সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট

Homeবিশ্ব সংবাদযুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার ডিজেল আসছে, জ্বালানির দাম কমবে? ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার ডিজেল আসছে, জ্বালানির দাম কমবে? ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বিতর্ক

যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর মতে, রাশিয়ার সঙ্গে এমন চুক্তি মস্কোর ওপর চাপ কমিয়ে দিতে পারে। যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে রাশিয়াকে জ্বালানি বিক্রির সুযোগ দেওয়া হলে তা ইউক্রেনের জন্য উদ্বেগের কারণ হবে।

এনবি সংবাদ,আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রে রাশিয়ার ডিজেল আমদানির অনুমতি দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর এই উদ্যোগকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য ‘উপহার’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর অভিযোগ, রাশিয়ার সঙ্গে এমন চুক্তি মস্কোর যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে পারে। যুদ্ধ বন্ধে চাপ সৃষ্টি করার পরিবর্তে রাশিয়াকে অর্থনৈতিক সুবিধা দেওয়া উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।

ট্রাম্পের ঘোষণা অনুযায়ী, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক বাজারের জন্য প্রথম ধাপে ৩ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করতে সম্মত হয়েছে। এরপর নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং পরবর্তী সময়ে অতিরিক্ত ১০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের কথা রয়েছে। রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোর পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে স্বল্প সময়ের মধ্যে আরও ৩০ লাখ টন ডিজেল সরবরাহের সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন ট্রাম্প।

তবে এই বিপুল পরিমাণ জ্বালানি কীভাবে এবং কত দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পৌঁছাবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকেরা। একই সঙ্গে এই উদ্যোগের ফলে দেশটির সাধারণ ভোক্তারা জ্বালানির দামে কতটা স্বস্তি পাবেন, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।

ট্রাম্পের ঘোষণার কিছুক্ষণের মধ্যেই রাশিয়ার ডিজেল যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশের অনুমতি দিয়ে সাময়িক লাইসেন্স জারি করে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়। দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাশিয়ার ডিজেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞায় ৭ এপ্রিল পর্যন্ত সাময়িক ছাড় দেওয়া হয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রে জব্দ থাকা রাশিয়ার অন্যান্য সম্পদের ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে।

ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে জানান, রাশিয়া থেকে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানো হলে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোর সক্ষমতা ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তী চালান পাঠানো হবে।

রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনও এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে শুক্রবার ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর আলোচনা হয়েছে। রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রসহ আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য সরবরাহ করতে প্রস্তুত বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তবে সরবরাহের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ সম্পর্কে বিস্তারিত জানাননি পুতিন।

রুশ প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত কিরিল দিমিত্রিয়েভ এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাঁর মতে, জ্বালানি খাতে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা বিশ্ববাসীর জন্য উপকারী হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তাঁর মতে, রাশিয়ার সঙ্গে এমন চুক্তি মস্কোর ওপর চাপ কমিয়ে দিতে পারে। যুদ্ধ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে রাশিয়াকে জ্বালানি বিক্রির সুযোগ দেওয়া হলে তা ইউক্রেনের জন্য উদ্বেগের কারণ হবে।

জেলেনস্কি বলেছেন, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার পেছনে বিনিয়োগ না করে তা বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্য, পুতিনকে উপহার দিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। রাশিয়া জ্বালানি সরবরাহের বিনিময়ে আরও আগ্রাসন চালানোর সুযোগ পেতে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, তাঁর দেশের মানুষের জীবন রক্ষা এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যায্য সমর্থন প্রয়োজন। রাশিয়ার সঙ্গে আলোচনার সময় ওয়াশিংটন শক্ত অবস্থান বজায় রাখবে বলেও প্রত্যাশা করেন তিনি।

জেলেনস্কির বক্তব্যে স্পষ্ট, জ্বালানি সরবরাহের এই সিদ্ধান্তকে তিনি কেবল বাণিজ্যিক উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন না। বরং রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতার সঙ্গে বিষয়টিকে যুক্ত করছেন।

ট্রাম্পের এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানির বাজারে চাপ কমানো। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির সাধারণ মানুষও বাড়তি ব্যয়ের মুখে পড়েছেন। বিশেষ করে ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিবহন ও পণ্য সরবরাহের খরচ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কিন্তু রাশিয়া থেকে ঘোষিত পরিমাণে ডিজেল এলেও তা যুক্তরাষ্ট্রের দৈনিক চাহিদার তুলনায় কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

কুইল্টার শেভিওটের বিনিয়োগ কৌশলবিদ টিম আর্মিটেজের হিসাব অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ঘোষিত ৩ লাখ টন ডিজেল প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেলের সমান। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিদিন ডিজেলের চাহিদা প্রায় ৩৮ লাখ ব্যারেল বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

এই হিসাব অনুযায়ী, প্রথম চালানের পরিমাণ যুক্তরাষ্ট্রের এক দিনের ডিজেল চাহিদার চেয়েও কম। ফলে এই সরবরাহের কারণে দেশটির পাম্পে ডিজেলের দামে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।

আর্মিটেজের মতে, পরবর্তী চালানগুলোর বিষয়ে ঘোষণা থাকলেও মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মূল্যস্ফীতি কমাতে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক চাপ মোকাবিলার প্রচেষ্টা হিসেবেও দেখা যেতে পারে।

তবে জ্বালানির দাম কেবল সরবরাহের পরিমাণের ওপর নির্ভর করে না। আন্তর্জাতিক বাজার, পরিবহন ব্যয়, শোধনাগারের উৎপাদন, কর এবং বাজারের চাহিদাও দামের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই রাশিয়ার ডিজেল আমদানির অনুমতি দিলেই যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।

প্রতিবেদনটিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে প্রতি গ্যালন ডিজেলের গড় দাম ৬ দশমিক ২৮ ডলার। দেশটির অটোমোবাইল সংস্থা এএএ-এর তথ্য অনুসারে, সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে দাম বেড়ে ৬ দশমিক ৫৩ ডলারে উঠেছিল। পরে তা কিছুটা কমেছে।

জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয় বাড়িয়ে দেয়। ডিজেলের ওপর নির্ভরশীল পরিবহন খাতে খরচ বাড়লে পণ্য পরিবহন, সরবরাহ এবং বিভিন্ন পরিষেবার ব্যয়েও প্রভাব পড়তে পারে। ফলে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ানোর একটি কারণ হয়ে উঠতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনের জন্যও বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারলে সাধারণ মানুষের অসন্তোষ বাড়তে পারে। মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন সামনে থাকায় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় রাজনৈতিক আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ার একাধিক তেল শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর ফলে দেশটিতে জ্বালানি উৎপাদন ও সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। চলতি বছর রাশিয়ায় দুই দফায় তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) হিসাব অনুযায়ী, রাশিয়ায় ডিজেল উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমেছে। এই পরিস্থিতিতে দেশটি বিপুল পরিমাণ ডিজেল রপ্তানি করতে পারবে কি না, তা নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।

ট্রাম্প রাশিয়ার তেল শোধনাগারে ইউক্রেনের হামলার সমালোচনা করেছেন। তাঁর মতে, এসব হামলার কারণে জ্বালানির দাম বাড়ছে। তবে জেলেনস্কি পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন, রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলা চালিয়ে আসছে। তার জবাবেই ইউক্রেন রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে।

জেলেনস্কির বক্তব্য, রাশিয়া যদি ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংস না করত, তাহলে ইউক্রেনও রুশ তেল শোধনাগারে হামলা চালাত না।

এই পাল্টাপাল্টি হামলা শুধু যুদ্ধক্ষেত্রেই নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলছে। শোধনাগার ক্ষতিগ্রস্ত হলে উৎপাদন কমতে পারে, আর উৎপাদন কমলে রপ্তানির প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

এই চুক্তির বিনিময়ে রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে কী সুবিধা দেবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের কাছে জানতে চেয়েছে বিবিসি। তবে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চুক্তির শর্ত, সরবরাহের সময়সূচি এবং অর্থনৈতিক বিনিময়ের বিস্তারিত পুরোপুরি জানা যায়নি।

ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া ঘোষণায় বিপুল পরিমাণ ডিজেল সরবরাহের কথা বলা হলেও রাশিয়া ঠিক কোন পথে, কীভাবে এবং কত সময়ের মধ্যে তা সরবরাহ করবে, সে বিষয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ঘোষিত পরিমাণ বাস্তবে সরবরাহ করা সম্ভব কি না, তা নির্ভর করবে রাশিয়ার উৎপাদন সক্ষমতা, শোধনাগারের অবস্থা, রপ্তানি অবকাঠামো এবং আন্তর্জাতিক বাজারের পরিস্থিতির ওপর।

অন্যদিকে, রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্তের রাজনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। ইউক্রেনের বিরুদ্ধে রাশিয়ার যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা দেশগুলো দীর্ঘদিন ধরে মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ বজায় রেখেছে। সেই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের এই সাময়িক ছাড়কে নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

যুক্তরাজ্য সরকার জানিয়েছে, ইউক্রেনের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। দেশটির এক মুখপাত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ইউক্রেনের আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক ও আর্থিক সহায়তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে যুক্তরাজ্য।

একই সঙ্গে রাশিয়ার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা বজায় রাখার কথাও জানিয়েছে দেশটি। যুক্তরাজ্যের বক্তব্য, রাশিয়ার আগ্রাসনের জন্য মস্কোকে মূল্য দিতে হবে এবং ন্যায়সংগত ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

যুক্তরাজ্য সরকারের ওই মুখপাত্র আরও বলেছেন, রাশিয়া চাইলে যুদ্ধ বন্ধ করতে পারে। যত দিন প্রয়োজন, তত দিন ইউক্রেনকে সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে তাঁদের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকবে।

যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িক ছাড়ের বিপরীতে যুক্তরাজ্যের এই বক্তব্য পশ্চিমা মিত্রদের মধ্যে নীতিগত পার্থক্যের বিষয়টি সামনে এনেছে। তবে এই পার্থক্য ভবিষ্যতে নিষেধাজ্ঞা ও জ্বালানি বাণিজ্যে কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

রাশিয়ার ডিজেল সরবরাহের ঘোষণা এলেও আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিবেদনটিতে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারের অন্যতম মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৩ ডলারের ওপরে। ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে এই তেলের দাম ছিল প্রায় ৭৩ ডলার।

জ্বালানির আন্তর্জাতিক দাম বাড়লে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর ব্যয় বৃদ্ধি পায়। এর প্রভাব পরিবহন, উৎপাদন এবং ভোক্তা পর্যায়ের পণ্যমূল্যে পড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রও এর বাইরে নয়।

ট্রাম্প প্রশাসন জ্বালানির দাম কমাতে একাধিক উদ্যোগ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে পেট্রোলের ওপর কেন্দ্রীয় কর সাময়িকভাবে স্থগিত করার বিষয়টি বিবেচনা করা এবং লাল ডিজেল মহাসড়কে ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ঘোষণা রয়েছে। এ ছাড়া জি-৭ জোটের দেশগুলোকে মজুত থেকে ১০ কোটি ব্যারেল তেল ও ডিজেল বাজারে ছাড়তে রাজি করানোর উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি বন্ধের প্রস্তাবেও সমর্থন জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। ফলে রাশিয়ার কাছ থেকে ডিজেল আমদানির নতুন ঘোষণা তাঁর আগের অবস্থানের সঙ্গে কীভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে, তা নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী কংগ্রেস নির্বাচন সামনে। এই নির্বাচনে কংগ্রেসে রিপাবলিকান পার্টি তাদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে কি না, তা রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানির দাম ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।

জ্বালানির দাম বাড়লে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ও বেড়ে যায়। তাই জ্বালানির বাজারে সরবরাহ বাড়ানো এবং দাম কমানোর উদ্যোগ রাজনৈতিকভাবেও গুরুত্ব পেতে পারে। তবে রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি ঘোষণার পেছনে ট্রাম্পের নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য কী, তা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।

সমালোচকদের আশঙ্কা, রাশিয়াকে ডিজেল বিক্রির সুযোগ দিলে দেশটির আয় বাড়তে পারে এবং যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা বজায় রাখতে সুবিধা হতে পারে। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগের সমর্থকেরা যুক্তি দিতে পারেন যে আন্তর্জাতিক সরবরাহ বাড়ানো হলে জ্বালানির বাজারে চাপ কমতে পারে। তবে বাস্তবে কোন প্রভাব কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে সরবরাহের বাস্তবায়ন ও বাজারের প্রতিক্রিয়ার ওপর।

রাশিয়ার ডিজেল আমদানিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাময়িক অনুমতি আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও জ্বালানি বাজারে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে। একদিকে যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম কমানোর চেষ্টা, অন্যদিকে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং ইউক্রেনের যুদ্ধসংক্রান্ত উদ্বেগ—এই তিনটি বিষয় চুক্তিটিকে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে।

তবে ঘোষিত ডিজেলের পরিমাণ, সরবরাহের সময়সূচি এবং চুক্তির বিনিময় শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনও সীমিত। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিজেলের দাম কতটা কমবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।

জেলেনস্কির কাছে এই চুক্তি রাশিয়ার জন্য সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সুবিধা এবং ইউক্রেনের ওপর চাপ বাড়ার আশঙ্কার সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে, ট্রাম্পের ঘোষণার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি বাজারে স্বস্তি আনা। শেষ পর্যন্ত এই উদ্যোগ কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে রাশিয়া বাস্তবে কতটা ডিজেল সরবরাহ করতে পারে এবং সেই সরবরাহ আন্তর্জাতিক বাজারে কী প্রভাব ফেলে তার ওপর।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ