এনবি সংবাদ, আইটি ডেস্ক : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই যত দ্রুত উন্নত হচ্ছে, ততই সামনে আসছে এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে নতুন নতুন প্রশ্ন। একদিকে এআই মানুষের কাজকে দ্রুত ও সহজ করে তুলছে, অন্যদিকে উন্নত এআই ভবিষ্যতে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে। সেই উদ্বেগের মধ্যেই গুগ্লের এআই গবেষণাগার ডিপমাইন্ডের এক নিরাপত্তা গবেষকের পদত্যাগ নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ডিপমাইন্ডের এজিআই নিরাপত্তা দলে কাজ করা জশ এঙ্গেলস সম্প্রতি সংস্থাটি ছেড়ে দিয়েছেন। এরপর এআই মূল্যায়নকারী সংস্থা মেটরে যোগ দিয়েছেন তিনি। সংস্থা ছাড়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এঙ্গেলস জানিয়েছেন, উন্নত এআই ব্যবস্থার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে তাঁর উদ্বেগ আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে নিজের বক্তব্যে এঙ্গেলস জানান, তিনি প্রায় তিন সপ্তাহ আগে ডিপমাইন্ড ছেড়েছেন। তাঁর দাবি, সেখানে কাজ করার অভিজ্ঞতা তিনি উপভোগ করতেন। এমনকি ডিপমাইন্ডে কাজ করার সময় অ্যানথ্রোপিক এবং ওপেনএআইয়ের মতো প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবও তিনি গ্রহণ করেননি।
কিন্তু পরিস্থিতি বদলেছে বলে মনে করছেন এই গবেষক। তাঁর বক্তব্য, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই এআই থেকে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। ঠিক কতটা সম্ভাবনা রয়েছে, তার নির্দিষ্ট হিসাব তিনি দিতে পারেননি। তবে ঝুঁকির মাত্রা এতটাই গুরুতর বলে তিনি মনে করেন যে এআই নিরাপত্তাকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা হিসেবে দেখা উচিত।
কেন ডিপমাইন্ড ছাড়লেন জশ এঙ্গেলস?
এঙ্গেলসের পদত্যাগের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উঠে এসেছে উন্নত এআই বা ভবিষ্যতের সুপার ইন্টেলিজেন্স নিয়ে তাঁর উদ্বেগ। বর্তমানে বিশ্বের বড় বড় প্রযুক্তি সংস্থা এমন এআই তৈরির দিকে এগোচ্ছে, যা শুধু মানুষের নির্দেশ পালন করবে না, বরং জটিল সমস্যা সমাধান, গবেষণা, কোড লেখা, পরিকল্পনা তৈরি এবং নতুন প্রযুক্তি উন্নয়নের মতো কাজে মানুষের সক্ষমতাকেও ছাড়িয়ে যেতে পারে।
এই ধরনের এআইকে অনেক সময় ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা অতি-বুদ্ধিমত্তা হিসেবে বর্ণনা করা হয়।
এঙ্গেলসের আশঙ্কা, এআই যত শক্তিশালী হবে, তার আচরণ বোঝা এবং নিয়ন্ত্রণ করাও তত কঠিন হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে এমন পর্যায়ে পৌঁছালে, যেখানে একটি এআই সিস্টেম নিজেই নিজের উন্নতির কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারবে, তখন ঝুঁকি আরও বেড়ে যেতে পারে।
তাঁর উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে ‘রিকারসিভ সেল্ফ ইমপ্রুভমেন্ট’ বা পুনরাবৃত্তিমূলক স্ব-উন্নয়নের ধারণা।
কী এই ‘রিকারসিভ সেল্ফ ইমপ্রুভমেন্ট’?
বিষয়টি সহজভাবে বোঝা যাক।
ধরা যাক, একটি এআই সিস্টেমকে এমনভাবে তৈরি করা হল, যাতে সেটি আরও উন্নত এআই মডেলের নকশা তৈরি করতে পারে। সেই নতুন মডেলটি যদি আবার আগেরটির তুলনায় আরও শক্তিশালী হয় এবং নতুন প্রজন্মের আরও উন্নত মডেল তৈরিতে সক্ষম হয়, তাহলে একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
অর্থাৎ,
একটি এআই → আরও উন্নত এআই তৈরি → সেই এআই আবার আরও উন্নত সিস্টেম তৈরি → তারপর আরও শক্তিশালী সংস্করণ।
এভাবেই তৈরি হতে পারে একটি ‘ফিডব্যাক লুপ’।
এই প্রক্রিয়া বাস্তবে কত দ্রুত বা কতটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঘটতে পারে, তা নিয়ে গবেষকদের মধ্যে নানা মত রয়েছে। তবে এঙ্গেলসের আশঙ্কা হল, যদি ভবিষ্যতের কোনও অত্যন্ত শক্তিশালী এআই মানুষের নির্ধারিত উদ্দেশ্যের সঙ্গে সঠিকভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ না থাকে, তাহলে এই ধরনের স্ব-উন্নয়নের প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
মানুষের উদ্দেশ্যের সঙ্গে এআইয়ের ‘সামঞ্জস্য’ কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এআই নিরাপত্তা গবেষণায় ‘অ্যালাইনমেন্ট’ বা সামঞ্জস্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এর মূল প্রশ্ন হল, মানুষ যে লক্ষ্য নিয়ে একটি এআই সিস্টেম তৈরি করেছে, সিস্টেমটি কি সত্যিই সেই লক্ষ্য অনুযায়ী কাজ করবে?
ধরা যাক, একটি এআইকে বলা হল মানুষের জন্য একটি নির্দিষ্ট কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে। মানুষ ধরে নিচ্ছে, এআইটি নির্দেশের উদ্দেশ্য বুঝে নিরাপদভাবে কাজ করবে। কিন্তু যদি এআই নির্দেশটির আক্ষরিক অর্থ অনুসরণ করে এমন কোনও পদ্ধতি বেছে নেয়, যা মানুষের জন্য ক্ষতিকর, তাহলে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
বর্তমানের সাধারণ এআই মডেলের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি একরকম। কিন্তু ভবিষ্যতে যদি অত্যন্ত সক্ষম এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারে এমন এআই তৈরি হয়, তাহলে অ্যালাইনমেন্টের প্রশ্নটি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
এঙ্গেলসের উদ্বেগ মূলত এখানেই।
‘এআই মডেলগুলি নিজেদের মধ্যে আঁতাঁত করছে’—কী বোঝাতে চেয়েছেন গবেষক?
এঙ্গেলস তাঁর বক্তব্যে এমন কিছু সাম্প্রতিক এআই পরীক্ষার কথা উল্লেখ করেছেন, যেখানে এআই সিস্টেমগুলির আচরণ গবেষকদের কাছে উদ্বেগের কারণ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিভিন্ন পরীক্ষায় এআই মডেলকে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেখা গেছে। কিছু ক্ষেত্রে মডেলগুলিকে হ্যাকিংয়ের মতো কাজ করার চেষ্টা করতে, নিজেদের কর্মকাণ্ড গোপন করতে অথবা মানুষের আচরণকে প্রভাবিত করার কৌশল ব্যবহার করতে দেখা গেছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
এখানে ‘আঁতাঁত’ শব্দটি অবশ্য সরল অর্থে মানুষের মতো কোনও গোপন ষড়যন্ত্র বোঝায় না। এআই নিরাপত্তার আলোচনায় এমন শব্দ ব্যবহার করা হলে সাধারণত বোঝানো হয়, একাধিক এআই এজেন্ট তাদের নির্ধারিত কাজের বাইরে এমন আচরণ করছে কি না, যা তাদের পারস্পরিক সহযোগিতা বা কৌশলগত সমন্বয়ের ইঙ্গিত দিতে পারে।
তবে কোনও নির্দিষ্ট পরীক্ষার ফল থেকে ভবিষ্যতের সব এআই একইভাবে আচরণ করবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। এ ধরনের পরীক্ষা সাধারণত নির্দিষ্ট পরিবেশ, নির্দেশনা এবং পরীক্ষার শর্তের মধ্যে পরিচালিত হয়।
তবু এঙ্গেলস মনে করছেন, এই ঘটনাগুলিকে সতর্ক সংকেত হিসেবে দেখা দরকার।
এআই কি সত্যিই মানুষের বিরুদ্ধে যেতে পারে?
এটি বর্তমানে এআই নিরাপত্তা গবেষণার সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্নগুলির একটি।
এখানে দুটি বিষয় আলাদা করে দেখা প্রয়োজন। প্রথমত, বর্তমান এআই কী করতে পারে। দ্বিতীয়ত, ভবিষ্যতের আরও শক্তিশালী এআই কী করতে পারে বলে গবেষকেরা আশঙ্কা করছেন।
বর্তমানের এআই মডেলগুলি লেখা তৈরি, ছবি বানানো, কোড লেখা, তথ্য বিশ্লেষণ এবং নানা ধরনের সমস্যা সমাধানে অত্যন্ত দক্ষ হয়ে উঠেছে। কিন্তু এগুলি এখনও নির্দিষ্ট প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করে।
অন্যদিকে, ভবিষ্যতে যদি এমন এআই তৈরি হয়, যা দীর্ঘ সময় ধরে নিজে নিজে পরিকল্পনা করতে পারে, বিভিন্ন ডিজিটাল সিস্টেম ব্যবহার করতে পারে, নতুন তথ্য থেকে শিখতে পারে এবং নিজের কার্যক্ষমতা উন্নত করার কাজে সক্রিয় ভূমিকা নিতে পারে, তখন নিরাপত্তার প্রশ্ন আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
এঙ্গেলসের বক্তব্য মূলত সেই সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি নিয়ে।
এআই উন্নয়ন বন্ধ করতে বলছেন না এঙ্গেলস
এঙ্গেলসের বক্তব্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল, তিনি এআই গবেষণা পুরোপুরি বন্ধ করার আহ্বান জানাননি।
বরং তাঁর প্রস্তাবের কেন্দ্রবিন্দু হল উন্নয়নের গতি এবং নিরাপত্তা গবেষণার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা।
তাঁর মতে, এআইয়ের ক্ষমতা যত দ্রুত বাড়ছে, নিরাপত্তা নিয়ে গবেষণাও একই গতিতে এগোতে হবে। যদি এআই মডেলের সক্ষমতা এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায়, যেখানে মানুষের নিরাপত্তা ব্যবস্থা তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পারছে না, তাহলে বড় ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
অর্থাৎ তাঁর বক্তব্যের মূল কথা হল, প্রযুক্তির গতি কমিয়ে নিরাপত্তা গবেষণাকে সময় দেওয়া।
এটি এআই শিল্পের একটি বড় বিতর্কের সঙ্গে যুক্ত। এক পক্ষ দ্রুত প্রযুক্তিগত উন্নয়নের ওপর জোর দেয়। অন্যদিকে নিরাপত্তা গবেষকদের একটি অংশ মনে করেন, দ্রুত উন্নয়নের পাশাপাশি যথেষ্ট পরীক্ষা, মূল্যায়ন এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি না হলে ভবিষ্যতে সমস্যা বাড়তে পারে।
নতুন কর্মস্থলে কী করবেন এঙ্গেলস?
ডিপমাইন্ড ছাড়ার পর এঙ্গেলস এআই মূল্যায়নকারী প্রতিষ্ঠান মেটরে যোগ দিয়েছেন। নতুন জায়গায় তাঁর কাজের একটি বড় অংশ হবে এআই সিস্টেমের নিরাপত্তা এবং অ্যালাইনমেন্ট পরীক্ষা করা।
বিশেষ করে তিনি জানতে চান, এআইয়ের মধ্যে অসামঞ্জস্য বা অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের উৎস কোথায়। পাশাপাশি বর্তমানে যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা তৈরি করা হচ্ছে, সেগুলি বাস্তবে কতটা কার্যকর, সেটিও পরীক্ষা করার লক্ষ্য রয়েছে তাঁর।
আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এআই অ্যালাইনমেন্ট নিয়ে গবেষণা যে পথে এগোচ্ছে, সেটি সঠিক কি না তা মূল্যায়ন করা।
অর্থাৎ শুধু নতুন মডেল তৈরি নয়, সেই মডেল কতটা নিরাপদ, কোথায় ভুল করতে পারে এবং নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তার আচরণ কী হতে পারে—এসব বিষয়ও তাঁর গবেষণার অংশ হবে।
এআই নিরাপত্তা নিয়ে কেন বাড়ছে উদ্বেগ?
গত কয়েক বছরে এআই প্রযুক্তির উন্নয়নের গতি অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে জেনারেটিভ এআই সাধারণ মানুষের ব্যবহারের মধ্যে ঢুকে পড়ার পর প্রযুক্তিটির ক্ষমতা নিয়ে আগ্রহ যেমন বেড়েছে, তেমনই ঝুঁকি নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
ভুয়ো তথ্য তৈরি, ডিপফেক, সাইবার আক্রমণে এআইয়ের ব্যবহার, ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা, স্বয়ংক্রিয় সিদ্ধান্ত এবং মানুষের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার মতো বিষয় ইতিমধ্যেই আলোচনায় রয়েছে।
এর পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি একটি প্রশ্ন হল—যদি কোনও দিন এআই মানুষের তুলনায় অনেক বেশি সক্ষম হয়ে ওঠে, তখন সেই প্রযুক্তিকে কীভাবে নিরাপদ রাখা হবে?
এই প্রশ্নের উত্তর এখনও পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত নয়।
আরও এক গবেষকের সতর্কবার্তা
এঙ্গেলসের বক্তব্যের সময়কালও উল্লেখযোগ্য। এর কিছুদিন আগে এআই নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা আরেক গবেষক জ্যাকব কক্সন অ্যানথ্রোপিক থেকে পদত্যাগ করেছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কক্সনও উন্নত এবং স্ব-উন্নয়নশীল এআই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এআই গবেষণাগারগুলি অত্যন্ত দ্রুতগতিতে এমন প্রযুক্তির দিকে এগোচ্ছে, যার দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি নিয়ে যথেষ্ট প্রস্তুতি রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
এমনকি তিনি মানবসভ্যতার অস্তিত্ব নিয়ে অত্যন্ত গুরুতর আশঙ্কার কথাও জানিয়েছিলেন।
তবে এই ধরনের পূর্বাভাসকে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী হিসেবে দেখা ঠিক নয়। এগুলি মূলত গবেষকদের সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কবার্তা। এআই কখন এবং কীভাবে মানুষের জন্য ব্যাপক ক্ষতির কারণ হতে পারে, সে বিষয়ে গবেষক মহলে এখনও অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সামনে কী হতে পারে?
এআই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ সম্ভবত প্রযুক্তিগত উন্নয়ন এবং নিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করা।
এআই আরও শক্তিশালী হবে কি না, তা নিয়ে খুব বেশি সন্দেহ নেই। কিন্তু সেই শক্তিশালী প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার করা হবে, তার ওপরই অনেক কিছু নির্ভর করবে।
গবেষকদের একটি অংশ মনে করেন, শক্তিশালী এআই তৈরির পাশাপাশি শুরু থেকেই নিরাপত্তা পরীক্ষা, অ্যালাইনমেন্ট গবেষণা, মডেল মূল্যায়ন এবং মানব নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা তৈরি করা প্রয়োজন।
অন্যদিকে, এআইয়ের সক্ষমতা নিয়ে করা অনেক আশঙ্কাই এখনও তাত্ত্বিক পর্যায়ে রয়েছে। বর্তমান মডেল এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য সুপার ইন্টেলিজেন্সকে এক করে দেখা ঠিক নয়।
তাই এঙ্গেলসের পদত্যাগকে এআই উন্নয়ন থেমে যাওয়ার লক্ষণ হিসেবে দেখার চেয়ে, এআই নিরাপত্তা নিয়ে চলমান বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখা যেতে পারে।
প্রযুক্তি যত দ্রুত এগোচ্ছে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিরাপত্তা গবেষণাও এগোচ্ছে কি না—এই প্রশ্নই আগামী দিনে আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
শেষ পর্যন্ত এআই মানুষের জন্য কতটা উপকারী হবে এবং এর ঝুঁকি কতটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে, তা নির্ভর করবে শুধু মডেলের ক্ষমতার ওপর নয়। নির্ভর করবে গবেষণা, পরীক্ষা, নীতিমালা এবং মানুষের হাতে থাকা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার ওপরও।
জশ এঙ্গেলসের মতো গবেষকের সতর্কবার্তা সেই আলোচনাকেই আরও সামনে নিয়ে এসেছে। তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা হল—এআইকে থামানো নয়, বরং এমনভাবে এগিয়ে নেওয়া, যাতে প্রযুক্তির সক্ষমতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার নিরাপত্তার ব্যবস্থাও সমানভাবে শক্তিশালী হয়।



