সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট

Homeবিশ্ব সংবাদ‘মার্কিন হামলার জন্য প্রস্তুত, আরও বড় যুদ্ধ হবে’, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর পালটা...

‘মার্কিন হামলার জন্য প্রস্তুত, আরও বড় যুদ্ধ হবে’, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারির পর পালটা বার্তা ইরানের

ইরানি সেনার বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে নতুন করে আক্রমণ হলে পরিস্থিতি আরও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে। তেহরানের সামরিক মুখপাত্রের বক্তব্যে আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ এবং বাহিনীর প্রস্তুতির কথাও উঠে এসেছে।

এনবি সংবাদ,আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : ইরান ও আমেরিকার মধ্যে ফের উত্তেজনা বাড়ছে। ওয়াশিংটন-তেহরান সংঘাতের অবসান এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার বিষয়ে ইরানের প্রস্তাব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অবস্থানের পর পালটা বার্তা দিয়েছে ইরানি সেনা। তেহরানের দাবি, নতুন করে মার্কিন হামলা হলে তার জবাব দেওয়ার জন্য ইরানের সামরিক বাহিনী প্রস্তুত।

সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনা থাকলেও সামরিক হুঁশিয়ারি অব্যাহত রয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর রয়টার্স জানিয়েছিল, ইরান মার্কিন সামরিক চাপ কমানো এবং ইরানের বন্দরগুলির ওপর অবরোধ প্রত্যাহারের শর্তে এক সপ্তাহের মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার প্রস্তুতির কথা জানিয়েছিল।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালীন ইরান-আমেরিকা সংঘাত নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প সতর্ক করেন, শান্তি চুক্তি না হলে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তিনি নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর সম্ভাব্য চুক্তির কথাও উল্লেখ করেন।

এর পরেই ইরানের পক্ষ থেকে সামরিক প্রস্তুতির বার্তা সামনে এসেছে। ইরানি সেনার মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মহম্মদ আকরামিনিয়া এর আগেও জানিয়েছিলেন, নতুন করে আমেরিকার হামলা হলে ইরান আরও শক্তিশালীভাবে জবাব দেবে। সেপ্টেম্বরের ১৭ তারিখে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের ইরানি বাহিনী দুর্বল হয়ে পড়ার দাবিও প্রত্যাখ্যান করেন।

ইরানি সেনার বক্তব্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে নতুন করে আক্রমণ হলে পরিস্থিতি আরও বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে। তেহরানের সামরিক মুখপাত্রের বক্তব্যে আধুনিক সামরিক সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ এবং বাহিনীর প্রস্তুতির কথাও উঠে এসেছে।

আকরামিনিয়া এর আগে জানিয়েছিলেন, নতুন করে আগ্রাসন হলে ইরান আগের তুলনায় আরও দ্রুত ও শক্তিশালীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে। সেপ্টেম্বরের শুরুতে তিনি ইরানের সামরিক কৌশলে পরিবর্তনের কথাও বলেছিলেন।

ইরানের এই অবস্থান শুধু কথার হুঁশিয়ারিতেই সীমাবদ্ধ নয়। হরমুজ প্রণালীকে ঘিরেও তেহরান একাধিকবার নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। ইরানি সেনার বক্তব্য অনুযায়ী, ওই কৌশলগত জলপথের নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার প্রশ্নে তারা নিজেদের অবস্থান বজায় রাখবে।

ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে হরমুজ প্রণালী। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও গ্যাস পরিবহনের ক্ষেত্রে এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে এখানে সামরিক উত্তেজনা তৈরি হলে তার প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজার ও বাণিজ্যেও পড়তে পারে।

জাতিসংঘও হরমুজ প্রণালীর অবাধ চলাচল নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছে। জুলাইয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিয়ো গুতেরেস মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক সংঘাত বন্ধ করে কূটনীতির মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানিয়েছিলেন।

সেপ্টেম্বরের ২২ তারিখে রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের পক্ষ থেকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আমেরিকার কাছে সংঘাত বন্ধের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। তেহরানের প্রতিনিধি দলকে কূটনৈতিক আলোচনার জন্য ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছিল বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ইরান-আমেরিকা সংঘাতের মধ্যে একদিকে সামরিক হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে কূটনৈতিক উদ্যোগ—দুই ছবিই একসঙ্গে দেখা যাচ্ছে। তেহরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খোলার সম্ভাবনার কথা বলেছে, তবে তার সঙ্গে মার্কিন সামরিক চাপ কমানোর শর্ত জুড়ে দিয়েছে।

অন্যদিকে ওয়াশিংটনের বক্তব্যে ইরানের ওপর চাপ বজায় রাখার ইঙ্গিত রয়েছে। ফলে দুই পক্ষের অবস্থানের মধ্যে এখনও বড় ব্যবধান রয়েছে।

এর আগেও দুই দেশের মধ্যে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল। জুলাইয়ে ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আলোচনা চলছে এবং চুক্তির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করেছিলেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে মার্কিন হামলা ফের শুরু হতে পারে।

ইরান ও আমেরিকার সংঘাত নতুন করে তীব্র হলে তার প্রভাব প্রতিবেশী দেশগুলির ওপর পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এর আগের কয়েক দফা সংঘাতে উপসাগরীয় অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটি ও জ্বালানি অবকাঠামোও উত্তেজনার কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল।

রয়টার্সের ৭ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, নতুন করে মার্কিন হামলা হলে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোও ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে বলে ইরান সতর্ক করেছিল।

এ কারণে কূটনৈতিক মহলে হরমুজ প্রণালী ও উপসাগরীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। সংঘাত বাড়লে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান ও আমেরিকা—দুই পক্ষই কঠোর অবস্থানের বার্তা দিচ্ছে। একই সময়ে কূটনৈতিক যোগাযোগের সম্ভাবনাও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ইরান হরমুজ প্রণালী খোলার বিষয়ে শর্তসাপেক্ষে আগ্রহ দেখিয়েছে, আর আন্তর্জাতিক মহল সংঘাত কমিয়ে আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়ে আসছে।

তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুঁশিয়ারি এবং ইরানি সেনার পালটা সতর্কবার্তা থেকে বোঝা যাচ্ছে, পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত অনিশ্চিত। নতুন করে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে সংঘাতের পরিধি বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণে আগামী দিনগুলিতে কূটনৈতিক আলোচনার অগ্রগতি এবং হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতির দিকেই নজর থাকবে আন্তর্জাতিক মহলের।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ