সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট

Homeপ্রকৃতি ও পরিবেশসাড়ে ৫০০ বছর পর সমুদ্রের জলে বিলীন! হাওয়াইয়ের বিখ্যাত হোলেই সি আর্চ...

সাড়ে ৫০০ বছর পর সমুদ্রের জলে বিলীন! হাওয়াইয়ের বিখ্যাত হোলেই সি আর্চ আর নেই

বিগ আইল্যান্ডের এই অংশের ভূপ্রকৃতি অন্যরকম। এখানে সাধারণ বালুকাবেলা খুব একটা দেখা যায় না। তার বদলে রয়েছে কালো আগ্নেয়শিলা, খাড়া সমুদ্রের ক cliffs এবং প্রশান্ত মহাসাগরের প্রচণ্ড ঢেউ। সেই আগ্নেয়শিলার মধ্যেই বহু বছর ধরে দাঁড়িয়ে ছিল হোলেই সি আর্চ।

এনবি সংবাদ,আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : প্রকৃতি নিজের হাতে তৈরি করেছিল বিশাল এক পাথরের তোরণ। দূর থেকে দেখলে মনে হত, সমুদ্রের দিকে এগিয়ে যাওয়া বিশাল পাথুরে দেওয়ালের একটি অংশ কেউ নিখুঁতভাবে কেটে ধনুকের মতো বাঁকিয়ে দিয়েছেন। কিন্তু এর পেছনে মানুষের কোনও কারিগরি দক্ষতা ছিল না। আগ্নেয়গিরির লাভা, সমুদ্রের ঢেউ, বাতাস এবং কয়েক শতাব্দীর ক্ষয়—এই সবকিছুর সম্মিলিত প্রভাবে তৈরি হয়েছিল সেই অসাধারণ প্রাকৃতিক স্থাপত্য।

হাওয়াইয়ের বিগ আইল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলে দাঁড়িয়ে থাকা সেই বিখ্যাত হোলেই সি আর্চ এবার আর নেই। শত শত বছর ধরে পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে থাকা প্রায় ৯০ ফুট বা ২৭.৪ মিটার উঁচু প্রাকৃতিক তোরণটি ভেঙে পড়েছে প্রশান্ত মহাসাগরে। হাওয়াই ভলক্যানোস ন্যাশনাল পার্ক কর্তৃপক্ষ ১ অক্টোবর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আর্চটি অক্ষত অবস্থায় ছিল। কিন্তু ২৭ সেপ্টেম্বর রাতের মধ্যে সেটি আর দাঁড়িয়ে ছিল না। ঠিক কোন মুহূর্তে বিশাল পাথরের কাঠামোটি ভেঙে সমুদ্রে পড়ে যায়, তা অবশ্য জানা যায়নি। সেই সময় হাওয়াইয়ের উপকূল দিয়ে শক্তিশালী ট্রপিক্যাল স্টর্ম নোলো অতিক্রম করছিল এবং পার্কের কিছু অংশ সাময়িক ভাবে বন্ধও ছিল। ফলে ভাঙনের মুহূর্তটি প্রত্যক্ষ করার সুযোগ কারও হয়নি।

কোথায় ছিল এই প্রাকৃতিক পাথরের তোরণ?

হোলেই সি আর্চ ছিল হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের বিগ আইল্যান্ডে অবস্থিত হাওয়াই ভলক্যানোস ন্যাশনাল পার্কে। পার্কের বিখ্যাত চেন অব ক্রেটার্স রোডের শেষ প্রান্তের কাছে সমুদ্রের ধারে ছিল এই প্রাকৃতিক বিস্ময়।

বিগ আইল্যান্ডের এই অংশের ভূপ্রকৃতি অন্যরকম। এখানে সাধারণ বালুকাবেলা খুব একটা দেখা যায় না। তার বদলে রয়েছে কালো আগ্নেয়শিলা, খাড়া সমুদ্রের ক cliffs এবং প্রশান্ত মহাসাগরের প্রচণ্ড ঢেউ। সেই আগ্নেয়শিলার মধ্যেই বহু বছর ধরে দাঁড়িয়ে ছিল হোলেই সি আর্চ।

প্রায় ৯০ ফুট উঁচু কাঠামোটি মূল উপকূল থেকে সামনের দিকে বেরিয়ে গিয়ে সমুদ্রের ওপর একটি তোরণের মতো আকৃতি তৈরি করেছিল। দূর থেকে দেখলে মনে হত, যেন কোনও বিশাল পাথরের সেতু সমুদ্রের দিকে এগিয়ে গেছে।

এই অসাধারণ আকৃতিই পর্যটকদের কাছে জায়গাটিকে বিশেষ করে তুলেছিল। বহু মানুষ হাওয়াই ভলক্যানোস ন্যাশনাল পার্কে এসে এই প্রাকৃতিক স্থাপত্যের ছবি তুলতেন।

মানুষ তৈরি করেনি, তৈরি হয়েছিল আগ্নেয়গিরির লাভা ও সমুদ্রের ক্ষয়ে

হোলেই সি আর্চের জন্মের গল্প কোনও স্থপতির নয়। এর পেছনে রয়েছে হাওয়াইয়ের আগ্নেয় ভূতত্ত্ব।

প্রায় ৫৫০ বছর আগের একটি প্রাচীন লাভা প্রবাহের সঙ্গে এই ভূপ্রকৃতির সম্পর্ক রয়েছে। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের সময় গলিত লাভা প্রবাহিত হয়ে উপকূলের দিকে এগিয়ে যায়। পরে সেই লাভা ঠান্ডা হয়ে শক্ত আগ্নেয়শিলায় পরিণত হয়।

কিন্তু সব জায়গার শিলার শক্তি এক ছিল না। কোথাও শক্ত স্তর, কোথাও অপেক্ষাকৃত নরম স্তর। সমুদ্রের ঢেউ বছরের পর বছর অপেক্ষাকৃত দুর্বল অংশে আঘাত করতে থাকে। ধীরে ধীরে ক্ষয় হতে হতে সেখানে গর্ত তৈরি হয়। সেই গর্ত ক্রমশ বড় হয়ে একসময় তোরণের মতো আকৃতি নেয়।

ভূতত্ত্বের ভাষায় এই ধরনের ক্ষয়কে ডিফারেনশিয়াল ইরোশন বলা হয়। অর্থাৎ একই শিলাস্তরের সব অংশ সমান গতিতে ক্ষয় হয় না। অপেক্ষাকৃত নরম অংশ দ্রুত ক্ষয়ে যায়, আর শক্ত অংশ কিছুটা বেশি সময় টিকে থাকে। এই প্রক্রিয়াই শেষ পর্যন্ত হোলেই সি আর্চের মতো একটি প্রাকৃতিক তোরণ তৈরি করেছিল।

কেন এত বছর ধরে টিকে ছিল?

সমুদ্রের ধারে তৈরি প্রাকৃতিক পাথরের তোরণ আসলে চিরস্থায়ী নয়। যত দিন যায়, ঢেউ ও বাতাসের ক্ষয় ততই তাকে দুর্বল করে।

হোলেই সি আর্চও তার ব্যতিক্রম ছিল না। বাইরে থেকে দেখলে বিশাল ও শক্তিশালী মনে হলেও কাঠামোটির ভেতরে এবং আশপাশের পাহাড়ি অংশে ক্রমশ ফাটল তৈরি হচ্ছিল।

সমুদ্রের ঢেউ সরাসরি পাথরের নিচের অংশে আঘাত করত। ঝড়ের সময় সেই আঘাতের শক্তি আরও বেড়ে যেত। ফলে পাথরের ছোট ছোট অংশ ভেঙে সমুদ্রে পড়তে থাকত। এই প্রক্রিয়া বছরের পর বছর চলতে থাকায় তোরণটি ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়ে।

ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, আর্চটির আশপাশের উপকূলীয় অংশ বহু বছর ধরেই অস্থিতিশীলতার লক্ষণ দেখাচ্ছিল।

২০১৮ সালের আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতেও ক্ষতি হয়েছিল

শুধু সমুদ্রের ঢেউ নয়, ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির কার্যকলাপও হোলেই সি আর্চের আশপাশের ভূপ্রকৃতিকে দুর্বল করেছিল।

২০১৮ সালে কিলাউইয়া আগ্নেয়গিরির ভয়াবহ অগ্ন্যুৎপাত ও শৃঙ্গধসের সময় ওই এলাকার উপকূলীয় ক্লিফে ভূমিকম্পজনিত ক্ষতি হয়েছিল। এর ফলে হোলেই সি আর্চের আশপাশের পাথুরে অংশ আরও অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে।

২০২০ সালের জানুয়ারিতেও নতুন ফাটল ও অস্থিতিশীলতার লক্ষণ দেখা যায়। সেই সময় পুরনো পর্যবেক্ষণ এলাকা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে দর্শনার্থীদের জন্য ক্লিফের কিনারা থেকে তুলনামূলক নিরাপদ দূরত্বে নতুন ভিউয়িং এরিয়া তৈরি করা হয়। সেটি ২০২০ সালের মার্চে চালু করা হয়েছিল।

অর্থাৎ, আর্চটি যে একদিন ভেঙে পড়তে পারে, সেই সম্ভাবনা কর্তৃপক্ষের অজানা ছিল না।

২০২০ সালের ঝড়েও বড় ধাক্কা খেয়েছিল

হোলেই সি আর্চের জন্য আরেকটি বড় ধাক্কা এসেছিল ২০২০ সালে। ট্রপিক্যাল স্টর্ম ডারবির সময় সমুদ্রের ঢেউ এতটাই শক্তিশালী হয়েছিল যে আর্চটির নিচের অংশ থেকে পাথরের একটি বড় অংশ ভেঙে যায়।

এর পর থেকেই কাঠামোটির ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়ে। কারণ একটি প্রাকৃতিক আর্চ যত বেশি ক্ষয় হয়, তার ওপরের ভার বহন করার ক্ষমতাও তত কমে যায়।

প্রকৃতি সেখানে নিজের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল। মানুষের পক্ষে সেই প্রক্রিয়া বন্ধ করা সম্ভব ছিল না। ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসও বহু আগে সতর্ক করেছিল যে এই ধরনের প্রাকৃতিক গঠনের আয়ু সীমিত।

শেষ আঘাত কি ট্রপিক্যাল স্টর্ম নোলো?

হোলেই সি আর্চ ঠিক কী কারণে শেষ পর্যন্ত ভেঙে পড়ল, তা নিশ্চিত করে বলা হয়নি। তবে ঘটনাটির সময়কাল এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।

ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, ২৩ সেপ্টেম্বর বুধবার পর্যন্ত আর্চটি দাঁড়িয়ে ছিল। ২৭ সেপ্টেম্বর রবিবার রাতের মধ্যে সেটি সম্পূর্ণ ভেঙে পড়ে। ঠিক কখন ধস নামে, তা জানা যায়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ট্রপিক্যাল স্টর্ম নোলোর কারণে পার্ক সাময়িকভাবে বন্ধ থাকার সময়েও এটি ঘটে থাকতে পারে।

অর্থাৎ, নোলোই যে সরাসরি আর্চটি ভেঙে দিয়েছে, এমন নিশ্চিত দাবি এখনও করা হয়নি। বরং বহু বছর ধরে চলা ক্ষয়, ফাটল, ভূমিকম্পজনিত দুর্বলতা এবং সাম্প্রতিক ঝড়ের সম্মিলিত প্রভাবেই কাঠামোটি শেষ পর্যন্ত ধসে পড়ে থাকতে পারে।

পর্যটকদের প্রিয় ছিল হোলেই সি আর্চ

হাওয়াই ভলক্যানোস ন্যাশনাল পার্ক শুধু আগ্নেয়গিরি দেখার জন্য বিখ্যাত নয়। এখানে প্রকৃতির তৈরি অসংখ্য ভূতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে। হোলেই সি আর্চ ছিল সেগুলির মধ্যে অন্যতম আকর্ষণীয়।

উপকূলের কালো আগ্নেয়শিলা, নীল প্রশান্ত মহাসাগর এবং তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকা বিশাল পাথরের তোরণ—সব মিলিয়ে জায়গাটির দৃশ্য ছিল অসাধারণ।

বিশেষ করে সূর্যাস্তের সময় আর্চটির ছায়া ও সমুদ্রের ঢেউ মিলে তৈরি করত অন্যরকম দৃশ্য। পর্যটকেরা দূরের নিরাপদ জায়গা থেকে ছবি তুলতেন এবং প্রকৃতির তৈরি এই কাঠামো দেখার জন্য অপেক্ষা করতেন।

এখন সেই দৃশ্য আর দেখা যাবে না।

২৩ সেপ্টেম্বর দেখা গিয়েছিল, ২৭ সেপ্টেম্বর আর নেই

ঘটনাটির সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হল সময়ের ব্যবধান। ২৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হোলেই সি আর্চ নিজের জায়গায় ছিল। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে সেই শতাব্দীপ্রাচীন প্রাকৃতিক নিদর্শন সম্পূর্ণ অদৃশ্য হয়ে যায়।

২৭ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আর্চটি আর দেখা যায়নি। এর অর্থ, কয়েক দিনের মধ্যে বিশাল কাঠামোটি ভেঙে প্রশান্ত মহাসাগরে পড়ে যায়।

এমন ঘটনা প্রকৃতির কাছে অস্বাভাবিক নয়। মানুষের চোখে কয়েক দিন বা কয়েক বছর খুব দীর্ঘ সময় মনে হলেও ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়ার কাছে তা সামান্য। শত শত বছর ধরে যে ক্ষয় ধীরে ধীরে চলেছে, তার পরিণতি হয়তো মাত্র কয়েক মুহূর্তেই প্রকাশ পেয়েছে।

‘৫৫০ বছরের পুরনো’ কথাটির অর্থ কী?

হোলেই সি আর্চকে অনেক প্রতিবেদনে ‘৫৫০ বছরের পুরনো’ বলা হচ্ছে। বিষয়টি পুরোপুরি ভুল নয়, তবে একটু ব্যাখ্যা প্রয়োজন।

ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, আর্চটি যে প্রাচীন লাভা প্রবাহের মধ্যে তৈরি হয়েছিল, সেই লাভা প্রবাহের বয়স আনুমানিক ৫৫০ বছর। সমুদ্রের ক্ষয় ও ভূতাত্ত্বিক পরিবর্তনের মাধ্যমে সেই লাভা প্রবাহ থেকেই ধীরে ধীরে আর্চের আকৃতি তৈরি হয়।

তাই সহজ ভাষায় বলা যায়, প্রায় ৫৫০ বছর আগের আগ্নেয়গিরির লাভা থেকে গড়ে ওঠা ভূপ্রকৃতির অংশ ছিল হোলেই সি আর্চ। তবে ঠিক ৫৫০ বছর ধরে একই আকৃতিতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ‘তোরণ’ ছিল—এমন দাবি আরও সতর্কভাবে বলা উচিত।

সমুদ্রই তৈরি করেছিল, সমুদ্রই শেষ করে দিল

হোলেই সি আর্চের গল্পের সবচেয়ে সুন্দর এবং একই সঙ্গে বিষণ্ণ দিকটি এখানেই।

যে সমুদ্রের ঢেউ ধীরে ধীরে আগ্নেয়শিলাকে ক্ষয় করে তোরণ তৈরি করেছিল, শেষ পর্যন্ত সেই সমুদ্রের বুকেই তোরণটির পতন হল।

প্রথমে ঢেউ পাথরের দুর্বল অংশকে ক্ষয় করেছে। তারপর তৈরি হয়েছে গর্ত। গর্ত বড় হয়ে তোরণের আকৃতি নিয়েছে। শত শত বছর ধরে পর্যটকেরা সেই তোরণ দেখে বিস্মিত হয়েছেন। কিন্তু একই প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া থেমে থাকেনি।

ঢেউ ক্রমশ পাথরের অংশ সরিয়েছে। কাঠামো দুর্বল হয়েছে। ফাটল বেড়েছে। একসময় নিজের ওজন বহন করার ক্ষমতা হারিয়েছে সেটি।

তারপর কোনও এক মুহূর্তে সব শেষ।

বিশাল পাথরের তোরণ প্রশান্ত মহাসাগরের জলে ভেঙে পড়েছে।

এখন কেন ওই এলাকায় যাওয়া বিপজ্জনক?

আর্চটি ভেঙে যাওয়ার পরও জায়গাটি নিরাপদ হয়ে যায়নি। বরং উল্টোভাবে সেখানে এখন নতুন বিপদের আশঙ্কা রয়েছে।

ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস জানিয়েছে, আর্চের আশপাশের উপকূলীয় ক্লিফ এখনও অস্থিতিশীল। কোথাও কোথাও পাথর হঠাৎ ভেঙে পড়তে পারে। সমুদ্রের ঢেউও অত্যন্ত শক্তিশালী।

আর্চটি ভেঙে যাওয়ার পর সামাজিক মাধ্যমে কিছু ছবি প্রকাশ্যে আসে, যেখানে মানুষকে বন্ধ এলাকা বা বিপজ্জনক অংশের কাছে যেতে দেখা যায়। পার্ক কর্তৃপক্ষ এ ধরনের আচরণ থেকে বিরত থাকার জন্য সতর্ক করেছে। কারণ সেখানে পড়ে গিয়ে মৃত্যু বা সমুদ্রে ভেসে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধারকারীদেরও বিপদের মুখে পড়তে হতে পারে।

প্রকৃতির স্থাপত্য যে চিরস্থায়ী নয়

হোলেই সি আর্চের পতন আমাদের মনে করিয়ে দিল, প্রকৃতির তৈরি কোনও স্থাপত্যই আসলে চিরস্থায়ী নয়।

মানুষ সাধারণত পাহাড়, গুহা, জলপ্রপাত বা পাথরের তোরণকে স্থায়ী বলে মনে করে। কিন্তু এগুলিও প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। কোথাও পাথর ক্ষয়ে যাচ্ছে, কোথাও নতুন ভূমি তৈরি হচ্ছে, আবার কোথাও সমুদ্রের ঢেউ পুরনো ভূপ্রকৃতিকে ভেঙে দিচ্ছে।

হোলেই সি আর্চও সেই পরিবর্তনেরই একটি উদাহরণ।

প্রায় ৫৫০ বছর আগের লাভা প্রবাহ থেকে তৈরি হয়েছিল যে ভূপ্রকৃতি, তা বহু প্রজন্মের মানুষের চোখে ছিল। পর্যটকেরা এসেছেন, ছবি তুলেছেন, স্মৃতি নিয়ে ফিরেছেন। কিন্তু প্রকৃতির সময়ের হিসাবে সেই কয়েক শতাব্দীও একটি সাময়িক অধ্যায়।

আজ সেখানে আর সেই বিশাল তোরণ নেই। আছে শুধু উপকূলের পাথুরে দেয়াল, প্রশান্ত মহাসাগরের ঢেউ এবং প্রকৃতির তৈরি-ভাঙার অন্তহীন গল্প।

হোলেই সি আর্চ হারিয়ে গেলেও তার ছবি, পর্যটকদের স্মৃতি এবং ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসে তার অস্তিত্ব থেকে যাবে। আর তার পতন আরও একবার দেখিয়ে দিল—প্রকৃতি যেমন অসাধারণ সৌন্দর্য সৃষ্টি করতে পারে, তেমনই এক মুহূর্তে সেই সৌন্দর্যের চেহারাও বদলে দিতে পারে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ