন। শুধু বইমেলায় কয়েক দিনের জন্য এসে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা নয়, দীর্ঘ সময় কলকাতায় থাকার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।

লেখিকার পরিকল্পনা অনুযায়ী, বইমেলা শুরু হওয়ার বেশ কিছুটা আগেই তিনি কলকাতায় আসবেন এবং মেলা শেষ হওয়ার পরও কিছুদিন শহরে থাকবেন। সব মিলিয়ে প্রায় এক মাস থেকে দেড় মাস কলকাতায় থাকার ইচ্ছা রয়েছে তাঁর।

‘দ্বিখণ্ডিত’ নিষিদ্ধ হওয়ার পর পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে তসলিমা নাসরিনের সম্পর্ক নানা ওঠাপড়ার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে। বিতর্ক, কলকাতা ছাড়ার ঘটনা, দীর্ঘ অনুপস্থিতি—সব মিলিয়ে তাঁর নাম বাংলার সাহিত্য ও সমাজজীবনে একটি বিশেষ আলোচনার জায়গা তৈরি করেছে।

সেই দীর্ঘ সময়ের পরে এবার তাঁর নতুন বই প্রকাশিত হল পশ্চিমবঙ্গের মাটি থেকেই। তাও কোনও বড় কর্পোরেট প্রকাশনা সংস্থার হাত ধরে নয়, মফস্বলের এক প্রকাশকের উদ্যোগে।

এই ঘটনা তাই শুধু একটি নতুন গল্পের বই প্রকাশের খবর নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে একজন লেখিকার দীর্ঘ সাহিত্যযাত্রা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ছোট প্রকাশনা সংস্থার সাহস এবং পাঠকের সঙ্গে লেখকের সম্পর্কের একটি নতুন অধ্যায়।

‘সুইসাইড নোট এবং অন্যান্য গল্প’ ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয়েছে। আগামী দিনে বইটি পাঠক ও সমালোচকদের মধ্যে কতটা আলোচনা তৈরি করে, সেটাই এখন দেখার। আর কলকাতা বইমেলায় তসলিমা নিজে উপস্থিত থাকলে সেই আলোচনা যে আরও বাড়বে, তা বলাই যায়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ