এনবি সংবাদ,আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : সমুদ্রের ধারে হঠাৎ চোখে পড়ল অদ্ভুত কয়েকটি গোলক। প্রথমে একটি দেখেই থমকে গিয়েছিলেন স্থানীয়রা। কাছে গিয়ে দেখেও বোঝা গেল না, এগুলি আসলে কী। খবর দেওয়া হলো প্রশাসনকে। তারপর আশপাশে খোঁজ শুরু হতেই সামনে এল আরও চমকপ্রদ তথ্য—একটি নয়, সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন জায়গা থেকে উদ্ধার হয়েছে মোট ৬টি রহস্যময় গোলক।
কোথা থেকে এল এগুলি? সমুদ্রের ঢেউ কি ভাসিয়ে এনেছে? নাকি আকাশ থেকে পড়ে সমুদ্রে গিয়ে ঠেকেছিল? আপাতত নিশ্চিত উত্তর নেই।
তবে বিষয়টি নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে কুইন্সল্যান্ড পুলিশ। কারণ গোলকগুলোর ভেতরে ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডের একটি সমুদ্রসৈকতে অন্য দিনের মতোই ঘুরছিলেন স্থানীয় মানুষজন। সমুদ্রের ধারে বালির ওপর হঠাৎ অস্বাভাবিক দেখতে একটি গোলক নজরে আসে তাঁদের।
প্রথমে বিষয়টিকে হয়তো সমুদ্রের ভেসে আসা কোনো বস্তু বলেই মনে হয়েছিল। কিন্তু কাছে গিয়েও সেটির পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেননি কেউ।
তখনই খবর দেওয়া হয় প্রশাসনকে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও স্থানীয় দমকলকর্মীরা। শুরু হয় আশপাশের এলাকা পরীক্ষা।
আর সেখানেই রহস্য আরও গভীর হয়।
একটি অদ্ভুত গোলকের খোঁজ করতে গিয়ে কর্মকর্তারা দেখতে পান, আশপাশের সমুদ্রসৈকতের বিভিন্ন জায়গাতেও একই ধরনের আরও গোলক পড়ে রয়েছে।
সব মিলিয়ে উদ্ধার করা হয় ৬টি গোলক।
এতেই স্থানীয়দের কৌতূহল আরও বেড়ে যায়। কারণ এগুলি সাধারণ কোনো সামুদ্রিক আবর্জনা, নাকি অন্য কোনো উৎস থেকে আসা বস্তু—তা তখনও পরিষ্কার নয়।
প্রাথমিকভাবে শুধু এতটুকুই বোঝা যায়, গোলকগুলো সমুদ্রের জলে ভেসে এসে বালুকাবেলায় আটকে থাকতে পারে।
গোলকগুলো দেখতে কেমন বা কী দিয়ে তৈরি, তা নিয়ে রহস্য থাকলেও একটি বিষয়কে গুরুত্ব দিয়েছে প্রশাসন—নিরাপত্তা।
কুইন্সল্যান্ড পুলিশ স্থানীয় বাসিন্দাদের গোলকগুলোর কাছাকাছি না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। কারণ সেগুলোর মধ্যে ক্ষতিকর রাসায়নিক থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
পরীক্ষায় দেখা গেছে, উদ্ধার হওয়া ৬টি গোলকের মধ্যে ৫টিতে রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে।
তাই রহস্য উদ্ঘাটনের আগেই এগুলোকে স্পর্শ না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে স্থানীয়দের।
সবচেয়ে চমকপ্রদ সম্ভাবনাটি এসেছে প্রশাসনের প্রাথমিক ধারণা থেকে। গোলকগুলো হয়তো কোনো মহাকাশযানের অংশ হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্ভাব্য ব্যাখ্যা হলো, কোনো বস্তু আকাশ থেকে পড়ে সমুদ্রের জলে গিয়ে পড়তে পারে। পরে স্রোত ও ঢেউয়ের সঙ্গে ভেসে সেটি সমুদ্রসৈকতে এসে আটকে থাকতে পারে।
তবে এটি এখনো নিশ্চিত তথ্য নয়।
বিশেষজ্ঞেরা গোলকগুলো পরীক্ষা না করে সেগুলোর উৎস সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারছেন না। ফলে মহাকাশযানের অংশ হওয়ার বিষয়টিও আপাতত একটি সম্ভাবনা হিসেবেই রয়েছে।
একসঙ্গে ছয়টি অজানা গোলক সমুদ্রসৈকতে কীভাবে এল, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
সেগুলো সমুদ্রের তলদেশ থেকে উঠে এসেছে, কোনো জাহাজ থেকে ভেসে এসেছে, নাকি অন্য কোনো উৎস রয়েছে—সব সম্ভাবনাই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
গোলকগুলোর রাসায়নিক গঠন ও উপাদান পরীক্ষা করা হচ্ছে। সেই পরীক্ষার ফলাফলই হয়তো জানাবে, আসলে কী এই রহস্যময় বস্তুগুলো।
ততক্ষণ পর্যন্ত সমুদ্রসৈকতে পড়ে থাকা ছয় গোলককে ঘিরে রহস্যের সমাধান মিলছে না। বরং একটি গোলক দিয়ে শুরু হওয়া কৌতূহল এখন ছড়িয়ে পড়েছে ছয়টি অজানা বস্তুকে ঘিরে।



