সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট

Homeবিজ্ঞান ও প্রযুক্তিঅ্যাপল গ্যাজেটপ্রি-অর্ডার শুরু হতেই স্টক শেষ iPhone Duo-র, ফোন হাতে পেতে অপেক্ষা নভেম্বর...

প্রি-অর্ডার শুরু হতেই স্টক শেষ iPhone Duo-র, ফোন হাতে পেতে অপেক্ষা নভেম্বর পর্যন্ত!

ফলে দ্রুত ডেলিভারির সময় পিছিয়ে যাওয়ার পেছনে দুটি কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, ক্রেতাদের মধ্যে ফোনটির চাহিদা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বাজারে প্রথম পর্যায়ে সরবরাহের জন্য প্রস্তুত ফোনের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।

এনবি সংবাদ, আইটি ডেস্ক : অ্যাপলের নতুন স্মার্টফোন iPhone Duo বাজারে আসার আগেই ক্রেতাদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। প্রি-অর্ডার শুরু হওয়ার কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই অধিকাংশ কনফিগারেশনের ডেলিভারির সময় পিছিয়ে গিয়েছে। প্রাথমিকভাবে নির্ধারিত সময়ের বদলে ক্রেতাদের এখন নভেম্বরের মাঝামাঝি থেকে শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

অ্যাপলের নতুন আইফোনের ক্ষেত্রে দ্রুত স্টক শেষ হয়ে যাওয়ার ঘটনা অবশ্য নতুন নয়। তবে iPhone Duo-র ক্ষেত্রে চাহিদার পাশাপাশি উৎপাদনের সীমাবদ্ধতাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। নতুন ডিজাইনের জটিলতা, উৎপাদনে সম্ভাব্য বিলম্ব এবং বিশ্বজুড়ে চিপের ঘাটতি—সব মিলিয়ে এই ফোনের সরবরাহ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, পূর্ব আমেরিকার সময় সকাল ৮টায় iPhone Duo-র প্রি-অর্ডার শুরু হয়। কিন্তু অর্ডার নেওয়া শুরু হওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই বিভিন্ন কনফিগারেশনের ডেলিভারির সম্ভাব্য তারিখ পিছিয়ে যেতে থাকে।

প্রাথমিক পর্যায়ে যেখানে দ্রুত ফোন হাতে পাওয়ার সুযোগ ছিল, সেখানে কিছুক্ষণের মধ্যেই ডেলিভারির সময় ১৬ নভেম্বর এবং পরে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত পিছিয়ে যায়। অর্থাৎ, যাঁরা প্রি-অর্ডারের শুরুতেই ফোনটি বুক করতে পারেননি, তাঁদের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হতে পারে।

তবে ডেলিভারির তারিখ পিছিয়ে যাওয়ার অর্থ এই নয় যে ফোনটির সব স্টক স্থায়ীভাবে শেষ হয়ে গিয়েছে। ক্রেতারা এখনও অর্ডার দিতে পারবেন। কিন্তু প্রথম দফার চালানে ফোন পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যেতে পারে।

নতুন আইফোন বাজারে আসার পর প্রি-অর্ডারের গতি থেকে অনেক সময় ক্রেতাদের আগ্রহ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। সাধারণত কোনও মডেলের ডেলিভারির সময় দ্রুত পিছিয়ে গেলে বোঝা যায়, প্রাথমিক সরবরাহের তুলনায় অর্ডারের চাপ বেশি।

তবে iPhone Duo-র ক্ষেত্রে শুধু চাহিদার ভিত্তিতে পরিস্থিতি বিচার করা কঠিন। কারণ, অ্যাপল প্রথম দিনে বিক্রির জন্য ঠিক কতগুলি ফোন প্রস্তুত রেখেছে, সেই সংখ্যা প্রকাশ করেনি।

ফলে দ্রুত ডেলিভারির সময় পিছিয়ে যাওয়ার পেছনে দুটি কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, ক্রেতাদের মধ্যে ফোনটির চাহিদা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি হয়েছে। দ্বিতীয়ত, বাজারে প্রথম পর্যায়ে সরবরাহের জন্য প্রস্তুত ফোনের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম হতে পারে।

এই দুটি বিষয় একসঙ্গে কাজ করলে অল্প সময়ের মধ্যেই ডেলিভারির সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে। তাই শুধু প্রি-অর্ডারের ভিত্তিতে ফোনটির প্রকৃত বিক্রির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।

iPhone Duo-র উৎপাদন নিয়ে আগে থেকেই বিলম্বের বিভিন্ন প্রতিবেদন সামনে এসেছে। ফোনটির নতুন ও জটিল ডিজাইনের কারণে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় বাড়তি চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নতুন ডিজাইনের স্মার্টফোন তৈরি করতে হলে শুধু বাইরের কাঠামো পরিবর্তন করলেই চলে না। এর সঙ্গে যন্ত্রাংশের বিন্যাস, উৎপাদন প্রক্রিয়া, মান নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন উপাদানের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখার বিষয়ও জড়িত থাকে।

কোনও নতুন মডেলে উৎপাদনের সমস্যা দেখা দিলে প্রথম পর্যায়ে বাজারে সরবরাহের পরিমাণ কমে যেতে পারে। আর সেই সময় ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি থাকলে প্রি-অর্ডার শুরুর পর দ্রুত ডেলিভারির তারিখ পিছিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

তবে iPhone Duo-র ক্ষেত্রে ঠিক কতটা উৎপাদন ঘাটতি রয়েছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। ফলে উৎপাদন সমস্যাই ডেলিভারি পিছিয়ে যাওয়ার একমাত্র কারণ, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছনো ঠিক হবে না।

প্রতিবেদনে iPhone Duo-কে অ্যাপলের তৈরি সবচেয়ে দামি আইফোন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এত বেশি দামের একটি নতুন ফোনের চাহিদা আগে থেকে অনুমান করাও সংস্থার জন্য কঠিন হতে পারে।

সাধারণত কোনও স্মার্টফোনের সম্ভাব্য বিক্রি নির্ধারণের সময় নির্মাতারা আগের মডেলের বিক্রি, ক্রেতাদের আগ্রহ, বাজারের পরিস্থিতি এবং পণ্যের দাম বিবেচনা করে। কিন্তু সম্পূর্ণ নতুন ডিজাইনের ফোনের ক্ষেত্রে পুরনো মডেলের বিক্রির তথ্য সব সময় নির্ভরযোগ্য নির্দেশক হয় না।

অন্যদিকে, বেশি দাম হওয়া সত্ত্বেও নতুন প্রযুক্তি ও ডিজাইনের প্রতি আগ্রহী ক্রেতারা প্রথম দফাতেই ফোনটি কিনতে চাইতে পারেন। ফলে চাহিদার পূর্বাভাসে ভুল হলে প্রথম পর্যায়ের স্টক দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

প্রযুক্তি পণ্যের বাজারে সেমিকন্ডাক্টর চিপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্মার্টফোনের প্রসেসর থেকে শুরু করে বিভিন্ন ইলেকট্রনিক উপাদান পরিচালনার জন্য এই চিপ প্রয়োজন হয়।

বিশ্বজুড়ে চিপের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিলে স্মার্টফোনসহ নানা প্রযুক্তি পণ্যের উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলে তার প্রভাব পণ্যের দামেও পড়তে পারে।

iPhone Duo-র ক্ষেত্রেও বিশ্বব্যাপী চিপের ঘাটতি এবং প্রযুক্তি পণ্যের মূল্যবৃদ্ধিকে সম্ভাব্য প্রভাবক হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই নির্দিষ্ট মডেলের উৎপাদন বা দামের উপর চিপের ঘাটতির প্রভাব কতটা, তার বিস্তারিত তথ্য ছাড়া নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয়।

প্রি-অর্ডারের ক্ষেত্রে ডেলিভারির সময় পিছিয়ে গেলেও ক্রেতাদের জন্য একটি বিকল্প থাকছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২৩ অক্টোবর থেকে ফোনটির প্রথম চালান পাঠানোর পাশাপাশি খুচরো দোকানেও iPhone Duo বিক্রির জন্য আসার কথা।

অর্থাৎ, অনলাইনে অর্ডার দিয়ে যাঁরা দ্রুত ফোনটি পাচ্ছেন না, তাঁরা নির্ধারিত দিনে দোকানে গিয়ে কেনার চেষ্টা করতে পারেন। তবে দোকানে কতগুলি ফোন পাওয়া যাবে, তা নিশ্চিত নয়। প্রথম দিনেই স্টক সীমিত থাকতে পারে।

তাই ২৩ অক্টোবর দোকানে গেলেই যে প্রত্যেকে ফোনটি কিনতে পারবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। কেনার আগে সংশ্লিষ্ট দোকানে স্টক সম্পর্কে খোঁজ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

প্রি-অর্ডার শুরু হওয়ার পরপরই iPhone Duo-র ডেলিভারির সময় পিছিয়ে যাওয়া ফোনটির প্রতি ক্রেতাদের আগ্রহের ইঙ্গিত দিতে পারে। তবে এর পেছনে উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা, নতুন ডিজাইনের জটিলতা এবং প্রাথমিক স্টকের পরিমাণও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

অ্যাপল প্রথম দিনের প্রস্তুত করা ফোনের সংখ্যা প্রকাশ না করায় প্রকৃত চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে ব্যবধান কতটা, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। আপাতত ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, প্রি-অর্ডার করা গেলেও প্রথম চালানে ফোন পাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। অন্যদিকে, ২৩ অক্টোবর দোকানে বিক্রি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও সেখানে স্টক সীমিত থাকতে পারে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ