রাহুল রাহা, এনবি সংবাদ, দিল্লি থেকে : দিল্লির রাজপথে শনিবারের ছবিটা ছিল অন্য রকম। সাধারণত মানুষের ভিড়, গাড়ির হর্ন আর ব্যস্ততার জন্য পরিচিত রাজধানীর কেন্দ্রস্থল এ দিন কার্যত নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা পড়েছিল। যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের জমায়েত আটকাতে দিল্লি পুলিশ একাধিক স্তরে ব্যারিকেড তৈরি করে। মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী, সশস্ত্র বাহিনী, জলকামান এবং প্রিজন ভ্যান। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছয় যে, বিক্ষোভ দেখাতে আসা মানুষদের অনেককেই ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পর সরিয়ে দেওয়া হয়, কাউকে আবার বাসে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়।
১০ অক্টোবরের এই পরিস্থিতিতে দিল্লির যন্তর মন্তর কার্যত দুর্গে পরিণত হয়েছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় উঠে এসেছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে আসা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পাল্টা স্লোগান দেওয়া অন্য একটি দলের উপস্থিতিও উত্তেজনা বাড়ায়। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিক্ষোভের চেষ্টা করায় অন্তত তিন হাজার মানুষকে আটক করা হয়েছিল বলে জানা যায়। অন্যদিকে, সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের রাতের প্রতিবেদনে আটক ব্যক্তির সংখ্যা সাত হাজারের বেশি বলে উল্লেখ করা হয়।
তবে আটক ব্যক্তির প্রকৃত সংখ্যা নিয়ে দুই প্রতিবেদনে পার্থক্য রয়েছে। ফলে চূড়ান্ত সংখ্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টা নাগাদ যন্তর মন্তরের আশপাশে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রাস্তার একদিকে কয়েকজন তরুণ প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে শুরু করেন। অন্যদিকে গেরুয়া গামছা পরা এবং কপালে তিলক লাগানো কয়েকজনকে ‘দিল্লি পুলিশ জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।
দুই পক্ষের মধ্যে স্লোগান পাল্টা স্লোগানের পরিস্থিতি তৈরি হলে পুলিশের আচরণে পার্থক্য চোখে পড়ে বলে প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় দাবি করা হয়েছে। জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে স্লোগান দেওয়া ব্যক্তিদের পুলিশ টেনে-হিঁচড়ে সরিয়ে নিয়ে যায়। অন্যদিকে, পুলিশের সমর্থনে স্লোগান দেওয়া দলটিকে সেখান থেকে সরে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়।
দিল্লি পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, যন্তর মন্তরে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা কার্যকর ছিল। এই ধারার অধীনে জারি করা নিষেধাজ্ঞার কারণে সেখানে জমায়েত ও বিক্ষোভের উপর বিধিনিষেধ ছিল।
পুলিশের মূল লক্ষ্য ছিল, কোনওভাবেই যাতে বড় জমায়েত তৈরি না হয়। সেই লক্ষ্যেই সকাল থেকেই যন্তর মন্তর এবং আশপাশের এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়। বিক্ষোভকারীদের হাতে প্ল্যাকার্ড দেখলেই তাঁদের সরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও সামনে আসে।
দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা শুধু যন্তর মন্তরেই সীমাবদ্ধ ছিল না। রাজধানীতে প্রবেশের পথ থেকে শুরু করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড় পর্যন্ত একাধিক স্তরে পুলিশি নজরদারি চালানো হয়।
সকালে নয়ডা ও দিল্লির সংযোগকারী ডিএনডি ফ্লাইওভার পেরোনোর সময় বিভিন্ন গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালাতে দেখা যায় পুলিশকে। বিশেষ করে যে গাড়িগুলিতে তরুণ যাত্রীরা ছিলেন, সেগুলির উপর বাড়তি নজরদারি করা হচ্ছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনায় উঠে এসেছে।
#WATCH | Delhi Police detain a few protesters who had started gathering at Jantar Mantar for the Cockroach Janta Party (CJP) protest here. https://t.co/QqZtF4Jswd
— ANI (@ANI) October 10, 2026
এরপর শহরের ভিতরেও একাধিক জায়গায় পুলিশি বাধার মুখে পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। মান্ডি হাউস সার্কেলের কাছে ব্যারিকেড বসিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এই রাস্তা থেকে বারাখাম্বা রোড ধরে কনট প্লেসের দিকে যাওয়া যায়। সেখানে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সীমিত করা হলেও সংবাদমাধ্যমের কর্মীরা কিছু ক্ষেত্রে বাধা পেরিয়ে এগোতে পেরেছিলেন বলে জানা যায়।
যন্তর মন্তর থেকে কনট প্লেসের দূরত্ব প্রায় ৪০০ মিটার। ফলে এই সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল অত্যন্ত কড়া। মোতায়েন করা হয় দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের যান, জলকামান এবং প্রিজন ভ্যান। পাশাপাশি, বিক্ষোভকারীদের আটক করে নিয়ে যাওয়ার জন্য ৩০টিরও বেশি বাস রাখা হয়েছিল বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
সব মিলিয়ে রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে এমন নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাধারণ মানুষের চলাচল এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় প্রভাব ফেলে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থার পাশাপাশি যন্তর মন্তরের আশপাশে যোগাযোগ ব্যবস্থার সমস্যাও সামনে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ অনুযায়ী, যন্তর মন্তরের পাঁচ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ ছিল। এর ফলে সহকর্মী এবং সংবাদমাধ্যমের পরিচিতদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সমস্যায় পড়েন অনেকে।
ইন্টারনেট পরিষেবা সীমিত বা বন্ধ থাকলে ঘটনাস্থল থেকে দ্রুত খবর পাঠানো, ভিডিও আপলোড করা এবং অন্য এলাকায় কী ঘটছে, তা জানা কঠিন হয়ে পড়ে। সংবাদ সংগ্রহের ক্ষেত্রে এই ধরনের পরিস্থিতি সাংবাদিকদের কাজেও প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে ইন্টারনেট বন্ধের বিষয়টি কতটা বিস্তৃত এলাকায় কার্যকর ছিল এবং তার জন্য কী আনুষ্ঠানিক নির্দেশ জারি করা হয়েছিল, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তথ্য প্রয়োজন।
কড়া নিরাপত্তার মধ্যেও যন্তর মন্তরের আশপাশে বিক্ষোভকারীদের কয়েকটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা সামনে আসে। তাঁদের মধ্যে এক আইনজীবী জানান, এসআইআর বা ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার পর তাঁর পরিবারের সদস্যদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।
তিনি এবং তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরা কীভাবে ফের ভোটার তালিকায় নাম তুলবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানান। তাঁর বক্তব্যে ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগের ছবি উঠে আসে।
ভোটার তালিকায় নাম বাদ পড়া বা সংশোধনের প্রক্রিয়া নিয়ে কোনও অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা এবং নির্ধারিত পদ্ধতিতে নথি জমা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তবে ওই আইনজীবীর পরিবারের নাম কেন বাদ পড়েছে, সে বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এই বিবরণে নেই।
বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য ছিল, নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকা উচিত। অন্যদিকে, পুলিশ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার যুক্তিতে জমায়েত আটকানোর পদক্ষেপ করে।
যন্তর মন্তরের আশপাশে এক বৃদ্ধের মন্তব্যও বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। সাদা পাঞ্জাবি, ধুতি এবং পাগড়ি পরা ওই ব্যক্তি নিজের পাগড়িতে ভারতের জাতীয় পতাকা লাগিয়েছিলেন। তিনি উপস্থিত একজন সংবাদকর্মীকে প্রথমে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি খেয়েছেন কি না।
এরপর দিল্লির পরিস্থিতি নিয়ে মতামত জানতে চাইলে বৃদ্ধ জানান, তাঁর বয়স ৮২ বছর। এত কড়া নিরাপত্তা এবং এমন পরিস্থিতি তিনি আগে দেখেননি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তাঁর বক্তব্য ছিল, সরকার এবং বিক্ষোভকারীদের মধ্যে আলোচনা করেই সমস্যার সমাধান খোঁজা উচিত। তাঁর মতে, দুই পক্ষের সঙ্গে কথা বললে উত্তেজনা কমানোর পথ বের করা সম্ভব।
#WATCH | Prayagraj, Uttar Pradesh: Police are on alert ahead of Navratri, Durga Puja, and Dussehra. Surveillance is also being conducted using CCTV and drones. https://t.co/CIbbdvIDdO
— ANI (@ANI) October 10, 2026
অন্যদিকে, এক তরুণ বিক্ষোভকারী দিল্লিকে প্রাণবন্ত শহর হিসেবে উল্লেখ করে প্রশ্ন তোলেন, একটি শহরকে একদিন স্তব্ধ রাখা সম্ভব হলেও তরুণদের কণ্ঠস্বর কত দিন এভাবে আটকে রাখা যাবে?
এই মন্তব্যগুলির মধ্যে দিয়ে বিক্ষোভের ঘটনাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ, মতপ্রকাশের অধিকার এবং প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে টানাপোড়েনের বিষয়টি সামনে আসে।
যন্তর মন্তরের পাশাপাশি দিল্লির অন্য এলাকাতেও রাজনৈতিক কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা কয়েকজন রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীকে আটক করার খবর সামনে আসে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ককরোচ জনতা পার্টির শীর্ষ নেতা অভিজিৎ দীপ, আশুতোষ রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসকে বিমান থেকে নামার পর আটক করা হয়। পরিচিত ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকেও তাঁর বাড়ি থেকে আটক করার কথা বলা হয়েছে।
এ ছাড়া পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল, কেরালার পিনারাই বিজয়ন এবং ত্রিপুরার মানিক সরকারের নামও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তাঁদের শনিবারের প্রতিবাদ কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার প্রসঙ্গে পুলিশি পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এই ব্যক্তিদের প্রত্যেকের আটকের বিষয়টি, সময় এবং পরিস্থিতি আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। একইভাবে, তাঁদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল এবং পরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল কি না, সে সম্পর্কেও নির্ভরযোগ্য ও হালনাগাদ তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
#WATCH | Delhi: Detained protestors who were staging a protest against CEC Gyanesh Kumar are brought to the Jaffarpur Kalan Police Station, Dwarka. https://t.co/EUNZerqdFp
— ANI (@ANI) October 10, 2026
বামপন্থী ছাত্রনেত্রী নেহা বোরাও আটক হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পরে মুক্তি পেয়ে তিনি যন্তর মন্তর থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে দিল্লি হাট অঞ্চলে অবস্থান শুরু করেন বলে জানা যায়।
বিকেল চারটে নাগাদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর দলের কয়েকজন নেতাকে উত্তর দ্বারকা থানায় নিয়ে যাওয়ার খবর আসে। এর কিছু আগে, বিকেল সাড়ে তিনটে নাগাদ অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে আটক করার কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
দিল্লির কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত শিখদের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থান বাংলা সাহিব গুরুদ্বারের আশপাশেও বিক্ষোভকারীদের উপস্থিতির খবর পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আগের রাত থেকে সেখানে কয়েকশো বিক্ষোভকারী আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে তাঁরা যন্তর মন্তরের দিকে এগোনোর চেষ্টা করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ ওঠে।
এই পদক্ষেপের ফলে বিক্ষোভকারীদের একটি বড় অংশ যন্তর মন্তরে পৌঁছতে পারেননি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। পুলিশের লক্ষ্য ছিল, নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রেখে কোনও বড় জমায়েত তৈরি হতে না দেওয়া।
যন্তর মন্তরের সংলগ্ন এলাকায় মাইকে বারবার হিন্দি ও ইংরেজিতে ঘোষণা করা হচ্ছিল। একদিকে ১৬৩ ধারার নিষেধাজ্ঞার কথা জানিয়ে জমায়েত ও বিক্ষোভ থেকে বিরত থাকতে বলা হচ্ছিল। অন্যদিকে, সংবাদমাধ্যমের কর্মীদের পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মাঝখানে না দাঁড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হচ্ছিল।
দিল্লি পুলিশ আগের দুই দিন ধরেও বিভিন্ন মাধ্যমে এই ধরনের নির্দেশ জানিয়ে আসছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দিল্লির কেন্দ্রস্থল কনট প্লেস সাধারণত সপ্তাহান্তে মানুষের ভিড়ে সরগরম থাকে। রেস্তোরাঁ, ক্যাফে, পানশালা এবং কেনাকাটার জন্য পরিচিত এই এলাকায় শনিবার ছিল অন্য ছবি।
#WATCH | Ahmedabad, Gujarat: Police detain the protesters staging a protest against the CEC Gyanesh Kumar. https://t.co/dA32y7rMNi
— ANI (@ANI) October 10, 2026
কড়া নিরাপত্তা, ব্যারিকেড এবং পুলিশের উপস্থিতির কারণে এলাকাটিতে মানুষের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ অনুযায়ী, অনেক দোকান, রেস্তোরাঁ ও পানশালা বন্ধ ছিল। ফলে ব্যস্ত কনট প্লেসকে তুলনামূলক ফাঁকা দেখায়।
রাজধানীর এমন পরিচিত একটি এলাকায় স্বাভাবিক জনজীবনের বদলে পুলিশি নজরদারি ও নিরাপত্তার উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বিক্ষোভ ঠেকানোর লক্ষ্যে প্রশাসনের পদক্ষেপ কতটা কার্যকর হয়েছে, তা নিয়ে একদিকে যেমন আলোচনা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে তেমনই উঠেছে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিয়ে প্রশ্ন।
যন্তর মন্তরে কোনও বড় জমায়েত হতে না দেওয়ার ক্ষেত্রে দিল্লি পুলিশের অভিযান সফল হয়েছে বলে ঘটনাস্থলের বর্ণনায় উঠে এসেছে। কিন্তু সেই সাফল্যের পাশাপাশি আটক ব্যক্তির সংখ্যা, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের আচরণ, ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের অভিযোগ এবং রাজনৈতিক নেতাদের আটক করার মতো বিষয়ও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।
#WATCH | Delhi: Heavy security deployed at Connaught Place ahead of the protest called by the CJP against CEC Gyanesh Kumar. Several protesters are also detained. https://t.co/YwaqTXSs7u
— ANI (@ANI) October 10, 2026
প্রশাসনের দায়িত্ব জননিরাপত্তা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য সংঘর্ষ ঠেকানো। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও মতপ্রকাশের অধিকারও গুরুত্বপূর্ণ। এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখাই যে কোনও প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
দিল্লির এই ঘটনার প্রকৃত চিত্র বুঝতে আটক ব্যক্তিদের নির্ভুল সংখ্যা, পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ—সব দিকের তথ্য যাচাই করা জরুরি। কারণ, কোনও ঘটনার মূল্যায়ন শুধু নিরাপত্তা ব্যবস্থার ব্যাপকতা দিয়ে নয়, সেই ব্যবস্থার প্রয়োগ কতটা স্বচ্ছ ও ন্যায্য ছিল, তা দিয়েও করা হয়।



