এনবি সংবাদ, আইটি ডেস্ক : অ্যাপলের নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন **আইফোন ১৮ প্রো** বাজারে আসার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয়েছে গ্রাহকদের হাতে ডিভাইস পৌঁছানোর প্রক্রিয়া। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেসব গ্রাহক সবার আগে প্রি-অর্ডার করেছিলেন, তাদের কাছে ইতিমধ্যেই নতুন আইফোন পৌঁছাতে শুরু করেছে। ফলে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে আসার দিন ঘনিয়ে আসার আগেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যাচ্ছে নতুন ডিভাইসের ছবি ও প্রথম অভিজ্ঞতা।
অ্যাপল ১২ সেপ্টেম্বর থেকে আইফোন ১৮ প্রো-এর প্রি-অর্ডার নেওয়া শুরু করেছিল। এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হয়েছে আনুষ্ঠানিক বিক্রি ও ডেলিভারি। সময়ের পার্থ্যের কারণে বিশ্বের কিছু অঞ্চলের গ্রাহক অন্যদের তুলনায় আগে নতুন আইফোন হাতে পাচ্ছেন।
অ্যাপলের নতুন আইফোনের ডেলিভারি সাধারণত বিশ্বের পূর্বাঞ্চলের দেশগুলো থেকেই শুরু হয়। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে দিনের শুরু আগে হওয়ায় সেখানকার গ্রাহকরাই অনেক সময় নতুন আইফোন প্রথম হাতে পাওয়ার সুযোগ পান।
এরপর ধাপে ধাপে এশিয়ার অন্যান্য দেশ, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকায় শুরু হয় ডেলিভারি। এ কারণে কোনো একটি দেশে যখন গ্রাহকেরা নতুন আইফোন হাতে নিয়ে ছবি প্রকাশ করছেন, তখন বিশ্বের অন্য প্রান্তের ক্রেতারা হয়তো এখনও নিজেদের অর্ডারের অপেক্ষায় রয়েছেন।
এবারও সেই একই ধরনের চিত্র দেখা যাচ্ছে। প্রথম দিকের গ্রাহকেরা আইফোন ১৮ প্রো হাতে পাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ছবি ও অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে শুরু করেছেন।
নতুন আইফোন বাজারে আসার আগে থেকেই প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। কিন্তু প্রি-অর্ডার করা গ্রাহকদের হাতে ফোন পৌঁছানোর পর সেই আগ্রহ আরও বেড়ে যায়। কারণ অফিসিয়াল বিজ্ঞাপন বা অনুষ্ঠানের বাইরে বাস্তবে ফোনটি দেখতে কেমন, সেটি বোঝার সুযোগ পাওয়া যায় প্রথম ব্যবহারকারীদের পোস্ট থেকেই।
অনেক গ্রাহক নতুন ডিভাইসের প্যাকেজিং, ফোনের নকশা এবং বিভিন্ন ফিচারের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করছেন। কেউ কেউ আবার ফোন হাতে পাওয়ার পর নিজেদের প্রথম অভিজ্ঞতাও জানাচ্ছেন।
বিশ্বের যেসব দেশে এখনও আইফোন ১৮ প্রো পৌঁছায়নি, সেসব দেশের ক্রেতাদের জন্য এই পোস্টগুলো এক ধরনের আগাম ধারণা তৈরি করছে। ফলে নিজেদের হাতে ফোন পাওয়ার আগেই তারা নতুন মডেলটি সম্পর্কে বাস্তব ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা জানতে পারছেন।
প্রি-অর্ডারের পাশাপাশি অ্যাপলের নিজস্ব স্টোরগুলোতেও শুরু হচ্ছে আইফোন ১৮ প্রো-এর বিক্রি। লঞ্চের দিন সাধারণত অ্যাপল স্টোরগুলো স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে খুলে দেওয়া হয়। নতুন আইফোন কেনার জন্য অনেক গ্রাহক ভোর থেকেই স্টোরের সামনে অপেক্ষা করেন।
যারা আগে থেকে প্রি-অর্ডার করেছেন, তাদের জন্য অনেক ক্ষেত্রে স্টোর থেকে ডিভাইস সংগ্রহের সুবিধাও থাকে। ফলে হোম ডেলিভারির জন্য অপেক্ষা না করে নির্দিষ্ট অ্যাপল স্টোর থেকে ফোন নিয়ে যেতে পারেন ক্রেতারা।
এছাড়া স্টকে থাকা ডিভাইসের ক্ষেত্রে কিছু ক্রেতা সরাসরি স্টোরে গিয়ে আইফোন ১৮ প্রো কেনার সুযোগও পাবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের গ্রাহকদের কাছে প্রি-অর্ডার করা আইফোন ১৮ প্রো শুক্রবার সকাল থেকে পৌঁছানোর কথা। ডেলিভারি সংস্থাগুলো স্থানীয় সময় অনুযায়ী নিজেদের রুটে ফোন সরবরাহ শুরু করবে।
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অ্যাপল স্টোরে প্রি-অর্ডার করা ফোন সংগ্রহের পাশাপাশি সরাসরি কেনাকাটার সুযোগও চালু হওয়ার কথা রয়েছে। ফলে যেসব গ্রাহক আগে থেকে অর্ডার করেননি, তারাও স্টকে থাকা মডেল অনুযায়ী দোকান থেকে ফোন কেনার সুযোগ পেতে পারেন।
তবে নতুন আইফোনের জনপ্রিয়তার কারণে নির্দিষ্ট মডেল, স্টোরেজ বা রঙের ক্ষেত্রে স্টক দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই সরাসরি স্টোর থেকে কেনার পরিকল্পনা করা গ্রাহকদের জন্য আগে থেকেই স্টক পরিস্থিতি দেখে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতি বছর নতুন আইফোন বাজারে আসার সময় প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক কৌতূহল তৈরি হয়। নতুন মডেলের নকশা, ক্যামেরা, প্রসেসর, ব্যাটারি, ডিসপ্লে এবং অন্যান্য ফিচার নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না।
তবে প্রি-অর্ডার করা গ্রাহকদের হাতে ফোন পৌঁছানোর পর সেই আলোচনায় যোগ হচ্ছে বাস্তব ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা। ফলে সম্ভাব্য ক্রেতারা শুধু অ্যাপলের প্রচারমূলক তথ্যের ওপর নির্ভর না করে প্রথম ব্যবহারকারীদের মতামতও দেখতে পারছেন।
বিশেষ করে নতুন ফোনের ক্যামেরা, পারফরম্যান্স এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের অভিজ্ঞতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টগুলো পরবর্তী ক্রেতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সময় অঞ্চলের পার্থ্যের কারণে আইফোন ১৮ প্রো-এর ডেলিভারি একই সময়ে সব দেশে শুরু হয় না। প্রথমে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের মতো অঞ্চলে ডেলিভারি শুরু হওয়ার পর ধীরে ধীরে অন্যান্য বাজারে পৌঁছায় নতুন ডিভাইস।
এরপর এশিয়া, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার গ্রাহকেরাও নিজেদের প্রি-অর্ডার করা ফোন হাতে পেতে শুরু করেন। ফলে বিশ্বজুড়ে আইফোন ১৮ প্রো-এর আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণ ধাপে ধাপে এগিয়ে যায়।
সব মিলিয়ে, আইফোন ১৮ প্রো এখন শুধু অ্যাপলের নতুন ফ্ল্যাগশিপ হিসেবে আলোচনায় নেই; এটি ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের গ্রাহকদের হাতে পৌঁছাতে শুরু করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা প্রথম ছবি ও ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতা আগামী কয়েক দিনে নতুন আইফোন নিয়ে আরও আলোচনা তৈরি করতে পারে।



