সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট

Homeবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিঅ্যাপল গ্যাজেটApple ও Qualcomm-এর পেটেন্ট চুক্তি নবীকরণ, ২০২৭ থেকে কার্যকর নতুন লাইসেন্সিং চুক্তি

Apple ও Qualcomm-এর পেটেন্ট চুক্তি নবীকরণ, ২০২৭ থেকে কার্যকর নতুন লাইসেন্সিং চুক্তি

২০১৯ সালে Apple এবং Qualcomm-এর মধ্যে যে চুক্তি হয়েছিল, তার প্রাথমিক মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। সেই চুক্তিতে আরও দুই বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছিল। সেই অতিরিক্ত দুই বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৭ সালের মার্চের শেষ দিনে।

এনবি সংবাদ, আইটি ডেস্ক : Apple ও Qualcomm-এর দীর্ঘদিনের পেটেন্ট-লাইসেন্সিং সম্পর্ক আরও কয়েক বছর এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। দুই প্রযুক্তি সংস্থা ২০১৯ সালে স্বাক্ষরিত পেটেন্ট লাইসেন্সিং চুক্তি নবীকরণ করেছে। Qualcomm-এর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নতুন করে নবীকরণ করা চুক্তিটি ১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে কার্যকর হবে।

তবে নতুন চুক্তির মেয়াদ কত বছরের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে আপাতত কোনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি Qualcomm। সংস্থার সংক্ষিপ্ত ঘোষণায় শুধু চুক্তি নবীকরণের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

Qualcomm-এর Technology Licensing বিভাগের Executive Vice President এবং General Manager John Han জানিয়েছেন, Apple-এর সঙ্গে লাইসেন্স চুক্তি আরও দীর্ঘায়িত করতে পেরে তারা সন্তুষ্ট। সংস্থার পক্ষ থেকে এই বক্তব্যের বাইরে চুক্তির আর্থিক কাঠামো, মেয়াদ কিংবা অন্যান্য শর্ত সম্পর্কে কোনও তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

২০১৯ সালে Apple এবং Qualcomm-এর মধ্যে যে চুক্তি হয়েছিল, তার প্রাথমিক মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। সেই চুক্তিতে আরও দুই বছর মেয়াদ বাড়ানোর সুযোগ রাখা হয়েছিল। সেই অতিরিক্ত দুই বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৭ সালের মার্চের শেষ দিনে।

নতুন চুক্তি কার্যকর হওয়ার তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে তার পরের দিন, অর্থাৎ ১ এপ্রিল ২০২৭।

Apple এবং Qualcomm-এর বর্তমান সম্পর্কের পেছনে রয়েছে কয়েক বছরের দীর্ঘ আইনি লড়াই। দুই সংস্থার মধ্যে বিরোধ প্রকাশ্যে আসে ২০১৭ সালের শুরুতে।

২০১৭ সালের জানুয়ারিতে Apple, Qualcomm-এর বিরুদ্ধে মামলা করে। Apple-এর অভিযোগ ছিল, দক্ষিণ কোরিয়ার অ্যান্টিট্রাস্ট তদন্তে সহযোগিতা করার কারণে Qualcomm তাদের প্রায় ১০০ কোটি ডলারের রয়্যালটি আটকে রেখেছিল।

এর পাশাপাশি Qualcomm-এর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ দাবি, একচেটিয়া ব্যবসায়িক আচরণ এবং প্রযুক্তি লাইসেন্সের জন্য অত্যধিক মূল্য নেওয়ার মতো অভিযোগও আনে Apple।

Apple-এর অভিযোগ অনুযায়ী, Qualcomm তাদের কাছে অন্য সব cellular patent licensor-এর সম্মিলিত দাবির তুলনায় কয়েক গুণ বেশি অর্থ দাবি করছিল।

এই আইনি লড়াই শুধু দুই সংস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। একই সময়ে মার্কিন Federal Trade Commission বা FTC-ও Qualcomm-এর বিরুদ্ধে আলাদা মামলা করেছিল।

FTC-এর মামলায় অভিযোগ করা হয়েছিল, Qualcomm ২০১১ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে Apple-কে নির্দিষ্ট baseband modem সরবরাহকারীর সঙ্গে একচেটিয়া সম্পর্ক বজায় রাখতে উৎসাহিত করেছিল।

অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল Qualcomm-এর royalty rebate ব্যবস্থা। FTC-এর বক্তব্য ছিল, কম royalty দেওয়ার মতো সুবিধার মাধ্যমে Apple-কে Qualcomm-এর সঙ্গে exclusivity বজায় রাখতে উৎসাহিত করা হয়েছিল।

এই ঘটনাগুলি Apple এবং Qualcomm-এর মধ্যে প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বকে বড় ধরনের আইনি ও ব্যবসায়িক বিরোধে পরিণত করে।

Apple-এর মামলার পর Qualcomm-ও আদালতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরে। ২০১৭ সালের এপ্রিল মাসে Qualcomm Apple-এর অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি জানায়।

Qualcomm-এর বক্তব্য ছিল, Apple তাদের standard-essential patent ব্যবহারের ন্যায্য বাজারমূল্য দিতে চাইছিল না। পাশাপাশি চুক্তি ভঙ্গ এবং বিভিন্ন দেশে নিয়ন্ত্রক সংস্থার হস্তক্ষেপ ঘটানোর জন্য Apple-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলে Qualcomm।

ফলে দুই প্রযুক্তি জায়ান্টের মধ্যে বিরোধ আরও জটিল হয়ে ওঠে।

Qualcomm-এর সঙ্গে বিরোধের সময় Apple নিজেদের modem সরবরাহ ব্যবস্থা আরও বৈচিত্র্যময় করার চেষ্টা করে। সেই সময় Intel Apple-এর অন্যতম modem supplier হয়ে ওঠে।

কিন্তু Intel-এর সঙ্গে Apple-এর এই সম্পর্কও Qualcomm-এর সঙ্গে নতুন বিরোধের কারণ তৈরি করে।

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে আদালতে দেওয়া একটি নথিতে Qualcomm অভিযোগ করে, Apple তাদের দেওয়া কিছু বাণিজ্যিক গোপনীয় তথ্য Intel-এর কাছে ব্যবহার করেছে। Qualcomm-এর দাবি ছিল, তাদের intellectual property-র সঙ্গে সম্পর্কিত তথ্য Intel-এর হাতে পৌঁছেছিল।

বিশেষ করে baseband chip-এর কার্যক্ষমতা বাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত সফটওয়্যার নিয়ে Qualcomm-এর অভিযোগ ছিল।

দুই সংস্থার এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত ২০১৯ সালে একটি নতুন সমঝোতার দিকে যায়। সেই সময় Apple এবং Qualcomm একটি বিশ্বব্যাপী পেটেন্ট লাইসেন্সিং চুক্তিতে পৌঁছেছিল।

২০১৯ সালের সেই চুক্তিই এবার আবার নবীকরণ করা হয়েছে।

চুক্তির নতুন মেয়াদ কতদিনের, তা Qualcomm এখনও জানায়নি। ফলে Apple ভবিষ্যতে Qualcomm-এর প্রযুক্তি ব্যবহারের জন্য ঠিক কী ধরনের লাইসেন্সিং কাঠামোর অধীনে থাকবে, সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য আপাতত প্রকাশ্যে আসেনি।

Qualcomm-এর modem ব্যবহার করা iPhone-এর ক্ষেত্রে Apple-এর royalty খরচ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রযুক্তি দুনিয়ায় আলোচনা রয়েছে।

প্রকাশ্য বিভিন্ন অনুমানের ভিত্তিতে, Qualcomm modem-যুক্ত প্রতিটি iPhone-এর জন্য Apple প্রায় ৮ থেকে ৯ ডলার পর্যন্ত অর্থ প্রদান করতে পারে বলে ধারণা করা হয়। তবে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা কোনও নির্দিষ্ট অঙ্ক নয়।

তাই নতুন চুক্তির ক্ষেত্রে প্রতি ডিভাইসে Apple-এর প্রকৃত খরচ কত হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

Qualcomm-এর সঙ্গে চুক্তি নবীকরণের পাশাপাশি Apple নিজেদের modem প্রযুক্তি তৈরির কাজও এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সংস্থাটি ইতিমধ্যে নিজস্ব modem প্রযুক্তি বাজারে আনার পথে এগিয়েছে।

Apple-এর C2 modem-ও নির্দিষ্ট iPhone মডেলে ব্যবহৃত হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে Apple কতটা Qualcomm-এর modem-এর উপর নির্ভর করবে, সেটিও প্রযুক্তি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

তবে Apple এবং Qualcomm-এর নতুন লাইসেন্সিং চুক্তি অন্তত এটুকু স্পষ্ট করছে যে Qualcomm-এর পেটেন্ট প্রযুক্তির সঙ্গে Apple-এর সম্পর্ক ২০২৭ সালেও বজায় থাকবে।

Qualcomm-এর সর্বশেষ ঘোষণাটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত। ১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে নতুন চুক্তি কার্যকর হবে—এই তথ্য নিশ্চিত করা হলেও এর মেয়াদ, আর্থিক শর্ত কিংবা Apple-এর জন্য নির্ধারিত royalty কাঠামো সম্পর্কে কোনও বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।

ফলে এখন নজর থাকবে দুই সংস্থার পরবর্তী ঘোষণার দিকে। বিশেষ করে চুক্তিটি কত বছরের জন্য করা হয়েছে এবং Qualcomm-এর পেটেন্ট ব্যবহারের বিনিময়ে Apple কী ধরনের আর্থিক কাঠামো মেনে নিয়েছে, তা প্রকাশ্যে এলে দুই প্রযুক্তি সংস্থার ভবিষ্যৎ সম্পর্ক সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ