সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট

Homeভ্রমণ ও পর্যটনগ্যাংটক নয়! সিকিমের গোপন স্বর্গ আরিতার: ল্যাম্পোখরি হ্রদ ও মানখিম ভিউপয়েন্ট

গ্যাংটক নয়! সিকিমের গোপন স্বর্গ আরিতার: ল্যাম্পোখরি হ্রদ ও মানখিম ভিউপয়েন্ট

জুতোর মতো আকৃতির এই হ্রদকে সিকিমের প্রাচীন প্রাকৃতিক হ্রদগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত করা হয়। চারপাশে উঁচু পাইনগাছ আর মাঝখানে শান্ত জল—দূর থেকে দেখলে পুরো দৃশ্যটি যেন কোনো ছবির ফ্রেম।

সিকিমের কথা উঠলেই প্রথমে যে নামগুলো মনে আসে, তার মধ্যে গ্যাংটক, পেলিং বা নাথুলা পাস অন্যতম। কিন্তু পাহাড়ের আসল সৌন্দর্য যদি খুঁজতে চান একটু নিরিবিলি পরিবেশে, যেখানে পর্যটকের ভিড় তুলনামূলক কম, সকালে জানালার বাইরে মেঘ ভেসে বেড়ায় আর পাইনবনের গন্ধে মন ভরে যায়, তাহলে তালিকায় রাখতে পারেন আরিতার।

পূর্ব সিকিমের এই ছোট্ট পাহাড়ি জনপদ যেন প্রকৃতির নিজের হাতে সাজানো এক শান্ত ঠিকানা। এখানে নেই বড় শহরের কোলাহল, নেই ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্রের অতিরিক্ত ভিড়। রয়েছে সবুজ পাহাড়, কুয়াশা, পাইনবন, স্বচ্ছ হ্রদ, পুরোনো স্থাপত্য এবং পাহাড়ি মানুষের সহজ-সরল জীবনযাপন।

আরিতারের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো—এক জায়গায় প্রকৃতি, ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অ্যাডভেঞ্চারের স্বাদ পাওয়া যায়। ল্যাম্পোখরি হ্রদের শান্ত জল থেকে মানখিম ভিউপয়েন্টের পাহাড়ি দৃশ্য, পুরোনো ব্রিটিশ বাংলো থেকে মনাস্ট্রির আধ্যাত্মিক পরিবেশ—সব মিলিয়ে অফবিট সিকিম ভ্রমণের জন্য এটি হতে পারে দারুণ একটি গন্তব্য।

কোথায় এই আরিতার?

আরিতার পূর্ব সিকিমের রেনক সাব-ডিভিশনের অন্তর্গত একটি পাহাড়ি এলাকা। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪,৬০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই জনপদ ঐতিহাসিক ওল্ড সিল্ক রুটের কাছাকাছি।

একসময় এই অঞ্চলের পথ দিয়ে বাণিজ্যিক যোগাযোগ গড়ে উঠেছিল। এখন অবশ্য সেই ঐতিহাসিক পথের গুরুত্বের পাশাপাশি জায়গাটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই পর্যটকদের বেশি আকর্ষণ করে।

আরিতারে পৌঁছানোর পর প্রথম যে অনুভূতিটা হতে পারে, তা হলো—শহুরে ব্যস্ততা থেকে যেন অনেক দূরে চলে এসেছেন। চারপাশে পাহাড়, গাছপালা আর মেঘের আনাগোনা। সকালে ঘুম ভাঙতে পারে পাখির ডাকে, আর সন্ধ্যা নামলে পাহাড়ি নীরবতা পুরো পরিবেশকে অন্যরকম করে তোলে।

ল্যাম্পোখরি হ্রদ যেন পাহাড়ের আয়না

আরিতার ভ্রমণে সবচেয়ে আগে যে জায়গাটি দেখার কথা মনে আসে, সেটি হলো ল্যাম্পোখরি হ্রদ।

জুতোর মতো আকৃতির এই হ্রদকে সিকিমের প্রাচীন প্রাকৃতিক হ্রদগুলোর একটি হিসেবে পরিচিত করা হয়। চারপাশে উঁচু পাইনগাছ আর মাঝখানে শান্ত জল—দূর থেকে দেখলে পুরো দৃশ্যটি যেন কোনো ছবির ফ্রেম।

সকালের দিকে হ্রদের সৌন্দর্য আরও আলাদা হয়ে ওঠে। পাহাড়ের গায়ে তখন কুয়াশার আস্তরণ থাকে। ধীরে ধীরে সূর্যের আলো বাড়তে থাকলে কুয়াশা সরে যায় এবং পানিতে চারপাশের গাছের প্রতিবিম্ব দেখা যায়।

হ্রদের চারপাশে হাঁটার জন্য পথ রয়েছে। খুব বেশি তাড়াহুড়ো না করে ধীরে ধীরে সেই পথে হাঁটলে প্রকৃতিকে উপভোগ করার সুযোগ পাওয়া যায়। ঠান্ডা বাতাস, পাইনগাছের গন্ধ আর হ্রদের শান্ত পরিবেশ মিলিয়ে জায়গাটি শহরের ব্যস্ত জীবন থেকে সম্পূর্ণ আলাদা অনুভূতি দেয়।

ল্যাম্পোখরিতে বোটিংয়ের আনন্দ

শুধু পাড়ে দাঁড়িয়ে হ্রদ দেখেই ফিরে আসতে হবে না। এখানে বোটিংয়ের ব্যবস্থাও রয়েছে।

ছোট নৌকায় হ্রদের জলে ভেসে চলার সময় চারপাশের পাহাড় আর গাছপালাকে অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়। নৌকা যত মাঝের দিকে এগোয়, চারপাশের নীরবতা তত বেশি অনুভব করা যায়।

যারা প্রকৃতির মধ্যে শান্ত সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য এই অভিজ্ঞতা আরিতার ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ হতে পারে।

তবে পাহাড়ি পর্যটনকেন্দ্রে যেকোনো কার্যক্রম করার সময় স্থানীয় নির্দেশনা ও নিরাপত্তাবিধি মেনে চলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

ইতিহাসের সাক্ষী পুরোনো ব্রিটিশ বাংলো

আরিতারের আকর্ষণ শুধু পাহাড় আর হ্রদে সীমাবদ্ধ নয়। এখানে ইতিহাসের ছোঁয়াও রয়েছে।

১৮৯৫ সালে নির্মিত একটি পুরোনো ব্রিটিশ বাংলোর কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়। পাথরের দেয়াল ও পুরোনো স্থাপত্যের কারণে ভবনটি এখনও অতীতের একটি সময়কে মনে করিয়ে দেয়।

আজ এটি পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থার সঙ্গেও যুক্ত। ফলে পাহাড়ি পরিবেশে একটু ভিন্ন ধরনের থাকার অভিজ্ঞতা নিতে চাইলে ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনাটি আগ্রহ তৈরি করতে পারে।

পুরোনো ভবনের স্থাপত্য, চারপাশের সবুজ পরিবেশ এবং পাহাড়ি আবহ মিলিয়ে এখানে রাত কাটানোর অভিজ্ঞতা সাধারণ হোটেলে থাকার চেয়ে আলাদা হতে পারে।

আরিতার মনাস্ট্রিতে মিলবে অন্যরকম শান্তি

প্রকৃতির পাশাপাশি সিকিমের সংস্কৃতি ও ধর্মীয় ঐতিহ্য জানতে চাইলে ঘুরে দেখতে পারেন আরিতার মনাস্ট্রি।

তিব্বতি স্থাপত্যের প্রভাবযুক্ত এই গুম্ফা এলাকার অন্যতম সাংস্কৃতিক আকর্ষণ। ধর্মীয় গুরুত্বের পাশাপাশি স্থাপত্য ও শিল্পকলার দিক থেকেও এটি পর্যটকদের আগ্রহ তৈরি করে।

মনাস্ট্রির ভেতরে থাকা রঙিন চিত্রকর্ম, থাঙ্কা শিল্প এবং ধর্মীয় ঐতিহ্যের বিভিন্ন নিদর্শন সিকিমের সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ দেয়।

এখানে গেলে অবশ্যই স্থানীয় ধর্মীয় রীতি ও পরিবেশের প্রতি সম্মান দেখানো উচিত। নীরবতা বজায় রাখা এবং অনুমতি ছাড়া ছবি না তোলার মতো সাধারণ শিষ্টাচার মেনে চলাই ভালো।

অ্যাডভেঞ্চারপ্রেমীদের জন্য মানখিম ভিউপয়েন্ট

আরিতার ভ্রমণে একটু হাঁটাহাঁটি বা হালকা ট্রেকিং যোগ করতে চাইলে যেতে পারেন মানখিম ভিউপয়েন্টে।

পথ খুব কঠিন না হলেও পাহাড়ি চড়াই রয়েছে। তাই আরামদায়ক জুতো পরে বের হওয়া ভালো। হাঁটার সময় চারপাশের পাইনবন, পাহাড়ি পথ এবং দূরের বসতিগুলো ভ্রমণকে আরও সুন্দর করে তুলবে।

তবে আসল পুরস্কার অপেক্ষা করবে উপরে পৌঁছানোর পর।

আকাশ পরিষ্কার থাকলে এখান থেকে ল্যাম্পোখরি হ্রদের বিস্তৃত দৃশ্য দেখা যায়। দূরে দেখা মিলতে পারে তুষারঢাকা কাঞ্চনজঙ্ঘার। সূর্যের আলো বরফের চূড়ায় পড়লে পাহাড়ের রংও সময়ের সঙ্গে বদলে যায়।

সকালের আলো, বিকেলের রোদ কিংবা মেঘলা আবহ—প্রতিটি সময়েই দৃশ্যের চরিত্র আলাদা। ফলে ফটোগ্রাফারদের জন্যও মানখিম বেশ আকর্ষণীয় একটি জায়গা।

ফটোগ্রাফির জন্য কেন বিশেষ?

আরিতারে ক্যামেরা হাতে বের হলে বিষয়বস্তুর অভাব হবে না।

ল্যাম্পোখরি হ্রদের পানিতে গাছের প্রতিবিম্ব, পাইনবনের মধ্য দিয়ে চলে যাওয়া পাহাড়ি রাস্তা, কুয়াশায় ঢাকা পাহাড়, পুরোনো বাংলোর স্থাপত্য কিংবা মানখিম থেকে দেখা দূরের পর্বত—প্রতিটি জায়গাতেই ছবি তোলার সুযোগ রয়েছে।

তবে শুধু ছবি তোলার জন্য ছুটে বেড়ানোর বদলে কিছু সময় প্রকৃতিকে উপভোগ করাও এই ভ্রমণের অংশ হতে পারে।

কারণ আরিতারের আসল সৌন্দর্য শুধু চোখে দেখার নয়, অনুভব করারও।

আরিতারের জন্য ২ দিন ১ রাতের ভ্রমণসূচি

অল্প সময়ে আরিতারের প্রধান আকর্ষণগুলো দেখতে চাইলে ২ দিন ১ রাতের একটি পরিকল্পনা করা যেতে পারে। তবে যাতায়াতের সময় ও আবহাওয়ার ওপর ভিত্তি করে সময়সূচি কিছুটা বদলানো স্বাভাবিক।

প্রথম দিন: পৌঁছে ল্যাম্পোখরি ও আশপাশ ঘোরা

সকাল:
শিলিগুড়ি বা নিউ জলপাইগুড়ি থেকে গাড়ি নিয়ে আরিতারের উদ্দেশে রওনা দিন। পাহাড়ি পথে যাত্রার সময় মাঝপথে প্রয়োজন অনুযায়ী নাশতা বা খাবারের জন্য বিরতি নিতে পারেন।

দুপুর:
আরিতারে পৌঁছে হোমস্টে বা নির্ধারিত থাকার জায়গায় চেক-ইন করুন। কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে দুপুরের খাবার সেরে নিন।

বিকেল:
বিকেলের দিকে চলে যান ল্যাম্পোখরি হ্রদে। হ্রদের চারপাশে হাঁটুন, সময় থাকলে বোটিং উপভোগ করুন এবং পাইনবনের পরিবেশ উপভোগ করুন।

সন্ধ্যা:
হ্রদ থেকে ফিরে আশপাশের পাহাড়ি পরিবেশে কিছুটা সময় কাটাতে পারেন। স্থানীয় হোমস্টেতে বসে পাহাড়ি চা বা স্থানীয় খাবারের স্বাদ নেওয়া যেতে পারে।

রাত:
হোমস্টেতে রাতের খাবার খেয়ে বিশ্রাম নিন। পরিষ্কার আকাশ থাকলে শহরের তুলনায় রাতের পাহাড়ি আকাশও আলাদা অভিজ্ঞতা দিতে পারে।

দ্বিতীয় দিন: মানখিম, মনাস্ট্রি ও ফেরার প্রস্তুতি

ভোর:
ভোরে ঘুম থেকে উঠে আবহাওয়া পরিষ্কার থাকলে মানখিম ভিউপয়েন্টের দিকে যেতে পারেন। সকালের আলোয় পাহাড় ও দূরের কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখার সুযোগ থাকলে সেটিই হবে সফরের অন্যতম সেরা মুহূর্ত।

সকাল:
মানখিম থেকে ফিরে নাশতা করুন। এরপর আরিতার মনাস্ট্রি ঘুরে দেখতে পারেন। স্থানীয় সংস্কৃতি, স্থাপত্য ও ধর্মীয় পরিবেশ কাছ থেকে দেখার সুযোগ পাবেন।

দুপুর:
হোমস্টেতে ফিরে দুপুরের খাবার খান। সময় থাকলে পুরোনো ব্রিটিশ বাংলো ও আশপাশের এলাকা দেখে নিতে পারেন।

বিকেল:
হোমস্টে থেকে চেক-আউট করে ফেরার পথে যাত্রা শুরু করুন। পথে আবহাওয়া ও রাস্তার পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বিরতি নিতে পারেন।

যদি ৩ দিন সময় থাকে

আরিতারকে একটু ধীরে উপভোগ করতে চাইলে ৩ দিন ২ রাত রাখাই বেশি আরামদায়ক হতে পারে।

প্রথম দিন শুধু যাত্রা, হোমস্টে ও ল্যাম্পোখরি ঘুরে কাটানো যায়। দ্বিতীয় দিন মানখিম, মনাস্ট্রি ও আশপাশের পাহাড়ি এলাকা ঘোরা যেতে পারে। তৃতীয় দিন সকালে স্থানীয় গ্রাম ও প্রকৃতি উপভোগ করে এরপর অন্য গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হওয়া যায়।

এই পরিকল্পনায় তাড়াহুড়ো কম থাকে এবং আবহাওয়া খারাপ হলে সময়সূচি সামান্য পরিবর্তন করার সুযোগও পাওয়া যায়।

আশপাশের আরও জায়গা ঘুরে দেখা যায়

আরিতারের অবস্থান এমন যে সিকিম ও উত্তরবঙ্গের আরও কিছু পাহাড়ি গন্তব্যের সঙ্গে এটিকে ভ্রমণসূচিতে যুক্ত করা যায়।

পরিকল্পনা অনুযায়ী আশপাশের বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে। উত্তরবঙ্গের পাহাড়ি ভ্রমণের সঙ্গে আরিতারকে যুক্ত করলে একই সফরে একাধিক ধরনের পাহাড়ি পরিবেশ উপভোগ করা সম্ভব।

তবে আরিতারকে শুধু অন্য জায়গার পথে একটি স্টপেজ হিসেবে দেখলে এর আসল সৌন্দর্য হয়তো ধরা পড়বে না। শান্ত পরিবেশে সময় কাটাতে চাইলে এখানে অন্তত দু-তিন দিন থাকার পরিকল্পনা করাই ভালো।

কখন যাবেন আরিতারে?

আরিতারে যাওয়ার সময় বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে আপনার ভ্রমণের উদ্দেশ্য গুরুত্বপূর্ণ।

মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত আবহাওয়া তুলনামূলক আরামদায়ক থাকে। বসন্ত ও গ্রীষ্মের শুরুতে পাহাড়ের সবুজ রূপ বিশেষভাবে আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত আকাশ অনেক সময় পরিষ্কার থাকে। তুষারঢাকা পাহাড় দেখার সম্ভাবনাও এই সময়ে ভালো থাকে, যদিও পাহাড়ি আবহাওয়া দ্রুত বদলাতে পারে।

বর্ষাকালে মেঘ, কুয়াশা ও বৃষ্টিতে আরিতারের অন্যরকম সৌন্দর্য তৈরি হয়। তবে এই সময়ে পাহাড়ি রাস্তায় ভূমিধস বা রাস্তা খারাপ হওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। তাই বর্ষায় ভ্রমণের আগে রাস্তার পরিস্থিতি ও স্থানীয় আবহাওয়ার খবর জেনে নেওয়া জরুরি।

কীভাবে যাবেন?

আরিতারে যাওয়ার জন্য সাধারণত নিউ জলপাইগুড়ি বা শিলিগুড়িকে যাত্রার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করা যায়।

সেখান থেকে শেয়ার জিপ, রিজার্ভ গাড়ি বা প্রাইভেট গাড়িতে পাহাড়ের পথে যাওয়া সম্ভব। সময় লাগতে পারে প্রায় চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা, যদিও রাস্তার অবস্থা, আবহাওয়া ও যানজটের ওপর সময় কমবেশি হতে পারে।

পাহাড়ি পথে যাত্রা করার সময় দিনের আলোতেই গন্তব্যে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করা ভালো। বর্ষাকাল বা খারাপ আবহাওয়ায় যাত্রার আগে স্থানীয়ভাবে রাস্তার অবস্থা জেনে নেওয়া বিশেষভাবে জরুরি।

হোমস্টেতে থাকার অভিজ্ঞতা

আরিতারের আরেকটি বড় আকর্ষণ হলো এখানকার হোমস্টে সংস্কৃতি।

বড় শহরের মতো এখানে বিশাল হোটেলের আধিক্য নেই। বরং স্থানীয় পরিবারের সঙ্গে থেকে পাহাড়ি জীবনের কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়।

হোমস্টেতে থাকার সবচেয়ে ভালো দিক হলো স্থানীয় মানুষের জীবনযাপন, খাবার ও সংস্কৃতিকে কাছ থেকে দেখা। অনেক সময় স্থানীয় পরিবারের সঙ্গে গল্প করতে করতেই এলাকার ইতিহাস ও অজানা গল্প সম্পর্কে জানা যায়।

পাহাড়ি খাবারের স্বাদ, উষ্ণ আতিথেয়তা এবং শান্ত পরিবেশ মিলিয়ে থাকার অভিজ্ঞতাও হয়ে উঠতে পারে ভ্রমণের অন্যতম স্মরণীয় অংশ।

ভ্রমণের আগে কিছু বিষয় মনে রাখুন

অফবিট পাহাড়ি জায়গায় যাওয়ার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি।

স্থানীয় পরিবেশ পরিষ্কার রাখুন। প্লাস্টিক বা আবর্জনা যেখানে-সেখানে ফেলবেন না। পাহাড়ি পথে হাঁটার সময় নির্ধারিত পথ ব্যবহার করুন। ধর্মীয় স্থান বা স্থানীয় বাড়িতে ছবি তুলতে হলে অনুমতি নিন।

এ ছাড়া আবহাওয়া দ্রুত বদলাতে পারে বলে প্রয়োজনীয় গরম পোশাক, আরামদায়ক জুতো ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় সামগ্রী সঙ্গে রাখা ভালো।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রকৃতিকে শুধু উপভোগ নয়, সংরক্ষণও করা।

শেষ কথা

সিকিম মানেই শুধু গ্যাংটক বা পরিচিত পর্যটনকেন্দ্র নয়। পাহাড়ের আরও একটি নীরব, কোমল ও অচেনা মুখ রয়েছে, আরিতার তারই একটি সুন্দর উদাহরণ।

এখানে রয়েছে ল্যাম্পোখরি হ্রদের শান্ত জল, পাইনবনের সুবাস, পুরোনো ব্রিটিশ বাংলোর ইতিহাস, মনাস্ট্রির আধ্যাত্মিক পরিবেশ এবং মানখিম ভিউপয়েন্ট থেকে দেখা পাহাড়ের বিস্তৃত দৃশ্য।

তার সঙ্গে রয়েছে স্থানীয় মানুষের আন্তরিকতা ও হোমস্টেতে থাকার সহজ অভিজ্ঞতা।

যারা ভিড় এড়িয়ে পাহাড়ের সঙ্গে একটু বেশি সময় কাটাতে চান, তাদের জন্য আরিতার হতে পারে স্মরণীয় একটি গন্তব্য।

কারণ কখনও কখনও সবচেয়ে সুন্দর পাহাড়ি গল্পগুলো তৈরি হয় জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের ভিড়ে নয়, বরং এমন কোনো ছোট্ট জায়গায়—যেখানে মেঘ নেমে আসে জানালার কাছে, পাইনবনের গন্ধে সকাল শুরু হয় আর সন্ধ্যা নামে নিঃশব্দে।

সিকিমের সেই লুকোনো গল্পের নাম—আরিতার।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ