এনবি সংবাদ, অনলাইন : সিলেটের নাম উঠলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে পাহাড়, চা-বাগান, নদী আর সবুজে ঘেরা প্রকৃতি। কিন্তু এই অঞ্চলের পরিচয় শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সীমাবদ্ধ নয়। সিলেটের মাটিতে গড়ে উঠেছে এমন অনেক লোকজ শিল্প, যেগুলো একসময় দেশের সীমানা পেরিয়ে পৌঁছে গিয়েছিল ইউরোপের রাজপ্রাসাদ পর্যন্ত। সেই গৌরবময় ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন সিলেটের শীতলপাটি।
আজকের দিনে শীতলপাটি হয়তো অনেকের কাছে সাধারণ একটি ঘরোয়া ব্যবহার্য সামগ্রী। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় এর মর্যাদা ছিল অনেক বেশি। মুঘল দরবার থেকে শুরু করে ব্রিটিশ আমলের অভিজাত সমাজ—সব জায়গাতেই সিলেটের সূক্ষ্ম বুননের শীতলপাটির আলাদা কদর ছিল। এমনকি ব্রিটিশ আমলে বালাগঞ্জের গৌরীপুরের কারিগরদের তৈরি শীতলপাটি রানি ভিক্টোরিয়ার রাজপ্রাসাদেও স্থান পেয়েছিল বলে ঐতিহাসিকভাবে উল্লেখ পাওয়া যায়।
শীতলপাটির ইতিহাস বহু পুরনো। বাংলার প্রথম নবাব মুর্শিদ কুলি খান সিলেট থেকে ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি উপঢৌকন হিসেবে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেবের দরবারে পাঠিয়েছিলেন বলে প্রচলিত ইতিহাসে উল্লেখ রয়েছে। সেই সময় সিলেটের তৈরি শীতলপাটি শুধু ব্যবহার্য সামগ্রী ছিল না, বরং এটি ছিল সূক্ষ্ম কারুশিল্প ও আভিজাত্যের প্রতীক।
শীতলপাটির পাশাপাশি সিলেটের মুগা ও তসর কাপড়েরও চাহিদা ছিল। ফলে এই অঞ্চলের হস্তশিল্প ধীরে ধীরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাশাপাশি রাজদরবার ও অভিজাত মহলেও পরিচিত হয়ে ওঠে।
শীতলপাটির বিশেষত্ব ছিল এর মসৃণতা, নকশা এবং শরীরকে ঠান্ডা অনুভূতি দেওয়ার ক্ষমতা। গরমের দিনে মাটিতে বা বিছানার ওপর শীতলপাটি বিছিয়ে বসলে কিংবা শুলে শরীরে আরাম পাওয়া যায়। এ কারণেই এর নাম হয়েছে ‘শীতলপাটি’।
শীতলপাটির গৌরবের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অধ্যায়গুলোর একটি যুক্ত ব্রিটিশ আমলের সঙ্গে। সিলেটের বালাগঞ্জের গৌরীপুর এলাকার কারিগরদের তৈরি সূক্ষ্ম ও দৃষ্টিনন্দন শীতলপাটি সে সময় বিদেশি ব্যবসায়ীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল।
বালাগঞ্জ একসময় বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। বিভিন্ন দেশের ব্যবসায়ীরা নৌপথে সেখানে আসতেন। স্থানীয় পণ্য কেনাবেচার পাশাপাশি তারা সিলেটের তৈরি নানা ধরনের বাঁশ ও বেতের সামগ্রীও সংগ্রহ করতেন। এর মধ্যে শীতলপাটি ছিল অন্যতম আকর্ষণীয় পণ্য।
বিভিন্ন ঐতিহাসিক বর্ণনায় জানা যায়, সিলেটের এই পাটি ইংল্যান্ড, ফ্রান্স ও রাশিয়াতেও পৌঁছেছিল। এমনকি বালাগঞ্জের গৌরীপুরের শিল্পীদের তৈরি শীতলপাটি ব্রিটিশ রাজপরিবারের সংগ্রহে জায়গা করে নেয়। রানি ভিক্টোরিয়ার রাজপ্রাসাদে সিলেটের শীতলপাটির উপস্থিতি তাই এই লোকজ শিল্পের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
একসময় ঢাকার মসলিন যেমন ভারতীয় উপমহাদেশের সূক্ষ্ম বস্ত্রশিল্পের পরিচয় বহন করত, তেমনই সিলেটের শীতলপাটি ছিল এই অঞ্চলের অনন্য কারুশিল্পের পরিচায়ক।
শীতলপাটি তৈরির মূল কাঁচামাল হলো মুর্তা গাছ। সিলেটে এই গাছকে মুর্তা বলা হলেও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর আলাদা আলাদা নাম রয়েছে। কোথাও এটি মোত্রাবেত, কোথাও মেস্তাগ, আবার কোথাও পাইত্তা বা পাটিবেত নামে পরিচিত।
এর বৈজ্ঞানিক নাম Schumannianthus dichotoma। উদ্ভিদটি Marantaceae পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। সাধারণত মুর্তা গাছ ৩ থেকে ৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। এর কাণ্ড সরু এবং বেশ শক্ত।
মুর্তা গাছ পরিণত হওয়ার পর কেটে নেওয়া হয়। এরপর কাণ্ডের ভেতরের অংশ থেকে সরু বেতি তৈরি করা হয়। এই বেতি পানিতে ভিজিয়ে নরম করা হয়। তারপর দক্ষ কারিগররা হাতে হাতে বুনে তৈরি করেন শীতলপাটি।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় যন্ত্রের ব্যবহার খুবই সীমিত। কারিগরের হাতের নিখুঁত দক্ষতাই একটি ভালো শীতলপাটির সৌন্দর্য ও মান নির্ধারণ করে।
শীতলপাটি শুধু সাদামাটা নকশায় তৈরি হয় না। দক্ষ কারিগররা বিভিন্ন ধরনের ফুল, লতাপাতা, পাখি, প্রাণী, মসজিদসহ নানা প্রতিকৃতি বুননের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলেন।
নকশার বৈচিত্র্যের কারণে তৈরি হয় নকশিপাটি। এসব পাটির নামও রাখা হয় নানা আকর্ষণীয় নামে। খেলাঘর, নয়নতারা, আসমান তারা, জমিন তারা, তাজমহল, সোনামুড়ি—এ ধরনের নামের শীতলপাটি একসময় ক্রেতাদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় ছিল।
শুধু শোয়ার বা বসার পাটি নয়, মুর্তার বেতি দিয়ে জায়নামাজ, দেয়ালমাদুর, বসার আসনসহ নানা ধরনের হস্তশিল্পও তৈরি করা হয়। আধুনিক সময়ে ঘর সাজানোর উপকরণ হিসেবেও শীতলপাটি ও মুর্তার তৈরি সামগ্রীর ব্যবহার বাড়ছে।
শীতলপাটি শুধু একটি কারুশিল্প নয়, এটি গ্রামীণ বাংলার জীবনযাত্রার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত। বাংলার কবি-সাহিত্যিকদের লেখায় বিভিন্ন সময় গ্রামীণ জীবনের অনুষঙ্গ হিসেবে শীতলপাটির উপস্থিতি দেখা যায়।
লোকসংস্কৃতিতে শীতলপাটি ছিল আতিথেয়তা, বিশ্রাম এবং পারিবারিক জীবনের একটি পরিচিত অংশ। বাড়ির উঠানে, বারান্দায় কিংবা গাছের ছায়ায় শীতলপাটি বিছিয়ে বসে গল্প করা ছিল গ্রামবাংলার স্বাভাবিক দৃশ্য।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনকথার সঙ্গেও শীতলপাটির একটি সুন্দর স্মৃতি জড়িয়ে আছে। কথিত আছে, দৌলতপুরে গাছের ছায়ায় শীতলপাটি বিছিয়ে বসে তিনি কবিতা ও গান রচনা করতেন। কবি ও তাঁর প্রিয়জন নার্গিসের সম্পর্কের স্মৃতিতেও সেই পরিবেশের উল্লেখ পাওয়া যায়।
১৯১৯ সালে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সিলেট সফরে এসেছিলেন। তাঁর সফরের সময় সিলেটের বাঁশ ও বেতের তৈরি চেয়ার, টেবিল, ব্যাগসহ বিভিন্ন কারুশিল্প তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল বলে জানা যায়।
তিনি সিলেটের এসব সামগ্রী কিনে শান্তিনিকেতনে নিয়ে গিয়েছিলেন বলেও ঐতিহাসিক বিবরণে উল্লেখ রয়েছে। সিলেটের বাঁশ-বেতের শিল্পের মধ্যে শীতলপাটি ছিল সবচেয়ে পরিচিত ও জনপ্রিয় সামগ্রীগুলোর একটি।
এই কারণেই শীতলপাটি শুধু সিলেটের একটি পণ্য নয়, বরং বাংলা অঞ্চলের লোকজ শিল্পের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
সিলেটের সামাজিক ও পারিবারিক সংস্কৃতিতেও শীতলপাটির বিশেষ জায়গা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের অনুষ্ঠানে বর-কনেকে উপহার হিসেবে শীতলপাটি দেওয়ার রীতি প্রচলিত।
দেশ-বিদেশ থেকে কেউ সিলেটে বেড়াতে এলে তাঁকেও শীতলপাটি উপহার দেওয়ার সংস্কৃতি ছিল। সম্মানিত অতিথি কিংবা বিশিষ্ট ব্যক্তিকে উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই পাটির ব্যবহার হয়েছে।
আজও কোনো অতিথিকে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কিছু উপহার দিতে হলে শীতলপাটি অন্যতম পছন্দ। ফলে এটি ব্যবহার্য সামগ্রী থেকে ধীরে ধীরে সাংস্কৃতিক স্মারকে পরিণত হয়েছে।
সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় শীতলপাটি তৈরির সঙ্গে মানুষ যুক্ত থাকলেও বালাগঞ্জের শীতলপাটির খ্যাতি আলাদা। বিশ্বনাথ, নবীগঞ্জ, ছাতক, জগন্নাথপুর, বাহুবল, চুনারুঘাট ও বিয়ানীবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার নারী-পুরুষও এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তবে বালাগঞ্জের কারিগররা তাদের সূক্ষ্ম বুনন ও নকশার জন্য বিশেষ পরিচিতি পান। ১৯০৬ সালে কলকাতায় আয়োজিত একটি কারুশিল্প প্রদর্শনীতে বালাগঞ্জের যদুরাম দাস শীতলপাটির জন্য স্বর্ণপদক লাভ করেন বলে জানা যায়।
এরপরও বিভিন্ন সময়ে এই অঞ্চলের কারিগররা দেশ-বিদেশের প্রদর্শনীতে অংশ নিয়েছেন।
১৯৮২ সালে বালাগঞ্জের কারুশিল্প দেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কারুশিল্প হিসেবে স্বীকৃতি পায়। ১৯৯১ সালে ইতালির রোমে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কারুশিল্প প্রদর্শনীতেও বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে বালাগঞ্জের শীতলপাটি। বিলবাড়ি গ্রামের মনীন্দ্রনাথ সেখানে শীতলপাটি নিয়ে অংশ নেন এবং দৃষ্টিনন্দন বুননের জন্য প্রশংসা অর্জন করেন।
শীতলপাটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় অর্জন আসে ২০১৭ সালে। ওই বছর সিলেটের ঐতিহ্যবাহী শীতলপাটি বুননশিল্প ইউনেস্কোর অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বশীল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়।
এই স্বীকৃতি শুধু একটি পণ্যের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নয়। এর মাধ্যমে শীতলপাটি তৈরির সঙ্গে যুক্ত শত শত বছরের জ্ঞান, দক্ষতা, নকশা, জীবনধারা এবং কারিগরদের ঐতিহ্যও বিশ্বপরিসরে পরিচিতি পায়।
ফলে সিলেটের শীতলপাটি এখন বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ লোকজ ঐতিহ্য হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।
একসময় সিলেটের গ্রামীণ এলাকায় শীতলপাটি তৈরি ছিল বহু পরিবারের প্রধান জীবিকা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সেই চিত্র বদলে গেছে।
সবচেয়ে বড় সমস্যা হয়েছে মুর্তা গাছের সংকট। নব্বইয়ের দশক পর্যন্ত শীতলপাটির প্রধান কাঁচামাল মুর্তা তুলনামূলক সহজে পাওয়া যেত। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বসতি সম্প্রসারণ এবং কৃষিজমির পরিবর্তনের কারণে অনেক মুর্তা বাগান কমে গেছে।
ফলে কারিগরদের কাঁচামাল সংগ্রহ করতে বেশি খরচ হচ্ছে। উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং শীতলপাটির দামও বাড়ছে। অনেক পুরনো কারিগর বাধ্য হয়ে পেশা পরিবর্তন করছেন।
শুধু কাঁচামাল নয়, নতুন প্রজন্মের মধ্যে এই পেশায় আগ্রহ কমে যাওয়াও বড় সমস্যা। দীর্ঘ সময় ধরে হাতে কাজ করে একটি উন্নতমানের শীতলপাটি তৈরি করতে হয়। অথচ সেই পরিশ্রমের তুলনায় কারিগররা সবসময় ন্যায্য মূল্য পান না।
শীতলপাটি শিল্প টিকিয়ে রাখতে হলে প্রথমেই মুর্তা গাছের চাষ বাড়াতে হবে। আশির দশকে সিলেটের কৃষকদের মুর্তা চাষে উৎসাহিত করার জন্য ঋণ দেওয়ার উদ্যোগের কথা জানা যায়। কিন্তু সেই উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী হয়নি।
১৯৮৫ সালে বিয়ানীবাজারে বেসরকারি উদ্যোগে বাণিজ্যিকভাবে মুর্তা চাষ শুরু হলেও কয়েক বছরের মধ্যেই তা বন্ধ হয়ে যায়।
এখন প্রয়োজন পরিকল্পিতভাবে মুর্তা বাগান তৈরি করা। কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও সহজ শর্তে ঋণ দেওয়া গেলে একদিকে যেমন কাঁচামালের সংকট কমবে, অন্যদিকে স্থানীয় কৃষকরাও নতুন আয়ের সুযোগ পাবেন।
আধুনিক সময়ে মানুষ পরিবেশবান্ধব ও প্রাকৃতিক উপকরণ দিয়ে তৈরি পণ্যের দিকে আবারও ঝুঁকছে। প্লাস্টিক ও কৃত্রিম উপকরণের বদলে বাঁশ, বেত, মুর্তা ও অন্যান্য প্রাকৃতিক উপাদানের তৈরি সামগ্রীর চাহিদা বাড়ছে।
এই পরিবর্তিত বাজারে বাংলাদেশের শীতলপাটির বড় সম্ভাবনা রয়েছে। নকশায় আধুনিকতা আনা, উন্নত প্যাকেজিং, অনলাইন বিপণন এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচারের মাধ্যমে শীতলপাটিকে নতুন প্রজন্মের কাছে জনপ্রিয় করা সম্ভব।
একই সঙ্গে কারিগরদের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করাও জরুরি। কারণ কারিগর বাঁচলে তবেই বাঁচবে এই শিল্প।
আজ সিলেটের বিভিন্ন বাজারে এখনও শীতলপাটি পাওয়া যায়। বন্দরবাজার, মহাজনপট্টি ও শাহজালাল (রহ.)-এর দরগাহ এলাকার কারুশিল্পের দোকানগুলোতে বিভিন্ন মান ও নকশার পাটি বিক্রি হয়। দামও নকশা, আকার ও কারিগরি মান অনুযায়ী ভিন্ন।
পর্যটকদের কাছেও শীতলপাটির আকর্ষণ রয়েছে। কেউ ঘরের জন্য কেনেন, কেউ উপহার হিসেবে নিয়ে যান। কিন্তু চাহিদা থাকা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় অনেক সময় ক্রেতারা পছন্দমতো পাটি পান না।
শীতলপাটির ইতিহাস তাই একদিকে গৌরবের, অন্যদিকে সতর্কবার্তার। যে শিল্প একসময় মুঘল দরবারে সম্মান পেয়েছে, রানি ভিক্টোরিয়ার রাজপ্রাসাদে জায়গা করে নিয়েছে এবং আজ ইউনেস্কোর স্বীকৃত ঐতিহ্য—সেই শিল্প যদি কাঁচামাল ও পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে হারিয়ে যায়, তা হবে বাংলাদেশের লোকজ সংস্কৃতির জন্য বড় ক্ষতি।
শীতলপাটি শুধু মুর্তার সরু বেতি দিয়ে তৈরি একটি পাটি নয়। এর প্রতিটি বুননে মিশে আছে সিলেটের মানুষের শ্রম, মেধা, সৌন্দর্যবোধ এবং বহু প্রজন্মের অভিজ্ঞতা। তাই এই ঐতিহ্যকে বাঁচাতে মুর্তা চাষ বাড়ানো, কারিগরদের প্রশিক্ষণ ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা, সরকারি-বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রচারের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
তাহলেই রানি ভিক্টোরিয়ার রাজপ্রাসাদ থেকে ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকা পর্যন্ত যে শীতলপাটির দীর্ঘ যাত্রা, তা থেমে যাবে না। বরং নতুন প্রজন্মের হাত ধরে সিলেটের এই অনন্য কারুশিল্প আবারও বিশ্ববাজারে নিজের জায়গা করে নিতে পারবে।



