এনবি সংবাদ, স্পোটস ডেস্ক : সিরিজ আগেই নিজেদের করে নিয়েছিল ভারত। তবু শেষ ম্যাচে কোনো ঢিলেমি দেখাল না দলটি। বরং অভিষেক শর্মার রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরি এবং বোলারদের দাপটে আফগানিস্তানকে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতেও বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে চুনকাম করল ভারত।
দিল্লির অরুণ জেটলি স্টেডিয়ামে বৃহস্পতিবার প্রথমে ব্যাট করে ২০ ওভারে ২২১ রান তোলে ভারত। অভিষেক শর্মা মাত্র ৩৪ বলে করেন ১০৮ রান। তাঁর সঙ্গে সঞ্জু স্যামসনের ৫০ রানের ইনিংস ভারতের বড় সংগ্রহের ভিত তৈরি করে। জবাবে ১৪.১ ওভারে মাত্র ৯৪ রানেই গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান। নীতীশ কুমার রেড্ডি ও রবি বিশ্নোই নেন তিনটি করে উইকেট।
ভারতের ইনিংসের মূল আকর্ষণ ছিলেন অভিষেক শর্মা। শুরু থেকেই আফগান বোলারদের ওপর আক্রমণ চালান বাঁহাতি এই ওপেনার। মাত্র ১৬ বলে অর্ধশতরান পূর্ণ করার পর আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠেন তিনি।
এরপর মাত্র ৩০ বলে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন অভিষেক। এটি ভারতের হয়ে টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরি। এর আগে এই রেকর্ড ছিল রোহিত শর্মার দখলে—২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৫ বলে শতরান করেছিলেন তিনি। অভিষেকের ৩০ বলের সেঞ্চুরি তাঁকে পুরুষদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দ্রুততম শতরানের তালিকায় তৃতীয় স্থানে নিয়ে গেছে।
শেষ পর্যন্ত ৩৪ বলে ১০৮ রান করে ফেরেন অভিষেক। তাঁর ইনিংসে ছিল ৯টি চার ও ১১টি ছক্কা। অর্থাৎ বাউন্ডারি থেকেই আসে ১০২ রান। তাঁর স্ট্রাইক রেট ছিল ৩১৭-এর বেশি।
অভিষেকের সঙ্গে শুরুতে ছিলেন সঞ্জু স্যামসন। অভিষেক যখন একের পর এক বল সীমানার বাইরে পাঠাচ্ছিলেন, সঞ্জুও নিজের মতো করে স্কোরবোর্ড সচল রাখেন।
দুজন মিলে পাওয়ার প্লেতেই ভারতের স্কোর ১০০ পার করে দেন। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ভারতের পাওয়ার প্লেতে এটিই দলটির সর্বোচ্চ স্কোর। অভিষেক একাই প্রথম ছয় ওভারে ৭৬ রান করেন।
অভিষেকের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের সামনে আফগানিস্তানের বোলিং আক্রমণ কার্যত অসহায় হয়ে পড়ে। স্পিনার এনে তাঁকে থামানোর চেষ্টা করা হলেও তাতে বিশেষ লাভ হয়নি।
অভিষেক যখন সেঞ্চুরি করে আরও বড় ইনিংসের দিকে এগোচ্ছিলেন, তখন তাঁকে থামানোর দায়িত্ব নেন রশিদ খান। দশম ওভারে রশিদের বলে বড় শট খেলতে গিয়ে উইকেটকিপার রহমানুল্লাহ গুরবাজের হাতে ক্যাচ দেন অভিষেক।
ততক্ষণে ভারতের স্কোর ১৪০-এর কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছে। অভিষেক ফিরে যাওয়ার পর ভারতের রানের গতি কিছুটা কমে আসে। তিলক বর্মা দ্রুত ফিরে যান। সঞ্জু স্যামসনও অর্ধশতরান পূর্ণ করে আউট হন।
সঞ্জু ৩৪ বলে ৫০ রান করেন। এরপর শিবম দুবে, ঈশান কিশন ও শ্রেয়স আয়াররা ইনিংস এগিয়ে নেন। শেষ দিকে আফগান বোলাররা কয়েকটি উইকেট তুলে নিয়ে ভারতের রান ২২১-এ আটকে দেয়।
একসময় ভারতের স্কোর ৩০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও শেষ দিকে নিয়মিত উইকেট পড়ায় সেই গতি ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত ২০ ওভারে ২২১/৭ রান করে ভারত।
২২২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আফগানিস্তান শুরুটা খারাপ করেনি। প্রথম কয়েক ওভারে দ্রুত রান তুলে ভারতের বোলারদের ওপর চাপ তৈরি করার চেষ্টা করে তারা।
কিন্তু সেই আক্রমণ বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। রহমানুল্লাহ গুরবাজ ১৫ রান করে ফেরার পর ইব্রাহিম জাদরান করেন ২৫। এরপর একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে আফগানিস্তান।
ভারতের বোলিং আক্রমণের সামনে আফগান ব্যাটাররা নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারান। শেষ পর্যন্ত মাত্র ৯৪ রানে অলআউট হয়ে যায় তারা। ফলে ১২৭ রানের বড় জয় পায় ভারত।
ভারতের হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন নীতীশ কুমার রেড্ডি ও রবি বিশ্নোই। দুজনেই তিনটি করে উইকেট নেন। নীতীশ ২৫ রানে এবং বিশ্নোই ২৬ রানে তিনটি করে উইকেট পান।
অক্ষর পটেল নেন দুটি উইকেট। জসপ্রীত বুমরাহ ও যশ ঠাকুর একটি করে উইকেট শিকার করেন। ভারতের বোলিং এতটাই কার্যকর ছিল যে বুমরাহকে দুই ওভারের বেশি বল করার প্রয়োজন হয়নি।
তিন ম্যাচের সিরিজে আফগানিস্তান কোনো ম্যাচেই ভারতের বিরুদ্ধে জয়ের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। প্রথম দুই ম্যাচে ভারত সিরিজ নিশ্চিত করার পর শেষ ম্যাচেও একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
তৃতীয় ম্যাচে অভিষেকের রেকর্ড সেঞ্চুরি যেমন ভারতের ব্যাটিংয়ের শক্তি দেখিয়েছে, তেমনই নীতীশ ও বিশ্নোইয়ের বোলিং আফগানিস্তানের ব্যাটিংয়ের দুর্বলতা সামনে এনেছে।
অভিজ্ঞ রশিদ খান ও মোহাম্মদ নবির মতো ক্রিকেটাররাও শেষ ম্যাচে নিজেদের প্রভাব তৈরি করতে পারেননি। অন্যদিকে ভারতের তরুণ ক্রিকেটারদের পাশাপাশি অভিজ্ঞদের পারফরম্যান্সে সিরিজের শেষ ম্যাচটিও একতরফা হয়ে যায়।
তিন ম্যাচের সিরিজে অভিষেক শর্মার পারফরম্যান্সও ছিল আলোচনায়। প্রথম দুই ম্যাচেও তিনি ভালো রান করেছিলেন। শেষ ম্যাচে এসে সেটিকে রেকর্ড সেঞ্চুরিতে পরিণত করেন।
৩০ বলে শতরান করে তিনি শুধু ভারতের দ্রুততম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির রেকর্ডই ভাঙেননি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও দ্রুততম শতরানের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন।
সব মিলিয়ে সিরিজের শেষ ম্যাচে ভারত পেয়েছে ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগেই দাপুটে পারফরম্যান্স। অভিষেকের ১০৮ রানের ঝড়ের পর বোলাররা আফগানিস্তানকে ৯৪ রানে আটকে দেন। ফলে ১২৭ রানের জয় দিয়ে ৩-০ ব্যবধানে সিরিজ শেষ করল ভারত।



