সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট

Homeঅর্থ-বানিজ্যবিশ্ববাজারে ডিজেলসংকট গভীর হচ্ছে, বাড়ছে দাম ও অর্থনীতির চাপ

বিশ্ববাজারে ডিজেলসংকট গভীর হচ্ছে, বাড়ছে দাম ও অর্থনীতির চাপ

ইআইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলসহ ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুদ ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত এবং ২০২৭ সালের বড় একটি সময় পাঁচ বছরের গড়ের নিচে থাকতে পারে।

এনবি সংবাদ,আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : বিশ্বজুড়ে ডিজেল সরবরাহে তৈরি হওয়া সংকট ২০২৭ সালেও অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে জ্বালানির উচ্চমূল্য আরও দীর্ঘ সময় ধরে পরিবহন, কৃষি ও শিল্প খাতে ব্যয় বাড়াতে পারে বলে জানিয়েছেন বাজার বিশ্লেষক ও শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্য ও রাশিয়া থেকে ডিজেল সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। এতে বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলে মজুদও নেমে গেছে ঐতিহাসিকভাবে নিম্ন পর্যায়ে।

সরবরাহ সংকটের প্রভাব পড়েছে জ্বালানির দামে। যুক্তরাষ্ট্রে চলতি মাসে খুচরা ডিজেলের দাম প্রথমবারের মতো গ্যালনপ্রতি ৬ ডলার ছাড়িয়েছে। এতে কৃষক, ট্রাকচালক ও ডিজেলনির্ভর ব্যবসার পরিচালন ব্যয় বেড়েছে।

ডিজেল শুধু পরিবহনেই ব্যবহৃত হয় না। কৃষিকাজ, উৎপাদনশিল্প, নির্মাণ ও পণ্য পরিবহনে এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফলে জ্বালানিটির দাম বাড়লে সরবরাহব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরে অতিরিক্ত ব্যয় তৈরি হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডিজেলের মজুদ নেমে দাঁড়িয়েছে ১০৭ দশমিক ৯ মিলিয়ন ব্যারেলে। বছরের এই সময়ের হিসাবে ১৯৮২ সালে রেকর্ড সংরক্ষণ শুরু হওয়ার পর এটিই সর্বনিম্ন পর্যায় বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন বা ইআইএ।

ইআইএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ডিজেলসহ ডিস্টিলেট জ্বালানির মজুদ ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত এবং ২০২৭ সালের বড় একটি সময় পাঁচ বছরের গড়ের নিচে থাকতে পারে।

ডিজেলসংকটের আরেকটি চিত্র পাওয়া যাচ্ছে জ্বালানি সংরক্ষণ বাজারে। স্টোরেজ ব্রোকার প্রতিষ্ঠান দ্য ট্যাংক টাইগারের তথ্য অনুযায়ী, উত্তর আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলে অক্টোবরের জন্য লিজ দেওয়ার মতো ডিজেল স্টোরেজ সক্ষমতা বেড়ে প্রায় ১৩ মিলিয়ন ব্যারেলে উঠেছে, যা জুনে ছিল প্রায় ১১ মিলিয়ন ব্যারেল।

এর কারণ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, পর্যাপ্ত ডিজেল না থাকায় অনেক শোধনাগার ও ব্যবসায়ী আগের স্টোরেজ লিজ নবায়ন করছেন না। অর্থাৎ এখানে স্টোরেজের চাহিদা কমার পেছনে জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতিই গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইউরোপ ও এশিয়ার বাজারেও ডিজেল মজুদের ঘাটতি দেখা যাচ্ছে। আমস্টারডাম-রটারডাম-অ্যান্টওয়ার্প বা এআরএ অঞ্চলে জুলাইয়ের ডিজেল মজুদ পাঁচ বছরের গড়ের তুলনায় ১৬ শতাংশ কম ছিল। সিঙ্গাপুরেও ডিস্টিলেটের মজুদ ২০২৫ সালের গড়ের নিচে রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে সরবরাহ আরও ব্যাহত হলে এবং রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানি সীমাবদ্ধতা অব্যাহত থাকলে শীতকালজুড়ে বাজারে চাপ থাকতে পারে। তবে চীনের বাড়তি ডিজেল রপ্তানি এবং উচ্চ পরিশোধন মুনাফার কারণে উৎপাদন বাড়লে কিছুটা স্বস্তি আসার সম্ভাবনাও রয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে উদ্ধৃত তথ্য ও বাজার পরিস্থিতি বলছে, ডিজেল সরবরাহ দ্রুত স্বাভাবিক হওয়ার নিশ্চয়তা নেই। বড় কোনো শোধনাগারে অচলাবস্থা বা মধ্যপ্রাচ্য কিংবা রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হলে দাম আরও বাড়তে পারে।

ডিজেলের দাম দীর্ঘ সময় বেশি থাকলে এর প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। পণ্য পরিবহন, কৃষি ও শিল্প উৎপাদনের ব্যয় বাড়ার মাধ্যমে তা শেষ পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্যের দামের ওপরও চাপ তৈরি করতে পারে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ