রাহুল রাহা, এনবি সংবাদ, দিল্লি থেকে : বলিউড অভিনেতা ইমরান খানকে ভারত ছাড়ার নোটিস দিল মুম্বই পুলিশ! আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে ‘জানে তু ইয়া জানে না’ খ্যাত অভিনেতাকে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত এক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পরই তাঁকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। আমির খানের ভাগ্নে ইমরান কেন পুলিশের পদক্ষেপের মুখে পড়লেন, তা নিয়ে শুরু হয়েছে আলোচনা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর মুম্বইয়ে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র সমর্থনে আয়োজিত একটি প্রতিবাদ মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন ইমরান। তাঁর সঙ্গে ছিলেন অভিনেতার প্রেমিকা লেখা ওয়াশিংটন এবং তুতো বোন জ়েন মেরি খান। ওই কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার পর পুলিশ তাঁদের আটক করে। পরে অভিনেতাকে দেশ ছাড়ার নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পুলিশের পদক্ষেপের পিছনে ইমরানের নাগরিকত্ব এবং অভিবাসন সংক্রান্ত আইনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই নোটিসের সুনির্দিষ্ট আইনি ভিত্তি এবং অভিনেতার পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানা জরুরি।
গত ১০ অক্টোবর মুম্বইয়ে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপির সমর্থনে আয়োজিত এই কর্মসূচিতে অংশ নেন অভিনেতা ইমরান খান। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন লেখা ওয়াশিংটন ও জ়েন মেরি খান।
সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের সূত্র উদ্ধৃত করে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই বিক্ষোভস্থল থেকে প্রায় ৬০০ জনকে আটক করেছিল পুলিশ। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ইমরান, লেখা এবং জ়েনও ছিলেন।
এই ঘটনার পর অভিনেতাকে ঘিরে বিতর্ক আরও বাড়ে। বিশেষ করে, ইমরান ভারতীয় নাগরিক নন বলে যে তথ্য প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, তার সঙ্গে অভিবাসন আইনের বিষয়টি যুক্ত হয়েছে। সেই কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে পৃথক পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।
বিক্ষোভের ঘটনায় মুম্বই পুলিশের গাওদেবী থানায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একাধিক ধারায় এই মামলা করা হয়।
অভিযোগের মধ্যে ছিল সরকারি নির্দেশ অমান্য করা, অন্যায়ভাবে বাধা সৃষ্টি করা এবং বেআইনি জমায়েতে অংশ নেওয়ার মতো বিষয়। প্রতিবেদনে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ২২৩, ১২৬(২), ১৮৯(২), ১৮৯(৩) ও ১৮৯(৫) ধারার উল্লেখ করা হয়েছে।
পুলিশকর্মীদের তরফেই এই ঘটনায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল বলে জানা যায়। তবে এফআইআর দায়ের হওয়া মানেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া নয়। মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের উপরই বিষয়টির অগ্রগতি নির্ভর করবে।
আটক হওয়ার পর সমাজমাধ্যমে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিয়েছিলেন ইমরান খান। পুলিশের ভ্যানের ভিতর থেকে তোলা একটি ছবি পোস্ট করে মজার ছলে তিনি লিখেছিলেন, “মনে হচ্ছে গাড়ি নিয়ে কোথাও ঘুরতে যাচ্ছি!”
ঘটনার পরিস্থিতির মধ্যেও অভিনেতার এই রসিকতাপূর্ণ মন্তব্য নজর কাড়ে নেটিজেনদের। ছবির পাশাপাশি একটি ভিডিয়োও ছড়িয়ে পড়ে সমাজমাধ্যমে। সেখানে পুলিশের উদ্দেশে তাঁকে ‘জয় হিন্দ’ বলতে শোনা যায়।
অন্য একটি ভিডিয়োয় আটক হওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে ইমরান বলেন, কেন তাঁকে আটক করা হয়েছে, তা তিনি বুঝতে পারেননি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ তাঁদের রাস্তা থেকে তুলে ভ্যানে বসতে বলে।
অভিনেতা আরও দাবি করেন, মুক্তি দেওয়ার আগে তাঁকে এবং অন্যদের প্রায় দু’ঘণ্টা ধরে পুলিশের ভ্যানে ঘোরানো হয়েছিল। তবে এই বিষয়ে পুলিশের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য এবং ঘটনার সব দিক স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
ইমরান খানকে আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে ভারত ছাড়তে বলা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ভারতীয় নাগরিক না হওয়া সত্ত্বেও বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার বিষয়টি তাঁর বিরুদ্ধে অভিবাসন আইনের আওতায় পদক্ষেপের কারণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে অভিনেতার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে। তিনি নোটিসের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করবেন কি না, কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে কোনও ব্যাখ্যা দেবেন কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি শুধু একজন অভিনেতার বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার ঘটনা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে নাগরিকত্ব, অভিবাসন বিধি এবং প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আইনি দিক। তাই নোটিসের প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্ট আইনি নথি সামনে আসার পরই পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া সম্ভব।
ইমরান খান বলিউডে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন ২০০৮ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জানে তু ইয়া জানে না’ ছবির মাধ্যমে। আমির খানের ভাগ্নে ইমরান এই ছবিতে জেনেলিয়া ডি’সুজ়ার বিপরীতে অভিনয় করেছিলেন। ছবিটি দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। তরুণ প্রজন্মের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন ইমরান।
এরপর ‘ডেলি বেলি’, ‘আই হেট লভ স্টোরিজ়’ এবং ‘গোরি তেরে পেয়ার মে’-র মতো ছবিতে অভিনয় করেন তিনি। রোম্যান্টিক চরিত্রে তাঁর উপস্থিতি দর্শকদের নজর কাড়লেও পরবর্তী সময়ে প্রত্যাশিত সাফল্য ধরে রাখতে পারেননি।
একসময় অভিনয় থেকে দূরে সরে যান ইমরান। তবে কয়েক বছর আগে থেকেই ফের অভিনয়ে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সেই সময় নতুন কাজের প্রস্তুতির খবরও সামনে আসে।
এর মধ্যেই রাজনৈতিক প্রতিবাদে অংশ নেওয়া এবং তার পর পুলিশের পদক্ষেপের কারণে আবারও সংবাদ শিরোনামে উঠে এলেন অভিনেতা। এখন তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া নোটিসের বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্যের দিকেই নজর থাকবে।



