এনবি সংবাদ,আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : কাপড়টা একটু সরাতেই যেন থমকে গেল সময়! চোখের সামনে কুণ্ডলী পাকিয়ে থাকা সাপটির দিকে তাকিয়ে আতঙ্কে জমে গেলেন তরুণী। কয়েক মুহূর্ত আগেও যে ঘরে নিশ্চিন্তে ছিলেন, সেখানেই তাঁর থেকে মাত্র কয়েক হাত দূরে লুকিয়ে ছিল অতি বিষধর একটি সাপ।
প্রথমে বোঝাই যাচ্ছিল না, সেটি ঘরে কীভাবে ঢুকল। টেবিলের পেছনে অস্বাভাবিক কিছু নজরে আসার পর সন্দেহ হয় তরুণীর। কাছে গিয়ে তাকাতেই ধরা পড়ে ভয়ংকর দৃশ্য। কাপড়ের নিচে নিঃশব্দে লুকিয়ে রয়েছে একটি **ইস্টার্ন ব্রাউন স্নেক**—অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বিষধর সাপ।
আর তখনই বদলে যায় পুরো পরিস্থিতি।
নিজে সাপটি ধরার চেষ্টা না করে দ্রুত খবর দেওয়া হয় অভিজ্ঞ এক সাপ উদ্ধারকারীকে। কারণ সামান্য ভুল পদক্ষেপেই বিষধর সাপটি আক্রমণ করতে পারত।
ঘটনাটি ঘটেছে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে। তরুণীর শোওয়ার ঘরটি ছিল বেশ পরিপাটি। এক পাশে টেবিল, তার ওপর বইপত্র। কাছেই ছিল পোষা ইঁদুরের বাক্স।
কিন্তু এই পরিচিত ঘরের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল অপ্রত্যাশিত বিপদ।
সাপ ধরার অভিজ্ঞ ব্যক্তি ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রথমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। এরপর ধীরে ধীরে টেবিলটি সরানো হয়। তখনই সাপটির অবস্থান পরিষ্কারভাবে দেখা যায়।
কাপড়ের নিচে গুটিয়ে ছিল সেটি।
বিষধর সাপটিকে ধরতে তাড়াহুড়ো করেননি উদ্ধারকারী। বরং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ধীরে ধীরে সেটিকে একটি বড় সাপ ধরার ব্যাগের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
সাপটিও তখন সতর্ক। কখনও স্থির, কখনও সামান্য নড়াচড়া—ঘরের পরিবেশ হয়ে ওঠে টানটান।
একদিকে অভিজ্ঞ উদ্ধারকারী, অন্যদিকে বিষধর সাপ। প্রত্যেকটি মুহূর্তেই প্রয়োজন ছিল নিখুঁত নিয়ন্ত্রণের।
অবশেষে সাপটি ব্যাগটির দিকে এগিয়ে যায়। তারপর ধীরে ধীরে ঢুকে পড়ে তার ভেতরে।
সুযোগ বুঝে দ্রুত ব্যাগটি বন্ধ করে ফেলেন উদ্ধারকারী। সফল হয় সাপ ধরার অভিযান।
সাপটিকে নিরাপদে বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়ার পর পরে একটি জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হয়। ফলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ছাড়াই শেষ হয় পুরো ঘটনা।
তবে ঘটনার পর স্বস্তি ফিরলেও ভয় কাটেনি সহজে। কারণ যে সাপটি এতক্ষণ ঘরের মধ্যেই লুকিয়ে ছিল, সেটি যদি সময়মতো চোখে না পড়ত, তাহলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারত।
ইস্টার্ন ব্রাউন স্নেক অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বিষধর সাপ। হুমকি অনুভব করলে এটি আত্মরক্ষার জন্য ছোবল দিতে পারে। তাই এমন সাপ ঘরের ভেতরে দেখা গেলে নিজের হাতে ধরার চেষ্টা না করে নিরাপদ দূরত্বে সরে গিয়ে প্রশিক্ষিত সাপ উদ্ধারকারীর সহায়তা নেওয়াই নিরাপদ।
কুইন্সল্যান্ডের এই ঘটনায় সবচেয়ে স্বস্তির বিষয়, ভয়ংকর সেই মুহূর্তে তরুণী নিজে ঝুঁকি নেননি। সময়মতো বিশেষজ্ঞকে খবর দেওয়ায় শেষ পর্যন্ত বিষধর সাপটিকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।



