সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট

Homeস্পোটস ওয়ার্ল্ডক্রিকেটচেন্নাই সুপার কিংসকে ঘিরে ফের ফিক্সিংয়ের অভিযোগ, স্টিং অপারেশনে চাঞ্চল্যকর দাবি

চেন্নাই সুপার কিংসকে ঘিরে ফের ফিক্সিংয়ের অভিযোগ, স্টিং অপারেশনে চাঞ্চল্যকর দাবি

স্টিং অপারেশনের প্রতিবেদনে এমনও দাবি করা হয়েছে যে, রান আউট, ধীরগতিতে ব্যাটিং বা ম্যাচের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি তৈরি করার মতো বিষয় নিয়েও কথাবার্তা হয়েছিল। কিন্তু এই দাবিগুলির সত্যতা প্রতিষ্ঠা করতে হলে তদন্ত এবং প্রামাণ্য তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে।

এনবি সংবাদ,স্পোটস ডেস্ক : চেন্নাই সুপার কিংসকে ঘিরে ফের উঠল ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগ। একটি স্টিং অপারেশনের সূত্র ধরে প্রকাশ্যে এসেছে, আইপিএলের একটি দলের প্রথম একাদশের তথ্য ম্যাচ শুরুর আগেই জুয়াড়িদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার দাবি। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন প্রাক্তন রনজি ক্রিকেটার রচিত ভাটিয়া। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, দলের অন্দরমহল থেকে পাওয়া গোপন তথ্য অর্থের বিনিময়ে জুয়াড়িদের কাছে সরবরাহ করার কথা তিনি স্টিং অপারেশনে জানিয়েছেন।

তবে পুরো বিষয়টিই এখন পর্যন্ত **অভিযোগ ও তদন্তের পর্যায়ে** রয়েছে। কোনও ক্রিকেটার বা ফ্র্যাঞ্চাইজির বিরুদ্ধে ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগ এখনও কোনও উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের তদন্তে প্রমাণিত হয়নি। দিল্লি ও জেলা ক্রিকেট সংস্থাও জানিয়েছে, প্রকাশ্যে আসা দাবিগুলি যাচাই করা প্রয়োজন এবং প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।

সাম্প্রতিক এক স্টিং অপারেশনের প্রতিবেদনে রচিত ভাটিয়ার সঙ্গে এক সাংবাদিকের কথোপকথন সামনে এসেছে। ওই সাংবাদিক নিজেকে জুয়াড়ি হিসেবে পরিচয় দিয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। কথোপকথনে রচিত দাবি করেন, ম্যাচের টস হওয়ার আগেই তিনি চেন্নাই সুপার কিংসের সম্ভাব্য প্রথম একাদশের তথ্য পেয়ে যেতেন।

তাঁর দাবি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আইপিএলে সিএসকের পাঁচটি ম্যাচের টিমলিস্ট তিনি আগেভাগে পেয়েছিলেন এবং সেই তথ্য লন্ডনে থাকা জুয়াড়িদের কাছে পাঠিয়েছিলেন। প্রতি ম্যাচের টিমলিস্টের জন্য ৬০ লক্ষ টাকা করে নেওয়ার কথাও তিনি জানিয়েছেন। অর্থাৎ পাঁচ ম্যাচে মোট অঙ্ক দাঁড়ায় প্রায় ৩ কোটি টাকা—এমনই দাবি উঠে এসেছে স্টিং অপারেশনকে ঘিরে প্রকাশিত প্রতিবেদনে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এগুলি রচিত ভাটিয়ার নিজের দাবি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে এই অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনও তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

স্টিং অপারেশনের প্রতিবেদনে আরও গুরুতর কিছু দাবি সামনে এসেছে। রচিত ভাটিয়া নাকি ম্যাচের ফল বা নির্দিষ্ট ঘটনাকে প্রভাবিত করার জন্য খেলোয়াড় ব্যবহারের কথাও বলেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, আইপিএলে যে খেলোয়াড়ের মাধ্যমে তিনি তথ্য পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন, চোটের কারণে ২০২৬ সালের আইপিএলে সেই ক্রিকেটারের সুযোগ হয়নি।

এর ফলে আইপিএলে পরিকল্পিতভাবে কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি বলে তিনি দাবি করেন। পরে তাঁর নজর যায় দিল্লি প্রিমিয়ার লিগের দিকে। সেখানে খেলোয়াড়ের মাধ্যমে গোপন তথ্য পাওয়ার পাশাপাশি ম্যাচের নির্দিষ্ট ঘটনা প্রভাবিত করার কথাও স্টিং অপারেশনে উঠে এসেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

স্টিং অপারেশনের প্রতিবেদনে এমনও দাবি করা হয়েছে যে, রান আউট, ধীরগতিতে ব্যাটিং বা ম্যাচের নির্দিষ্ট পরিস্থিতি তৈরি করার মতো বিষয় নিয়েও কথাবার্তা হয়েছিল। কিন্তু এই দাবিগুলির সত্যতা প্রতিষ্ঠা করতে হলে তদন্ত এবং প্রামাণ্য তথ্যের প্রয়োজন রয়েছে।

এই ঘটনায় সবচেয়ে বেশি আলোচনা হয়েছে তরুণ ক্রিকেটার বংশ বেদীকে নিয়ে। কারণ, বেদী ২০২৫ সালে চেন্নাই সুপার কিংসের স্কোয়াডে ছিলেন। আইপিএলের সরকারি তথ্যভিত্তিক দলীয় তালিকাতেও তাঁর নাম ছিল।

কিন্তু এখানেই বিষয়টি নিয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বংশ বেদীকে সিএসকের গোপন তথ্য ফাঁসকারী হিসেবে নিশ্চিত করা হয়নি। বরং ২০২৬ সালের দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে বেদী নিজেই দুর্নীতির প্রস্তাব পাওয়ার কথা অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটকে জানিয়েছিলেন বলে দিল্লি ও জেলা ক্রিকেট সংস্থা জানিয়েছে।

ডিডিসিএ-র বক্তব্য অনুযায়ী, প্রতিবেশী রাজ্যের এক ক্রিকেটারের কাছ থেকে পাওয়া দুর্নীতির প্রস্তাব বেদী দ্রুত অ্যান্টি-করাপশন ইউনিটকে জানান। বিষয়টি নথিভুক্তও করা হয়েছিল বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

ফলে রচিত ভাটিয়ার স্টিং অপারেশনের বক্তব্য এবং বংশ বেদীকে নিয়ে প্রকাশিত তথ্য—এই দুই বিষয়কে এক করে দেখার আগে তদন্তের ফলাফল জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

স্টিং অপারেশনের পর বিষয়টি নিয়ে দিল্লি ক্রিকেট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। ডিডিসিএ জানিয়েছে, তারা ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের কাছে বিষয়টি জানিয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে বিসিসিআইয়ের পরামর্শ চেয়েছে।

একই সঙ্গে ডিডিসিএ স্পষ্ট করেছে, সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগগুলি এখনও যাচাই করা হয়নি এবং কোনও উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সেগুলি প্রতিষ্ঠিতও হয়নি। তাই শুধুমাত্র অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও ক্রিকেটার, দল বা ফ্র্যাঞ্চাইজির বিরুদ্ধে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো অনুচিত বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, অভিযোগের পর সংশ্লিষ্ট ক্রিকেট প্রশাসনের তরফে বিষয়টি যথাযথ প্রক্রিয়ায় খতিয়ে দেখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এখন নজর থাকবে তদন্তে কী তথ্য উঠে আসে তার দিকে।

চেন্নাই সুপার কিংসের নাম ওঠায় স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনা ক্রিকেটমহলে বাড়তি আলোচনা তৈরি করেছে। কারণ, অতীতে আইপিএল ফিক্সিং-কাণ্ডের জেরে ফ্র্যাঞ্চাইজিটির সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয় নিয়ে বড়সড় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল এবং ২০১৬ ও ২০১৭ মরশুমে দলটি নির্বাসিত ছিল।

তবে অতীতের সেই ঘটনা এবং বর্তমান স্টিং অপারেশনের অভিযোগকে এক করে দেখা ঠিক হবে না। বর্তমান ঘটনায় এখনও তদন্ত শেষ হয়নি এবং কোনও নতুন ম্যাচ গড়াপেটার অভিযোগ কর্তৃপক্ষের দ্বারা প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্যও নেই।

এই মুহূর্তে মূল প্রশ্ন হল, সত্যিই কি কোনও দলের প্রথম একাদশের তথ্য সরকারি ঘোষণার আগে বাইরে পৌঁছেছিল? পৌঁছে থাকলে সেই তথ্য কোথা থেকে এল? কারা এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন? এবং সেই তথ্য ব্যবহার করে কোনও ম্যাচ বা ম্যাচের নির্দিষ্ট ঘটনা প্রভাবিত করা হয়েছিল কি না?

এই প্রশ্নগুলির উত্তর তদন্তের মাধ্যমেই পরিষ্কার হতে পারে।

ম্যাচ শুরুর আগে কোনও দলের প্রথম একাদশের তথ্য জেনে যাওয়া জুয়াড়িদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কারণ, সাধারণ দর্শক বা বাজি ধরতে আগ্রহী ব্যক্তিরা যে তথ্য পরে জানতে পারেন, কেউ যদি সেটি আগে থেকেই পেয়ে যান, তাহলে তিনি তথ্যগত সুবিধা পেতে পারেন।

স্টিং অপারেশনে এমন আগাম টিমলিস্ট সরবরাহের কথাই উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে এটিকে ক্রিকেটে ফিক্সিংয়ের একটি সম্ভাব্য কৌশল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে তথ্য ফাঁসের অভিযোগ আর ম্যাচ গড়াপেটা প্রমাণিত হওয়া এক বিষয় নয়। অভিযোগ সত্য কি না, সেই তথ্য ব্যবহার করে আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না এবং ম্যাচের কোনও ঘটনা ইচ্ছাকৃতভাবে প্রভাবিত করা হয়েছিল কি না—সবকিছুই তদন্তে যাচাই করতে হবে।

চেন্নাই সুপার কিংসকে ঘিরে নতুন করে ফিক্সিংয়ের অভিযোগ ক্রিকেটে স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি করেছে। কিন্তু একই সঙ্গে অভিযোগের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে তথ্য যাচাইয়ের বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষ করে বংশ বেদীকে নিয়ে প্রকাশিত তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে, তাঁকে সরাসরি গোপন তথ্য ফাঁসকারী হিসেবে চিহ্নিত করার মতো প্রতিষ্ঠিত তথ্য বর্তমানে নেই। বরং ডিডিসিএ জানিয়েছে, তিনি নিজেই দুর্নীতির প্রস্তাবের কথা কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছিলেন।

তাই রচিত ভাটিয়ার স্টিং অপারেশনে করা দাবিগুলি এখন তদন্তের মুখোমুখি। তদন্তে প্রমাণ মিললে তবেই অভিযোগের প্রকৃত ব্যাপ্তি স্পষ্ট হবে। তার আগে ঘটনাটিকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। ক্রিকেট প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং বিসিসিআইয়ের তদন্তই এখন এই বিতর্কের পরবর্তী অধ্যায় নির্ধারণ করবে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ