সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট

Homeভ্রমণ ও পর্যটনকবে খুলবে সাজেক ভ্যালি? অবরোধ প্রত্যাহারের পরও কেন বন্ধ পর্যটনকেন্দ্র

কবে খুলবে সাজেক ভ্যালি? অবরোধ প্রত্যাহারের পরও কেন বন্ধ পর্যটনকেন্দ্র

সাজেক ভ্যালি পুনরায় চালু হওয়ার বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনও ঘোষণা পাওয়া যায়নি। রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানিয়েছেন, প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে অনিবার্য কারণবশত পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। সেখানে নির্দিষ্ট করে নিরাপত্তাঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়নি।

এনবি সংবাদ, অনলাইন : বাংলাদেশের জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেক ভ্যালিতে ভ্রমণ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। স্থানীয় দুটি পাহাড়ি সংগঠনের ডাকা অবরোধকে কেন্দ্র করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে অবরোধ প্রত্যাহার করা হলেও পর্যটকদের জন্য সাজেক ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হয়নি। ফলে কবে আবার পর্যটকদের জন্য সাজেক ভ্যালি খুলে দেওয়া হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের নির্দেশ অনুযায়ী, পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সাজেক ভ্রমণ বন্ধ থাকবে। পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রটিতে অবস্থানরত পর্যটকদের ১৩ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে এলাকা ছেড়ে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে ঠিক কবে থেকে নতুন করে পর্যটকেরা সাজেকে প্রবেশ করতে পারবেন, সে বিষয়ে প্রশাসন নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা জানায়নি।

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ভ্যালিতে স্থানীয় দুটি সংগঠন—সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি এবং সাজেক কারবারি অ্যাসোসিয়েশন—রোববার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু করে। তাদের অভিযোগ, পার্বত্য চট্টগ্রামের আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন অংশ সাজেক এলাকায় সশস্ত্র তৎপরতা চালাচ্ছে। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের ভয় দেখানো এবং পর্যটন ব্যবসাকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগও তুলেছে সংগঠন দুটি।

এই অভিযোগের প্রতিবাদ জানিয়ে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে তারা অবরোধের ডাক দেয়। কর্মসূচির কারণে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে পর্যটকসহ সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়েন। অনেকে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি, আবার সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের ফিরতে গিয়েও সমস্যার মুখে পড়তে হয়।

পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রশাসন অবরোধকারীদের সঙ্গে আলোচনা করে। রোববার বিকেলে সংগঠন দুটি কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু অবরোধ শেষ হওয়ার পরও সাজেক ভ্যালিতে পর্যটকদের প্রবেশের অনুমতি দেয়নি জেলা প্রশাসন।

প্রশাসনের জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অনিবার্য কারণবশত রোববার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে।

সাজেক ভ্যালি পুনরায় চালু হওয়ার বিষয়ে এখনও নিশ্চিত কোনও ঘোষণা পাওয়া যায়নি। রাঙামাটির জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী জানিয়েছেন, প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তিতে অনিবার্য কারণবশত পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। সেখানে নির্দিষ্ট করে নিরাপত্তাঝুঁকির কথা উল্লেখ করা হয়নি।

পর্যটকদের যাতায়াত ও পর্যটনকেন্দ্র পরিচালনার বিষয়টি প্রশাসনের দায়িত্বের মধ্যে পড়লেও অন্য বিষয় নিয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করেননি।

রাঙামাটির অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমীন জানিয়েছেন, সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের ১৩ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে পর্যটন এলাকা ছেড়ে নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে যেতে বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের জরুরি বিজ্ঞপ্তিতেও একই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তবে পর্যটনকেন্দ্রটি কত দিন বন্ধ থাকতে পারে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে প্রশাসন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পর্যটকদের তাই সাজেক যাওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার আগে প্রশাসনের সর্বশেষ নির্দেশনা জেনে নেওয়া জরুরি।

সাজেকে পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ রাখা এবং সেখানে অবস্থানরত পর্যটকদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজনের ধারণা, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা কিংবা সম্ভাব্য নিরাপত্তা অভিযানের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে অভিযান পরিচালনার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনও নিশ্চিত ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

খাগড়াছড়ির বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া জানিয়েছেন, এলাকায় সাম্প্রতিক অস্থিরতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, স্থানীয় সংগঠনগুলোর দাবির ভিত্তিতে কোনও একটি পক্ষের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযান চালানো সহজ নয়। কারণ, অভিযোগ উত্থাপনকারী পক্ষগুলোর বিরুদ্ধেও সশস্ত্র তৎপরতার অভিযোগ রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

সংসদ সদস্যের মতে, কোনও পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে তিনি পরিস্থিতি সম্পর্কে যতটুকু জেনেছেন, তাতে এখন পর্যন্ত কোনও পক্ষের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্তের কথা জানা যায়নি।

তিনি আরও মনে করেন, পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্কতার প্রয়োজন রয়েছে। কারণ, পার্বত্য অঞ্চলের কোনও ঘটনায় তড়িঘড়ি সিদ্ধান্ত নিলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হতে পারে।

অন্যদিকে, অবরোধকারী সংগঠন দুটি দাবি করেছে, জেএসএসের সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন অংশের সশস্ত্র তৎপরতা ও চাঁদাবাজির অভিযোগের প্রতিবাদেই তারা আন্দোলনে নেমেছিল। প্রশাসনের কাছ থেকে দাবি পূরণের আশ্বাস পাওয়ার পর তারা ৪৮ ঘণ্টার জন্য আন্দোলন শিথিল করেছে বলে জানিয়েছে। তবে কী ধরনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

জেএসএসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে সংগঠনটির এক নেতা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন বলে জানানো হয়েছে।

রোববার সকাল থেকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন স্থানে অবরোধ শুরু হলে যান চলাচল ব্যাহত হয়। অবরোধকারীরা সড়কের বিভিন্ন জায়গায় গাছের গুঁড়ি ফেলে এবং টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন। এর ফলে সাজেকে যাতায়াতকারী পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা সমস্যায় পড়েন।

পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠলে প্রশাসন আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে। খাগড়াছড়ির সংসদ সদস্য আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়ার বক্তব্য অনুযায়ী, প্রশাসন অবরোধকারীদের বোঝানোর চেষ্টা করে যে কর্মসূচি অব্যাহত থাকলে যান চলাচল বন্ধ থাকবে এবং সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।

তিনি জানিয়েছেন, আন্দোলনকারীরা খাবার গ্রহণ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাঁদের খাবার খাওয়ানোর উদ্যোগ নিলেও আন্দোলনকারীরা খাবার ফিরিয়ে দিয়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

শেষ পর্যন্ত রোববার বিকেলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। কিন্তু ততক্ষণে সাজেকের পর্যটন পরিস্থিতি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। অবরোধ শেষ হলেও পর্যটকদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকায় পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন।

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়ের সারি, মেঘের আনাগোনা এবং সূর্যোদয়ের দৃশ্যের জন্য সাজেক ভ্যালি বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এখানে পর্যটকের সংখ্যা বেড়েছে। সেই সঙ্গে গড়ে উঠেছে শতাধিক রিসোর্ট ও কটেজ। পর্যটনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগও তৈরি হয়েছে।

তবে পর্যটন ব্যবসার এই প্রসারকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে প্রভাব বিস্তার ও অর্থ সংগ্রহ নিয়ে বিরোধ রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি জানিয়েছেন, সাজেকের বিভিন্ন রিসোর্ট থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় নিয়ে বিরোধের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রতিটি রিসোর্ট থেকে মাসে ৫০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হয়। তবে এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর প্রভাব আলাদা। তাঁদের দাবি, রাঙামাটির বিভিন্ন এলাকায় জেএসএসের প্রভাব থাকলেও খাগড়াছড়ির বেশ কিছু অঞ্চলে ইউপিডিএফের দীর্ঘদিনের প্রভাব রয়েছে। সাজেক প্রশাসনিকভাবে রাঙামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্তর্ভুক্ত হলেও সেখানে যেতে সাধারণত খাগড়াছড়ির দীঘিনালা হয়ে যাতায়াত করতে হয়।

এই ভৌগোলিক অবস্থান এবং পর্যটন ব্যবসার অর্থনৈতিক গুরুত্বকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছে বলে স্থানীয় কয়েকজনের ধারণা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলগুলোর পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে বিরোধের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

সাজেকের পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকায় রিসোর্ট, কটেজ, পরিবহণ এবং অন্যান্য পর্যটননির্ভর ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

সাজেক রিসোর্ট অ্যান্ড কটেজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন জানিয়েছেন, সোমবার সকালেও সাজেকে প্রায় এক হাজার পর্যটক অবস্থান করছিলেন। তাঁদের এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার পর বিকেলের মধ্যে পর্যটনকেন্দ্রটি পর্যটকশূন্য হয়ে যেতে পারে বলে তিনি আশা করেছিলেন।

সাজেক কবে খুলবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনও সময় বলতে পারেননি। তাঁর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, বিভিন্ন কারণে অতীতেও একাধিকবার সাজেকের পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ হয়েছে। কখনও কয়েক দিনের জন্য, আবার কখনও ১০ থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত পর্যটকদের যাতায়াত বন্ধ থেকেছে।

রাহুল চাকমা জনের মতে, ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যকার বিরোধের কারণে বারবার এমন পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে ধারণা রয়েছে। পর্যটনের ব্যবসার মৌসুমে এই ধরনের অস্থিরতা দেখা দিলে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।

তিনি চান, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য ও দাবি বিবেচনা করে সরকার সমস্যার স্থায়ী সমাধানে উদ্যোগী হোক। কারণ, সাজেকের পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে শুধু রিসোর্টের মালিকেরা নন, স্থানীয় কর্মী, গাড়িচালক, খাবারের দোকান এবং বিভিন্ন পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত বহু মানুষও জড়িত।

সাজেক ভ্যালি ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে আপাতত নতুন করে যাত্রা শুরু করার আগে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা যাচাই করা উচিত। পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকার সময় রিসোর্ট বুকিং, পরিবহণ এবং অন্যান্য ভ্রমণ পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হতে পারে।

বিশেষ করে ১৩ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই ওই সময়ের মধ্যে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পরিবহণ পরিষেবার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা প্রয়োজন।

পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সাজেকে প্রবেশের অনুমতি মিলবে কি না, তা নিশ্চিত না হয়ে ভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া ঠিক হবে না। প্রশাসনের নতুন ঘোষণা, স্থানীয় পরিস্থিতি এবং সড়কে যান চলাচলের অবস্থা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করাই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।

সাজেক ভ্যালি পুনরায় পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার কোনও নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি। অবরোধ প্রত্যাহার হলেও জেলা প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। একই সঙ্গে এলাকায় আঞ্চলিক রাজনৈতিক বিরোধ, নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং পর্যটন ব্যবসাকে কেন্দ্র করে ওঠা অভিযোগ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে।

এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে স্থায়ী সমাধান হলে সাজেকের পর্যটন কার্যক্রম আবার চালু করার পথ সহজ হতে পারে।

তবে প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি কবে খুলবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। পর্যটকদের তাই গুজবের ওপর নির্ভর না করে জেলা প্রশাসনের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তির জন্য অপেক্ষা করা উচিত।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ