সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট

Homeনির্বাচনউপনির্বাচনে সেনাবাহিনী ও আধুনিক প্রযুক্তি, ৬ জুনের মধ্যে ইউপি ভোট শেষ করতে...

উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী ও আধুনিক প্রযুক্তি, ৬ জুনের মধ্যে ইউপি ভোট শেষ করতে চায় ইসি

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন এবং ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের তারিখ। ভোটগ্রহণ হবে ২৯ অক্টোবর।

স্টাফ রিপোর্টার,এনবি সংবাদ : জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো আসন্ন উপনির্বাচনেও সেনাবাহিনী মোতায়েন এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করা হবে বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে কমিশন। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ। বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

ইসি সানাউল্লাহ জানান, আসন্ন উপনির্বাচনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। ভোটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহৃত প্রযুক্তির সঙ্গে আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের আওতায় ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনও রয়েছে। ইসি জানিয়েছে, এ আসনে ভোটগ্রহণ আগামী ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ভোটারদের নিরাপদ পরিবেশে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের জন্য ইতোমধ্যে তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ২৭ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন এবং ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের তারিখ। ভোটগ্রহণ হবে ২৯ অক্টোবর।

এই উপনির্বাচন সামনে রেখেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থাগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেছে কমিশন। বৈঠকে ভোটের নিরাপত্তা, প্রশাসনিক প্রস্তুতি এবং নির্বাচনের সময় বিভিন্ন সরকারি কার্যক্রমের সঙ্গে সমন্বয়ের বিষয়গুলো আলোচনায় আসে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ক্ষেত্রে এখন ইসির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন। কমিশনার সানাউল্লাহ জানিয়েছেন, আগামী বছরের ৬ জুনের আগে ইউপি নির্বাচন শেষ করতে হবে।

তবে ঠিক কবে থেকে ইউপি নির্বাচন শুরু হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার মতামত নেওয়া হয়েছে। এসব তথ্য পর্যালোচনা করে কমিশন পরবর্তী সময়ে নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণ করবে।

প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন এইচএসসি পরীক্ষার আগে শেষ করার বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় সংশ্লিষ্টরা সম্মতি দিয়েছেন। তবে ভোটের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি।

ইউপি নির্বাচন আয়োজনের সময় নির্ধারণে শিক্ষা কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে বিভিন্ন পরীক্ষা থাকায় ওই সময়ে ভোট আয়োজনের সুযোগ সীমিত হতে পারে।

ইসি জানিয়েছে, জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া গেলেও এরপর রমজান এবং বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা শুরু হবে। বিশেষ করে রমজানের সময়সূচি এবং এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে ভোটের সময় নির্ধারণ করতে হবে।

ইসি সানাউল্লাহ বলেছেন, ভোট আয়োজনের কারণে যাতে কোনো পরীক্ষা বা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সম্ভাব্য সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

এর আগে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সাত ধাপে আয়োজনের একটি সম্ভাব্য সময়সূচি সামনে এনেছিল নির্বাচন কমিশন। সেই পরিকল্পনায় প্রথম ধাপের ভোট ১২ নভেম্বর আয়োজনের কথা ছিল। তবে ১৭ সেপ্টেম্বরের আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর কমিশন জানিয়েছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মতামত পর্যালোচনা করে সময়সূচি চূড়ান্ত করা হবে।

অর্থাৎ, আগের সাত ধাপের পরিকল্পনাকে এখনই চূড়ান্ত তফসিল হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। পরীক্ষা, রমজান এবং অন্যান্য প্রশাসনিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে ভোটের ধাপ বা সময় পরিবর্তিত হতে পারে। কমিশন প্রয়োজনীয় সমন্বয় শেষে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

জাতীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতার আলোকে উপনির্বাচনেও প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে চায় ইসি। কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহৃত প্রযুক্তির পাশাপাশি আরও উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তি ও নিরাপত্তাব্যবস্থার সমন্বয়ের মাধ্যমে ভোটগ্রহণের পরিবেশ আরও সুশৃঙ্খল রাখার চেষ্টা করা হবে। তবে কোন কোন প্রযুক্তি কীভাবে ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

ইসি জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি নির্ধারণের আগে আরও আলোচনা ও সমন্বয় করা হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ এবং অন্যান্য অংশীজনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে কমিশন সভায় ভোটের তারিখ চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।

বর্তমানে কমিশনের সামনে একদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের প্রস্তুতি, অন্যদিকে বড় পরিসরে ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের কাজ রয়েছে। এর সঙ্গে শিক্ষা কার্যক্রম ও সরকারি প্রশাসনের বিভিন্ন সূচিও সমন্বয় করতে হচ্ছে।

সব মিলিয়ে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনায় এখন দুটি বিষয় স্পষ্ট। প্রথমত, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা এবং এতে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দায়িত্ব পালন করবে। দ্বিতীয়ত, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে।

তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের শুরু ও ধাপভিত্তিক ভোটের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি। পরীক্ষা, রমজান এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতির বিষয়গুলো বিবেচনা করে কমিশন চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা করবে। ফলে ইউপি নির্বাচন কবে শুরু হবে এবং কত ধাপে ভোট হবে—এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পরবর্তী সিদ্ধান্তই এখন গুরুত্বপূর্ণ।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ