সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট

Homeট্রেন্ডিং নিউজSiri অ্যাপ বনাম Hey Siri: AI সহকারীকে আরও কাজে লাগাবেন যেভাবে

Siri অ্যাপ বনাম Hey Siri: AI সহকারীকে আরও কাজে লাগাবেন যেভাবে

নতুন Siri অ্যাপের আরেকটি সুবিধা হলো আগের উত্তরে ফিরে যাওয়ার সুযোগ। কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য Siri জানিয়েছিল, কিন্তু তখন সেটি সংরক্ষণ করা হয়নি—এমন পরিস্থিতিতে পুরোনো কথোপকথন আবার দেখা যেতে পারে।

এনবি সংবাদ আইটি ডেস্ক : অ্যাপলের Siri AI ব্যবহারের ধরন বদলে যাচ্ছে। আগে Siri-কে মূলত দ্রুত কোনো কাজ করানোর জন্য ভয়েস কমান্ড দেওয়া হতো। কিন্তু নতুন Siri অ্যাপ দীর্ঘ কথোপকথন চালিয়ে যাওয়া, আগের উত্তর খুঁজে দেখা এবং প্রয়োজনীয় তথ্য পরে আবার ব্যবহারের মতো সুবিধা এনে সহকারীটিকে আরও কার্যকর করে তুলছে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রতিটি কাজের জন্য Siri অ্যাপ খুলতে হবে। বরং কোন পরিস্থিতিতে অ্যাপ ব্যবহার করবেন আর কখন শুধু “Hey Siri” বললেই হবে, সেটি বুঝতে পারলেই Siri থেকে আরও ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।

নতুন Siri অ্যাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো এটি দীর্ঘ সময় ধরে চলা কথোপকথনের জন্য বেশি উপযোগী। কোনো বিষয় নিয়ে Siri-র সঙ্গে আলোচনা করতে গিয়ে মাঝপথে থেমে গেলে পরে আবার সেই কথোপকথনে ফিরে আসা যায়।

ধরা যাক, আপনি কোনো পরিকল্পনা তৈরি করতে Siri-র সাহায্য নিচ্ছেন। প্রথমবার কিছু তথ্য দেওয়ার পর যদি আরও প্রশ্ন করতে চান, তাহলে অ্যাপ খুলে আগের কথোপকথন থেকেই বিষয়টি চালিয়ে যেতে পারবেন। ফলে প্রতিবার একেবারে শুরু থেকে একই তথ্য দেওয়ার প্রয়োজন কমে যায়।

এই সুবিধা বিশেষ করে গবেষণা, পরিকল্পনা তৈরি, লেখালেখি কিংবা একাধিক ধাপে সম্পন্ন করতে হয় এমন কাজে কাজে লাগতে পারে।

নতুন Siri অ্যাপের আরেকটি সুবিধা হলো আগের উত্তরে ফিরে যাওয়ার সুযোগ। কোনো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য Siri জানিয়েছিল, কিন্তু তখন সেটি সংরক্ষণ করা হয়নি—এমন পরিস্থিতিতে পুরোনো কথোপকথন আবার দেখা যেতে পারে।

এতে Siri শুধু তাৎক্ষণিক ভয়েস সহকারী হিসেবে কাজ না করে একটি চলমান ডিজিটাল সহকারীর মতো ব্যবহার করা সম্ভব হয়।

এমনকি অন্য কোনো সমর্থিত অ্যাপল ডিভাইস থেকে শুরু করা কথোপকথনও পরে চালিয়ে যাওয়ার সুবিধা থাকতে পারে। অর্থাৎ একটি ডিভাইসে শুরু করা কাজ অন্য ডিভাইসে গিয়ে আবার ধরতে পারলে ব্যবহারকারীর অভিজ্ঞতা আরও সহজ হয়।

যেসব Siri কথোপকথন ভবিষ্যতে আবার প্রয়োজন হতে পারে, সেগুলো পিন করে রাখার সুবিধাও নতুন ব্যবহারের ধরনকে আরও সহজ করে। ফলে বারবার পুরোনো কথোপকথনের তালিকায় গিয়ে নির্দিষ্ট তথ্য খুঁজতে হয় না।

উদাহরণ হিসেবে, ভ্রমণের পরিকল্পনা, কোনো প্রকল্পের তথ্য কিংবা নিয়মিত প্রয়োজন হয় এমন নির্দেশনা Siri-র সঙ্গে আলোচনা করলে সেটি পরে দ্রুত খুঁজে পাওয়ার সুবিধা বেশ কার্যকর হতে পারে।

একেবারেই নয়। বরং দ্রুত সম্পন্ন করা যায় এমন কাজের ক্ষেত্রে “Hey Siri” এখনও বেশি সুবিধাজনক।

আপনার যদি শুধু একটি টাইমার সেট করতে হয়, রিমাইন্ডার তৈরি করতে হয়, গান চালাতে হয় কিংবা কোথাও যাওয়ার নির্দেশনা নিতে হয়, তাহলে আলাদা করে Siri অ্যাপ খোলার প্রয়োজন নেই। ভয়েস কমান্ড দিয়েই দ্রুত কাজটি করা যায়।

একইভাবে স্মার্ট হোম ডিভাইস নিয়ন্ত্রণের মতো কাজেও ভয়েস অ্যাক্টিভেশন বেশ কার্যকর। যেমন, আলো বন্ধ করা, গান চালু করা বা কোনো তাৎক্ষণিক কমান্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে কাজ শেষ করাই মূল বিষয়।

সহজভাবে বললে, সিদ্ধান্তটা নির্ভর করবে আপনার কাজটি কতটা দীর্ঘ।

যদি Siri-র সঙ্গে দীর্ঘ কথোপকথন করতে হয়, আগের উত্তর দেখতে হয় বা একই বিষয়ে বারবার প্রশ্ন করতে হয়, তাহলে Siri অ্যাপ ব্যবহার করা বেশি সুবিধাজনক।

অন্যদিকে, যদি শুধু একটি দ্রুত কাজ করাতে চান, তাহলে “Hey Siri” বলাই সহজ পথ।

অর্থাৎ, আপনি যদি Siri-কে কোনো কাজের অংশীদার হিসেবে ব্যবহার করেন, অ্যাপটি বেশি কার্যকর। আর Siri যদি শুধু একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তের কাজ করে দেয়, তাহলে ভয়েস কমান্ডই যথেষ্ট।

অ্যাপলের নতুন Siri AI নিয়ে ডেভেলপারদের পরীক্ষামূলক ব্যবহারের সুযোগ ৮ জুন থেকে শুরু হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি iOS 27, iPadOS 27, macOS 27 Golden Gate এবং visionOS 27-এর সঙ্গে পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

অ্যাপল ভবিষ্যতের কোনো বিটা সংস্করণে watchOS 27-এর জন্যও ডেভেলপার টেস্টিং শুরু করার পরিকল্পনা করছে। পাশাপাশি ২০২৬ সালের পরবর্তী সময়ে ব্যবহারকারীদের জন্য ইংরেজি ভাষায় একটি বিটা সংস্করণ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।

এর অর্থ হলো Siri AI-এর নতুন অভিজ্ঞতা ধাপে ধাপে অ্যাপলের বিভিন্ন ডিভাইসে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

Siri AI থেকে সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে মূল বিষয় শুধু Siri কী করতে পারে তা জানা নয়। বরং কীভাবে এবং কখন Siri ব্যবহার করবেন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

একটি ছোট কাজের জন্য যদি আপনি দীর্ঘ কথোপকথন শুরু করেন, তাহলে সময় বেশি লাগতে পারে। আবার দীর্ঘ কোনো পরিকল্পনার জন্য বারবার “Hey Siri” বলে নতুন করে কথোপকথন শুরু করলে আগের তথ্য ধরে রাখা কঠিন হতে পারে।

তাই দ্রুত কাজের জন্য ভয়েস অ্যাক্টিভেশন এবং দীর্ঘ কাজের জন্য Siri অ্যাপ—এই সহজ পার্থক্যটি মনে রাখলে ব্যবহার অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ হতে পারে।

অ্যাপলের AI-ভিত্তিক Siri-এর লক্ষ্য শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়া নয়, ব্যবহারকারীর সঙ্গে আরও ধারাবাহিকভাবে কাজ করা। সেই দিক থেকে নতুন Siri অ্যাপ একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

আগে Siri-কে বলা হতো, “একটা টাইমার দাও” বা “একটা রিমাইন্ডার সেট করো”—এ ধরনের ছোট নির্দেশ। নতুন অভিজ্ঞতায় Siri-র সঙ্গে একটি বিষয় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করে সেটি পরে আবার চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

ফলে Siri ব্যবহারের ক্ষেত্রে একক কোনো পদ্ধতি সবার জন্য সেরা হবে না। কাজের ধরন অনুযায়ী কখন অ্যাপ খুলতে হবে আর কখন শুধু ভয়েস কমান্ড দিতে হবে, সেটিই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সবশেষে বলা যায়, Siri অ্যাপ এবং “Hey Siri” একে অপরের বিকল্প নয়। বরং দুটির কাজের ধরন আলাদা। দীর্ঘ কথোপকথন ও ভবিষ্যতে আবার প্রয়োজন হতে পারে এমন কাজের জন্য Siri অ্যাপ বেশি উপযোগী, আর দ্রুত ও তাৎক্ষণিক কাজের জন্য ভয়েস অ্যাক্টিভেশনই সবচেয়ে সরল পদ্ধতি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ