সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট

Homeঅর্থ-বানিজ্যছয় কোটি বাংলাদেশি যে ছয় কারণে নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকিতে

ছয় কোটি বাংলাদেশি যে ছয় কারণে নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকিতে

বিশ্বব্যাংক বলছে, ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে। বেসরকারি বিনিয়োগের দুর্বলতা, আর্থিক খাতের সমস্যা এবং ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলছে।

এনবি সংবাদ, অনলাইন : “আর পারা যাচ্ছে না। বাজারে শাক-সবজি থেকে শুরু করে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ, বাসভাড়া, বাড়িভাড়া—সবকিছুর খরচ যেভাবে বেড়েছে, তাতে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে যাচ্ছে।” ঢাকার মগবাজারের বাসিন্দা একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যমসারির কর্মকর্তা আতিকুর রহমানের কথায় যেন বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। তাঁর অভিযোগ, গত কয়েক বছরে জীবনযাত্রার ব্যয় যেভাবে বেড়েছে, তার তুলনায় আয় বাড়েনি। ফলে মাসের শেষদিকে এসে সঞ্চয় ভাঙতে হচ্ছে, অনেক সময় ধারও করতে হচ্ছে।

আতিকুরের মতো পরিস্থিতিতে থাকা মানুষের সংখ্যা বাংলাদেশে কম নয়। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান, জ্বালানি সংকট এবং আর্থিক খাতের দুর্বলতার কারণে দেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ২০২৬ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছেন। একই সঙ্গে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের সুরক্ষায় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির লক্ষ্যভিত্তিক বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেছে বিশ্বব্যাংক।

বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে দারিদ্র্য কমানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই অগ্রগতির গতি থেমে গেছে। বিশ্বব্যাংকের ২০২৫ সালের দারিদ্র্য মূল্যায়নেও বলা হয়েছিল, প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ মানুষ এমন অবস্থায় রয়েছেন, যেখানে অসুস্থতা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো আকস্মিক আর্থিক ধাক্কা তাঁদের আবার দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

এই পরিস্থিতির পেছনে বড় ছয়টি কারণ বিশেষভাবে সামনে আসছে।

সাধারণ মানুষের ওপর সবচেয়ে সরাসরি চাপ তৈরি করছে মূল্যস্ফীতি। খাবার, বাসাভাড়া, পরিবহন, বিদ্যুৎ, গ্যাসসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় প্রায় সব খাতেই ব্যয় বেড়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মূল্যস্ফীতি এখনও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। এতে বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। অর্থাৎ কাগজে বেতন বা আয় একই থাকলেও সেই টাকা দিয়ে আগের মতো পণ্য ও সেবা কেনা যাচ্ছে না।

এটি মধ্যবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য আরও বড় সমস্যা। কারণ তাদের অনেকেরই আয় দারিদ্র্যসীমার কিছুটা ওপরে থাকলেও হাতে অতিরিক্ত সঞ্চয় নেই। ফলে কয়েক মাস ধরে আয় ও ব্যয়ের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হলে তারা দ্রুত ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়তে পারেন।

একজন কর্মজীবী মানুষের আয় যদি বছরে ৫ থেকে ৬ শতাংশ বাড়ে, কিন্তু একই সময়ে প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম তার চেয়ে অনেক বেশি বাড়ে, তাহলে বাস্তবে তাঁর জীবনযাত্রার মান কমে যায়। দীর্ঘদিন এমন পরিস্থিতি চললে সঞ্চয় শেষ হওয়ার পাশাপাশি সম্পদ বিক্রি বা ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে।

দারিদ্র্য কমানোর সবচেয়ে কার্যকর পথগুলোর একটি হলো ভালো কর্মসংস্থান। কিন্তু বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সময়ে বিনিয়োগ ও চাকরি তৈরির গতি দুর্বল হয়েছে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, ২০২৩ সাল থেকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে। বেসরকারি বিনিয়োগের দুর্বলতা, আর্থিক খাতের সমস্যা এবং ব্যবসার পরিবেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব ফেলছে।

নতুন বিনিয়োগ না হলে নতুন কারখানা, প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসা তৈরি হয় না। আর নতুন প্রতিষ্ঠান না হলে নতুন চাকরিও সীমিত থাকে।

এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়ে তরুণদের ওপর। আবার কোনো প্রতিষ্ঠান অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়লে নিয়োগ বন্ধ করার পাশাপাশি কর্মী ছাঁটাইও করতে পারে। চাকরি হারানো একজন ব্যক্তি যদি দীর্ঘ সময় নতুন কাজ না পান, তাহলে তাঁর পরিবারের সঞ্চয় দ্রুত কমতে থাকে।

বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ হিসাব বলছে, বাংলাদেশে চাকরি সৃষ্টির গতি কার্যত থমকে গেছে এবং নারীদের কর্মসংস্থানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ব্যাংকিং খাতের সংকটও বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, ২০২৬ সালের জুনে বাংলাদেশের ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণের অনুপাত ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে উঠেছে, যা ডিসেম্বর ২০২৫-এর ৩০ দশমিক ৬ শতাংশের চেয়েও বেশি।

ব্যাংকিং খাতে দুর্বলতা থাকলে শুধু ব্যাংক মালিক বা বড় ব্যবসায়ীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হন না। এর প্রভাব পুরো অর্থনীতিতে ছড়িয়ে পড়ে।

ব্যাংকগুলো যখন ঝুঁকির কারণে নতুন ঋণ দিতে অনাগ্রহী হয়, তখন ব্যবসার সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হয়। ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। বিনিয়োগ কমে গেলে নতুন কর্মসংস্থানও কমে।

ফলে একজন চাকরিপ্রার্থী কাজ পান না, একজন উদ্যোক্তা ব্যবসা বাড়াতে পারেন না এবং একজন বিদ্যমান ব্যবসায়ীও কর্মী নিয়োগের বদলে খরচ কমানোর পথে হাঁটতে পারেন।

গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকটও অর্থনীতির ওপর বড় চাপ তৈরি করছে।

শিল্প-কারখানায় পর্যাপ্ত গ্যাস বা বিদ্যুৎ না থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হয়। উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পণ্যের দাম বাড়াতে বাধ্য হতে পারে। আবার উৎপাদন কমে গেলে কর্মসংস্থানেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।

বিশ্বব্যাংক বলছে, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম বড় কাঠামোগত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে জ্বালানি খাতের দুর্বলতা। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতসহ বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা জ্বালানি বাজারে বাড়তি চাপ তৈরি করছে।

জ্বালানির দাম বাড়লে তার প্রভাব শুধু গাড়ির জ্বালানি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে না। পণ্য পরিবহনের খরচ বাড়ে, কারখানার উৎপাদন খরচ বাড়ে এবং শেষ পর্যন্ত তার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের বাজার খরচে।

সরকার দরিদ্র মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা, খাদ্য সহায়তা, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য খাতে ভর্তুকি দিতে চাইলে পর্যাপ্ত রাজস্ব প্রয়োজন।

কিন্তু বাংলাদেশের রাজস্ব আহরণ এখনও অত্যন্ত দুর্বল। বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে দেশের রাজস্ব আদায় জিডিপির মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশের কাছাকাছি ছিল, যা বিশ্বের অন্যতম নিম্ন হার।

রাজস্ব কম হলে সরকারের হাতে সামাজিক নিরাপত্তা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো ও কর্মসংস্থান তৈরিতে ব্যয় করার জন্য অর্থও সীমিত থাকে।

বিশ্বব্যাংক তাই কর প্রশাসনকে আরও শক্তিশালী করা, করব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন, করদাতাদের সমন্বিত তথ্যভান্ডার এবং কর পরিপালন বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছে।

দারিদ্র্য কমানোর জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, যাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন, তাদের বড় একটি অংশ এসব কর্মসূচির বাইরে থেকে যাচ্ছে।

বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দরিদ্রতম পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেকই কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় নেই। অর্থাৎ সরকারি সহায়তা থাকলেও তা সবসময় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন এমন পরিবারের কাছে পৌঁছাচ্ছে না।

বিদ্যুৎ ভর্তুকির ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা রয়েছে। বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করা পরিবার স্বাভাবিকভাবেই ভর্তুকির পরিমাণ বেশি পায়। ফলে ধনী পরিবারগুলোও বড় অঙ্কের ভর্তুকির সুবিধা পায়।

বিশ্বব্যাংকের মতে, সামাজিক নিরাপত্তা ও ভর্তুকির ব্যবস্থা আরও ভালোভাবে লক্ষ্যভিত্তিক করা গেলে সীমিত সরকারি অর্থ দিয়ে দরিদ্র পরিবারকে বেশি সহায়তা দেওয়া সম্ভব।

বাংলাদেশে শুধু যারা বর্তমানে দারিদ্র্যসীমার নিচে আছেন, তাঁদের নিয়েই চিন্তা করলে পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না।

এর বাইরেও বিপুলসংখ্যক মানুষ রয়েছেন যারা নিজেদের নিম্ন মধ্যবিত্ত বা নিম্ন আয়ের মধ্যবিত্ত হিসেবে বিবেচনা করেন। তাঁদের অনেকের সামান্য সঞ্চয় আছে, নিয়মিত আয় রয়েছে এবং হয়তো নিজেদের বাড়ি বা কিছু সম্পদও আছে।

কিন্তু হঠাৎ চাকরি চলে গেলে, পরিবারের কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে, ব্যবসায় বড় ক্ষতি হলে কিংবা খাদ্য ও জ্বালানির দাম দ্রুত বেড়ে গেলে সেই সুরক্ষা খুব দ্রুত শেষ হয়ে যেতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের ২০২৫ সালের দারিদ্র্য ও সমতা মূল্যায়নে প্রায় ৬ কোটি ২০ লাখ বাংলাদেশিকে এমন ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে রাখা হয়েছিল, যারা আকস্মিক ধাক্কায় আবার দারিদ্র্যে পড়ে যেতে পারেন।

অর্থাৎ বিষয়টি শুধু ‘কত মানুষ দরিদ্র’—এই প্রশ্নে সীমাবদ্ধ নয়। বরং প্রশ্ন হলো, কত মানুষ দরিদ্র হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছেন।

সামাজিক নিরাপত্তা ও ভর্তুকির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রশ্নগুলোর একটি হলো—সরকারের ব্যয় করা অর্থ শেষ পর্যন্ত কার হাতে যাচ্ছে?

বিশ্বব্যাংকের বিশ্লেষণ বলছে, বিদ্যুৎ ও অন্যান্য ভর্তুকির একটি উল্লেখযোগ্য অংশ তুলনামূলকভাবে সচ্ছল পরিবারও পেয়ে যাচ্ছে। এর কারণ, যেসব ভর্তুকি পণ্য বা সেবার ব্যবহারের সঙ্গে যুক্ত, সেগুলোর বেশি ব্যবহারকারী স্বাভাবিকভাবেই বেশি সুবিধা পান।

তাই বিশ্বব্যাংক এমন সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা চায়, যেখানে পরিবারের প্রকৃত আর্থিক অবস্থার ভিত্তিতে সুবিধাভোগী নির্বাচন করা হবে।

সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচিও সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারলে দারিদ্র্য কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিশ্বব্যাংক মনে করছে। সংস্থাটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিদ্যমান সহায়তাগুলো আরও ভালোভাবে লক্ষ্যভিত্তিক করা গেলে অতিরিক্ত প্রায় ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনার সুযোগ তৈরি হতে পারে।

বাংলাদেশের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হলেও এটি অপরিবর্তনীয় নয়।

বিশ্বব্যাংক বলছে, ব্যাংকিং খাত, রাজস্ব ব্যবস্থা ও জ্বালানি খাতে দ্রুত সংস্কার করা গেলে এবং বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়ানো গেলে অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াতে পারে। একই সঙ্গে দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারকে সুরক্ষা দিতে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির লক্ষ্যভিত্তিক বাস্তবায়ন জরুরি।

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হতে পারে। তবে সংস্কার ও বিনিয়োগের গতি বাড়লে পরবর্তী সময়ে প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারের সুযোগ রয়েছে।

অর্থাৎ সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ শুধু প্রবৃদ্ধি বাড়ানো নয়। সেই প্রবৃদ্ধি যেন নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করে এবং সাধারণ মানুষের আয় বাড়ায়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সামষ্টিক অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফেরানো এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য কাজ চলছে। তবে বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ মূল্যায়ন বলছে, সমস্যাগুলো এতটাই গভীর যে ধীরগতির সংস্কার দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া কঠিন হতে পারে।

বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে এখন তাই একসঙ্গে কয়েকটি কাজ—মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং খাত সংস্কার, বিনিয়োগ বাড়ানো, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, রাজস্ব আদায় বাড়ানো এবং দরিদ্র মানুষের জন্য কার্যকর সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

কারণ একজন মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়ার পর তাকে সহায়তা করার চেয়ে তার দারিদ্র্যে পতন ঠেকানো অনেক বেশি কার্যকর।

আজ যে পরিবারটি কোনোভাবে সংসার চালিয়ে নিচ্ছে, তার সঞ্চয় যদি শেষ হয়ে যায়, ঋণ বাড়তে থাকে এবং আয় না বাড়ে, তাহলে আগামীকাল সেই পরিবারই দারিদ্র্যের তালিকায় চলে যেতে পারে।

তাই বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান সংকটের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন শুধু ‘কত মানুষ দরিদ্র?’ নয়। বরং আরও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—‘আর কত মানুষ দরিদ্র হওয়ার ঝুঁকিতে আছেন, এবং তাদের সেই পতন ঠেকাতে এখনই কী করা হচ্ছে?’

বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ সতর্কবার্তা বলছে, সময়ক্ষেপণ না করে বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, রাজস্ব, ব্যাংকিং খাত ও সামাজিক সুরক্ষায় কার্যকর সংস্কার করা জরুরি। কারণ অর্থনীতির এই দুর্বল সময়ে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি শেষ পর্যন্ত গিয়ে পড়ছে সাধারণ মানুষের আয় ও জীবনযাত্রার ওপর।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ