এনবি সংবাদ, স্পোটস ডেস্ক : ক্রিকেট মাঠে চোট পাওয়া নতুন কিছু নয়। প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ব্যাটিং, বোলিং কিংবা ফিল্ডিং করতে গিয়ে খেলোয়াড়দের চোটের মুখে পড়তে হয় প্রায়ই। কিন্তু বিজ্ঞাপনের শুটিং করতে গিয়ে চোট পেয়ে মাঠের বাইরে চলে যাওয়ার মতো ঘটনা নিঃসন্দেহে বেশ অস্বাভাবিক। এবার এমনই এক দুর্ভাগ্যজনক ঘটনার শিকার হলেন নিউজিল্যান্ডের তারকা অলরাউন্ডার রাচীন রবীন্দ্র।
ভারতের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে নামার কথা নিউজিল্যান্ডের। আগামী ২২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়ার কথা সেই সিরিজ। তার আগেই রাচীনের চোট কিউয়ি শিবিরে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ের সময় ডান কাঁধে চোট পেয়েছেন তিনি। প্রাথমিকভাবে জানা যাচ্ছে, চোটের কারণে তাঁর কাঁধের হাড় সরে গিয়েছে। ফলে ভারতের বিরুদ্ধে আসন্ন টি-২০ সিরিজে রাচীনকে পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে বড় প্রশ্ন।
বুধবার অকল্যান্ডে একটি বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে অংশ নিয়েছিলেন রাচীন রবীন্দ্র। সেখানে ক্রিকেটের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি দৃশ্যের শুটিং চলছিল। সেই দৃশ্যে তাঁকে ডাইভ দিয়ে ক্যাচ ধরার অভিনয় করতে হয়।
ক্যাচ ধরার দৃশ্যটি বাস্তবসম্মত করে তুলতে ঝাঁপ দিয়েছিলেন রাচীন। শুটিংয়ের সময় তাঁকে একটি মোটা গদির উপর পড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। কিন্তু সেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও পড়ার সময় ডান কাঁধে চোট পান নিউজিল্যান্ডের এই অলরাউন্ডার।
পরবর্তীতে জানা যায়, তাঁর কাঁধের হাড় সরে গিয়েছে। যদিও প্রথম দিকের পরীক্ষায় চোটকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মনে করা হয়নি, তবু ঠিক কতটা ক্ষতি হয়েছে এবং কতদিনের মধ্যে তিনি মাঠে ফিরতে পারবেন, তা এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়।
রাচীনের চোটের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে ভারতের বিরুদ্ধে আসন্ন টি-২০ সিরিজে। ২২ অক্টোবর থেকে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে শুরু হওয়ার কথা পাঁচ ম্যাচের এই সিরিজ। দীর্ঘ সিরিজের আগে দলের গুরুত্বপূর্ণ অলরাউন্ডারের চোট তাই নিউজিল্যান্ডের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কাঁধের চোট সাধারণত খেলোয়াড়দের জন্য বেশ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে একজন ক্রিকেটারের ক্ষেত্রে ব্যাটিং, বোলিং এবং ফিল্ডিং—তিন ক্ষেত্রেই কাঁধের উপর যথেষ্ট চাপ পড়ে। ফলে শুধু ব্যথা কমে গেলেই মাঠে ফেরা সম্ভব হয় না। প্রয়োজন হয় যথাযথ চিকিৎসা, বিশ্রাম এবং পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, রাচীনের সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ক্রিকেটে ফিরতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে। সেই কারণেই ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজে তাঁর অংশগ্রহণ নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে তাঁর চোটের প্রকৃতি, চিকিৎসার অগ্রগতি এবং রিহ্যাবিলিটেশনের ফলাফল খতিয়ে দেখা হবে।
রাচীনের চোট নিয়ে নিউজিল্যান্ড দলের পারফরম্যান্স ম্যানেজার মাইক স্যান্ডলও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনাটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। রাচীনকে সম্পূর্ণ সুস্থ করে দ্রুত মাঠে ফেরানোর দিকেই এখন নজর থাকবে দলের।
শুটিংয়ের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, সাধারণত ক্রিকেটারদের বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে অংশ নেওয়ার আগে বিভিন্ন ধরনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়। রাচীনের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় নিয়ম মেনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল বলে জানিয়েছে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট।
শুটিংয়ের আগে প্রয়োজনীয় অনুমতিও নেওয়া হয়েছিল বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলির সম্মতিও ছিল। তারপরেও এমন চোট কীভাবে ঘটল, সেটিই এখন আলোচনার বিষয়।
নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট ভবিষ্যতে ক্রিকেটারদের বাণিজ্যিক শুটিংয়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও একবার পর্যালোচনা করতে পারে। বিশেষ করে যেখানে খেলোয়াড়দের ডাইভ দেওয়া, পড়ে যাওয়া কিংবা শারীরিক ঝুঁকি রয়েছে, সেখানে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হতে পারে।
রাচীন রবীন্দ্রকে নিয়ে কোনও ধরনের তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না নিউজিল্যান্ড দল। কোচ রব ওয়াল্টারের বক্তব্যেও সেই বিষয়টি স্পষ্ট।
নিউজিল্যান্ডের সামনে আগামী কয়েক মাস অত্যন্ত ব্যস্ত ক্রিকেট সূচি রয়েছে। এর মধ্যে টি-২০ ম্যাচের পাশাপাশি একাধিক টেস্ট ম্যাচও রয়েছে। তাই একটি সিরিজে খেলানোর জন্য রাচীনকে দ্রুত মাঠে ফেরানোর ঝুঁকি নিতে চাইছে না দল।
একজন গুরুত্বপূর্ণ ক্রিকেটারকে দীর্ঘ সময়ের জন্য হারানোর চেয়ে সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পর তাঁকে মাঠে ফেরানোই বেশি গুরুত্বপূর্ণ—নিউজিল্যান্ডের পরিকল্পনায় সেটিই গুরুত্ব পাচ্ছে। রাচীন দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হওয়ায় তাঁর দীর্ঘমেয়াদি ফিটনেসকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
রাচীন রবীন্দ্র নিউজিল্যান্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তরুণ ক্রিকেটার। ব্যাট হাতে রান করার পাশাপাশি বল হাতেও অবদান রাখতে পারেন তিনি। ফলে একজন ক্রিকেটার হিসেবেই নয়, দলের ভারসাম্যের দিক থেকেও তাঁর উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষ করে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে একজন অলরাউন্ডার দলের জন্য বাড়তি সুবিধা তৈরি করেন। একজন খেলোয়াড় একই ম্যাচে ব্যাটিং এবং বোলিং—দুই বিভাগেই অবদান রাখতে পারলে দলের একাদশ সাজানোর ক্ষেত্রে অতিরিক্ত বিকল্প পাওয়া যায়।
এর পাশাপাশি ফিল্ডিংয়েও রাচীনের ভূমিকা রয়েছে। ফলে তাঁর অনুপস্থিতিতে শুধু একজন ব্যাটার বা বোলারের বিকল্প খুঁজলেই হবে না, দলের সামগ্রিক ভারসাম্যও নতুন করে সাজাতে হতে পারে।
চোট পাওয়ার আগে রাচীন রবীন্দ্র ইংল্যান্ডে ‘দ্য হান্ড্রেড’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন। গত মাসেই সেই প্রতিযোগিতা শেষ করে নিউজিল্যান্ডে ফিরেছিলেন তিনি। দেশে ফেরার পরই বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ে অংশ নেন।
কিন্তু মাঠের বাইরে একটি বাণিজ্যিক কাজই এখন তাঁর ক্রিকেট ভবিষ্যতের সাময়িক অনিশ্চয়তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। চোটের কারণে শুধু ভারতের বিরুদ্ধে টি-২০ সিরিজ নয়, সামনে থাকা অন্যান্য ম্যাচ নিয়েও তাঁর ফিটনেস পর্যবেক্ষণ করতে হবে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটকে।
এই মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল রাচীন রবীন্দ্রর চোট কতটা গুরুতর এবং চিকিৎসার পর তাঁর পুনর্বাসন কত দ্রুত এগোয়। কাঁধের চোট থেকে ফেরার ক্ষেত্রে ধাপে ধাপে ফিটনেস পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ। সরাসরি প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরে যাওয়ার পরিবর্তে পর্যায়ক্রমে অনুশীলন, শক্তি বাড়ানো এবং ক্রিকেটীয় দক্ষতার পরীক্ষা দিতে হতে পারে তাঁকে।
ভারতের বিরুদ্ধে সিরিজের আগে যদি তিনি পুরোপুরি ফিট না হন, তাহলে নিউজিল্যান্ড নিশ্চয়ই তাঁকে নিয়ে কোনও ঝুঁকি নিতে চাইবে না। কারণ সামনে দীর্ঘ ক্রিকেট মরশুম। তাই একটি সিরিজের জন্য তাড়াহুড়ো করে মাঠে নামানোর বদলে দীর্ঘমেয়াদে রাচীনকে সুস্থ রাখাই হতে পারে কিউয়ি শিবিরের মূল লক্ষ্য।
ভারত-নিউজিল্যান্ড টি-২০ সিরিজ ঘিরে ইতিমধ্যেই ক্রিকেটপ্রেমীদের আগ্রহ রয়েছে। সেই সিরিজের আগে রাচীনের চোট তাই নিউজিল্যান্ডের পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আনতে পারে। শেষ পর্যন্ত তিনি ২২ অক্টোবরের সিরিজে খেলতে পারবেন কি না, তার উত্তর মিলবে তাঁর চিকিৎসা ও রিহ্যাবের অগ্রগতির পর। আপাতত কিউয়ি শিবিরের নজর একটাই—রাচীন যেন সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে ফেরেন এবং চোটের কারণে তাঁর দীর্ঘমেয়াদি ক্রিকেট ক্যারিয়ারে কোনও সমস্যা তৈরি না হয়।



