এনবি সংবাদ, অনলাইন : অর্থ রোজগারের পথ যে কত বিচিত্র হতে পারে, তা মাঝেমধ্যেই সামনে আসে। কেউ গান গেয়ে, কেউ অভিনয় করে, কেউ আবার সোশ্যাল মিডিয়ায় কনটেন্ট তৈরি করে উপার্জন করেন। কিন্তু নিজের বগলের গন্ধ ভক্তদের শুঁকতে দিয়ে অর্থ রোজগার—এমন ঘটনা নিঃসন্দেহে বেশ অস্বাভাবিক।
জাপানের এক তরুণীকে ঘিরে সম্প্রতি এমনই একটি ঘটনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তিনি মূলধারার কোনও বড় টেলিভিশন অনুষ্ঠান বা বিশাল মঞ্চের তারকা নন। বরং ছোট পরিসরের অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন। তাঁর পরিচয় ‘আন্ডারগ্রাউন্ড আইডল’ হিসেবে। পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়াতেও তাঁর যথেষ্ট পরিচিতি রয়েছে।
তবে তাঁর সাম্প্রতিক জনপ্রিয়তার কারণ গান বা পারফর্ম্যান্স নয়। অনুষ্ঠানের শেষে অর্থের বিনিময়ে ভক্তদের নিজের বগলের গন্ধ শোঁকার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিই তাঁকে নতুন করে আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
কে এই জাপানি তরুণী?
জাপানের হনসু অঞ্চলের তরুণী হারি মাতসুমোতো ছোট পরিসরের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পারফর্ম করেন। ‘আন্ডারগ্রাউন্ড আইডল’ হিসেবে তাঁর নিজস্ব ভক্তগোষ্ঠী রয়েছে।
মূলধারার বড় তারকাদের মতো তাঁর অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষের ভিড় হয় না। বরং তুলনামূলক ভাবে ছোট অনুষ্ঠানে সীমিত সংখ্যক দর্শকের সামনে তিনি পারফর্ম করেন। ফলে দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগও বেশি থাকে।
অনুষ্ঠানের সময় ভক্তদের সঙ্গে কথা বলা, ছবি তোলা কিংবা তাঁদের সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে সময় কাটানোর মতো ঘটনাও ঘটে। এই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগই তাঁর পারফর্ম্যান্সের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে।
পারফর্ম্যান্সের পরেই আসে অদ্ভুত প্রস্তাব
হারি মাতসুমোটোর অনুষ্ঠানকে ঘিরে এখন যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে, তা ঘটে মূল পারফর্ম্যান্সের পর।
ভক্তদের মধ্যে কেউ কেউ অর্থের বিনিময়ে তাঁর বগলের গন্ধ শুঁকতে পারেন। অর্থাৎ সাধারণ সাক্ষাৎ, ছবি তোলা বা কথা বলার পাশাপাশি এই অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতাকেও অর্থের বিনিময়ে ভক্তদের জন্য উপলব্ধ করেছেন তিনি।
এই ধরনের ঘটনা সাধারণ বিনোদন জগতের প্রচলিত কোনও পরিষেবা নয়। তাই বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর স্বাভাবিকভাবেই তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
অদ্ভুত উপায়ে উপার্জনের ভাবনা কেন আলোচনায়?
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে শিল্পী বা ইনফ্লুয়েন্সারদের উপার্জনের ধরন আগের তুলনায় অনেকটাই বদলে গেছে। দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ, বিশেষ অভিজ্ঞতা এবং ব্যক্তিগত অনুষ্ঠানের মতো বিষয়ও এখন বিভিন্ন ধরনের অনলাইন ও অফলাইন আয়ের অংশ হয়ে উঠেছে।
হারির ক্ষেত্রেও সেই ঘনিষ্ঠ যোগাযোগকে একটি বিশেষ অর্থনৈতিক মডেলে পরিণত করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তাঁর ভক্তদের মধ্যে যারা এমন অভিজ্ঞতার জন্য অর্থ খরচ করতে আগ্রহী, তাঁদের জন্য তিনি সেই সুযোগ তৈরি করেছেন।
তবে বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি।
ভক্তদের একাংশের আগ্রহ, অন্যদের সমালোচনা
হারি মাতসুমোটোর এই উদ্যোগ নিয়ে মানুষের প্রতিক্রিয়া একরকম নয়। তাঁর ভক্তদের কেউ কেউ বিষয়টিকে মজার বা ব্যতিক্রমী অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন। আবার অন্য একটি অংশ এই ধরনের অর্থ উপার্জনের পদ্ধতির সমালোচনা করেছেন।
সমালোচকদের মতে, একজন শিল্পীর সঙ্গে দর্শকের যোগাযোগের ক্ষেত্রেও কিছু সামাজিক সীমারেখা থাকা উচিত। অন্যদিকে যাঁরা এই অভিজ্ঞতার জন্য অর্থ দিতে আগ্রহী, তাঁরা এটিকে ব্যক্তিগত পছন্দ হিসেবে দেখছেন।
ফলে বিষয়টি নিয়ে জাপানে যেমন আলোচনা হচ্ছে, তেমনই দেশের বাইরেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।
ছোট অনুষ্ঠান থেকেই আন্তর্জাতিক পরিচিতি
হারির জনপ্রিয়তার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল তাঁর অনুষ্ঠানগুলির ছোট পরিসর। বড় মঞ্চে হাজার হাজার দর্শকের সামনে পারফর্ম করার বদলে তিনি এমন জায়গায় কাজ করেন, যেখানে শিল্পী ও দর্শকের মধ্যে সরাসরি যোগাযোগ তৈরি হয়।
এই কারণেই তাঁর সঙ্গে ভক্তদের ছবি তোলা, কথা বলা কিংবা ব্যক্তিগত মুহূর্ত ভাগ করে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। এখন সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছে এই অস্বাভাবিক অভিজ্ঞতাও।
মজার বিষয় হল, যে কাজটি হয়তো শুধুমাত্র একটি ছোট অনুষ্ঠানের ভক্তদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার কথা ছিল, সেটিই সংবাদমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।
জাপানের গণ্ডি পেরিয়ে ছড়িয়েছে খবর
হারি মাতসুমোটোকে ঘিরে এই ঘটনা নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট। এরপর ঘটনাটি জাপানের বাইরেও মানুষের নজরে আসে।
সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে কোনও অস্বাভাবিক ঘটনা খুব দ্রুত আন্তর্জাতিক স্তরে ছড়িয়ে পড়তে পারে। হারির ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছে। তাঁর মূল পরিচয় হয়তো একজন আন্ডারগ্রাউন্ড আইডল ও সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে, কিন্তু এই অদ্ভুত উপার্জনের পদ্ধতিই তাঁকে নতুন করে আলোচনায় এনে দিয়েছে।
অস্বাভাবিক উপার্জনের কৌশল নাকি প্রচারের নতুন উপায়?
হারির এই উদ্যোগকে কেউ দেখছেন উপার্জনের অভিনব কৌশল হিসেবে, আবার কেউ মনে করছেন এটি প্রচারেরও একটি উপায় হয়ে উঠেছে। তবে তাঁর নিজের উদ্দেশ্য কী, তা নিয়ে অনুমান না করে প্রকাশিত তথ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকা জরুরি।
নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ছোট অনুষ্ঠানে পারফর্ম করা এই জাপানি তরুণী এখন এমন একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের নজরে এসেছেন, যা তাঁর সংগীত বা পারফর্ম্যান্সের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।
একদিকে রয়েছে ভক্তদের আগ্রহ, অন্যদিকে রয়েছে সমালোচনা। আর এই দুই বিপরীত প্রতিক্রিয়ার মাঝেই হারি মাতসুমোটোর অভিনব উপার্জনের পদ্ধতি এখন জাপানের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে।



