সর্বাধিক পঠিত

spot_img

সর্বশেষ আপডেট

Homeএক্সক্লুসিভরোবটের ঘুষিতে কুপোকাত মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সার? ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তুমুল চর্চা

রোবটের ঘুষিতে কুপোকাত মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সার? ভাইরাল ভিডিও ঘিরে তুমুল চর্চা

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ফাইটিং কেজের মধ্যে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছেন লাপেনা এবং হিউম্যানয়েড রোবটটি। লড়াই শুরুর আগেই রোবটটিকে রিংয়ের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের নড়াচড়া করতে এবং ওয়ার্ম-আপের মতো প্রস্তুতি নিতে দেখা যায়।

এনবি সংবাদ, আর্ন্তজাতিক ডেস্ক : কল্পবিজ্ঞানের সিনেমায় মানুষ ও রোবটের লড়াই বহুবার দেখা গিয়েছে। কিন্তু এবার সেই দৃশ্যই যেন বাস্তবের মাটিতে হাজির। যুক্তরাষ্ট্রে এক মার্কিন ইনফ্লুয়েন্সারের সঙ্গে রিংয়ের মধ্যে মুষ্টিযুদ্ধে নেমেছে প্রায় ৬ ফুট উচ্চতার একটি হিউম্যানয়েড রোবট। সেই লড়াইয়ের ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা।

আমেরিকার রোবোটিক্স সংস্থা আরইকে এই ভিডিও প্রকাশ করেছে। সংস্থাটির দাবি, এটি মানুষ বনাম হিউম্যানয়েড রোবটের প্রথম মুষ্টিযুদ্ধ। যদিও এই ‘প্রথম’ হওয়ার দাবির স্বাধীন যাচাই নিয়ে প্রশ্ন থাকতে পারে, ভিডিওতে দেখা যাওয়া লড়াই যে দর্শকদের নজর কেড়েছে, তা নিয়ে সন্দেহ নেই।

লড়াইয়ে অংশ নিয়েছেন সান ফ্রান্সিসকোর ইনফ্লুয়েন্সার ফ্র্যাঙ্কি লাপেনা। তাঁর প্রতিপক্ষ ছিল একটি ৬ ফুটের হিউম্যানয়েড রোবট, যেটি রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছিল।

ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ফাইটিং কেজের মধ্যে মুখোমুখি দাঁড়িয়ে রয়েছেন লাপেনা এবং হিউম্যানয়েড রোবটটি। লড়াই শুরুর আগেই রোবটটিকে রিংয়ের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের নড়াচড়া করতে এবং ওয়ার্ম-আপের মতো প্রস্তুতি নিতে দেখা যায়।

এরপর শুরু হয় লড়াই। প্রথমদিকে লাপেনাই রোবটকে লক্ষ্য করে একের পর এক ঘুষি ছোড়েন। মানুষের আক্রমণের জবাব দিতে পিছিয়ে থাকেনি যন্ত্রমানবটিও।

রোবটটি পালটা ঘুষি ও লাথি ছোড়ার চেষ্টা করে। ভিডিওর সবচেয়ে নজরকাড়া মুহূর্তগুলোর একটি আসে যখন রোবটের আঘাতে লাপেনা ভারসাম্য হারিয়ে রিংয়ের অন্য দিকে ছিটকে যান।

এই দৃশ্যই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সবচেয়ে বেশি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ সিনেমায় দেখা শক্তিশালী রোবটের সঙ্গে বাস্তব মানুষের লড়াইয়ের দৃশ্যের সঙ্গে এর কিছুটা মিল খুঁজে পাচ্ছেন দর্শকদের একাংশ।

আরইকে তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে এই লড়াইকে ‘মানুষ বনাম টার্মিনেটর’-ধাঁচের লড়াই হিসেবে বর্ণনা করেছে। সংস্থার দাবি, ফ্র্যাঙ্কি লাপেনা তাঁর সর্বোচ্চ ক্ষমতা দিয়ে লড়াই করেছেন এবং এই পরীক্ষার মাধ্যমে তারা একটি নতুন ধরনের প্রযুক্তির সম্ভাবনা তুলে ধরেছে।

তবে এখানে ‘টার্মিনেটর’ শব্দটি মূলত জনপ্রিয় সংস্কৃতির একটি উপমা। ভিডিওতে দেখা রোবটটি সিনেমার স্বয়ংসম্পূর্ণ ও স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া কোনো যন্ত্র নয়। এটি রিমোট কন্ট্রোলের মাধ্যমে পরিচালিত একটি হিউম্যানয়েড রোবট।

অর্থাৎ রোবটটির নড়াচড়া ও লড়াইয়ের ক্ষমতার পেছনে মানুষের নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

এই আয়োজন শুধু বিনোদনের জন্য করা হয়নি বলে জানিয়েছে আরইকে। সংস্থাটি একটি ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি কমব্যাট গেম তৈরির কাজ করছে। সেই প্রকল্পের অংশ হিসেবেই মানুষ ও হিউম্যানয়েড রোবটের সরাসরি লড়াইয়ের পরীক্ষা চালানো হয়েছে।

পরিকল্পনাটি বেশ অভিনব। ভবিষ্যতে ব্যবহারকারীরা ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি প্রযুক্তির মাধ্যমে দূর থেকে হিউম্যানয়েড রোবট নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। এরপর সেই রোবটকে অন্য একজন নিয়ন্ত্রিত রোবটের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামানো যেতে পারে।

অর্থাৎ রোবটটি শুধু একটি যন্ত্র নয়, ভবিষ্যতের নতুন ধরনের বিনোদন ব্যবস্থার একটি মাধ্যম হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে।

ভিডিওতে রোবটের আঘাতে লাপেনাকে বেশ দূরে সরে যেতে দেখা যায়। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, একটি রোবট কীভাবে মানুষের তুলনায় এত শক্তিশালী আঘাত করতে পারে?

হিউম্যানয়েড রোবটের ক্ষেত্রে মোটর, অ্যাকচুয়েটর, যান্ত্রিক ভারসাম্য এবং শরীরের ওজন—সবকিছু মিলিয়ে আঘাতের শক্তি তৈরি হয়। বিশেষ করে রোবটের শরীর মানুষের তুলনায় ভারী এবং তার নড়াচড়া নির্দিষ্টভাবে নিয়ন্ত্রিত হলে ধাক্কার প্রভাবও আলাদা হতে পারে।

তবে এই একটি ভিডিও দেখে রোবট মানুষের চেয়ে শারীরিকভাবে শক্তিশালী—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। কারণ লড়াইয়ের পরিস্থিতি, রোবটের কনফিগারেশন, নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং ব্যবহৃত শক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ্যে না থাকলে সরাসরি তুলনা করা কঠিন।

ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। অনেকেই ভবিষ্যতে মানুষ ও রোবটের মধ্যে আরও বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন।

কেউ জানতে চাইছেন, রোবট কি একদিন মানুষের সঙ্গে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবে? আবার কেউ মনে করছেন, প্রযুক্তি আরও উন্নত হলে ফুটবল, দৌড়, কুস্তি কিংবা অন্যান্য খেলাতেও মানুষের সঙ্গে রোবটের প্রতিযোগিতা দেখা যেতে পারে।

আবার কিছু দর্শক ভিডিওটিকে বিনোদনমূলক পরীক্ষা হিসেবেই দেখছেন। তাঁদের প্রশ্ন, প্রশিক্ষিত পেশাদার বক্সারের বিরুদ্ধে একই রোবটকে নামালে ফলাফল কী হতো?

এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য ভিডিওটি দেয় না।

হিউম্যানয়েড রোবট নিয়ে বিশ্বজুড়ে গবেষণা দ্রুত এগোচ্ছে। আগে যেখানে রোবটকে মূলত কারখানা বা নির্দিষ্ট শিল্পক্ষেত্রে দেখা যেত, এখন মানুষের মতো হাঁটা, ভারসাম্য রাখা, বস্তু সরানো এবং নানা ধরনের শারীরিক কাজ করার ক্ষমতা নিয়ে পরীক্ষা চলছে।

এই পরিস্থিতিতে রোবটকে বিনোদন ও গেমিংয়ের সঙ্গে যুক্ত করার ধারণাও নতুন নয়। তবে মানুষ নিজে রিংয়ের বাইরে থেকে রোবট নিয়ন্ত্রণ করবে এবং সেই রোবট সরাসরি শারীরিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে—এই ধারণা প্রযুক্তি ও বিনোদনের সংযোগকে আরও এক ধাপ এগিয়ে দিতে পারে।

আরইকের এই পরীক্ষাও সেই সম্ভাবনারই একটি উদাহরণ হিসেবে সামনে এসেছে।

এই একটি লড়াই দেখে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। রোবটের প্রযুক্তি দ্রুত উন্নত হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু মানুষের মতো জটিল পরিস্থিতিতে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া, প্রতিপক্ষের আচরণ বুঝে তাৎক্ষণিক কৌশল বদলানো এবং দীর্ঘ সময় ধরে শারীরিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা—এসব এখনও অত্যন্ত কঠিন প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ।

বরং এই লড়াই থেকে যে বিষয়টি স্পষ্ট, তা হলো হিউম্যানয়েড রোবট এখন আর শুধু গবেষণাগারের বিষয় নয়। তাদের নিয়ে বাস্তব পরিবেশে আরও বেশি পরীক্ষা-নিরীক্ষা হচ্ছে।

ফ্র্যাঙ্কি লাপেনা ও হিউম্যানয়েড রোবটের এই মুষ্টিযুদ্ধ তাই শুধুমাত্র একটি ভাইরাল ভিডিও নয়। এটি ভবিষ্যতের রোবট-নির্ভর বিনোদন, ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি এবং মানব-যন্ত্র প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। আগামী দিনে এমন লড়াই আরও দেখা যাবে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয় সংবাদ