এনবি সংবাদ,স্পোটস ডেস্ক : ফ্রিকিক থেকে গোল করা লিওনেল মেসির কাছে নতুন কিছু নয়। কিন্তু কলম্বাস ক্রুর বিরুদ্ধে তাঁর সর্বশেষ গোলটি যেন সেই পরিচিত দক্ষতারও এক নতুন উদাহরণ। মাঠের এমন এক জায়গা থেকে সরাসরি শট নিলেন আর্জেন্টাইন তারকা, যেখান থেকে সাধারণত গোলের বদলে সতীর্থদের উদ্দেশে ক্রসই পাঠানো হয়। মেসি অবশ্য বেছে নিলেন অন্য পথ। বাঁ পায়ের নিখুঁত বাঁকে বল চলে গেল গোলের দূরের কোণে।
গোলটি যতটা দৃষ্টিনন্দন, ম্যাচের ফল ততটাই হতাশাজনক ইন্টার মায়ামির জন্য। মেসির দুর্দান্ত ফ্রিকিক গোলের পরও কলম্বাস ক্রুর কাছে ২–১ গোলে হেরে মাঠ ছাড়তে হয়েছে মায়ামিকে। ম্যাচের ৯৮ মিনিটে জামাল থিয়ারে গোল করে স্বাগতিকদের নাটকীয় জয় এনে দেন।
ম্যাচের ২৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে কলম্বাসকে এগিয়ে দিয়েছিলেন জোসেফ মার্টিনেজ। পাঁচ মিনিট পরেই সমতা ফেরানোর সুযোগ আসে মায়ামির সামনে।
বক্সের ডান দিকে, কর্নার ফ্ল্যাগের বেশ কাছাকাছি জায়গায় ফ্রিকিক পায় ইন্টার মায়ামি। এমন জায়গা থেকে সাধারণত খেলোয়াড়েরা বল বক্সের মধ্যে ভাসিয়ে দেন, যাতে সতীর্থরা হেড বা শট নিতে পারেন।
মেসি সেই প্রচলিত পথ অনুসরণ করলেন না।
সরাসরি গোল লক্ষ্য করে বাঁ পায়ে শট নেন তিনি। বলটি প্রথমে বক্সের দিকে এগিয়ে গিয়ে অসাধারণ বাঁক নেয়। এরপর গোলরক্ষক প্যাট্রিক শুল্টের নাগালের বাইরে দিয়ে দূরের উপরের কোণে গিয়ে জালে জড়িয়ে যায়। ৩৩ মিনিটের সেই গোলেই ১–১ করে ম্যাচে ফেরে ইন্টার মায়ামি।
MLS-এর অফিসিয়াল ম্যাচ কভারেজেও গোলটিকে মেসির দুর্দান্ত ফ্রিকিক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
এই গোলের সঙ্গে আরও একটি পরিসংখ্যান যোগ হয়েছে মেসির ক্যারিয়ারে। বিভিন্ন প্রতিবেদনের হিসাব অনুযায়ী, ক্লাব ও জাতীয় দল মিলিয়ে এটি তাঁর ৭৬তম সরাসরি ফ্রিকিক গোল।
ইন্টার মায়ামির হয়ে সরাসরি ফ্রিকিক থেকে এটি তাঁর ১২তম গোল। একই সঙ্গে ২০২৬ MLS-এর নিয়মিত মরসুমে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১-এ। ইন্টার মায়ামির ম্যাচ রিপোর্টেও ২১ গোলের কথা উল্লেখ করে তাঁকে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে এগিয়ে থাকার কথা বলা হয়েছে।
ফ্রিকিক গোলের সর্বকালীন হিসাব নিয়ে অবশ্য বিভিন্ন সূত্রে কিছু পার্থক্য রয়েছে। প্রচলিত পরিসংখ্যানে ব্রাজিলের প্রাক্তন তারকা মার্সেলিনহো কারিওকার ৭৮টি সরাসরি ফ্রিকিক গোলের কথা উল্লেখ করা হয়। সেই হিসাব ধরলে মেসি রেকর্ডের দুই গোলের মধ্যে চলে এসেছেন।
তবে এই ধরনের রেকর্ডে ‘ফ্রিকিক গোল’ গণনার পদ্ধতি এবং পুরনো ম্যাচের তথ্য নিয়ে উৎসভেদে পার্থক্য থাকতে পারে। তাই সংখ্যাগুলোকে নির্দিষ্ট উৎসের পরিসংখ্যান হিসেবে দেখা বেশি নিরাপদ।
মেসির অসাধারণ গোলের পর ম্যাচে সমতা ফিরে আসে। বিরতির সময় স্কোর ছিল ১–১। দ্বিতীয়ার্ধেও ইন্টার মায়ামি ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয় তাদের হাতে ধরা দেয়নি।
ম্যাচের শেষদিকে মায়ামির বদলি খেলোয়াড় সান্তিয়াগো মোরালেস লাল কার্ড দেখেন। এরপর অতিরিক্ত সময়ের অষ্টম মিনিটে জামাল থিয়ারে গোল করেন। গোলরক্ষকের ভুলের সুযোগ নিয়ে তিনি বল জালে পাঠিয়ে দেন। ফলে মেসির অসাধারণ ফ্রিকিকও মায়ামিকে অন্তত এক পয়েন্ট এনে দিতে পারেনি।
কলম্বাস ক্রু শেষ পর্যন্ত ২–১ ব্যবধানে ম্যাচ জিতে নেয়।
ম্যাচ শেষ হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মেসির ফ্রিকিক নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে যে কোণ থেকে তিনি শটটি নিয়েছিলেন, সেটিই গোলটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
মাঠের ডান প্রান্তে বল যখন রাখা হয়, তখন গোলের সরাসরি রাস্তা প্রায় বন্ধ বলেই মনে হচ্ছিল। বক্সের সামনে থাকা খেলোয়াড় এবং গোলরক্ষক—দুজনকেই টপকে বলকে দূরের পোস্টের দিকে পাঠাতে প্রয়োজন ছিল নিখুঁত শক্তি ও বাঁক।
মেসির শটে ঠিক সেটিই দেখা যায়।
MLS-এর ম্যাচ কভারেজেও এই গোলের ভিডিও আলাদাভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল ক্যারিয়ার নিয়েও এখন আবেগ তৈরি হয়েছে। ইন্টার মায়ামির এই ম্যাচের পর তাঁর সামনে রয়েছে আর্জেন্টিনার হয়ে শেষ আন্তর্জাতিক উপস্থিতির প্রস্তুতি। প্রকাশিত ম্যাচ প্রতিবেদনে বেনিনের বিরুদ্ধে ৭ অক্টোবরের প্রীতি ম্যাচকে তাঁর সম্ভাব্য শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলে ক্লাব ফুটবলে মেসির প্রতিটি অসাধারণ মুহূর্তই এখন আলাদা করে আলোচনায় আসছে। কলম্বাসের বিরুদ্ধে ফ্রিকিকটিও তার ব্যতিক্রম নয়।
তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের পাশাপাশি দলের ফলও গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচে মেসি গোল করলেও ইন্টার মায়ামি শেষ পর্যন্ত জয় পায়নি।
ফ্রিকিকের ক্ষেত্রে মেসির দক্ষতা তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত বৈশিষ্ট্য। এবার কলম্বাসের বিরুদ্ধে ৭৬তম সরাসরি ফ্রিকিক গোল করে তিনি প্রচলিত ৭৮ গোলের হিসাবের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন।
অর্থাৎ সামনে আরও দুটি গোল এলে ওই হিসাব অনুযায়ী তিনি মার্সেলিনহো কারিওকার সঙ্গে সমতায় পৌঁছাতে পারেন। আরও একটি গোল তাঁকে সেই সংখ্যার ওপরে নিয়ে যাবে।
তবে রেকর্ডের হিসাব নিয়ে বিভিন্ন উৎসের মধ্যে পার্থক্য থাকায় চূড়ান্ত তুলনার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট পরিসংখ্যানের উৎস উল্লেখ করা জরুরি।
একদিকে ব্যক্তিগত রেকর্ডের দিকে এগিয়ে চলা, অন্যদিকে দলের হার—কলম্বাসের বিরুদ্ধে মেসির রাতটা তাই ছিল একই সঙ্গে অসাধারণ এবং হতাশার। ৩৩ মিনিটের সেই অবিশ্বাস্য ফ্রিকিক অবশ্য ম্যাচের সবচেয়ে স্মরণীয় দৃশ্য হয়ে থাকল।



