সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট

Homeবিশ্ব সংবাদসৌদি আরবের রিয়াধ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলার অভিযোগ, হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা

সৌদি আরবের রিয়াধ ও দাম্মাম বিমানবন্দরে হামলার অভিযোগ, হতাহতের সংখ্যা নিয়ে ধোঁয়াশা

রিয়াধের পাশাপাশি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর দাম্মামেও হামলার খবর সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রবিবার রাতে কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে। এর ফলে বিমানবন্দরের একাংশে আগুন ধরে যায় বলে জানা গিয়েছে।

এনবি সংবাদ,আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলিকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং দাম্মামের কিং ফাহদ বিমানবন্দরে হামলার অভিযোগ সামনে আসার পর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। বিমানবন্দর এলাকায় বিস্ফোরণ, আগুন এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার খবর ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনে সৌদি আরবের সামরিক অভিযানের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে হাউথি গোষ্ঠী।

প্রাথমিক প্রতিবেদনে হামলায় হতাহতদের সংখ্যা নিয়ে একাধিক তথ্য উঠে এসেছে। কোথাও ১৩ জনের মৃত্যুর কথা বলা হয়েছে, আবার আহতের সংখ্যাতেও পার্থক্য রয়েছে। ফলে হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা এবং প্রতিটি ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে বিমানবন্দরে সাধারণ যাত্রীদের উপস্থিতির কারণে এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ফের হামলার ঘটনা ঘটেছে। বিমানবন্দরের চার নম্বর টার্মিনাল এলাকায় একটি অজ্ঞাত বস্তু আছড়ে পড়ার পর বিস্ফোরণ ও আগুনের খবর পাওয়া যায়। মুহূর্তের মধ্যে ওই এলাকায় ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে বলে দাবি করা হয়েছে।

ঘটনার পর বিমানবন্দরের নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়। একই সময়ে বিমানবন্দরের দিকে আসা একটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশে ধ্বংস করার কথাও জানিয়েছে সৌদি প্রশাসন। এ ছাড়া খামিস মুশাইত এলাকার দিকে ছোড়া একটি ড্রোন ও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দাবি করা হয়েছে।

তবে বিমানবন্দরে আছড়ে পড়া অজ্ঞাত বস্তুটির প্রকৃতি, বিস্ফোরণের সঠিক কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ বিবরণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা প্রয়োজন। হামলার বিভিন্ন বিবরণ প্রকাশ্যে এলেও সব তথ্যের সত্যতা যাচাই না করে সেগুলিকে চূড়ান্ত ঘটনা হিসেবে ধরে নেওয়া উচিত নয়।

রিয়াধের পাশাপাশি সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শহর দাম্মামেও হামলার খবর সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, রবিবার রাতে কিং ফাহদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে এলাকায় একটি ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে। এর ফলে বিমানবন্দরের একাংশে আগুন ধরে যায় বলে জানা গিয়েছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে যাত্রীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোয় হামলার অভিযোগ ওঠায় বিমান চলাচল, যাত্রী নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

রিয়াধ ও দাম্মাম—দুটি শহরই সৌদি আরবের অর্থনীতি ও যোগাযোগব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এই দুই বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে হামলার খবর সত্য হলে তার প্রভাব শুধু বিমান চলাচলে সীমাবদ্ধ থাকবে না। আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহণ এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগের ক্ষেত্রেও সমস্যা তৈরি হতে পারে।

হামলার সঙ্গে নিজেদের যোগ থাকার দাবি করেছে হাউথি গোষ্ঠী বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, গত ২৪ ঘণ্টায় ইয়েমেনের ১২৪টি স্থানে সৌদি আরব বিমান হামলা চালিয়েছে। সেই অভিযানের পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবেই সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

হাউথি গোষ্ঠী আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ইয়েমেনে হামলা বন্ধ না হলে সৌদি আরবকে এর পরিণতি ভোগ করতে হবে। তবে ইয়েমেনে হামলার সংখ্যা, লক্ষ্যবস্তু এবং পাল্টা আক্রমণের বিবরণ সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য প্রয়োজন।

এই ধরনের পাল্টাপাল্টি হামলা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলতে পারে। বিশেষ করে সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি বিমানবন্দর ও অন্যান্য বেসামরিক পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হলে সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এর আগেও রিয়াধের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটেছিল। সেই হামলায় প্রথমে অন্তত ১২ জনের মৃত্যুর খবর সামনে আসে। পরবর্তী প্রতিবেদনে আরও একজনের মৃত্যুর কথা উল্লেখ করে মোট মৃতের সংখ্যা ১৩ বলে দাবি করা হয়েছে।

আহতের সংখ্যার ক্ষেত্রেও বিভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। একটি বিবরণে ১১ জন আহত হওয়ার কথা বলা হয়েছে, অন্য একটি প্রতিবেদনে ৩৮ জনেরও বেশি আহতের উল্লেখ রয়েছে। তাঁদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিকও রয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

তবে এই সংখ্যাগুলি একই হামলার, নাকি একাধিক হামলার সম্মিলিত হিসাব, তা স্পষ্ট নয়। তাই মৃত ও আহতের সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি এড়াতে সৌদি কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ তথ্য যাচাই করা জরুরি।

হামলার ভিডিও নিয়ে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিমানবন্দরে যাত্রীরা হঠাৎ বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেকে নিরাপদ স্থানের দিকে ছুটতে শুরু করেন। কিছু ফুটেজে ভবনের অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দৃশ্য রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভিডিওর সময়, স্থান এবং ঘটনার সঙ্গে তার সম্পর্ক যাচাই না করে সেগুলিকে নিশ্চিত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত নয়।

সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলিতে হামলার খবর সামনে আসায় সেখানে থাকা বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিবেদনে আহতদের মধ্যে ভারতীয় নাগরিক থাকার দাবি করা হয়েছে। তবে তাঁদের সঠিক সংখ্যা, পরিচয় এবং শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া জরুরি।

সৌদি আরবে বহু ভারতীয় কর্মী বসবাস করেন। পাশাপাশি হজ, ওমরাহ, কাজ এবং ব্যবসার জন্য প্রতি বছর বহু ভারতীয় এই দেশে যাতায়াত করেন। ফলে বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তার অবনতি হলে তাঁদের যাত্রাপথেও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

এমন পরিস্থিতিতে যাত্রীদের সংশ্লিষ্ট বিমান সংস্থা ও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নির্দেশ মেনে চলা প্রয়োজন। যাত্রার আগে বিমান চলাচলের সর্বশেষ অবস্থা যাচাই করা এবং অপ্রমাণিত ভিডিও বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের গুজবে বিশ্বাস না করাও গুরুত্বপূর্ণ।

ইয়েমেনের সংঘাত দীর্ঘদিন ধরেই মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে। হাউথি গোষ্ঠী এবং সৌদি আরবের মধ্যে সংঘাতের বিভিন্ন পর্যায়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। এই সংঘাতের প্রভাব প্রতিবেশী দেশগুলির নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথের ওপরও পড়তে পারে।

ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যবহার আধুনিক সংঘাতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তুলনামূলকভাবে কম খরচে দূরবর্তী লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর সক্ষমতা থাকায় এগুলি বিমানবন্দর, জ্বালানি স্থাপনা এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তবে কোনও হামলার দায় কার, কী ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে এবং কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে—এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য তথ্য ও তদন্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো প্রয়োজন।

বিমানবন্দর এলাকায় হামলা হলে নিরাপত্তার কারণে বিমান ওঠানামা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা, যাত্রীদের সরিয়ে নেওয়া কিংবা বিমানের যাত্রাপথ পরিবর্তন করার মতো পদক্ষেপ নিতে হতে পারে। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি বিমান সংস্থাগুলির পরিচালন ব্যয়ও বৃদ্ধি পেতে পারে।

এ ছাড়া সৌদি আরবের মতো গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক কেন্দ্রে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি হলে আন্তর্জাতিক যাত্রী পরিবহণ ও ব্যবসায়িক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে আঞ্চলিক অর্থনীতি এবং পর্যটন খাতেও প্রভাব পড়তে পারে।

তবে রিয়াধ ও দাম্মাম বিমানবন্দরের কার্যক্রম বর্তমানে কতটা ব্যাহত হয়েছে, তা জানতে সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দর ও বিমান সংস্থাগুলির হালনাগাদ ঘোষণা অনুসরণ করা প্রয়োজন।

রিয়াধ ও দাম্মামের বিমানবন্দরকে ঘিরে হামলার অভিযোগ মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। একদিকে হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার খবর, অন্যদিকে ইয়েমেনে সৌদি সামরিক অভিযানের পাল্টা পদক্ষেপের দাবি—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।

এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করা, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং হামলার উৎস সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য সংগ্রহ করা। পাশাপাশি বেসামরিক মানুষ ও যাত্রীদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ প্রয়োজন।

হামলার দায় স্বীকারের দাবি এবং পাল্টা অভিযানের বক্তব্য সামনে এলেও সব তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি। পরিস্থিতির পরবর্তী গতিপ্রকৃতি নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির পদক্ষেপ, নিরাপত্তাব্যবস্থা এবং সংঘাত কমানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ওপর।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ