সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট

Homeঅর্থ-বানিজ্য‘কারা বাধা দিচ্ছে বুঝে নিন’, ভারতে স্টারলিঙ্ক নিয়ে ক্ষোভ ইলন মাস্কের

‘কারা বাধা দিচ্ছে বুঝে নিন’, ভারতে স্টারলিঙ্ক নিয়ে ক্ষোভ ইলন মাস্কের

স্টারলিঙ্কের প্রযুক্তিতে মাটির নীচে কেবল বা প্রচলিত মোবাইল টাওয়ারের উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করতে হয় না। পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে থাকা উপগ্রহের মাধ্যমে গ্রাহকের অ্যান্টেনায় ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হয়। ফলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, দ্বীপ বা প্রত্যন্ত গ্রামেও এই প্রযুক্তি তুলনামূলকভাবে সহজে ব্যবহার করা সম্ভব।

এনবি সংবাদ,আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : ভারতীয় বাজারে প্রবেশের পথে কি বাধার মুখে পড়েছে ইলন মাস্কের সংস্থা স্টারলিঙ্ক? সরাসরি কোনও গোষ্ঠী বা প্রতিষ্ঠানের নাম না করলেও এমনই অভিযোগ তুলেছেন মার্কিন ধনকুবের ইলন মাস্ক। তাঁর দাবি, কিছু গোষ্ঠী নিজেদের ‘একচেটিয়া আধিপত্য’ বজায় রাখার স্বার্থে স্টারলিঙ্ককে ভারতে প্রবেশ করতে বাধা দিচ্ছে। তবে কারা এই বাধা তৈরি করছে, তা স্পষ্ট করে বলেননি তিনি। বরং ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করে মাস্ক বলেছেন, ‘আপনারাই বুঝে নিন কারা বাধা দিচ্ছে।’

ইতিমধ্যেই বাংলাদেশে স্টারলিঙ্কের পরিষেবা চালু হয়েছে। প্রতিবেশী ভুটানেও এই স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যবহার করা যাচ্ছে। ফলে ভারতের মতো বিশাল বাজারে এখনও স্টারলিঙ্কের পরিষেবা চালু না হওয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে।

ইলন মাস্কের মালিকানাধীন সমাজমাধ্যম ‘এক্স’-এ স্টারলিঙ্ক নিয়ে একটি পোস্ট করা হয় ‘ডজ ডিজ়াইনার’ নামে একটি হ্যান্ডল থেকে। ওই পোস্টে দাবি করা হয়, ভারতের বহু গ্রামীণ এলাকায় এখনও ৪জি পরিষেবা পৌঁছয়নি। সেই পরিস্থিতিতে প্রত্যন্ত অঞ্চলে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে স্টারলিঙ্কের প্রয়োজন রয়েছে বলে দাবি করেন ওই ব্যবহারকারী।

পোস্টটি নিজের হ্যান্ডলে শেয়ার করে মাস্ক অভিযোগ করেন, কিছু গোষ্ঠী ভারতীয়দের জন্য নিজেদের একচেটিয়া বাজার ধরে রাখার স্বার্থে স্টারলিঙ্ককে বাধা দিচ্ছে।

তবে তিনি কোনও নির্দিষ্ট টেলিকম সংস্থা, ব্যবসায়ী গোষ্ঠী বা সরকারি প্রতিষ্ঠানের নাম করেননি। বরং ইঙ্গিতপূর্ণভাবে মন্তব্য করেন, কারা বাধা দিচ্ছে, তা মানুষ নিজেরাই বুঝে নিতে পারবেন।

মাস্কের বক্তব্য ঘিরেই নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে—ভারতে স্টারলিঙ্কের পরিষেবা চালুর পথে ঠিক কী ধরনের সমস্যা রয়েছে?

এরপর আরও একটি পোস্টে মাস্ক দাবি করেন, ভারতের যেসব মানুষ বর্তমান বাজারদরে ইন্টারনেট পরিষেবা কিনতে পারছেন না, তাঁদের জন্য স্টারলিঙ্ক সাশ্রয়ী মূল্যে দ্রুতগতির ইন্টারনেট পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করবে।

শুধু শহর নয়, যেসব প্রত্যন্ত এলাকায় প্রচলিত মোবাইল বা ব্রডব্যান্ড পরিষেবা পৌঁছনো কঠিন, সেখানেও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ইন্টারনেট পৌঁছে দেওয়াই স্টারলিঙ্কের অন্যতম লক্ষ্য।

স্টারলিঙ্কের প্রযুক্তিতে মাটির নীচে কেবল বা প্রচলিত মোবাইল টাওয়ারের উপর সম্পূর্ণ নির্ভর করতে হয় না। পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে থাকা উপগ্রহের মাধ্যমে গ্রাহকের অ্যান্টেনায় ইন্টারনেট সংযোগ পৌঁছে দেওয়া হয়। ফলে দুর্গম পাহাড়ি এলাকা, দ্বীপ বা প্রত্যন্ত গ্রামেও এই প্রযুক্তি তুলনামূলকভাবে সহজে ব্যবহার করা সম্ভব।

ভারতের বাজারে প্রবেশের চেষ্টা স্টারলিঙ্কের জন্য নতুন নয়। বেশ কয়েক বছর ধরেই সংস্থাটি ভারতীয় বাজারে পরিষেবা চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে।

তবে ভারতের মতো বড় এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বাজারে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালানোর জন্য একাধিক সরকারি অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া রয়েছে। স্পেকট্রাম বরাদ্দ, নিরাপত্তা সংক্রান্ত শর্ত, লাইসেন্স এবং পরিষেবার কাঠামো নিয়ে সংস্থাগুলিকে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হয়।

ফলে শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত সক্ষমতা থাকলেই ভারতে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালু করা সম্ভব নয়। প্রয়োজন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন এবং নির্ধারিত নীতিমালা মেনে চলা।

স্টারলিঙ্কের ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অনুমোদন পাওয়ার খবর সামনে এলেও এখনও দেশজুড়ে বাণিজ্যিক পরিষেবা চালু হয়নি।

স্টারলিঙ্ক ভারতে প্রবেশের প্রস্তুতি শুরু করার পর দেশের প্রচলিত টেলিকম সংস্থাগুলির মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে।

বর্তমানে ভারতের ইন্টারনেট বাজারে বড় টেলিকম সংস্থাগুলির পাশাপাশি ব্রডব্যান্ড পরিষেবা প্রদানকারী বহু প্রতিষ্ঠান রয়েছে। স্যাটেলাইট ইন্টারনেট প্রত্যন্ত এলাকায় পৌঁছতে পারলে প্রচলিত নেটওয়ার্কের সঙ্গে প্রতিযোগিতা তৈরি হতে পারে।

বিশেষ করে যেখানে মোবাইল টাওয়ার বা ফাইবার নেটওয়ার্ক পৌঁছনো কঠিন, সেখানে স্টারলিঙ্ক বিকল্প পরিষেবা হিসেবে জায়গা করে নিতে পারে। তবে শহরাঞ্চলে প্রচলিত ব্রডব্যান্ড বা মোবাইল ডেটার সঙ্গে স্টারলিঙ্ক কতটা প্রতিযোগিতা করতে পারবে, তা নির্ভর করবে পরিষেবার দাম, গতি এবং গ্রাহকদের প্রয়োজনের উপর।

ভারতে স্টারলিঙ্কের সম্ভাব্য পরিষেবা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে গ্রাহকসংখ্যার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

আপনার দেওয়া সূত্র অনুযায়ী, গত বছরের জুলাইয়ে কেন্দ্রীয় টেলিকম মন্ত্রকের তরফে জানানো হয়েছিল, ভারতে স্টারলিঙ্কের সর্বাধিক ২০ লক্ষ গ্রাহক থাকতে পারে। একই সঙ্গে পরিষেবার গতি নিয়েও সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।

এর ফলে প্রচলিত টেলিকম পরিষেবার উপর স্টারলিঙ্কের প্রভাব খুব বড় হবে না বলেই সরকারি মহলের বক্তব্য ছিল।

তবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের গুরুত্ব শুধুমাত্র সম্ভাব্য গ্রাহকের সংখ্যা দিয়ে বিচার করা যায় না। ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক বা ফাইবার পরিষেবা পৌঁছনো কঠিন, সেখানে সীমিত সংখ্যক গ্রাহকের কাছেও এই প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

স্টারলিঙ্কের ভারত প্রবেশ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ার অন্যতম কারণ, দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে সংস্থাটির সম্প্রসারণ।

বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিষেবা চালু করেছে স্টারলিঙ্ক। ভুটানেও এই সংস্থার স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা রয়েছে। ফলে ভারতের মতো বিশাল জনসংখ্যার বাজারে পরিষেবা কবে শুরু হবে, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

বাংলাদেশে পরিষেবা চালুর পর ভারতের বাজার নিয়ে মাস্কের এই মন্তব্য সেই আলোচনাকে আরও উসকে দিয়েছে।

ভারতে ডিজিটাল সংযোগ গত কয়েক বছরে দ্রুত বেড়েছে। মোবাইল ইন্টারনেটের বিস্তার এবং ফাইবার নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের ফলে বহু এলাকায় পরিষেবা পৌঁছেছে।

তবু প্রত্যন্ত গ্রাম, পাহাড়ি এলাকা, সীমান্তবর্তী অঞ্চল এবং দুর্গম ভূখণ্ডে নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগ এখনও চ্যালেঞ্জের বিষয়। কারণ, সেখানে নতুন টাওয়ার বসানো কিংবা ফাইবার নেটওয়ার্ক তৈরি করতে বিপুল পরিমাণ পরিকাঠামোগত বিনিয়োগ প্রয়োজন।

স্টারলিঙ্কের মতো স্যাটেলাইট-ভিত্তিক পরিষেবার মূল সুবিধা এখানেই। উপযুক্ত স্যাটেলাইট কভারেজ এবং গ্রাহকের প্রান্তে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকলে প্রচলিত কেবল বা টাওয়ার নির্ভরতার বাইরে গিয়ে ইন্টারনেট পরিষেবা দেওয়া সম্ভব।

ইলন মাস্কের অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, স্টারলিঙ্কের ভারত প্রবেশে আসলে কী ধরনের বাধা রয়েছে।

তবে মাস্ক কোনও নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নাম না করায় তাঁর বক্তব্য থেকে কোনও সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করা যায় না। একইভাবে, তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতে ভারতে স্টারলিঙ্কের পরিষেবা চালু না হওয়ার জন্য কোনও নির্দিষ্ট পক্ষকে দায়ী করাও ঠিক হবে না।

ভারতের মতো দেশে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট চালুর ক্ষেত্রে নিরাপত্তা, স্পেকট্রাম, লাইসেন্স, প্রযুক্তিগত মান এবং জাতীয় স্বার্থ-সংক্রান্ত একাধিক বিষয় বিবেচনা করা হয়। ফলে অনুমোদন প্রক্রিয়ায় সময় লাগার পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে।

স্টারলিঙ্ক শেষ পর্যন্ত ভারতে কবে পরিষেবা চালু করবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে মাস্কের সাম্প্রতিক মন্তব্যে বোঝা যাচ্ছে, সংস্থাটি ভারতীয় বাজারকে এখনও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে।

বিশাল জনসংখ্যা, দ্রুত ডিজিটাল পরিষেবা বিস্তার এবং প্রত্যন্ত এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগের প্রয়োজন—এই তিনটি কারণ ভারতের বাজারকে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সংস্থাগুলির কাছে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।

অন্যদিকে, ভারতের নিজস্ব টেলিকম পরিকাঠামোও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। তাই স্টারলিঙ্কের সামনে শুধু সরকারি অনুমোদন পাওয়ার চ্যালেঞ্জ নয়, রয়েছে দাম, পরিষেবার গতি, গ্রাহক গ্রহণযোগ্যতা এবং প্রচলিত টেলিকম সংস্থাগুলির সঙ্গে প্রতিযোগিতার প্রশ্নও।

ইলন মাস্কের ‘কারা বাধা দিচ্ছে, আপনারাই বুঝে নিন’ মন্তব্য তাই আপাতত জল্পনাই বাড়িয়েছে। স্টারলিঙ্কের ভারত প্রবেশের পথে প্রকৃত বাধা কোথায় এবং কবে পরিষেবা শুরু হবে, তার উত্তর মিলবে সংশ্লিষ্ট সংস্থার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ও ভারতের নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্তের পরই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ