এনবি সংবাদ,আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : ১৪১ বছরের দীর্ঘ পথচলা। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা সি-রিঙ্গার এবার নতুন পরিসরে নিজেদের কাজকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানাল। দীর্ঘ ঐতিহ্যকে সঙ্গে রেখেই নতুন পণ্য, আধুনিক উৎপাদন পরিকাঠামো, গবেষণা এবং শক্তিশালী সরবরাহ ব্যবস্থার দিকে জোর দিচ্ছে সংস্থাটি।
সি-রিঙ্গার হেলথকেয়ার প্রাইভেট লিমিটেডের পক্ষ থেকে হোমিওপ্যাথিক ওষুধের ডাইলিউশনের নতুন রেঞ্জ বাজারে আনার কথা জানানো হয়েছে। সংস্থার বক্তব্য, এটি তাদের জন্য একেবারে নতুন করে শুরু নয়। বরং দীর্ঘদিনের পথচলাকে নতুন রূপে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার একটি পর্ব।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত মানুষের কাছে ডাইলিউশন কোনও অপরিচিত বিষয় নয়। ‘আর্নিকা ৩০’ কিংবা ‘রাস্টক্স ২০০’-এর মতো ডাইলিউশন বহুদিন ধরেই হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসার পরিসরে পরিচিত নাম।
সি-রিঙ্গারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও ডা. রানি বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, সাধারণ মানুষের পরিচিত সেই ডাইলিউশন রেঞ্জকেই এবার নতুনভাবে সামনে আনা হচ্ছে। তবে এটিকে সংস্থার নতুন করে পথচলা বলা ঠিক হবে না বলেই মনে করেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে সি-রিঙ্গারের কাজ কখনও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। মাঝের সময়ে বিভিন্ন পরিস্থিতির কারণে গবেষণা এবং আধুনিকীকরণের গতি কিছুটা কমে গিয়েছিল। এবার সেই কাজকেই নতুন পরিকল্পনা ও পরিকাঠামোর মাধ্যমে আরও গতিশীল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ধরে রাখার পাশাপাশি বর্তমান সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে উৎপাদন ব্যবস্থাকে আধুনিক করার উপর গুরুত্ব দিচ্ছে সংস্থা। সি-রিঙ্গারের বক্তব্য, নতুন ডাইলিউশন রেঞ্জের পাশাপাশি উৎপাদন পরিকাঠামো, গবেষণা এবং পণ্য সরবরাহের ব্যবস্থাকেও আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডা. রানি বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, সংস্থার দীর্ঘ ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হল গুণমানের উপর জোর। শুরু থেকেই গুণমানের সঙ্গে আপস না করার নীতি বজায় রাখা হয়েছে বলে তাঁর দাবি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন ব্যবস্থাতেও আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিকাঠামো যুক্ত হয়েছে।
অর্থাৎ, ১৪১ বছরের পুরনো ঐতিহ্যকে ধরে রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতের বাজারের প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের পরিকাঠামোকে আরও প্রস্তুত করতে চাইছে সি-রিঙ্গার।
হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে এই পদ্ধতিতে চিকিৎসা করালে দীর্ঘদিন ওষুধ খেতে হয়। এই ধারণা নিয়ে নিজের বক্তব্য জানিয়েছেন ডা. রানি বন্দ্যোপাধ্যায়।
তাঁর মতে, দীর্ঘস্থায়ী বা ক্রনিক কোনও রোগের ক্ষেত্রে চিকিৎসায় সময় লাগতে পারে। তবে হঠাৎ দেখা দেওয়া কিছু সমস্যার ক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক ওষুধে দ্রুত উপশম পাওয়া সম্ভব বলে তিনি দাবি করেন।
তবে দীর্ঘস্থায়ী রোগের ক্ষেত্রে রোগীকে ধৈর্য ধরে চিকিৎসার সময় দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
এখানে অবশ্য চিকিৎসা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে রোগীর নিজের চিকিৎসকের পরামর্শকে গুরুত্ব দেওয়াই প্রয়োজন। কোনও ওষুধ শুরু বা বন্ধ করার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরি।
শুধু নতুন পণ্য বাজারে আনাই নয়, সেই পণ্য যাতে আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছতে পারে, সেদিকেও নজর দিচ্ছে সংস্থা।
সি-রিঙ্গারের অপর ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও ডা. লোকেশ কুমার প্রধান জানিয়েছেন, উৎপাদনের পাশাপাশি ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করার কাজ চলছে। দেশের আরও বেশি মানুষের কাছে সংস্থার পণ্য পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
তবে এই সম্প্রসারণে তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না সি-রিঙ্গার। ধাপে ধাপে এবং পরিকল্পিতভাবে সরবরাহ ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করার দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সি-রিঙ্গারের পণ্যের তালিকায় কফ সিরাপও রয়েছে। সংস্থার দাবি, তাদের কফ সিরাপ ‘নন-ড্রাউজি’, অর্থাৎ ব্যবহারের পর ঘুমভাব তৈরি হওয়ার কথা নয়।
সংস্থার বক্তব্য, এর ফলে কাশি কমানোর পাশাপাশি ব্যবহারকারীরা পরের দিন স্কুল, কলেজ, অফিস কিংবা দৈনন্দিন অন্যান্য কাজে স্বাভাবিকভাবে যেতে পারবেন।
তবে কফ সিরাপ বা যে কোনও ওষুধ ব্যবহারের ক্ষেত্রে লেবেলে দেওয়া নির্দেশনা মেনে চলা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
সি-রিঙ্গারের দীর্ঘ যাত্রার সঙ্গে আরও একটি পরিচয় জড়িয়ে রয়েছে—এটি একটি বাঙালি পরিবারের ব্যবসা। ডা. রানি বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, এই পরিচয় তাঁদের কাছে গর্বের।
বাঙালিরা ব্যবসা করতে পারেন না—এমন একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে। তাঁর মতে, একটি বাঙালি পরিবারের ব্যবসা ১৪১ বছর ধরে টিকে থাকা এবং প্রজন্মের পর প্রজন্ম তা এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই সেই ধারণার জবাব।
দীর্ঘ সময় ধরে একটি প্রতিষ্ঠানকে টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে শুধু ব্যবসায়িক সাফল্য নয়, সময়ের সঙ্গে পরিবর্তন, নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ এবং গ্রাহকদের আস্থা—সবকিছুরই ভূমিকা থাকে। সি-রিঙ্গারের নতুন উদ্যোগে সেই ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার সমন্বয় ঘটানোর চেষ্টা দেখা যাচ্ছে।
১৪১ বছরের ইতিহাসকে সঙ্গে নিয়ে এবার নতুন ডাইলিউশন রেঞ্জ, আধুনিক উৎপাদন ব্যবস্থা, গবেষণা এবং শক্তিশালী ডিস্ট্রিবিউশন নেটওয়ার্কের দিকে এগোতে চাইছে সি-রিঙ্গার হেলথকেয়ার প্রাইভেট লিমিটেড।
সংস্থার প্রত্যাশা, দীর্ঘদিনের ঐতিহ্যকে ধরে রেখেই আগামী দিনে আরও বড় পরিসরে কাজ করা সম্ভব হবে। নতুন পণ্য এবং সি-রিঙ্গারের অন্যান্য পরিষেবা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংস্থার ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। সেখান থেকেই বিভিন্ন পণ্য সম্পর্কে জানা এবং অর্ডার করার সুযোগও রয়েছে বলে সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
১৪১ বছরের পথচলার পর নতুন এই অধ্যায় তাই সি-রিঙ্গারের কাছে শুধু নতুন পণ্য বাজারে আনার ঘটনা নয়। সংস্থার বক্তব্য অনুযায়ী, এটি পুরনো ঐতিহ্যকে ধরে রেখে গবেষণা, উৎপাদন এবং বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ।



