এনবি সংবাদ, আইটি ডেস্ক : উৎসবের মরসুমে নতুন চমক আনতে চলেছে অ্যাপ্ল। বাজারে আসতে চলেছে সংস্থার বহু প্রতীক্ষিত ভাঁজ করা আইফোন। ‘আইফোন ডুয়ো’ নামে পরিচিত এই ফোল্ডেবল মডেলের দাম শুরু হচ্ছে প্রায় ২ লাখ ৯৯ হাজার ৯০০ টাকা থেকে। অর্থাৎ নতুন ফোনটি কিনতে গেলে গ্রাহককে প্রায় তিন লাখ টাকা খরচ করতে হবে।
স্বাভাবিক ভাবেই এত দামি ফোন কেনার পর সেটির রক্ষণাবেক্ষণ এবং মেরামতের খরচ নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে ফোল্ডেবল ফোনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং দামি অংশগুলির মধ্যে অন্যতম ডিসপ্লে। হাত থেকে ফোন পড়ে গিয়ে ভিতরের বড় স্ক্রিন বা বাইরের ডিসপ্লে ক্ষতিগ্রস্ত হলে কত টাকা খরচ হতে পারে, তা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে ক্রেতাদের মধ্যে।
এই জায়গাতেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে অ্যাপ্লের ‘AppleCare+’ পরিষেবা। অতিরিক্ত টাকা দিয়ে এই পরিষেবা নিলে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতির ক্ষেত্রে তুলনামূলক কম খরচে ফোন মেরামতের সুবিধা পাওয়া যেতে পারে।
অ্যাপ্লের নতুন ফোল্ডেবল আইফোন অক্টোবর থেকে বাজারে আসার কথা। প্রাথমিক দাম রাখা হয়েছে ২,৯৯,৯০০ টাকা। ফোল্ডেবল ডিজাইনের পাশাপাশি ফোনটির অন্যতম আকর্ষণ হল এতে থাকবে দু’টি ডিসপ্লে।
একটি বাইরের দিকে, যা ফোন ভাঁজ করা অবস্থায় ব্যবহার করা যাবে। অন্যটি ভিতরের দিকে থাকা বড় ডিসপ্লে, ফোন খুললে সেটিই মূল স্ক্রিন হিসেবে কাজ করবে।
ফলে সাধারণ স্মার্টফোনের তুলনায় এই ফোনের ডিসপ্লে ব্যবস্থা অনেক বেশি জটিল। সেই কারণে স্ক্রিনে কোনও ধরনের দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতি হলে মেরামতের খরচ নিয়েও স্বাভাবিক ভাবেই উদ্বেগ রয়েছে।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ‘আইফোন ডুয়ো’র সঙ্গে AppleCare+ পরিষেবা নেওয়ার জন্য গ্রাহককে অতিরিক্ত প্রায় ৫১ হাজার টাকা দিতে হবে।
প্রথমে এই অঙ্কটি বেশ বড় মনে হলেও, ফোনটির সম্ভাব্য মেরামত খরচ বিবেচনা করলে পরিষেবাটি কিছু ক্ষেত্রে কাজে আসতে পারে। বিশেষ করে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতি হলে সাধারণ মেরামতের তুলনায় অনেক কম খরচে পরিষেবা পাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
তবে AppleCare+ নেওয়া হবে কি না, তা নির্ভর করবে গ্রাহকের ব্যবহার, ঝুঁকি এবং দীর্ঘমেয়াদি মেরামত খরচের হিসাবের উপর।
ফোল্ডেবল আইফোনের বাইরের ডিসপ্লে দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হলে AppleCare+ গ্রাহকদের জন্য মেরামতের খরচ তুলনামূলক ভাবে কম রাখা হয়েছে।
এই পরিষেবার আওতায় থাকলে বাইরের ডিসপ্লে মেরামত করতে প্রায় ২,৫০০ টাকা খরচ হতে পারে।
প্রায় তিন লাখ টাকা দামের একটি ফোনের ক্ষেত্রে এই অঙ্কটি তুলনামূলক ভাবে কম। ফলে যাঁরা ফোনটি নিয়মিত ব্যবহার করবেন এবং দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতির আশঙ্কা করছেন, তাঁদের কাছে এই পরিষেবা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
ফোল্ডেবল আইফোনের ভিতরের ডিসপ্লেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্ভবত সবচেয়ে ব্যয়বহুল অংশ। ফোন খুললে যে বড় স্ক্রিনটি সামনে আসে, সেটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে AppleCare+ থাকা গ্রাহকদের প্রায় ৮,৯০০ টাকা খরচ করতে হবে বলে জানানো হয়েছে।
শুধু ডিসপ্লে নয়, ফোনের অন্যান্য দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতির ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিষেবা পাওয়া যেতে পারে। অর্থাৎ হাত থেকে ফোন পড়ে যাওয়া, কোনও দুর্ঘটনায় ডিভাইস ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ফি দিয়ে মেরামত করানো সম্ভব হবে।
তবে পরিষেবার নির্দিষ্ট শর্ত ও কভারেজের বিষয়গুলি কেনার আগে ভালো করে দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
ফোনের স্ক্রিন ছাড়াও পিছনের কাচ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বিশেষ করে এত দামি ও পাতলা ডিভাইস হাত থেকে পড়ে গেলে পিছনের অংশে ফাটল ধরতে পারে।
AppleCare+ পরিষেবার আওতায় পিছনের কাচের ক্ষতি মেরামত করতে প্রায় ২,৫০০ টাকা খরচ হতে পারে বলে প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ ফোনের সামনে, ভিতরের ডিসপ্লে কিংবা পিছনের অংশ—বিভিন্ন ধরনের দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতির জন্য আলাদা পরিষেবা সুবিধা থাকছে।
শুধু দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতি নয়, সময়ের সঙ্গে ব্যাটারির কর্মক্ষমতাও কমে যেতে পারে। AppleCare+ পরিষেবার অন্যতম সুবিধা হিসেবে ব্যাটারি সংক্রান্ত পরিষেবার কথাও বলা হয়েছে।
ফোনের ব্যাটারি নির্দিষ্ট শর্তের মধ্যে খারাপ হয়ে গেলে সার্ভিস সেন্টারে সেটি বদলানোর সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, এই ক্ষেত্রে গ্রাহকের কাছ থেকে আলাদা মেরামত খরচ নেওয়া হবে না।
তবে ব্যাটারি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে Apple-এর নির্দিষ্ট পরিষেবার শর্ত প্রযোজ্য হতে পারে।
তিন লাখ টাকা দামের ফোন হারিয়ে যাওয়া বা চুরি হয়ে যাওয়া যে কোনও গ্রাহকের কাছেই বড় ধাক্কা। এই পরিস্থিতিতেও AppleCare+ কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, ফোন হারিয়ে বা চুরি হয়ে গেলে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ সাপেক্ষে প্রায় ১৫ হাজার টাকা দিয়ে নতুন ডিভাইস পাওয়ার সুবিধা থাকতে পারে।
তবে চুরি বা হারানোর ক্ষেত্রে পরিষেবার যোগ্যতা, দাবি জানানোর পদ্ধতি এবং অন্যান্য শর্ত আলাদা ভাবে প্রযোজ্য হতে পারে। তাই পরিষেবা কেনার আগে নিয়মগুলি ভালো করে পড়ে নেওয়া জরুরি।
এখানেই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন। AppleCare+ না থাকলে ফোল্ডেবল আইফোনের ডিসপ্লে মেরামতের খরচ অনেক বেশি হতে পারে বলে বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে তা প্রায় দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে বলেও আলোচনা রয়েছে।
তবে এই অঙ্কটি নিয়ে অ্যাপ্লের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত এটিকে চূড়ান্ত মেরামত খরচ হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।
ফোল্ডেবল ফোনের ডিসপ্লে সাধারণ স্মার্টফোনের স্ক্রিনের তুলনায় প্রযুক্তিগত ভাবে বেশি জটিল। তাই ক্ষতির ধরন, কোন অংশ বদলাতে হবে এবং পরিষেবার শর্ত অনুযায়ী প্রকৃত খরচে পার্থক্য হতে পারে।
এখন প্রশ্ন, প্রায় তিন লাখ টাকা দিয়ে ফোন কেনার পর আবার AppleCare+ বাবদ প্রায় ৫১ হাজার টাকা খরচ করা কতটা যুক্তিযুক্ত?
এর উত্তর একেক জনের ক্ষেত্রে একেক রকম হতে পারে। যাঁরা ফোনটি দীর্ঘদিন ব্যবহার করতে চান এবং দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতির ঝুঁকি নিয়ে চিন্তিত, তাঁদের কাছে অতিরিক্ত সুরক্ষা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
অন্য দিকে, যাঁরা ফোন অত্যন্ত সতর্ক ভাবে ব্যবহার করেন, তাঁদের কাছে এই অতিরিক্ত খরচের প্রয়োজনীয়তা তুলনামূলক ভাবে কম মনে হতে পারে।
তবে ফোল্ডেবল ফোনের ক্ষেত্রে ডিসপ্লে মেরামতের সম্ভাব্য উচ্চ খরচ মাথায় রেখে কেনার সময় শুধু ফোনের দাম নয়, বিক্রি-পরবর্তী পরিষেবার খরচও হিসাবের মধ্যে রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
স্মার্টফোনের বাজারে ফোল্ডেবল প্রযুক্তি যত জনপ্রিয় হচ্ছে, ততই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে বিক্রি-পরবর্তী পরিষেবা। প্রায় তিন লাখ টাকা দামের কোনও ফোন কেনার ক্ষেত্রে শুধু ক্যামেরা, প্রসেসর, ব্যাটারি বা ডিজাইন দেখলেই হবে না। ফোনের কোনও অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে কত টাকা খরচ হতে পারে, সেটিও জানা দরকার।
বিশেষ করে ‘আইফোন ডুয়ো’র মতো ভাঁজ করা ফোনে ভিতরের বড় ডিসপ্লে এবং বাইরের স্ক্রিন—দুইয়েরই আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। ফলে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতির ঝুঁকি মাথায় রেখে AppleCare+ বা সংশ্লিষ্ট সুরক্ষা পরিষেবার শর্তগুলি আগে থেকেই বুঝে নেওয়া ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থাৎ তিন লাখ টাকা দিয়ে ফোন কেনার পর হাত ফস্কে সেটি মাটিতে পড়লে শুধু মন খারাপ নয়, পকেটেও বড় ধাক্কা লাগতে পারে। তাই ফোল্ডেবল আইফোন কেনার আগে ফোনের দাম এবং মেরামতের সম্ভাব্য খরচ—দুই দিকই মাথায় রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।



