এনবি সংবাদ,আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : গ্রিনহাউসজুড়ে সবুজ পাতা। চারদিকে খাবারের অভাবও রয়েছে। সুযোগ পেয়ে একসঙ্গে সেখানে ঢুকে পড়ল একদল ভেড়া। এরপর মনের সুখে খেতে শুরু করল গাছের পাতা। কিন্তু সেই পাতা যে সাধারণ কোনও গাছের নয়, তা বুঝতে পারেনি ভেড়ার দল। পরে জানা গেল, তারা খেয়ে ফেলেছে বিপুল পরিমাণ গাঁজা পাতা!
ঘটনাটি ঘটেছে গ্রিসে। স্থানীয় একটি গাঁজা চাষের খামারে ঢুকে পড়ে একদল ভেড়া। খামারের মালিকের দাবি, ভেড়ার পাল সেখানে ঢুকে প্রায় ১০০ কেজিরও বেশি গাঁজা পাতা খেয়ে ফেলে। এরপর তাদের আচরণে এমন পরিবর্তন দেখা যায়, যা দেখে উপস্থিত অনেকেই অবাক হয়ে যান।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ওই এলাকার আশপাশে সবুজ গাছপালার পরিমাণ কমে গিয়েছিল বলে স্থানীয়ভাবে জানা যায়। ফলে খাবারের সন্ধানে ভেড়ার পাল বিভিন্ন জায়গায় ঘুরছিল।
এর মধ্যেই তারা পৌঁছে যায় একটি গ্রিনহাউসের কাছে। সেখানে বিপুল পরিমাণ সবুজ গাছ দেখে আর নিজেদের সামলাতে পারেনি ভেড়াগুলি। একে একে গ্রিনহাউসে ঢুকে পড়ে তারা। এরপর শুরু হয় পাতা খাওয়া।
খামারের মালিকের দাবি, ভেড়াগুলি এতটাই বেশি গাঁজা পাতা খেয়েছিল যে মোট পরিমাণ ১০০ কেজিরও বেশি হতে পারে। অবশ্য এই পরিমাণটি মালিকের হিসাব বা দাবি হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।
গাঁজা পাতা খাওয়ার কিছু সময় পরই ভেড়াগুলির আচরণে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা যায় বলে খামারের মালিক জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, ভেড়াগুলি আচমকাই লাফাতে শুরু করে।
শুধু সাধারণভাবে লাফানো নয়, তারা নাকি বেশ উঁচু ও লম্বা লাফ দিতে থাকে। এমনকি ভেড়াগুলি যে ধরনের লাফ দিচ্ছিল, তা দেখে ছাগলের লাফের সঙ্গেও তুলনা করা হয়।
সাধারণভাবে ছাগল তুলনামূলকভাবে ভালো লাফাতে পারে। ভেড়ার ক্ষেত্রে সেই ক্ষমতা ততটা দেখা যায় না। কিন্তু ওই ঘটনার পর ভেড়াগুলির লাফালাফি দেখে খামারের লোকজন বিস্মিত হয়ে যান বলে দাবি করা হয়েছে।
এই ঘটনার সবচেয়ে আকর্ষণীয় প্রশ্ন এখানেই। গাঁজা খাওয়ার কারণেই ভেড়াগুলি এমন আচরণ করেছিল কি না, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। খামারের মালিকের বর্ণনায় গাঁজা খাওয়ার পরই তাদের লাফালাফি শুরু হয়েছিল বলে দাবি করা হলেও, কোনও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফল বা পশুচিকিৎসকের পর্যবেক্ষণ ছাড়া এর কারণ নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।
গাঁজায় থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক উপাদান প্রাণীদের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে প্রভাবের ধরন ও মাত্রা প্রাণীর প্রজাতি, শরীরের ওজন, গ্রহণ করা উপাদানের পরিমাণ এবং গাঁজা গাছের রাসায়নিক গঠনের ওপর নির্ভর করতে পারে। তাই একটি নির্দিষ্ট ঘটনার আচরণ দেখে সব ভেড়ার ক্ষেত্রে একই প্রতিক্রিয়া হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক নয়।
ঘটনাটি আরও আলোচনায় আসে কারণ গ্রিসে চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য গাঁজা চাষের অনুমোদন রয়েছে। ২০১৭ সালে দেশটি চিকিৎসা-উদ্দেশ্যে গাঁজার ব্যবহারকে বৈধতার আওতায় আনে। পরবর্তী সময়ে চিকিৎসা ও শিল্পক্ষেত্রে গাঁজা উৎপাদন নিয়ে সেখানে নির্দিষ্ট আইনি কাঠামো তৈরি হয়েছে।
এই ঘটনার খামারটিও চিকিৎসা-উদ্দেশ্যে গাঁজা উৎপাদনের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ অবৈধভাবে কোথাও গাঁজা চাষ করা হচ্ছিল এমন ঘটনা নয়; বরং অনুমোদিত চাষের জায়গাতেই ভেড়ার পাল ঢুকে পড়ে বলে দাবি করা হয়েছে।
ভেড়ার দল গাঁজা খেয়ে ফেলেছে—এই ঘটনাই যথেষ্ট অস্বাভাবিক। তার ওপর খামারের মালিকের দাবি অনুযায়ী, এরপর তাদের লাফালাফি আরও বেশি করে নজর কাড়ে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে খাবারের ঘাটতি, তার মধ্যে সবুজ পাতার সন্ধান এবং শেষ পর্যন্ত গাঁজা গাছের পাতা খেয়ে ফেলার এই ঘটনাটি তাই স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি করেছে। তবে ভেড়াগুলির আচরণের পেছনে ঠিক কী কারণ ছিল, তা নিশ্চিত করতে হলে পশুচিকিৎসাবিদদের পর্যবেক্ষণ ও বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
ঘটনাটি একই সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও মনে করিয়ে দেয়—চাষের জমি বা গ্রিনহাউসের ফসল থেকে প্রাণীদের দূরে রাখা জরুরি। বিশেষ করে চিকিৎসা বা শিল্পের জন্য চাষ করা গাছ প্রাণীরা খেয়ে ফেললে তাদের স্বাস্থ্যের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে, তা আগে থেকে অনুমান করা সবসময় সহজ নয়।
সব মিলিয়ে গ্রিসের এই ঘটনায় প্রায় ১০০ কেজি গাঁজা পাতা খেয়ে ফেলার দাবি এবং তার পর ভেড়ার অস্বাভাবিক লাফালাফির গল্প ইতিমধ্যেই বেশ চমকপ্রদ। তবে ঘটনাটির মজার দিক যতই আলোচিত হোক, গাঁজা খাওয়ার সঙ্গে ওই আচরণের সরাসরি কারণ-সম্পর্ক বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য এই প্রতিবেদনে নেই।



