সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট

Homeভ্রমণ ও পর্যটনহ্যানয়ের ট্রেন স্ট্রিট: বিপজ্জনক সেলফির স্বর্গ কি বন্ধ হতে চলেছে?

হ্যানয়ের ট্রেন স্ট্রিট: বিপজ্জনক সেলফির স্বর্গ কি বন্ধ হতে চলেছে?

বিশেষ করে Phùng Hưng ও Khâm Thiên এলাকার রেলপথের অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পায়। পর্যটকদের অনেকে ক্যাফেতে বসে অপেক্ষা করেন ট্রেন আসার জন্য। ট্রেনের সময় ঘনিয়ে এলে ক্যাফেগুলো দ্রুত জায়গা খালি করে এবং সবাই নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার চেষ্টা করে।

ভাবুন, আপনি একটি ছোট্ট ক্যাফের সামনে বসে কফি খাচ্ছেন। চারপাশে মানুষের ভিড়, কেউ ছবি তুলছে, কেউ ভিডিও করছে। হঠাৎ দূর থেকে ভেসে এল ট্রেনের হুইসেল। মুহূর্তের মধ্যেই বদলে গেল পুরো পরিবেশ। দোকানের চেয়ার-টেবিল সরিয়ে নেওয়া হলো, মানুষ সরে দাঁড়াল, আর কয়েক মুহূর্তের মধ্যে একটি ট্রেন গা ঘেঁষে চলে গেল সরু রেললাইনের ওপর দিয়ে।

এ দৃশ্য কোনো সিনেমার অংশ নয়। ভিয়েতনামের রাজধানী হ্যানয়ের বিখ্যাত ট্রেন স্ট্রিট বা রেলওয়ে ক্যাফে স্ট্রিটে এমন দৃশ্য বহু বছর ধরে পর্যটকদের আকর্ষণ করে আসছে।

রেললাইনের দুই পাশে মাত্র কয়েক হাত দূরত্বে ঘরবাড়ি, দোকান ও ক্যাফে। ট্রেন চলার সময় জায়গাটি এমনই সংকীর্ণ হয়ে পড়ে যে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই প্রশ্ন রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিও এই জায়গাটিকে আন্তর্জাতিক পর্যটন আকর্ষণে পরিণত করেছে।

কিন্তু এখন সেই বিখ্যাত অভিজ্ঞতার ভবিষ্যৎ নিয়েই তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। ২০২৬ সালে হ্যানয় কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রীয় শহরের এই রেলপথে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ বা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে। পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে ট্রেন স্ট্রিটে আগের মতো ট্রেনকে একেবারে পাশ দিয়ে চলে যেতে দেখার সুযোগ বদলে যেতে পারে।

হ্যানয়ের ট্রেন স্ট্রিট আসলে কী?

হ্যানয়ের ট্রেন স্ট্রিট কোনো আলাদা পর্যটন পার্ক নয়। এটি শহরের পুরোনো ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্য দিয়ে চলে যাওয়া সক্রিয় রেলপথের একটি অংশ।

রেললাইনের দুই পাশে বহু বছর ধরে বসতি গড়ে উঠেছে। কোথাও বাড়ির দরজা থেকে রেললাইন মাত্র কয়েক মিটার দূরে। কোথাও ছোট ক্যাফে ও দোকান রেললাইনের একেবারে পাশে।

এই অস্বাভাবিক ভৌগোলিক অবস্থানই জায়গাটিকে পর্যটকদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

বিশেষ করে Phùng Hưng ও Khâm Thiên এলাকার রেলপথের অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পায়। পর্যটকদের অনেকে ক্যাফেতে বসে অপেক্ষা করেন ট্রেন আসার জন্য। ট্রেনের সময় ঘনিয়ে এলে ক্যাফেগুলো দ্রুত জায়গা খালি করে এবং সবাই নিরাপদ দূরত্বে সরে যাওয়ার চেষ্টা করে।

ট্রেন যখন কয়েক হাত দূর দিয়ে চলে যায়

ট্রেন স্ট্রিটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর অস্বাভাবিক দৃশ্য।

একদিকে সরু রেললাইন, অন্যদিকে মাত্র কয়েক মিটার দূরে বাড়িঘর। তার মাঝখান দিয়ে নির্দিষ্ট সময় অন্তর ট্রেন চলে যায়।

ট্রেন আসার আগে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সাধারণত প্রস্তুতি নেন। পর্যটকদেরও রেললাইন থেকে সরে যেতে বলা হয়। ট্রেন চলে যাওয়ার পর আবার ক্যাফের চেয়ার-টেবিল সাজানো হয়।

পর্যটকদের কাছে পুরো ঘটনাটি এক ধরনের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। ট্রেন চলে যাওয়ার সময় তার শব্দ, বাতাসের ঝাপটা এবং অল্প জায়গার মধ্যে বিশাল একটি রেলগাড়ির উপস্থিতি জায়গাটিকে অন্য সব পর্যটনকেন্দ্র থেকে আলাদা করে তুলেছে।

তবে এই রোমাঞ্চের সঙ্গে রয়েছে বাস্তব নিরাপত্তাঝুঁকিও।

কেন এত বিপজ্জনক?

রেললাইনটি মূলত রেল চলাচলের জন্য তৈরি। এটি কোনো পর্যটন মঞ্চ নয়। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনপ্রিয় হওয়ার পর অনেক পর্যটক ট্রেনের কাছাকাছি গিয়ে ছবি ও ভিডিও করার চেষ্টা করেছেন।

হ্যানয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য অনুযায়ী, রেললাইনের পাশের ক্যাফেগুলো এমন জায়গায় গড়ে উঠেছে, যা মূলত রেলওয়ের নিরাপত্তা করিডোর হিসেবে নির্ধারিত। সেখানে নির্মাণ ও বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে।

পর্যটকদের ভিড়ের কারণে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। ট্রেন আসার সময় রেললাইনের আশপাশে অতিরিক্ত মানুষ থাকলে চালকের জন্যও ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। সামান্য ভুল, অসতর্কতা বা দেরিতে সরে দাঁড়ানো বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।

শুধু সেলফির জন্য এত ঝুঁকি কেন?

ট্রেন স্ট্রিটের জনপ্রিয়তার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা বিশাল।

ইনস্টাগ্রাম, টিকটক, ইউটিউব ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে ট্রেনকে কয়েক হাত দূর দিয়ে যেতে দেখা যায়—এমন অসংখ্য ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে।

ফলে জায়গাটি অনেক পর্যটকের কাছে শুধুমাত্র একটি ঐতিহাসিক রেলপথ নয়, বরং ‘ভাইরাল ছবি তোলার জায়গা’ হয়ে উঠেছে।

একটি সাধারণ পর্যটন অভিজ্ঞতা যেখানে দূর থেকে ট্রেন দেখা, সেখানে হ্যানয়ের ট্রেন স্ট্রিটে মানুষ ট্রেনের সঙ্গে নিজেদের ছবিকে একই ফ্রেমে আনতে চান। এই প্রবণতাই নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

কর্তৃপক্ষ গত কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সময়ে ক্যাফে বন্ধ করা, পর্যটকদের সরিয়ে দেওয়া এবং ট্রেন চলাচলের সময় এলাকায় প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করার মতো পদক্ষেপ নিয়েছে। কিন্তু পর্যটকের আগ্রহ ও ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের কারণে এসব ব্যবস্থা দীর্ঘমেয়াদে পুরোপুরি কার্যকর করা কঠিন হয়েছে।

এবার কি সত্যিই ট্রেন বন্ধ হবে?

২০২৬ সালের জানুয়ারিতে হ্যানয় কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রীয় রেলপথ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দেয়।

প্রস্তাব অনুযায়ী, হ্যানয় স্টেশন থেকে গিয়া লাম স্টেশন পর্যন্ত অংশে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল পুনর্বিন্যাস করা হবে। দক্ষিণমুখী যাত্রীবাহী ট্রেন হ্যানয় স্টেশনেই শেষ করা এবং উত্তরমুখী ট্রেন গিয়া লাম স্টেশনে থামানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়। দুই স্টেশনের মধ্যে যাত্রী পরিবহনের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করার কথাও বলা হয়।

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ট্রেন স্ট্রিটের মধ্য দিয়ে আগের মতো যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল থাকবে না।

তবে এটিকে সরাসরি ‘ট্রেন স্ট্রিট চিরতরে বন্ধ’ বলা ঠিক হবে না। কারণ ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির পরবর্তী পরিকল্পনায় যাত্রীবাহী ট্রেনের সংখ্যা কমানো এবং মালবাহী ট্রেনকে অন্য পথে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়ও সামনে এসেছে। অর্থাৎ রেলসেবা পুরোপুরি কীভাবে পুনর্বিন্যাস হবে, সেটি বৃহত্তর রেল অবকাঠামো ব্যবস্থাপনার অংশ।

গিয়া লাম ও হ্যানয় স্টেশনে কী হবে?

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় দক্ষিণ দিক থেকে আসা যাত্রীবাহী ট্রেন হ্যানয় স্টেশনে শেষ হবে। উত্তর দিকের ট্রেন গিয়া লাম স্টেশনে থামবে।

এর অর্থ হলো, হ্যানয়ের কেন্দ্রীয় অংশে যাতায়াতকারী যাত্রীদের প্রয়োজনে দুই স্টেশনের মধ্যে অন্য পরিবহন ব্যবহার করতে হতে পারে।

এই পরিবর্তনের সঙ্গে রেলওয়ে অবকাঠামোর ব্যবস্থাপনা হ্যানয় শহরের হাতে দেওয়ার পরিকল্পনাও যুক্ত রয়েছে। শহর কর্তৃপক্ষ হ্যানয়-গিয়া লাম অংশের অবকাঠামো নিয়ে নগর উন্নয়ন ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পরিকল্পনা করছে।

শুধু নিরাপত্তা নয়, রয়েছে বড় নগর পরিকল্পনাও

ট্রেন স্ট্রিট নিয়ে প্রশাসনের চিন্তা শুধু পর্যটকদের নিরাপত্তায় সীমাবদ্ধ নয়।

হ্যানয়ের পুরোনো শহর, ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং রেলপথকে ঘিরে একটি বড় ধরনের নগর পুনর্গঠন পরিকল্পনা রয়েছে। এর কেন্দ্রে রয়েছে ঐতিহাসিক লং বিয়েন ব্রিজ এবং পুরোনো রেল অবকাঠামো।

হ্যানয় কর্তৃপক্ষ রেলপথের আশপাশে সাংস্কৃতিক, পরিষেবা ও পর্যটনকেন্দ্রিক জায়গা গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে। লক্ষ্য হলো ঐতিহাসিক এলাকার চরিত্র ধরে রেখে সেটিকে আরও পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করা।

১৩১টি পাথরের খিলানও পরিকল্পনার অংশ

হ্যানয়ের এই ঐতিহাসিক রেল করিডোরের আরেকটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো রেলপথের নিচে থাকা ১৩১টি পাথরের খিলান।

Phùng Hưng, Gầm Cầu ও Long Biên এলাকার আশপাশে এসব খিলান শহরের পুরোনো রেল স্থাপত্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর কিছু অংশ ইতোমধ্যে শিল্প ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

হ্যানয় কর্তৃপক্ষ এই ১৩১টি খিলানকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক, পর্যটন ও পরিষেবা পরিসর উন্নয়নের পরিকল্পনা করছে। ফলে রেললাইন সরিয়ে দেওয়া বা রেলসেবা কমানোর সম্ভাব্য পরিবর্তনকে শুধু ‘পর্যটন বন্ধ’ হিসেবে দেখলে পুরো বিষয়টি বোঝা যাবে না। এটি একটি বৃহত্তর ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও নগর পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ।

লং বিয়েন ব্রিজ কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

হ্যানয়ের ট্রেন স্ট্রিটের গল্প লং বিয়েন ব্রিজ ছাড়া সম্পূর্ণ হয় না।

এক শতাব্দীরও বেশি পুরোনো এই ঐতিহাসিক সেতু হ্যানয়ের অন্যতম পরিচিত স্থাপনা। রেলপথের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এবং সেতুটি শহরের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী।

২০২৬ সালে লং বিয়েন ব্রিজে সংস্কারকাজও হয়েছে। প্রায় দুই মাসের মেরামত শেষে ২৮ মে সেতুর সড়ক অংশ আবার যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয়। একই সময়ে সেতুটির ঐতিহাসিক মূল্য সংরক্ষণ করে ভবিষ্যৎ ব্যবহারের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা চলছে।

ফরাসি পক্ষের সহযোগিতায় সেতুটির সংস্কার ও ভবিষ্যৎ ব্যবহার নিয়ে কারিগরি গবেষণাও চলছে। লক্ষ্য হলো একদিকে নিরাপত্তা ও ব্যবহারযোগ্যতা নিশ্চিত করা, অন্যদিকে এর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক মূল্য ধরে রাখা।

ট্রেন স্ট্রিট কি তাহলে পর্যটকদের জন্য শেষ হয়ে যাচ্ছে?

পুরোপুরি এমনটা বলা এখনই ঠিক হবে না।

কারণ হ্যানয়ের রেল পর্যটন নিজেই নতুন রূপে এগোচ্ছে। ২০২৫ সালের আগস্টে চালু হওয়া ‘Five City Gates’ নামে একটি পর্যটন ট্রেন হ্যানয়, তু সন ও লং বিয়েনের মতো জায়গাকে যুক্ত করছে। ২০২৬ সালের আগস্টে এক বছর পূর্তিতে এই ট্রেন প্রায় এক লাখ যাত্রী পরিবহন করেছে বলে ভিয়েতনামের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে।

অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট রেলপথে পর্যটকদের ট্রেনের একেবারে গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে ছবি তোলার অভিজ্ঞতা কমে গেলেও, হ্যানয়ে রেলভিত্তিক পর্যটনের সুযোগ পুরোপুরি শেষ হচ্ছে না।

বরং নিরাপদ ও পরিকল্পিত রেল পর্যটনের দিকে শহরটি এগোতে পারে।

‘রিস্কি সেলফি’ থেকে নিরাপদ পর্যটনে

ট্রেন স্ট্রিটের জনপ্রিয়তা আমাদের পর্যটনের একটি পরিবর্তিত চিত্রও দেখায়।

একসময় কোনো জায়গার সৌন্দর্য, ইতিহাস বা স্থাপত্য মানুষকে আকর্ষণ করত। এখন তার সঙ্গে যোগ হয়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়টি।

একটি জায়গা যত বেশি অস্বাভাবিক বা বিপজ্জনক মনে হয়, সেটি তত দ্রুত ভাইরাল হওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি করে।

কিন্তু ভাইরাল ছবি আর নিরাপদ পর্যটনের মধ্যে সবসময় মিল থাকে না।

হ্যানয়ের ট্রেন স্ট্রিটে যে রোমাঞ্চ পর্যটকদের টানে, তার পেছনে রয়েছে বাস্তব ঝুঁকি। তাই প্রশাসনের সামনে চ্যালেঞ্জ হলো—পর্যটনের আকর্ষণ ধরে রেখে কীভাবে মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।

পর্যটকদের জন্য কী বদল আসতে পারে?

যদি হ্যানয়-গিয়া লাম রেলপথে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় বা বন্ধ করার প্রস্তাব কার্যকর হয়, তাহলে ট্রেন স্ট্রিটের সবচেয়ে পরিচিত দৃশ্যটি বদলে যেতে পারে।

ক্যাফে থাকবে কি না, পর্যটকদের প্রবেশ কীভাবে নিয়ন্ত্রিত হবে, রেললাইনটির ভবিষ্যৎ ব্যবহার কী হবে—এসব বিষয় বৃহত্তর নগর পরিকল্পনার সঙ্গে নির্ধারিত হবে।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট: পুরোনো সেই ‘ক্যাফেতে বসে ট্রেনকে একেবারে পাশ দিয়ে চলে যেতে দেখা’ অভিজ্ঞতা আগের মতো থাকবে—এমন নিশ্চয়তা এখন নেই।

রোমাঞ্চের চেয়ে ইতিহাস কি বড় হয়ে উঠবে?

হ্যানয়ের ট্রেন স্ট্রিট হয়তো একদিন তার বর্তমান পরিচিতি হারাবে। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে জায়গাটির গুরুত্ব শেষ হয়ে যাবে।

বরং রেলপথ, লং বিয়েন ব্রিজ, পুরোনো শহর, ১৩১টি পাথরের খিলান এবং আশপাশের ঐতিহাসিক স্থাপনাকে ঘিরে একটি নতুন সাংস্কৃতিক পর্যটন অঞ্চল তৈরি হতে পারে।

তখন হয়তো পর্যটকরা ট্রেনের কয়েক হাত দূরে দাঁড়িয়ে সেলফি তুলবেন না। তার বদলে তাঁরা জানবেন এই রেলপথ কীভাবে হ্যানয়ের শহর, অর্থনীতি ও ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওর বদলে জায়গাটির দীর্ঘ ইতিহাসই হয়তো সামনে চলে আসবে।

শেষ কথা

হ্যানয়ের ট্রেন স্ট্রিট নিঃসন্দেহে বিশ্বের অন্যতম অস্বাভাবিক পর্যটন অভিজ্ঞতা। রেললাইন, ঘরবাড়ি ও ক্যাফের এমন সহাবস্থান খুব সহজে অন্য কোথাও দেখা যায় না।

কিন্তু এই আকর্ষণের সঙ্গে নিরাপত্তার প্রশ্নও দীর্ঘদিন ধরে জড়িয়ে আছে। পর্যটকদের ভিড়, রেললাইনে ছবি তোলা এবং সক্রিয় রেলপথের একেবারে পাশে বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড—সব মিলিয়ে প্রশাসনের জন্য এটি একটি কঠিন ব্যবস্থাপনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

২০২৬ সালের পরিকল্পনাগুলো দেখাচ্ছে, হ্যানয় এখন এই জায়গাটিকে শুধু ‘ভাইরাল ট্রেন স্ট্রিট’ হিসেবে দেখতে চাইছে না। বরং রেলপথ, লং বিয়েন ব্রিজ ও পুরোনো শহরের ঐতিহাসিক মূল্যকে কেন্দ্র করে একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক ও পর্যটন অঞ্চল গড়ে তোলার চিন্তা করছে।

তাই হ্যানয়ের ট্রেন স্ট্রিটের গল্প হয়তো শেষ হচ্ছে না। বরং বদলে যাচ্ছে তার চরিত্র।

আজ যে জায়গাটি পরিচিত বিপজ্জনক সেলফির স্বর্গ হিসেবে, ভবিষ্যতে সেটিই হয়তো পরিচিত হবে হ্যানয়ের ইতিহাস, রেল ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে।

আর পর্যটকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হয়তো একটাই—কোনো ছবি যতই অসাধারণ হোক, তার জন্য নিজের নিরাপত্তাকে ঝুঁকিতে ফেলা কখনোই প্রয়োজন নেই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ